• ই-পেপার

রিমার্কের ‘ডাবল লাখপতিতে’ ভাগ্য খুলল সাতক্ষীরার শ্যামলের

শিশুর বিকাশে প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ প্রয়োজন : ববি হাজ্জাজ

অনলাইন ডেস্ক
শিশুর বিকাশে প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ প্রয়োজন : ববি হাজ্জাজ
সংগৃহীত ছবি

শিশুর প্রাথমিক বিকাশ নিশ্চিত করতে পাঠ্যক্রম ও শিক্ষক উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, এমপি। তিনি বলেন, ‘শিশু কিভাবে শিখবে এবং শিক্ষক কিভাবে তাদের সঙ্গে সম্পৃক্ত হবেন, তার ভিত্তি তৈরি করে পাঠ্যক্রম। তাই প্রাথমিক শৈশব বিকাশে পাঠ্যক্রম সংস্কারকেই অগ্রাধিকার দিতে হবে।’

সোমবার (২২ জুন) ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশে (আইইউবি) আয়োজিত ‘ন্যাশনাল ডায়ালগ অন আর্লি চাইল্ডহুড ডেভেলপমেন্ট : পলিসি অ্যান্ড প্র্যাকটিস’ শীর্ষক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। আইইউবির স্কুল অব ফার্মেসি অ্যান্ড পাবলিক হেলথের (এসপিপিএইচ) অধীন পাবলিক হেলথ বিভাগ এ সেমিনারের আয়োজন করে।

ববি হাজ্জাজ বলেন, প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক পর্যায়ে শিশুদের শেখার প্রক্রিয়ায় মুখস্থনির্ভরতা ও পরীক্ষার ফলাফলের চেয়ে চিন্তাশক্তি, কৌতূহল, যোগাযোগ দক্ষতা ও সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা বিকাশের ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে শিক্ষক প্রশিক্ষণ জোরদার ও শিক্ষা পদ্ধতি আধুনিকায়নে সরকার কাজ করছে। শিশুর প্রাথমিক বিকাশের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে জাতীয় পর্যায়ের অংশীজনদের সম্পৃক্ত করে সংলাপ আয়োজন করায় আইইউবির প্রশংসা করেন প্রতিমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আইইউবির উপাচার্য অধ্যাপক ম. তামিম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আইইউবি ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান দিদার এ হোসেইন, ট্রাস্টি জাভেদ হোসেন এবং ন্যাশনাল একাডেমি ফর প্রাইমারি এডুকেশনের (নেপ) মহাপরিচালক ফরিদ আহমেদ।

ফরিদ আহমেদ বলেন, ‘প্রাথমিক শৈশব বিকাশ শুধু বিদ্যালয় বা সরকারের দায়িত্ব নয়; এতে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও রাষ্ট্রের সম্মিলিত ভূমিকা প্রয়োজন। এটি শুধু শ্রেণিকক্ষ বা অবকাঠামোর বিষয় নয়, বরং শিশুদের শেখা, বিকাশ ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার জন্য সহায়ক পরিবেশ তৈরির বিষয়।’

সভাপতির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক তামিম বলেন, ‘শিশুর প্রাথমিক বিকাশ ও উন্নয়নে বাংলাদেশ সরকার এবং বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি সংস্থা ও অংশীজনদের সঙ্গে একযোগে কাজ করতে আইইউবি অত্যন্ত আগ্রহী।’

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ ইসিডি নেটওয়ার্কের (বিইএন) ভাইস চেয়ার মাহমুদা আখতার। তিনি প্রাথমিক শৈশব বিকাশের গুরুত্ব এবং প্রাক-প্রাথমিক পর্যায়ে শিশুদের বিকাশে সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।

আইইউবির স্কুল অফ ফার্মেসি অ্যান্ড পাবলিক হেলথের ডিন ডা. কামরান উল বাসেত শিক্ষক উন্নয়ন ও প্রশিক্ষণ বিষয়ে আরেকটি মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এবং পরে উন্মুক্ত আলোচনা পর্ব পরিচালনা করেন। এতে সরকারি সংস্থা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সংস্থা ও বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে সমাপনী বক্তব্য দেন আইইউবির উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. ড্যানিয়েল ডব্লিউ লুন্ড। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন পাবলিক হেলথ বিভাগের সিনিয়র লেকচারার ড. তানভীর আহমেদ। উদ্বোধনী বক্তব্য দেন একই বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. বিলকিস বানু।

বাংলাদেশ ইসিডি নেটওয়ার্ক (বিইএন) শিশুদের প্রাথমিক বিকাশ নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও পেশাজীবীদের একটি জাতীয় প্ল্যাটফর্ম। আইইউবি এই নেটওয়ার্কের নির্বাহী সদস্য।

বছরের প্রথম পাঁচ মাসেই ১.৫ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্সের মাইলফলক ব্র্যাক ব্যাংকের

অনলাইন ডেস্ক
বছরের প্রথম পাঁচ মাসেই ১.৫ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্সের মাইলফলক ব্র্যাক ব্যাংকের
সংগৃহীত ছবি

২০২৬ সালের প্রথম পাঁচ মাসেই ১.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স এনেছে ব্র্যাক ব্যাংক। ফলে, রেমিট্যান্স সংগ্রহে ব্যাংকটি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৭৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে।

এই পাঁচ মাসে প্রায় ১৫ লাখ প্রবাসী বাংলাদেশি তাঁদের পরিবারের কাছে টাকা পাঠানোর জন্য ব্র্যাক ব্যাংকের ওপর আস্থা রেখেছেন। এই রেমিট্যান্সের টাকা বাংলাদেশের লাখ লাখ পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতা নিশ্চিত করতে বড় ভূমিকা রাখছে।

