• ই-পেপার

শিকলমুক্ত হলো দুরন্ত বাদল

১০৪ বছরের বৃদ্ধ বাবাকে বাড়ি থেকে বের করে দিলেন ছেলে

প্রবীর সাহা, পাবনা
১০৪ বছরের বৃদ্ধ বাবাকে বাড়ি থেকে বের করে দিলেন ছেলে
ছবি : কালের কণ্ঠ

যে সন্তানকে দুই হাতে পরম মমতায় বড় করেছেন। নিজে না খেয়ে যে সন্তানের মুখে খাবার তুলে দিয়েছেন, সেই সন্তানই নিজের ঘর থেকে বের করে দিয়েছেন ১০৪ বছরের অসহায় জন্মদাতা বাবাকে। এমন হৃদয়স্পর্শী ঘটনার শিকার বয়সের ভারে নুয়ে পড়া পাবনার আটঘরিয়া উপজেলার তসীমউদ্দীন প্রামাণিক।

জীবনের সবটুকু সময় পরিশ্রম আর ত্যাগে যে স্বপ্নের সংসার গড়েছিলেন, সেই সংসারই আজ তাকে করেছে আশ্রয়হীন। শেষ বয়সে মাথা গোঁজার ঠাঁই হারিয়ে দিশাহারা হয়ে পড়েছেন তিনি। 

তবে মানবতা আজও হারিয়ে যায়নি। তসীমউদ্দীনের দিকে হাত বাড়িয়েছেন উপজেলার মালিগাছা ইউনিয়নের খন্দকার পাড়ার রেজাউল ও তার স্ত্রী। তাদের ছোট্ট ঘরেই আশ্রয় দিয়েছেন অসহায় এই বৃদ্ধকে।

আরো পড়ুন
মাকে কখনো বলা হয়নি, অনেক ভালোবাসি : জুয়েল রানা

মাকে কখনো বলা হয়নি, অনেক ভালোবাসি : জুয়েল রানা

 

তসীমউদ্দীন প্রামাণিক বলেন, তোমরা দয়া করে আমাকে বাঁচাও, ছাওয়াল আমার বলে তোমার যেন এই সীমানায় না দেখি। কথা বলতে বলতে তসীমউদ্দীন বারবার কান্নায় ভেঙে পড়ছিলেন। 

তসীমউদ্দীন প্রামাণিককে আশ্রয়দাতা রেজাউলের স্ত্রী আকলিমা বলেন, তিনি মুরব্বি মানুষ। তার যতটুকু সেবা-যত্ন করার দরকার করছি।’

স্থানীয় ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম বলেন, একজন বাবা তার পুরো জীবন সন্তানদের জন্য উৎসর্গ করেন। অথচ শেষ বয়সে এমন পরিণতি সত্যিই মর্মান্তিক। এই ছেলের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।

প্রতিবেশী রোমজান আলী বলেন, তিনি যখন ভালো ছিলেন, তখন বউ-ছেলের কাছে তিনি ভালো ছিলেন, এখন বৃদ্ধ হয়েছেন, ছেলে তাকে তাড়িয়ে দিয়েছে। এই বয়সে তিনি এখন কোথায় যাবেন।

স্থানীয় যুবক আকমল হোসেন বলেন, তাকে যদি সরকারিভাবে কোনো সহায়তা দেওয়া হয়, তাহলে তার বাকি জীবনটা ভালোভাবে কাটাতে পারবেন। এ ছাড়া তার ছেলেকে আইনের আওতায় এনে ভরণপোষণের ব্যবস্থা করা হলে ভালো হয়।

অসহায় তসীমউদ্দীন প্রামাণিকের বাড়ি পাবনা জেলার আটঘরিয়া উপজেলার একদন্ত ইউনিয়নের ষাটগাছা গ্রামে। স্ত্রী মারা যাওয়ার পরে এক সন্তান নিয়েই ছিল তার ছোট পরিবার। পারিবারিক ঝামেলায় ছেলে নয়ন তার বাবাকে বাড়ি থেকে বের করে দেন।

এ ব্যাপারে জানতে তসীমউদ্দীনের ছেলে নয়নের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।  

জেলা সমাজসেবা কার্যালয় পাবনার উপপরিচালক মো. আবদুল কাদের বলেন, বৃদ্ধ তসীমউদ্দীনের জন্য সব ধরনের সহযোগিতা এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ডামুড্যায় অনুষ্ঠানে চেয়ারম্যানের ওপর বিএনপি নেতার হামলা

ডামুড্যা (শরীয়তপুর) প্রতিনিধি
ডামুড্যায় অনুষ্ঠানে চেয়ারম্যানের ওপর বিএনপি নেতার হামলা
ছবি: কালের কণ্ঠ

ডামুড্যায় জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠানের উদ্বোধনের সময় জাতীয় সংগীত চলাকালে সিড্যা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সৈয়দ আব্দুল হাদী জিল্লুর ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপি নেতা জসিম বেপারীর বিরুদ্ধে। এ সময় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল জলিল আহত হয়েছেন। 

মঙ্গলবার (১৯ মে) সকাল সোয়া ১০টার দিকে উপজেলার ৩৬ নং মধ্য সিড্যা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে এ ঘটনা ঘটে। পরে উত্তপ্ত পরিস্থিতির কারণে অনুষ্ঠান সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়।

হামলাকারী জসিম বেপারী ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি। এ ছাড়া সঙ্গে ছিল তাঁর ভাগিনা ইউনিয়ন ছাত্রদল নেতা ইব্রাহিম হোসেন (২৯), মো. সাইম (২২), সিকান্দার হাওলাদার (৬০) ও বিপ্লব (৫০)।

বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক প্রতিযোগিতা উপলক্ষে বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠান চলছিল। জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা করার সময় হঠাৎ করে সিড্যা ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি জসিম বেপারী, তার ভাগিনা ইউনিয়ন ছাত্রদল নেতা ইব্রাহিম হোসেন (২৯), মো. সাইম (২২), সিকান্দার হাওলাদার (৬০) ও বিপ্লবসহ (৫০) কয়েকজন ব্যক্তি এসে হামলা চালায়। চেয়ারম্যানকে বাঁচাতে গেলে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল জলিল হামলার শিকার হন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে অনুষ্ঠান সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়।

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘আমরা জাতীয় সংগীতের সঙ্গে পতাকা উত্তোলন করছিলাম। হঠাৎ করেই জসিম বেপারী বাঁশ নিয়ে এসে হামলা শুরু করেন। এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। কিছু সময় খেলা বন্ধ ছিল। পরে আবারও হামলার ঘটনা ঘটে।’ 

৩৬ নং মধ্য সিড্যা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল জলিল বলেন, ‘সরকারি নিয়ম অনুযায়ী জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছিল। পাঁচটি বিদ্যালয়ের আড়াই শতাধিক শিক্ষার্থী বিভিন্ন ইভেন্টে অংশ নিতে এসেছিল। অনুষ্ঠান শুরুর সময় হামলার ঘটনায় চেয়ারম্যানসহ আমিও আহত হই। পরে স্থানীয়দের পরামর্শে অনুষ্ঠান পুনরায় শুরু করা হলেও আবার উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।’

সিড্যা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সৈয়দ আব্দুল হাদী জিল্লু বলেন, ‘আমি উদ্বোধক হিসেবে অনুষ্ঠানে অংশ নিতে গিয়েছিলাম। জাতীয় সংগীতের সঙ্গে পতাকা উত্তোলনের সময় হঠাৎ হামলার শিকার হই। বর্তমানে চিকিৎসা নিচ্ছি। পরে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

ডামুড্যা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘ঘটনা শোনার সঙ্গে সঙ্গে আমরা ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠাই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য। পরবর্তীতে তারা প্রথম সিদ্ধান্ত নেয় ক্রীড়া অনুষ্ঠানটি বন্ধ থাকবে। পরে এলাকার সবার কথা বলে এবং পরিস্থিতির বিবেচনায় খেলাটি আমরা পুনরায় শুরু করি। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো অভিযোগ হয়নি। অভিযোগ হলে তদন্তসাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’ 

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সুকণ্ঠ ভক্ত বলেন, ‘আমি ঘটনাটি শোনার সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনা করে অনুষ্ঠান স্থগিত করি। পরে স্থানীয় ও পুলিশের সঙ্গে কথা বলে অনুষ্ঠান চালানোর জন্য বলি।

বিএনপির উপজেলা আহ্বায়ক কমিটির সদস্য জিল্লুর রহমান মধু বলেন, ‘এ বিষয়টি অনেক পুরনো তারপরও আমরা বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করব। এর আগে জসিম বেপারীর স্কুলের সঙ্গে দোকানপাট আওয়ামী লীগের আমলে ভাঙচুর করেন। এ ক্ষোভ থেকে এটি করেছেন বলে মনে হচ্ছে।’ 

তবে এ ঘটনায় অভিযুক্ত জসিম বেপারীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। 

চৌবাচ্চায় ছিল জেট ফুয়েল, ড্রামে ডিজেল ও অকটেন

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
চৌবাচ্চায় ছিল জেট ফুয়েল, ড্রামে ডিজেল ও অকটেন

চট্টগ্রামের পতেঙ্গা থানাধীন ভিআইপি রোড সংলগ্ন ও আকমল আলী স্লুইস গেট সংলগ্ন এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে ৭ হাজার লিটার জেট ফুয়েল, ৬ হাজার লিটার ডিজেল, ১ হাজার ৫০০ লিটার অকটেন ও ৫ হাজার লিটার সয়াবিন তেল জব্দ করেছে কোস্ট গার্ড। 

মঙ্গলবার (১৯ মে) দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান কোস্ট গার্ডের বিসিজিএস তাজউদ্দীনের সিগন্যাল কমিউনিকেশন অফিসার লেফটেন্যান্ট হাসিব-উল-ইসলাম।

আরো পড়ুন
মঞ্চে প্রধানমন্ত্রীর ছবি না থাকায় হট্টগোল, তোপের মুখে ফিরে গেলেন সেতুমন্ত্রী

মঞ্চে প্রধানমন্ত্রীর ছবি না থাকায় হট্টগোল, তোপের মুখে ফিরে গেলেন সেতুমন্ত্রী

 

কোস্ট গার্ড কর্মকর্তারা জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পতেঙ্গা থানার ভিআইপি রোড এলাকায় মঙ্গলবার অভিযান পরিচালনা করা হয়। সেখানে গিয়ে দেখা যায়, সুইমিংপুলের মতো চৌবাচ্চা তৈরি করে তাতে জেট ফুয়েল মজুদ রাখা হয়েছিল। পাশে সারিবদ্ধ ড্রামে রাখা ছিল ডিজেল ও অকটেন। অভিযানের সময় একটি ট্যাংক লরি থেকে জেট ফুয়েল নামানো হচ্ছিল। এ সময় ট্যাংক লরিটি জব্দ করা হয়।

লেফটেন্যান্ট হাসিব-উল-ইসলাম বলেন, অভিযানে ওই স্থান থেকে ৭ হাজার লিটার জেট ফুয়েল, ৬ হাজার লিটার ডিজেল ও ১ হাজার ৫০০ লিটার অকটেন উদ্ধার করা হয়। এছাড়া জ্বালানি তেল বহনে ব্যবহৃত একটি ট্যাংক লরিও জব্দ করা হয়েছে।

কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ইপিজেড থানার আকমল আলী স্লুইস গেট সংলগ্ন এলাকায় মঙ্গলবার মধ্যরাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আরো একটি অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে বাজারজাতের উদ্দেশ্যে জাহাজ থেকে অবৈধভাবে খালাস করা প্রায় ৯ লাখ টাকা মূল্যের ৫ হাজার লিটার ভোজ্যতেল (সয়াবিন) জব্দ করা হয়।

তিনি আরো বলেন, দুটি অভিযানেই আভিযানিক দলের উপস্থিতি টের পেয়ে চোরাকারবারিরা পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। জ্বালানি ও ভোজ্য তেল চোরাকারবারির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মূলহোতাদের আটকে গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধি করা হয়েছে।

মঞ্চে প্রধানমন্ত্রীর ছবি না থাকায় হট্টগোল, তোপের মুখে ফিরে গেলেন সেতুমন্ত্রী

পটুয়াখালী প্রতিনিধি
মঞ্চে প্রধানমন্ত্রীর ছবি না থাকায় হট্টগোল, তোপের মুখে ফিরে গেলেন সেতুমন্ত্রী
ছবি : কালের কণ্ঠ

পটুয়াখালীর বাউফলে লোহালিয়া নদীর ওপর প্রস্তাবিত ‘নবম চীন মৈত্রী বগা সেতু’ নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাই করতে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে সংক্ষিপ্ত সুধী সভামঞ্চে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ছবি না থাকায় বিএনপি ও জামায়াত নেতাকর্মীদের মধ্যে হট্টগোলের সৃষ্টি হয়। বিএনপি নেতাকর্মীরা ওই সভা বর্জন করে প্রায় ৪৫ মিনিট মন্ত্রীর বহর অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। পরে সভা মঞ্চে না গিয়ে বগা ফেরিঘাট এলাকা ত্যাগ করেন মন্ত্রী।

