kalerkantho

লোকসান মাথায় নিয়ে চান্দিনায় চামড়া সংরক্ষণে ব্যস্ত আড়তদাররা

চান্দিনা (কুমিল্লা) প্রতিনিধি   

১৭ আগস্ট, ২০১৯ ১৮:৫৫ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



লোকসান মাথায় নিয়ে চান্দিনায় চামড়া সংরক্ষণে ব্যস্ত আড়তদাররা

চামড়া নিয়ে দেশজুড়ে বেশ হতাশা ও লোকসানের মুখে পড়েছে মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ীরা। আর নিশ্চিত লোকসান জেনেও মূল্যবৃদ্ধির আশায় পর্যাপ্ত চামড়া সংগ্রহ করে তা সংরক্ষণে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে কুমিল্লা চান্দিনা উপজেলার চামড়ার আড়তদাররা। কোরবানি ঈদের রাত থেকে শুরু করে শুক্রবার পর্যন্ত চামড়া সংরক্ষণে লবণ মাখা পানি সরানো, উল্টানো থেকে শুরু করে নানারকম প্রক্রিয়া চালিয়ে যাচ্ছে আড়ত মালিক ও শ্রমিকরা। 

কুমিল্লায় চামড়া সংরক্ষণে সরকারি কোনো ঠিকানা নেই। নেই কোনো সংগঠন। তাই আড়তদাররা যার-যার সুবিধামতো চামড়া সংরক্ষণ করছেন। তবে তারা ট্যানারির বেঁধে দেওয়া দামের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ মূল্যে চামড়া সংগ্রহ করায় এবং লবণের মাত্রাতিরিক্ত মূল্যবৃদ্ধিতে শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন।

জেলার সবচেয়ে বেশি চামড়া সংগ্রহকারী আড়তদার রয়েছে চান্দিনা ও দাউদকান্দি উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকা সব্দলপুর-ইলিয়টগঞ্জে। ওই এলাকায় অন্তত ডজনখানেক আড়তদারকে চামড়া সংরক্ষণে ব্যস্ত সময় কাটাতে দেখা গেছে। যাদের অধিকাংশরাই চান্দিনার বাসিন্দা। 

সব্দলপুর-ইলিয়টগঞ্জ চামড়া আড়তে ২৫-৩০ হাজার চামড়া রয়েছে। প্রায় সারা বছরই ওই আড়তদাররা চামড়া সংরক্ষণ করে আসছেন। কোরবানি ঈদ মৌসুমে প্রতিটি আড়তে সর্বনিম্ন ২ হাজার সর্বোচ্চ ৭-৮ হাজার চামড়া সংরক্ষণ করেন তারা। 

মঙ্গলবার (১৩ আগস্ট) সকালে ওই চামড়া আড়তে গিয়ে দেখা গেছে, প্রায় দুই শতাধিক শ্রমিক চামড়া সংরক্ষণে ব্যস্ত। কেউ চামড়া থেকে মাংস ছাড়াচ্ছেন, কেউ বা উচ্ছিষ্ট অংশ কাটছেন আবার কেউ বা লবণ মাখায় ব্যস্ত।

শুক্রবার (১৬ আগস্ট) বিকেলে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিটি আড়তের শ্রমিকরা কেউ চামড়ার স্তূপে পানি সরানোর কাজ করছে, আবার কেউ বা চামড়ার স্তূপ উল্টে-পাল্টে দেওয়ার কাজ করছে। চামড়ার গুণগতমান বজায় রাখতে তাদের ওই প্রক্রিয়া বলে জানান আড়তদাররা। 

আড়তদার আকতার হোসেন জানান, এ বছর যে ট্যানারি মালিকরা চামড়া নেবে না তা আমরা আগেই আন্দাজ করেছি। সেই মোতাবেক আমরা চামড়া কিনেছি। গরিব হক কোরবানি পশুর চামড়া বিক্রি করতে না পেরে কেউ কেউ ফেলেও দিয়েছেন। আবার মৌসুমি ব্যবসায়ীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ২ শ থেকে ৪ শ টাকায় চামড়া কিনেছেন। আমাদের নির্দিষ্ট কিছু লোকজন আছে তারাও একই ভাবে চামড়া সংগ্রহ করেছেন। যেহেতু ট্যানারী মালিকরা চামড়া নিয়ে টালবাহানা করছে সেহেতু আমরাও চামড়া সংরক্ষণে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নিয়েছি। 

শনিবার থেকে ট্যানারি মালিকরা চামড়া সংগ্রহ করবে বলে শোনা যাচ্ছে। তারা যদি চামড়া সংরক্ষণ শুরু না করেন তারপরও আমরা হাল ছাড়ব না। লোকসান যদি দিতেই হয় সবটুকুই দেব, শেষ দেখে ছাড়ব। 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা