• ই-পেপার

বার্জার অ্যাওয়ার্ড ফর ইন্টেরিয়র ডিজাইন ২০২৫-এর পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত

স্বাস্থ্যনীতি শক্তিশালী করতে ‘হেলথ পার্লামেন্ট বাংলাদেশ’-এর যাত্রা শুরু

স্বাস্থ্যনীতি শক্তিশালী করতে ‘হেলথ পার্লামেন্ট বাংলাদেশ’-এর যাত্রা শুরু

দেশের স্বাস্থ্যখাতে নাগরিক অংশগ্রহণ, গবেষণাভিত্তিক নীতিনির্ধারণ এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ওয়েলবিং কেয়ার ফাউন্ডেশন-এর উদ্যোগে “ডায়লগ অন হেলথ পার্লামেন্ট বাংলাদেশ ২০২৬” শীর্ষক একটি উচ্চপর্যায়ের গোলটেবিল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (২৭ জুন) রাজধানীর বাংলামোটরে বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রে আয়োজিত এ সংলাপে দেশের স্বাস্থ্যখাতের নীতিনির্ধারক, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, চিকিৎসক, গবেষক, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা, শিক্ষাবিদ, তরুণ নেতৃত্ব এবং ২০টিরও বেশি স্বাস্থ্যবিষয়ক সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ওয়েলবিং কেয়ার ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান মো. রাজিকুল হাসান এবং সঞ্চালনা করেন সংগঠনের গভর্নিং বডির সদস্য ডা. মাহবুবুর রহমান রাজিব।

গোলটেবিল আলোচনায় অংশ নেন জনস হপকিন্স ব্লুমবার্গ স্কুল অব পাবলিক হেলথের সিনিয়র ফ্যাকাল্টি ডা. হালিদা হানুম আখতার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ডা. সৈয়দ আব্দুল হামিদ, একই প্রতিষ্ঠানের পরিচালক অধ্যাপক শাফিউন নাহিন শিমুল, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের স্কুল হেলথ প্রোগ্রামের সহকারী পরিচালক মো. আসিফ ইকবাল, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (পরিকল্পনা ও গবেষণা) ডা. মোহাম্মদ জাকারিয়া রানা, সেরাক-বাংলাদেশ-এর নির্বাহী পরিচালক এস. এম. শাইকাত, ইটস হিউনিটি ফাউন্ডেশন -এর প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক মো. আদনান হোসাইন, ক্যান্সার অ্যাওয়ারনেস ফাউন্ডেশন অফ বাংলাদেশ -এর প্রতিষ্ঠাতা ডা. মোহাম্মদ মাসুমুল হক এবং ইউনিসেফ বাংলাদেশ -এর ন্যাশনাল কনসালট্যান্ট (কৈশোরকালীন স্বাস্থ্য ও মানসিক স্বাস্থ্য) ডা. এ.এন.এম. এহতেশাম কবির।

অনুষ্ঠানে “হেলথ পার্লামেন্ট বাংলাদেশ” নামে একটি নাগরিকভিত্তিক স্বাস্থ্য সংলাপ প্ল্যাটফরমের ধারণা, কাঠামো ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা উপস্থাপন করেন ওয়েলবিং কেয়ার ফাউন্ডেশনের গভর্নিং বডির সদস্য মাহমুদুল হাসান। তিনি বলেন, দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার বাস্তব চিত্র, স্থানীয় জনগণের মতামত এবং গবেষণালব্ধ তথ্যকে সমন্বিত করে একটি কার্যকর জাতীয় প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলাই এ উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।

প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী, দেশের ৩০০টি সংসদীয় আসন থেকে ৩০০ জন ‘হেলথ পার্লামেন্ট মেম্বার’ নিয়ে একটি জাতীয় নেটওয়ার্ক গঠন করা হবে। তাঁরা নিজ নিজ এলাকার স্বাস্থ্যসেবার বাস্তব সমস্যা, নাগরিকদের মতামত, স্থানীয় চাহিদা ও সেবার সীমাবদ্ধতা চিহ্নিত করে গবেষণাভিত্তিক সুপারিশ প্রণয়ন করবেন এবং তা সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারক ও সরকারি সংস্থার কাছে উপস্থাপন করবেন। এর মাধ্যমে জাতীয় স্বাস্থ্যনীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে জনগণের অংশগ্রহণ আরও কার্যকর হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।