মঙ্গলবার (১৯ মে) দুপুরে বগা ফেরিঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। 

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, মন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে বগা ফেরিঘাটের অদূরে সভার আয়োজন করেন পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনের জামায়াতের দলীয় সংসদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মো. শফিকুল ইসলাম মাসুদ। ওই সভা মঞ্চের ব্যানারে প্রধানমন্ত্রীর ছবি না থাকায় বিএনপিদলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। দুপুর সোয়া ১টার দিকে মন্ত্রী বগা ফেরিঘাট এলাকায় পৌঁছে সভামঞ্চের দিকে রওনা হলে তার পথ অবরুদ্ধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন বিএনপি নেতাকর্মীরা। বিএনপি ও জামায়াত নেতাকর্মীদের পাল্টাপাল্টি স্লোগানে পুরো ফেরিঘাট এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। প্রায় ৪৫ মিনিট মন্ত্রীর পথ অবরুদ্ধ করে রাখেন বিএনপি নেতাকর্মীরা। তাদের তোপের মুখে সভা মঞ্চে না গিয়ে একই ফেরিতে ফিরে যান মন্ত্রী। 

ফেরার পথে সড়কের ওপর দাঁড়িয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। এ সময় তিনি বলেন, ‘অতিসম্প্রতি এক খুদে শিক্ষার্থী বগা সেতু বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে খোলা চিঠি লিখেছেন। সেটি প্রধানমন্ত্রী নজরে এলে তিনি আমাকে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে কিভাবে দ্রুততম সময়ে সেতুটি নির্মাণ করা যায় সে বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’

মন্ত্রী আরো বলেন, ‘বাংলাদেশ-চীন বন্ধুত্বপূর্ণ সেতু হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে যা যা করণীয়, তা করছি। চীন ইতোমধ্যে নকশা চূড়ান্ত করেছে। বাস্তবায়ন চুক্তি এক মাসের মধ্যে হয়ে যাবে। চুক্তি সম্পন্ন হলেই এ বছরের শেষ দিকে অথবা আগামী বছরের শুরুতে নির্মাণকাজ শুরু হবে।’ 

মন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে ছিলেন পটুয়াখালী-১ আসনের বিএনপিদলীয় এমপি আলতাফ হোসেন চৌধুরী, পটুয়াখালী-২ আসনের জামায়াতদলীয় এমপি শফিকুল ইসলাম মাসুদ ও পটুয়াখালী-২ আসনের বিএনপিদলীয় সাবেক এমপি শহিদুল আলম তালুকদার, জেলা বিএনপির সভাপতি স্নেহাংশ সরকার কুট্টি, পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক মোহাম্মাদ শহীদ হোসেন চৌধুরী।

ব্যানারে প্রধানমন্ত্রীর ছবি না থাকা প্রসঙ্গে বাউফল উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক (ভারপ্রাপ্ত) তসলিম তালুকদার বলেন, ‘সেতুটি আমাদের প্রাণের দাবি। যা বাস্তবায়নের জন্য বিএনপি সরকার উদ্যোগ নিয়েছে। সার্বিক বিষয়ে খোঁজখবর নিতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সেতুমন্ত্রী এসেছেন। কিন্তু সেই সভা মঞ্চের ব্যানারে প্রধানমন্ত্রীর ছবি নেই। এটি এক ধরনের অপরাজনীতি। এ কাজটি জামায়াত এমপি মাসুদ ঠিক করেননি।’

এ বিষয়ে উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির মাওলানা ইসাহাক বলেন, ‘এটি কোনো রাজনৈতিক সভা-সমাবেশ নয়। মন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে একটি সভা। সেখানে প্রধানমন্ত্রীর ছবি না থাকা নিয়ে বিএনপির হট্টগোল করাটা অযৌক্তিক। তারা বিশৃঙ্খলা করে সভা পণ্ড করে দিয়েছেন। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বাউফলের মানুষ।’

শিকলমুক্ত হলো দুরন্ত বাদল | কালের কণ্ঠ