পঞ্চগড়ের সদর উপজেলার বড়বাড়ি প্রধানপাড়া সীমান্ত দিয়ে নারী ও শিশুসহ ১০ জনকে পুশ-ইনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে আবারও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। সীমান্তের নোম্যান্স ল্যান্ডে অবস্থানরত ওই ১০ জনকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর আরেকটি প্রচেষ্টা রবিবার (৭ জুন) দুপুরে প্রতিহত করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
বিজিবি সূত্র জানায়, বিএসএফের সদস্যরা ওই ব্যক্তিদের বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করলে বিজিবি কড়া অবস্থান নেয়। একপর্যায়ে বিএসএফ সদস্যরা পিছু হটতে বাধ্য হয়। এ সময় কিছু সময়ের জন্য দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় এবং উভয় বাহিনী মুখোমুখি অবস্থান নেয়। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসে।
এদিকে তিন দিন ধরে সীমান্তের নোম্যান্স ল্যান্ডে অবস্থান করছেন পুশ-ইনের শিকার ১০ জন। তাদের মধ্যে পাঁচজন পুরুষ, দুইজন নারী ও তিনজন শিশু রয়েছে। খোলা আকাশের নিচে রোদ, বৃষ্টি ও ঝড়ের মধ্যে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তারা।
জানা যায়, গত শুক্রবার ভোর ৪টার দিকে বড়বাড়ি প্রধানপাড়া সীমান্ত দিয়ে ওই ১০ জনকে বাংলাদেশে পুশ-ইনের চেষ্টা করে বিএসএফ। তবে বিজিবি তাদের সীমান্তের নোম্যান্স ল্যান্ডে আটকে দেয়। এরপর থেকে তারা সেখানেই অবস্থান করছেন।
ঘটনার পর এ পর্যন্ত বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে তিন দফা পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও কোনো সমাধান হয়নি। ফলে সীমান্ত এলাকায় উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।
পঞ্চগড়ের ঘাগড়া কোম্পানি কমান্ডার আলী আজাদ বলেন, ‘১০ জন ব্যক্তি এখনও নোম্যান্স ল্যান্ডে অবস্থান করছেন। বিএসএফ তাদের ফেরত নেওয়ার পরিবর্তে রবিবার আবারও বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করলে আমরা কঠোরভাবে বাধা দিই। কড়া ভাষায় জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, এ ধরনের আচরণ গ্রহণযোগ্য নয়। পরে তারা সরে যায়।’
তবে বিষয়টির স্থায়ী সমাধান কবে হবে, সে বিষয়ে তিনি কোনো নির্দিষ্ট তথ্য দিতে পারেননি।
স্থানীয়দের দাবি, মানবিক দিক বিবেচনায় দ্রুত কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক উদ্যোগের মাধ্যমে সমস্যাটির সমাধান করা প্রয়োজন।