আলোচকরা বলেন, দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার উন্নয়নে শুধু সরকারের উদ্যোগই যথেষ্ট নয়; এর পাশাপাশি বেসরকারি খাত, উন্নয়ন সহযোগী, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, নাগরিক সমাজ এবং তরুণদের সমন্বিত অংশগ্রহণ অপরিহার্য। তাঁরা মনে করেন, স্বাস্থ্যসেবার বাস্তব সমস্যা সম্পর্কে স্থানীয় পর্যায় থেকে নির্ভরযোগ্য তথ্য সংগ্রহ এবং সেগুলো গবেষণার মাধ্যমে বিশ্লেষণ করে নীতিনির্ধারকদের কাছে উপস্থাপন করা গেলে স্বাস্থ্যখাতে আরও কার্যকর ও টেকসই সিদ্ধান্ত গ্রহণ সম্ভব হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ডা. সৈয়দ আব্দুল হামিদ বলেন, ‘হেলথ পার্লামেন্ট বাংলাদেশ সরকারের বিকল্প নয়; বরং সরকারের স্বাস্থ্যনীতি বাস্তবায়নে একটি সহায়ক নাগরিক প্ল্যাটফরম হিসেবে কাজ করবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘সংসদ সদস্যদের পক্ষে প্রতিটি এলাকার স্বাস্থ্যসংক্রান্ত ক্ষুদ্র সমস্যা জানা সম্ভব হয় না। তাই স্থানীয় পর্যায় থেকে তথ্য সংগ্রহ ও গবেষণাভিত্তিক সুপারিশ সরকারের কাছে পৌঁছে দিতে পারলে তা স্বাস্থ্যনীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। এ ধরনের জাতীয় উদ্যোগ বাস্তবায়নে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সহযোগী, একাডেমিক প্রতিষ্ঠান এবং নাগরিক সমাজের সমন্বিত সহযোগিতা ও দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন প্রয়োজন’। সম্মিলিত উদ্যোগ ছাড়া এ ধরনের একটি বৃহৎ প্ল্যাটফরমকে টেকসই করা সম্ভব নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

জনস হপকিন্স ব্লুমবার্গ স্কুল অব পাবলিক হেলথের সিনিয়র ফ্যাকাল্টি ডা. হালিদা হানুম আখতার বলেন, ‘বাংলাদেশে জনস্বাস্থ্য বিষয়ে জ্ঞান, দক্ষতা ও গবেষণার ঘাটতি নেই। দেশের গবেষকরা আন্তর্জাতিক মানের জার্নালে নিয়মিত গবেষণা প্রকাশ করছেন। তবে গবেষণা, নীতিনির্ধারণ এবং বাস্তব প্রয়োগের মধ্যে যে ব্যবধান রয়েছে, সেটিই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তাঁর মতে, হেলথ পার্লামেন্ট বাংলাদেশ সেই ব্যবধান দূর করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।’

বক্তারা আরো বলেন, এ উদ্যোগ সরকারের সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা (ইউনিভার্সাল হেলথ কভারেজ -ইউ এইচ সি ) অর্জনের লক্ষ্য এবং টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (এস ডি জি -৩) বাস্তবায়নে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। নিয়মিত নীতি সংলাপ, স্বাস্থ্য বাজেট বিশ্লেষণ, গবেষণা, অ্যাডভোকেসি, জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম এবং তরুণদের সম্পৃক্ততার মাধ্যমে একটি শক্তিশালী নাগরিকভিত্তিক স্বাস্থ্য আন্দোলন গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। একই সঙ্গে মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্য, মানসিক স্বাস্থ্য, অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধ, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা এবং স্বাস্থ্যসমতা নিশ্চিত করাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

