kalerkantho

মঙ্গলবার। ১৮ জুন ২০১৯। ৪ আষাঢ় ১৪২৬। ১৪ শাওয়াল ১৪৪০

শিকলমুক্ত হলো দুরন্ত বাদল

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি    

১৯ মে, ২০১৯ ১০:৩২ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



শিকলমুক্ত হলো দুরন্ত বাদল

বাদল, এক দুরন্ত শিশুর নাম। আদর করে কেউ কেউ বাবুল নামেও ডাকে। ৯ বছর বয়সী শিশুটি মানসিক প্রতিবন্ধী। মা-বাবা থেকেও নেই। থাকেন দাদির কাছে। উপায় না পেয়ে বাদলকে শিকলে বেঁধে রাখেন দাদি। এভাবেই চলছে সাত বছর। ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর এলাকার মৌলভীপাড়ার একটি জরাজীর্ণ কুঁড়েঘরে ‘আটকা’ বাদল অবশেষে গতকাল মুক্ত হয়েছে। স্থানীয় সংবাদকর্মীদের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে তাকে উদ্ধার করে।

পরিবারের লোকজন ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বছর দশেক আগে পৌর এলাকার কালিসীমার মোমেনা বেগমের সঙ্গে পাশের সরাইল উপজেলার রিপন মিয়ার বিয়ে হয়। তাঁদের ঘরে জন্ম নেয় বাদল। তার বয়স যখন তিন মাস, বাবা রিপন আলী তখন এ সংসার ত্যাগ করে। দাদি শাহানা বেগম ও মা মোমেনা কষ্টেশিষ্টে বাদলকে বড় করে তুলতে থাকেন। বয়স বাড়তে থাকলে বাদলের প্রতিবন্ধকতার বিষয়টি ধরা পড়ে। এ অবস্থায় দুই বছর বয়সী বাদলকে দাদির কাছে তুলে দিয়ে চলে যায় মা মোমেনা।

গতকাল পুলিশ ও সাংবাদিকরা ছুটে গেলে এলাকার লোকজন জড়ো হয়। তখন শিশু বাদল ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে ছিল। তাকে শিকলমুক্ত করে সদর থানা পুলিশ। বাদলের বেড়ে ওঠার ব্যয়ভার নেন এক পুলিশ কর্মকর্তা। তিনি নিজের নাম প্রকাশ করতে চাননি।দাদি শাহানা বেগম জানান, তিনি অন্যের বাড়িতে কাজ করেন। তাঁদের বাড়িতে মানসিক প্রতিবন্ধী নাতিকে নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। সে কারণে গত সাত বছর ধরে বাদলকে তিনি কুঁড়েঘর আটকে রেখে বাইরে রাখেন তাকে। বাসায় ফিরে তাকে ঘরে নেন। দাদি বলেন, ‘চারদিকে আগুন ফানি কততা আছে। বাদল এদিক-হেদিক দুর মারে। একবার পুসকুনির পানিত পইরা গেছিল গা। এর লাইগ্যা পইলা পইলা রশি দিয়া বাইন্দা রাখতাম। বড় অইছে পড়ে রশি ছিড়ালা। এর লাইগ্যা অহন শিকল দিয়া বাইন্দা রাহি। টেহা পইসা নাই দেইক্কা বালা কোনো চিকিৎসা করাইতাম পারতাছি না। আমি ত অসহায় অইয়া গেছি গা।’

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. রেজাউল করিম বলেন, ‘প্রথমেই আমরা শিশুটিকে শিকলমুক্ত করে দেই। শিশুটিকে যেন আর শিকল দিয়ে বেঁধে না রাখে সে বিষয়ে দাদিকে পরামর্শ দিয়েছি। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা