• ই-পেপার

গফরগাঁওয়ে চোখ-মুখ বেঁধে মাদরাসাছাত্রকে নির্যাতন

নারায়ণগঞ্জে স্কুলছাত্রের রহস্যজনক মৃত্যু

নারায়ণগঞ্জ সিটি প্রতিনিধি
নারায়ণগঞ্জে স্কুলছাত্রের রহস্যজনক মৃত্যু
প্রতীকী ছবি

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে সৌরভ হোসেন নামে সপ্তম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রের রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। 

শুক্রবার (৫ জুন) সকালে সিদ্ধিরগঞ্জের নাসিক ৬ নম্বর ওয়ার্ডের আদমজী ইপিজেডের বেপজা আবাসিক কোয়ার্টারের সি-১ ভবনের নিচতলার একটি ফ্ল্যাট থেকে সৌরভের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহত সৌরভ হোসেন  (১৩) নেত্রকোনা জেলার মদন উপজেলার আশুরপুর এলাকার মো. সাদ্দাম হোসেনের ছেলে। সে আদমজী ইপিজেডের এম.ডব্লিউ স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। পরিবারের সঙ্গে ওই আবাসিক কোয়ার্টারেই বসবাস করত নিহত সৌরভ।

স্বজনদের ভাষ্য, বৃহস্পতিবার রাতে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে খাবার খেয়ে সৌরভ নিজ কক্ষে ঘুমাতে যায়। শুক্রবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে তার মা তাকে ডাকতে গিয়ে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গলায় রশি পেঁচানো অবস্থায় ঝুলতে দেখেন। পরে পরিবারের চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে আসে এবং জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করা হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, মরদেহ ঝুলন্ত অবস্থায় থাকলেও তার পা বিছানা ও মেঝে স্পর্শ করছিল। এ কারণে ঘটনাটিকে স্বাভাবিক আত্মহত্যা হিসেবে দেখছেন না এবং এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, তা তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা।

পুলিশ জানায়, ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হলেও ঝুলন্ত  মরদেহের অবস্থান নিয়ে প্রত্যক্ষদর্শীদের সন্দেহের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। 

পুলিশ আরও জানায়, নিহত সৌরভের বাবা মো. সাদ্দাম হোসেন আদমজী ইপিজেডে নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। সম্প্রতি অন্যত্র বদলি হওয়ায় তিনি নতুন কর্মস্থলে যোগদান করেছেন। ছেলের মৃত্যুর খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। তিনি ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর তার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ ভিক্টোরিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে।

সিদ্ধিরগঞ্জ থানার পুলিশ পরিদর্শক(ওসি) মো. এমদাদুল হক বলেন, ‘ঘটনার বিষয়ে তদন্ত চলছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।’

পীরগাছায় পুকুরে ডুবে ২ শিশুর মৃত্যু

পীরগাছা (রংপুর) প্রতিনিধি
পীরগাছায় পুকুরে ডুবে ২ শিশুর মৃত্যু
ছবি : কালের কণ্ঠ

রংপুরের পীরগাছায় বাড়ির পাশের পুকুরে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (৫ জুন) সকালে উপজেলার কৈকুড়ী ইউনিয়নের নজর মাহমুদ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলো সজিব মিয়ার ছেলে রাজীব মিয়া (৬) এবং শাহজাহান মিয়ার মেয়ে সেনাতুল আক্তার (৪)। তারা চাচাতো-জ্যাঠাতো ভাই-বোন।

স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে দুই শিশু একসঙ্গে খেলতে বের হয়। দীর্ঘ সময় পরও বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে বাড়ির পাশের পুকুরে তাদের মরদেহ ভাসতে দেখা যায়।

আরো পড়ুন

নানাবাড়ি বেড়াতে গিয়ে পুকুরে ডুবে আপন ২ ভাইয়ের মৃত্যু

নানাবাড়ি বেড়াতে গিয়ে পুকুরে ডুবে আপন ২ ভাইয়ের মৃত্যু

 

পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করলেও ততক্ষণে দুই শিশুরই মৃত্যু হয়।

পীরগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম খন্দকার মুহিব্বুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। সুরতহাল শেষে কোনো অভিযোগ না থাকায় মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

লোহাগড়ায় ঘুড়ি উড়ানোকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, আহত ১০

লোহাগড়া (নড়াইল) প্রতিনিধি
লোহাগড়ায় ঘুড়ি উড়ানোকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, আহত ১০
সংগৃহীত ছবি

নড়াইলের লোহাগড়ায় ঘুড়ি উড়ানোকে কেন্দ্র করে মোল্যা গ্রুপ ও মুন্সি গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।  বৃহস্পতিবার রাত ১২টার দিকে কোটাকোল ইউনিয়নের মাটিয়াডাঙ্গা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন–মুন্সি গ্রুপের মিজানুর মুন্সি (৫২), ইজাজুল মুন্সি (৪০), আজিজুল মুন্সি (৪২), হানিফ সরদার (৩৫), খাজা সরকার (৬১), আজাদ সরদার, মোল্যা গ্রুপের রবিউল ইসলাম (৩৬), বাচ্চু মোল্যা (৫৩), রাফেজা বেগম (৫৩) ও সাইদুর সরদার (৩২)।