আলোচকরা সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং নাগরিক সমাজের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় জোরদারের আহ্বান জানান। তাঁদের মতে, অংশীজনদের সক্রিয় সম্পৃক্ততা, নিয়মিত গবেষণা এবং তথ্যভিত্তিক সুপারিশের মাধ্যমে হেলথ পার্লামেন্ট বাংলাদেশ দেশের স্বাস্থ্যনীতি উন্নয়নে একটি শক্তিশালী ও কার্যকর জাতীয় প্ল্যাটফর্ম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে।

গোলটেবিল আলোচনা শেষে হেলথ পার্লামেন্ট বাংলাদেশ-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করা হয় এবং এর লোগো উন্মোচন করা হয়। উপস্থিত অতিথিরা উদ্যোগটিকে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, গবেষণাভিত্তিক ও নাগরিক-অংশগ্রহণমূলক জাতীয় প্ল্যাটফর্ম হিসেবে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সম্মিলিতভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানটি হেল্প দা ফিউচার-এর সহ-আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়। যুক্তরাজ্যভিত্তিক ফার্মাসিউটিক্যাল স্টার্টআপ মাই ফার্মা লিমিটেড  ছিল পাওয়ার্ড বাই পার্টনার । সহযোগী হিসেবে ছিল এডুড্রাইভ , আয়ুশকান্দি আই হসপিটাল এবং বিশ্বনাথ আই হসপিটাল। কমিউনিটি পার্টনার হিসেবে যুক্ত ছিল জেসিআই ঢাকা ডিপ্লোমেটস, ডিজিটাল মিডিয়া ফোরাম (ডিএমএফ) এবং ইয়ুথ কানেক্ট।

অনুষ্ঠানে ডিজিটাল মিডিয়া ফোরাম (ডিএমএফ)-এর সভাপতি মো. দেলোয়ার হোসেনসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তর, বিশ্ববিদ্যালয়, স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।

ওমেরা এলপিজির ব্যতিক্রমী রিটেইলার ক্যাম্পেইনের গ্র্যান্ড উইনার্স নাইট অনুষ্ঠিত

ওমেরা এলপিজির ব্যতিক্রমী রিটেইলার ক্যাম্পেইনের গ্র্যান্ড উইনার্স নাইট অনুষ্ঠিত

বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় এলপিজি ব্র্যান্ড ওমেরা এলপিজি আয়োজন করেছে দেশের অন্যতম বৃহৎ রিটেইলার এনগেজমেন্ট ক্যাম্পেইন ‘‘ওমেরার রঙে দোকান সাজাই, বিজয়ীর বেশে বিদেশ যাই’’-এর গ্র্যান্ড Winner's Night 2026।

ওমেরা এলপিজি সবসময়ই রিটেইলার্স-দের উদ্ভাবনী চিন্তা ও সৃজনশীলতাকে উৎসাহিত করে। সেই ভাবনা থেকেই ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসে শুরু হয় ব্যতিক্রমী এই ক্যাম্পেইন। এর মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের রিটেইলার্স-দের ওমেরা এলপিজির ব্র্যান্ডিং উপকরণ ও সিলিন্ডার ব্যবহার করে নিজেদের Retail Shop সাজিয়ে ছবি পাঠানোর আহ্বান জানানো হয়। ক্যাম্পেইনের মূল উদ্দেশ্য ছিল রিটেইলার্স-দের সম্পৃক্ততার মাধ্যমে দেশজুড়ে ওমেরা এলপিজির ব্র্যান্ড ভিজিবিলিটি আরও শক্তিশালী করা এবং Retail Network-এর সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারিত্বকে আরো সুদৃঢ় করা। প্রাথমিকভাবে তিন মাসের জন্য পরিকল্পিত হলেও সারাদেশের রিটেইলার্স -দের অভূতপূর্ব সাড়া, উৎসাহ ও সক্রিয় অংশগ্রহণের কারণে ক্যাম্পেইনের সময়সীমা আরও এক মাস বাড়িয়ে এপ্রিল ২০২৬ পর্যন্ত পরিচালিত হয়।

চার মাসব্যাপী এই আয়োজনে দেশের ৬৪ জেলা থেকে ৩,৫০০-এরও বেশি Retailer অংশগ্রহণ করেন, যা বাংলাদেশের এলপিজি শিল্পে Retailer Engagement-এর ক্ষেত্রে এক নতুন মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

এই ক্যাম্পেইনে জাতীয় পর্যায়ে Top 10 Winner-দের পাশাপাশি দেশের ৬৪ জেলার সেরা Retailer-দের সম্মাননা প্রদান করা হয়। জাতীয় পর্যায়ে শীর্ষ তিন বিজয়ী হলেন—

  • চ্যাম্পিয়ন: জামালপুরের MS Raisha Trading-এর স্বত্বাধিকারী আরিফুল ইসলাম রাসেল।
  • ১ম রানার-আপ: মৌলভীবাজারের Arif Sound & Lighting-এর স্বত্বাধিকারী মো. আরিফুল ইসলাম।
  • ২য় রানার-আপ: হবিগঞ্জের Tofazzal Diner Aroth-এর স্বত্বাধিকারী মো. রুবেল।

চ্যাম্পিয়ন পুরস্কার হিসেবে বিজয়ী পেয়েছেন দুইজনের বিদেশ ভ্রমণের আকর্ষণীয় ট্যুর প্যাকেজ। এছাড়াও বিজয়ীদের জন্য ছিল মোটরসাইকেল, বিদেশ ভ্রমণ, বিভিন্ন হোম এপ্লিয়েন্স এবং আকর্ষণীয় গিফট হ্যামপার। ক্যাম্পেইনজুড়ে সাপ্তাহিক ও মাসিক বিজয়ীদেরও সম্মাননা হিসেবে প্রদান করা হয়েছে বিভিন্ন আকর্ষণীয় উপহার। 

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ওমেরা এলপিজির সিইও তানজীম চৌধুরী, সিওও মাথীন্দ্র ডি জয়সা, সিএফও আতিয়ার রহমান, প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত বিজয়ী রিটেইলার্স এবং ওমেরা এলপিজির সেলস টিম-এর সদস্যরা।

সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, মনোজ্ঞ আয়োজন এবং নৈশভোজের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত এই সন্ধ্যায় ওমেরা এলপিজির Management তাদের Retail Partners-দের আন্তরিক সহযোগিতা ও আস্থার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। একইসঙ্গে এই অসাধারণ সাফল্যের পেছনে নিরলসভাবে কাজ করা Field Sales Team-এর অবদানও বিশেষভাবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।

‘ওমেরার রঙে দোকান সাজাই, বিজয়ীর বেশে বিদেশ যাই" শুধু একটি ক্যাম্পেইন নয়; এটি ছিল রিটেইলার্স -দের সঙ্গে ওমেরা এলপিজির আস্থা, সম্পৃক্ততা ও অংশীদারিত্বের এক অনন্য যাত্রা। দেশজুড়ে হাজারো Retail Shop-এ ওমেরা এলপিজির ব্র্যান্ড উপস্থিতি নিশ্চিত করার মাধ্যমে এই উদ্যোগ বাংলাদেশের এলপিজি শিল্পে Retailer Engagement ও Brand Visibility-এর ক্ষেত্রে একটি নতুন মানদণ্ড স্থাপন করেছে।

ওমেরা এলপিজি বিশ্বাস করে, একটি স্বপ্ন তখনই বাস্তবে রূপ নেয়, যখন সেই স্বপ্নে হাজারো মানুষ একসঙ্গে বিশ্বাস করে। আর এই সাফল্যের প্রকৃত অংশীদার দেশের প্রতিটি রিটেইলার, যাদের ভালোবাসা, নিষ্ঠা ও অংশগ্রহণেই সম্ভব হয়েছে এই অনন্য অর্জন।

স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটিতে পোস্ট-বাজেট সিম্পোজিয়াম অনুষ্ঠিত

স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটিতে পোস্ট-বাজেট সিম্পোজিয়াম অনুষ্ঠিত

প্রস্তাবিত ২০২৬–২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট এবং বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে এর প্রভাব নিয়ে ডিপার্টমেন্ট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন ও ডিপার্টমেন্ট অফ ইকনমিক্স এর সহযোগিতায় পোস্ট-বাজেট সিম্পোজিয়ামের আয়োজন করেছে স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ। এতে নীতিনির্ধারক, অর্থনীতিবিদ, শিক্ষাবিদ ও শিল্পখাতের প্রতিনিধিরা অংশ নিয়ে বাজেটের বিভিন্ন দিক নিয়ে মতবিনিময় করেন।

সিম্পোজিয়ামে সভাপতিত্ব করেন স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শরীফ নাফে আস সাবের। তিনি বলেন, ‘শুধু অর্থ বরাদ্দ করলেই হবে না, সেই অর্থ সঠিকভাবে ব্যয় করার সক্ষমতাও থাকতে হবে। জনগণ, শিল্পখাত ও শিক্ষাঙ্গনের সমন্বয় ছাড়া কোনো বাজেটই প্রকৃত অর্থে সফল হতে পারে না’। এসময় তিনি স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটিকে ‘একটি উৎকর্ষের স্থান’ হিসেবে উল্লেখ করেন।

অনুষ্ঠানের অন্যতম আলোচক বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ বলেন, ‘২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ৭ হাজার মেগাওয়াটে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে, যা দেশের জ্বালানি খাতের অগ্রগতির প্রতিফলন।’

বিশ্বব্যাংকের জ্যেষ্ঠ কৃষি অর্থনীতিবিদ ড. ইফতিখার মোস্তফা বলেন, ‘বাজেট কেবল সংখ্যার সমষ্টি নয়; এটি মানুষের আকাঙ্ক্ষা ও প্রত্যাশার প্রতিফলন। তাই বাজেট প্রণয়নে জনগণকেন্দ্রিক পরিকল্পনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) অতিরিক্ত সচিব এ কে এম সোহেল বলেন, আগের বছরের তুলনায় দেশে বিনিয়োগ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে, যা জাতীয় অর্থনীতির প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধির ইঙ্গিত বহন করে।’

বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম প্রস্তাবিত বাজেটকে গত বছরের তুলনায় উন্নত উল্লেখ করে বলেন, ‘এটি শিল্প ও রপ্তানি খাতকে আরও শক্তিশালী করতে সহায়ক হবে।’

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক চেয়ারম্যান ও দুর্নীতি দমন কমিশনের সাবেক কমিশনার ড. নাসির উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘ভারত ও পাকিস্তানে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পে উল্লেখযোগ্য ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে এবং দেশ দুটি তাদের মূল পরিকল্পনা পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে পারেনি।’

সিম্পোজিয়ামটি সঞ্চালনা করেন ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ফারিয়া কবির। অনুষ্ঠান যৌথভাবে পরিচালনা করেন ফারিয়া কবির এবং অর্থনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সুস্মিতা বণিক।

অনুষ্ঠানের শুরুতে ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী শামসুল ইসলাম ইয়াসিন পবিত্র কোরআন থেকে তিলাওয়াত করেন। পরে আইন বিভাগের শিক্ষার্থী শুভ্র বৈরাগী শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা থেকে পাঠ করেন। স্বাগত বক্তব্য দেন অর্থনীতি বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. আবদুস সাত্তার। এ ছাড়া বক্তব্য দেন মার্কেটিং বিভাগের প্রধান ও সহযোগী অধ্যাপক নাজমুল হক, প্রাতিষ্ঠানিক মানোন্নয়ন সেলের (আইকিউএসি) পরিচালক ও সহযোগী অধ্যাপক আজিজুল হক এবং অর্থনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ফারজানা সুলতানা।

অনুষ্ঠানের শেষে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন ম্যানেজমেন্ট এন্ড হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট এর প্রধান গোলাম রব্বানী। তিনি অতিথি, বক্তা, আয়োজক ও মিডিয়া পার্টনার সহ সকল  অংশগ্রহণকারীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

সিম্পোজিয়ামে আরও উপস্থিত ছিলেন স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের প্রক্টর ও সহযোগী অধ্যাপক ড. মৃত্যুঞ্জয় আচার্য্য, রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ আব্দুল মতিন, জনসংযোগ বিভাগের প্রধান প্রদীপ্ত মোবারক, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগের চেয়ারম্যান, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।

অনুষ্ঠানে জাতীয় বাজেট, অর্থনৈতিক নীতি, বিনিয়োগ, জ্বালানি উন্নয়ন এবং টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে সরকার, শিল্প ও শিক্ষাঙ্গনের মধ্যে সমন্বয় জোরদারের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

আন্তর্জাতিক ইকোনমিকস অলিম্পিয়াডে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন পাঁচ শিক্ষার্থী

নিজস্ব প্রতিবেদক
আন্তর্জাতিক ইকোনমিকস অলিম্পিয়াডে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন পাঁচ শিক্ষার্থী
ছবি: কালের কণ্ঠ

চীনে অনুষ্ঠিতব্য আন্তর্জাতিক ইকোনমিকস অলিম্পিয়াড (আইইও) ২০২৬-এ অংশ নিতে যাচ্ছে বাংলাদেশের পাঁচ সদস্যের একটি দল। দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে বহুস্তরীয় বাছাই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই পাঁচ প্রতিযোগীকে নির্বাচিত করা হয়েছে।

গত ২২ জুন জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অলিম্পিয়াডের জন্য নির্বাচিত দলের সদস্যদের নাম ঘোষণা করা হয়। আন্তর্জাতিক এই প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন— ফারাবিদ বিন ফয়সাল, ফারিহা তাসনিম, জাইফ বিন মোর্শেদ, প্রান্ত ঘোষ ও ফাইয়াদ সালেহীন আহমেদ।

সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ ইকোনমিক্স অলিম্পিয়াডের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব মো. মানসুরুল হক বলেন, ‘আন্তর্জাতিক ইকোনমিকস অলিম্পিয়াড কেবল একটি প্রতিযোগিতা নয়, এটি বিশ্বব্যাপী তরুণ অর্থনীতিবিদদের জন্য নিজেদের দক্ষতা ও চিন্তাশক্তি প্রদর্শনের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম।’ বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা মেধা, পরিশ্রম ও সৃজনশীলতার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

তরুণ প্রজন্মকে অর্থনীতিতে আগ্রহী করে তোলার গুরুত্ব তুলে ধরে বাংলাদেশ ইকোনমিক্স অলিম্পিয়াডের কার্যনির্বাহী কমিটির সভাপতি আল আমিন পারভেজ বলেন, বর্তমান বিশ্বে অর্থনৈতিক জ্ঞান ও নীতিগত বিশ্লেষণ দক্ষতার গুরুত্ব ক্রমেই বাড়ছে। তরুণদের বাস্তবমুখী অর্থনৈতিক সমস্যার সমাধান নিয়ে ভাবতে উৎসাহিত করাই তাদের সংগঠনের অন্যতম লক্ষ্য।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ইকোনমিক্স অলিম্পিয়াডের চেয়ারম্যান ও বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. হোসেন জিল্লুর রহমান। তিনি বলেন, বৈশ্বিক এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে আমাদের শিক্ষার্থীরা শুধু জ্ঞান অর্জনের সুযোগই পাবে না, বরং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের তরুণদের সক্ষমতা ও সম্ভাবনাও তুলে ধরতে পারবে। এ ধরনের আয়োজন ভবিষ্যতে দেশের জন্য দক্ষ অর্থনীতিবিদ ও নীতিনির্ধারক তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।