• ই-পেপার

গফরগাঁওয়ে চোখ-মুখ বেঁধে মাদরাসাছাত্রকে নির্যাতন

কালের কণ্ঠে সংবাদ প্রকাশের পর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কড়া বার্তা দিয়ে চিঠি

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি
কালের কণ্ঠে সংবাদ প্রকাশের পর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কড়া বার্তা দিয়ে চিঠি
ছবি : কালের কণ্ঠ

নিষিদ্ধ গাইড পাঞ্জেরীর হুবহু প্রশ্নে পরীক্ষা নেয় ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার সরকারি চন্ডীপাশা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়। এ নিয়ে গত ১ জুন কালের কণ্ঠের অনলাইনে ‘গাইড বইয়ের প্রশ্ন দিয়ে পরীক্ষা, অভিভাবকদের ক্ষোভ’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ হলে তা কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিগোচর হয়। এরপর বিষয়টি আমলে নিয়ে নড়েচড়ে বসে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা ময়মনসিংহ অঞ্চলের উপপরিচালকের কার্যালয়। তারা এ ঘটনায় ময়মনসিংহ অঞ্চলের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কড়া নোটিশ দিয়ে সতর্কবার্তা পাঠিয়েছে।

গত বুধবার (৩ জুন) মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা ময়মনসিংহ অঞ্চলের উপপরিচালক মো. নাসির উদ্দিন স্বাক্ষরিত নোটিশে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নোট ও গাইড থেকে পরীক্ষায় প্রশ্ন না করার বিষয়ে কঠোর নির্দেশনা জারি করা হয়।

জানতে চাইলে ময়মনসিংহ অঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. নাসির উদ্দীন কালের কণ্ঠকে জানান, বিষয়টি প্রথমে দৈনিক কালের কণ্ঠের নজরে আসে যে পাঞ্জেরী নোট গাইড থেকে নান্দাইলের চন্ডীপাশা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের গত বছরের বার্ষিক পরীক্ষায় হুবহু প্রশ্ন তুলে দেওয়া হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে নোট ও গাইড বইয়ের ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি যেন না ঘটে, সে জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে সতর্ক করতে এ নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

বব

তিনি আরো বলেন, কোনো ধরনের নোট বা গাইড বই থেকে প্রশ্নপত্র তৈরি করা বা পরীক্ষা নেওয়া যাবে না। এ ধরনের জনসচেতনতামূলক সংবাদ প্রকাশের জন্য তিনি কালের কণ্ঠকে ধন্যবাদ জানান।

এর আগে নোটিশে বলা হয়, স্ব-স্ব বিদ্যালয় পরীক্ষার প্রশ্নপত্র (পাবলিক পরীক্ষা ব্যতীত) নিজেরাই প্রণয়ন করবে। কোনো অবস্থাতেই অন্য কোনো উৎস থেকে সংগৃহীত প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়া যাবে না। কোনো কোনো বিদ্যালয় গাইড বই, নোট বই বা অন্য কোনো উৎস থেকে প্রশ্নপত্র প্রণয়ন করে পরীক্ষা নিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। এ অবস্থায় আগত অভ্যন্তরীণ (অর্ধ-বার্ষিক/বার্ষিক/প্রাক-নির্বাচনী/নির্বাচনী) পরীক্ষার প্রশ্নপত্র প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক দ্বারা প্রণয়ন করতে হবে। অন্য কোনো উৎস থেকে সংগৃহীত প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়া যাবে না। বিষয়টি সব প্রতিষ্ঠান প্রধানদের অবহিত করা হলো বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়।

বিশ্ব পরিবেশ দিবসের অনুষ্ঠানে বক্তারা

বাজেটে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতকে করমুক্ত রাখার দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক
বাজেটে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতকে করমুক্ত রাখার দাবি
ছবি: কালের কণ্ঠ

আসন্ন জাতীয় বাজেটে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতকে করমুক্ত সুবিধা ও প্রয়োজনীয় প্রণোদনা প্রদানের দাবি জানিয়েছেন পরিবেশ ও নাগরিক আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ। তারা পরিবেশবান্ধব ও জলবায়ু-সহনশীল বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সরকারকে কার্যকর নেতৃত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