পুলিশ ও গ্রামবাসী  সূত্রে জানা যায়, লোহাগড়া উপজেলার কোটাকোল ইউনিয়নের মাটিয়াডাঙ্গা গ্রামে ঘুড়ি উড়ানোকে কেন্দ্র করে মোল্যা গ্রুপ ও মুন্সি গ্রুপের মধ্যে বেশ কয়দিন ধরে বিরোধ চলে চলছিল। তার জেরে বৃহস্পতিবার  দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে বাধে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। খবর পেয়ে পুলিশ  ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আহতরা লোহাগড়া হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

লোহাগড়া থানার ওসি (তদন্ত) অজিত কুমার রায়  বলেন, ‘ওই এলাকার পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক রয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আটকের চেষ্টা চলছে।’

পরিবেশ দূষণ

ঈদের ৯ দিন পরও অপসারণ হয়নি চামড়া, বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি

বাঞ্ছারামপুর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি
ঈদের ৯ দিন পরও অপসারণ হয়নি চামড়া, বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি
সংগৃহীত ছবি

আজ বিশ্ব পরিবেশ দিবস। পরিবেশ সংরক্ষণ ও দূষণমুক্ত পৃথিবী গড়ার আহ্বানের মধ্যেই ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে দেখা গেছে এক ভিন্ন চিত্র। কোরবানির ঈদের ৯ দিন পরও উপজেলার বিভিন্ন সড়ক ও খালের পাশে পড়ে আছে অবিক্রীত পশুর চামড়া। পচে যাওয়া এসব চামড়া থেকে ছড়াচ্ছে তীব্র দুর্গন্ধ, দূষিত হচ্ছে খালের পানি এবং অস্বাস্থ্যকর হয়ে উঠছে আশপাশের পরিবেশ। এতে স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।

শুক্রবার (৫ জুন) সরেজমিনে বাঞ্ছারামপুর-নবীনগর-ঢাকা-মুরাদনগর আঞ্চলিক সড়কের রূপসদী থেকে ফতেপুর সড়কের পাড়াতলী, ছয়ফুল্লাকান্দি ও রূপসদীর বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা যায়, কোরবানির পশুর চামড়া যথাযথভাবে সংরক্ষণ ও অপসারণ না করায় সেগুলো রাস্তার ধারের খাল ও ডোবায় ফেলে রাখা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঈদুল আজহার পর অবিক্রীত শত শত পশুর চামড়া অসাধু ব্যক্তিরা খাল ও রাস্তার পাশের নিচু স্থানে ফেলে দেয়। প্রচণ্ড গরমে চামড়াগুলো দ্রুত পচে গিয়ে দুর্গন্ধ ছড়াতে শুরু করে। পাশাপাশি এসব বর্জ্য থেকে মাছি ও পোকামাকড়ের উপদ্রবও বেড়েছে।

এলাকাবাসী সফিকুল ইসলাম বলেন, “এদিক দিয়ে অনেক এলাকার মানুষ যাতায়াত করে। ঈদের পর থেকে এতদিন ধরে চামড়া পড়ে আছে। এগুলো পচে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। খালের পাশের সড়ক দিয়ে চলাচল করাও কষ্টকর হয়ে পড়েছে। এমনকি ঘরেও দুর্গন্ধে থাকা যাচ্ছে না।”

স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. নিজাম উদ্দিন বলেন, “রাস্তার পাশের খালে চামড়া ফেলে রাখার কারণে অসহনীয় দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। কারা এগুলো ফেলেছে তা আমরা জানি না। দ্রুত অপসারণ না করা হলে রোগবালাই ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।”

দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি (দুদকের সহযোগী সংগঠন) বাঞ্ছারামপুর শাখার সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হোসেন রিপন বলেন, “পচে যাওয়া চামড়ার কারণে খালের পানিও দূষিত হচ্ছে। এতে দেশীয় মাছের ক্ষতি হচ্ছে এবং স্থানীয় জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়ছে। প্রশাসনের এখনই কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।”

এ বিষয়ে বাঞ্ছারামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তারিকুল ইসলাম বলেন, “চামড়া পচে দুর্গন্ধ ছড়ানোর বিষয়টি আমি গতকাল জেনেছি। রাস্তার পাশে খালে ফেলে রাখা পচা চামড়া দ্রুত অপসারণে খুব শিগগিরই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

বিশ্ব পরিবেশ দিবসে স্থানীয়দের দাবি, পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের কথা বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত এসব বর্জ্য অপসারণ এবং ভবিষ্যতে কোরবানির পশুর চামড়া ও অন্যান্য বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হোক। এতে একদিকে যেমন পরিবেশ রক্ষা পাবে, অন্যদিকে জনদুর্ভোগও কমবে।

গফরগাঁওয়ে চোখ-মুখ বেঁধে মাদরাসাছাত্রকে নির্যাতন | কালের কণ্ঠ