আজ শুক্রবার রাজধানীর শ্যামলী মাঠে বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এ আহ্বান জানান তারা। ‘এখনই নবায়নযোগ্য জ্বালানির দাবিতে নাগরিক সমাবেশ, মূকাভিনয় ও পোস্টার বিতরণ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ কৃষক ফেডারেশনের সভাপতি বদরুল আলম। ব্রাইটার্সের সভাপতি ফারিহা অমির সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে দেশের ৩১টি পরিবেশ, উন্নয়ন, যুব ও নাগরিক সংগঠনের প্রতিনিধি, পরিবেশকর্মী, গবেষক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এবং সচেতন নাগরিকবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন।
 
অনুষ্ঠানে মূল বক্তব্যে ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা)’র সদস্যসচিব শরীফ জামিল বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম হলেও দেশে এখনো জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভর প্রকল্প সম্প্রসারণের প্রবণতা উদ্বেগজনক। দেশে সৌরশক্তিসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানি সম্প্রসারনের ব্যাপক সম্ভাবনা থাকায় বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ও চরমভাবাপন্ন আবহাওয়ার প্রভাব মোকাবেলায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির কোনো বিকল্প নেই। 

পরিবেশ সুরক্ষায় সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি সংস্থাগুলোকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান ড্রিম রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের পরিচালক অধ্যাপক মীর মোহাম্মদ আলী। তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ দেশ। এই ঝুঁকি মোকাবেলায় জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভর উন্নয়ন থেকে সরে এসে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে দ্রুত ও ন্যায়সংগত রূপান্তর জরুরি। 

সুন্দরবন ও উপকূল সুরক্ষা আন্দোলনের সমন্বয়ক নিখিল চন্দ্র ভদ্র বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবে উপকূলীয় জনগোষ্ঠী, জীবিকা ও প্রাকৃতিক সম্পদ সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে রয়েছে। তাই সুন্দরবন ও উপকূলীয় পরিবেশ সুরক্ষায় সরকারকে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন, জাতীয় বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ, সবুজ বেষ্টনী সম্প্রসারণ এবং টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ করতে হবে।

সভাপতির বক্তব্যে বদরুল আলম বলেন, ‘জলবায়ু সংকট ও পরিবেশ বিপর্যয়ের অন্যতম প্রধান কারণ জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভর উন্নয়ন ব্যবস্থা। বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় নানা উদ্যোগ গ্রহণ করা হলেও টেকসই সমাধান হিসেবে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে দ্রুত রূপান্তরের কোনো বিকল্প নেই। সৌরশক্তি, বায়ুশক্তি ও অন্যান্য পরিবেশবান্ধব জ্বালানির ব্যবহার সম্প্রসারণে সরকার ও জনগণের সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে। পরিবেশ ও প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষার আন্দোলন শক্তিশালী করার আহ্বান জানান তিনি।’

অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন ইক্যুইটিবিডির নেটওয়ার্কিং অ্যান্ড মোবিলাইজেশন সমন্বয়কারী মোস্তফা কামাল আকন্দ, রিভার বাংলার সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ, ব্রতী সমাজ কল্যাণ সংস্থার সানজিদা রহমান, সচেতন ফাউন্ডেশনের হাবিব রহমান, ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশের ইকবাল ফারুক প্রমুখ।

কর্মসূচির অংশ হিসেবে জলবায়ু সংকট ও পরিবেশ সুরক্ষার বার্তা নিয়ে ধরা’র সদস্য শাহরিয়ার শাওনের একটি মূকাভিনয় পরিবেশিত হয়। পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রয়োজনীয়তা এবং জলবায়ু ন্যায়বিচারের দাবিসংবলিত পোস্টার সাধারণ মানুষের মাঝে বিতরণ করা হয়।

সিরাজগঞ্জে আ. লীগের ৪ নেতাকর্মী গ্রেপ্তার

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি
সিরাজগঞ্জে আ. লীগের ৪ নেতাকর্মী গ্রেপ্তার
সংগৃহীত ছবি

সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলায় ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পরবর্তী হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে দায়ের হওয়া মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ৪ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (৫ জুন) বিকেলে সদর থানার ওসি রাকিবুল হাসান এ তথ্য জানান।

গ্রেপ্তাররা হলেন জেলা মৎস্যজীবী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সয়দাবাদ ইউপির বাঐতারা গ্রামের মোয়াজ্জেম হোসেন মন্ডল, বাগবাটি ইউপির ২ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ধলডোব গ্রামের ময়নুল হক, একই ওয়ার্ডের সহসভাপতি ও হরিনা গোপাল গ্রামের শুকুর মাহমুদ এবং পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সদস্য দত্তবাড়ি মহল্লার মো. রাব্বি।

ওসি রাকিবুল হাসান বলেন, ‘বৃহস্পতিবার রাতে অভিযান চালিয়ে এই চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। শুক্রবার বিকেলে আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে। গ্রেপ্তারদের মধ্যে মোয়াজ্জেম হোসেন মন্ডল ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট সিরাজগঞ্জ-২ আসনের অপসারিত এমপি আওয়ামী লীগ নেত্রী জান্নাত আরা হেনরীর বাসায় অগ্নিসংযোগ ও দুই ছাত্রকে পুড়িয়ে হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি। বাকিরা ৫ আগস্ট পরবর্তীতে দায়ের হওয়া একটি বিস্ফোরক মামলার আসামি।’

পটিয়ায় আধুনিক মিনি স্টেডিয়ামের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

পটিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
পটিয়ায় আধুনিক মিনি স্টেডিয়ামের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী
চট্টগ্রামের পটিয়ায় আধুনিক মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিচ্ছেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক।

দক্ষিণ চট্টগ্রামের ক্রীড়াঙ্গনে নতুন যুগের সূচনা হলো। দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে প্রায় সাড়ে ৮ কোটি টাকা ব্যয়ে আধুনিক মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন  যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক।

শুক্রবার (৫ জুন) দুপুরে চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার আয়োজনে খরনা ইউনিয়নের জলুয়ার দীঘিপাড় এলাকায় আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক বলেন, ‘বর্তমান সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী দেশের প্রতিটি উপজেলায় মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে। আজ পটিয়ার মানুষের বহুদিনের স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নিতে শুরু করেছে। আশা করছি, নির্ধারিত নকশা অনুযায়ী দ্রুততম সময়ের মধ্যে নির্মাণকাজ সম্পন্ন হবে।’

তিনি স্থানীয় জনগণের উদ্দেশে বলেন, ‘সরকারের অর্থায়নে স্টেডিয়াম নির্মিত হলেও এর সংরক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব স্থানীয়দেরই নিতে হবে। মাঠ বাঁচলে খেলাধুলা বাঁচবে, আর খেলাধুলা বাঁচলে যুবসমাজ মাদক ও প্রযুক্তিনির্ভর আসক্তি থেকে দূরে থাকবে।

প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, ‘দেশের প্রতিটি জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে মাঠ সংরক্ষণ ও সংস্কারের জন্য মন্ত্রণালয়ের বিশেষ কমিটি কাজ করছে। সরকারের লক্ষ্য তৃণমূল পর্যায়ে খেলাধুলাকে ছড়িয়ে দিয়ে নতুন প্রজন্মকে সুস্থ ও মানবিক নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের সন্তানরা যদি মাঠে থাকে, তাহলে তারা মোবাইল ও বিভিন্ন ডিভাইসের অতিনির্ভরতা থেকে দূরে থাকবে। মাদকমুক্ত ও সুস্থ জাতি গঠনে খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই।

জাতীয় পর্যায়ের খেলোয়াড়দের পেশাগত স্বীকৃতি ও আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের নেওয়া উদ্যোগের কথা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘ইতিমধ্যে ৩০০ জন ক্রীড়াবিদকে ক্রীড়া ভাতা ও ক্রীড়া কার্ডের আওতায় আনা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে এই সংখ্যা ৫০০-তে উন্নীত করা হবে।’ তরুণ প্রতিভা খুঁজে বের করতে সরকারের বিশেষ কর্মসূচি নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের দ্বিতীয় পর্ব আগামী সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হবে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।

আমিনুল হক বলেন, সারা দেশের প্রতিটি ইউনিয়ন থেকে দল গঠন করে ১০টি ইভেন্টে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের দ্বিতীয় পর্ব আয়োজন করা হবে। এর মাধ্যমে গ্রামগঞ্জের লুকিয়ে থাকা প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের জাতীয় পর্যায়ে তুলে আনা সম্ভব হবে।

পটিয়া উপজেলা ক্রীড়া সংস্হার আয়োজনে বর্তমান সরকারের প্রথম সরকারি প্রতিমন্ত্রী সফরে মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পটিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারহানুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ এনামুল হক এনাম।

এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের নির্বাহী পরিচালক মো. দৌলতুজ্জামান খান, প্রকল্প পরিচালক মাহবুব মোরশেদ সোহেল, প্রকৌশলী সুকুমার সাহা, খোরশেদ আলম, মোশাররফ হোসেন দীপ্তি, মঈনুল আলম ছোটন, শফিকুল ইসলাম, নুরুল ইসলাম সওদাগর, গাজী আবু তাহের, তৌহিদুল আলম, আবুল বশর সিআইপি ও নাজমুল হক রিপনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও ক্রীড়া সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের পাশের খরনা ইউনিয়নের জলুয়ার দীঘিপাড় এলাকায় প্রায় ৪ একর জায়গাজুড়ে নির্মিতব্য এই মিনি স্টেডিয়াম দক্ষিণ চট্টগ্রামের অন্যতম আধুনিক ক্রীড়া অবকাঠামো হিসেবে গড়ে উঠবে। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের তত্ত্বাবধানে নির্মিত স্টেডিয়ামে থাকছে- আন্তর্জাতিক মানের খেলার মাঠ,

আধুনিক গ্যালারি, প্যাভিলিয়ন ভবন, খেলোয়াড়দের ড্রেসিং রুম, রেফারিদের চেঞ্জিং রুম, আধুনিক ওয়াশরুম, উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার কার্যালয়। ভবিষ্যতে এটিকে পূর্ণাঙ্গ ক্রীড়া কমপ্লেক্সে রূপান্তরের পরিকল্পনাও রয়েছে বলে জানা গেছে।

জানা যায়, ২০১৬ সালে পটিয়ায় মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাই শুরু হয়। একাধিক স্থান পরিদর্শনের পর ২০২৩ সালে খরনা ইউনিয়নের জলুয়ার দীঘিপাড় এলাকাকে চূড়ান্ত করা হয়। জমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন হলেও অর্থ বরাদ্দ জটিলতায় প্রকল্পটি দীর্ঘদিন আটকে ছিল। পরে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে প্রকল্পটি নতুন গতি পায়। উপজেলা পর্যায়ে মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণ প্রকল্প (দ্বিতীয় পর্যায়, প্রথম সংশোধিত) এর আওতায় জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে।

অপরদিকে পটিয়ার ক্রীড়াপ্রেমী মানুষ মনে করছেন, আধুনিক এই স্টেডিয়াম নির্মিত হলে শুধু স্থানীয় খেলোয়াড়রাই নয়, দক্ষিণ চট্টগ্রামের হাজারো তরুণ-তরুণীর জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে। জাতীয় ও আঞ্চলিক পর্যায়ের টুর্নামেন্ট আয়োজনের পাশাপাশি এখান থেকে উঠে আসতে পারে দেশের ভবিষ্যৎ তারকা ক্রীড়াবিদরাও। পটিয়ার বহুদিনের স্বপ্নের মিনি স্টেডিয়ামের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের মধ্য দিয়ে দক্ষিণ চট্টগ্রামের ক্রীড়াঙ্গনে শুরু হলো এক নতুন অধ্যায়।

গফরগাঁওয়ে চোখ-মুখ বেঁধে মাদরাসাছাত্রকে নির্যাতন | কালের কণ্ঠ