ব্যাংকটির এমন অর্জন প্রমাণ করে যে, প্রবাসী বাংলাদেশি এবং বিশ্বব্যাপী এক্সচেঞ্জ হাউসগুলোর কাছে ব্র্যাক ব্যাংকের রেমিট্যান্স সেবা কতটা নির্ভরযোগ্য হয়ে উঠেছে। দেশের মানুষের দৈনন্দিন জীবিকা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের খরচ জোগানোর পাশাপাশি দেশের অর্থনীতিকে সচল রাখতে ব্র্যাক ব্যাংক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।

রেমিট্যান্স প্রেরক ও সুবিধাভোগীদের জন্য বিশেষায়িত সেভিংস অ্যাকাউন্ট ও প্রোডাক্ট চালুর মাধ্যমে ব্র্যাক ব্যাংক নিজেদের রেমিট্যান্স ইকোসিস্টেমকে আরো শক্তিশালী করেছে। গ্রাহকরা ব্যাংকের সম্পূর্ণ ডিজিটাল অনবোর্ডিং প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে মাত্র কয়েক মিনিটে এসব অ্যাকাউন্ট খুলতে পারেন এবং ব্যাংকের ইন্টারনেট ব্যাংকিং অ্যাপ ‘আস্থা’-এর মাধ্যমে সহজেই পরিচালনা করতে পারেন। এই বিশেষ অ্যাকাউন্টগুলোর সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো— অ্যাকাউন্টে যত টাকাই থাকুক না কেন, গ্রাহকরা একটি নির্দিষ্ট হারে মুনাফা পাবেন। আর এই মুনাফা দেওয়া হবে প্রতি মাসে, যা গ্রাহকদের দৈনন্দিন জীবনে বাড়তি সুবিধা নিশ্চিত করবে।

নতুন রেমিট্যান্স করিডোরে কার্যক্রম সম্প্রসারণের পাশাপাশি বিদ্যমান পার্টনারদের সঙ্গে উদ্ভাবনী হোস্ট-টু-হোস্ট প্রযুক্তিগত সংযোগ জোরদারের মাধ্যমে ব্র্যাক ব্যাংক গুরুত্বপূর্ণ বৈদেশিক গন্তব্যগুলো থেকে রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধিতে কাজ করে যাচ্ছে। দেশজুড়ে ৩১০টি শাখা ও উপশাখা এবং ১ হাজার ১১৭টি এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেটের বিস্তৃত নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ব্যাংকটি প্রবাসীদের প্রেরিত অর্থ তাঁদের পরিবারের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে।

এ অর্জন প্রসঙ্গে ব্র্যাক ব্যাংকের ম্যানেজিং ডিরেক্টর অ্যান্ড সিইও তারেক রেফাত উল্লাহ খান বলেন, ‘এই মাইলফলক ব্র্যাক ব্যাংকের প্রতি প্রবাসী বাংলাদেশিদের অবিচল আস্থার প্রতিফলন। অভিন্ন লক্ষ্যকে সামনে রেখে আস্থা, প্রযুক্তি এবং অংশীদারিত্ব একসঙ্গে কাজ করলে কী অর্জন করা সম্ভব— এই সাফল্য তারই প্রমাণ। আমরা রেমিট্যান্স সেবাকে আরও দ্রুত, নিরাপদ ও সহজলভ্য করার মাধ্যমে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে অবদান রাখতে অঙ্গীকারবদ্ধ।’

রেমিট্যান্স বাংলাদেশের অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি, যা লাখো পরিবারের জীবনমান উন্নয়নে সহায়তা করার পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধিতেও উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখে। প্রযুক্তিতে ধারাবাহিক বিনিয়োগ, কৌশলগত অংশীদারি এবং গ্রাহককেন্দ্রিক সল্যুশনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি এবং প্রবাসী বাংলাদেশি ও তাঁদের পরিবারের জন্য বাড়তি সুবিধা নিশ্চিত করতে ব্র্যাক ব্যাংক প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

মানুষ, প্রতিষ্ঠান ও সম্ভাবনাকে সংযুক্ত করার এক নিরলস অভিযাত্রা

ড. মোহাম্মদ নুরুজ্জামান
মানুষ, প্রতিষ্ঠান ও সম্ভাবনাকে সংযুক্ত করার এক নিরলস অভিযাত্রা
সংগৃহীত ছবি

বাংলাদেশের করপোরেট জগৎ, প্রযুক্তি খাত, শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন এবং সামাজিক দায়বদ্ধতার অঙ্গনে যেসব ব্যক্তিত্ব দীর্ঘদিন ধরে নিরবচ্ছিন্নভাবে অবদান রেখে চলেছেন, তাদের মধ্যে ড. মোহাম্মদ নুরুজ্জামানের নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি একাধারে করপোরেট কৌশলবিদ, এঞ্জেল ইনভেস্টমেন্ট, প্রযুক্তি নেতা, সমাজসেবক এবং দক্ষতা ও কর্সংস্থান কর্মী হিসেবে কাজ করে যাচ্ছেন। পেশাগত সাফল্য, মানবিক দায়বদ্ধতা এবং প্রযুক্তিনির্ভর উন্নয়নের সমন্বয়ে তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন বাংলাদেশের অন্যতম সফল করপোরেট নেতাদের একজন হিসেবে।

মেঘনার মাটি থেকে বিশ্বমঞ্চে
১৯৬৯ সালের ১ জুন কুমিল্লার মেঘনা উপজেলার এক সম্ভ্রান্ত ও মূল্যবোধসম্পন্ন পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন ড. মোহাম্মদ নুরুজ্জামান। পিতা মরহুম আবদুল কুদ্দুস এবং মাতা জোহরা খাতুনের স্নেহ, আদর্শ ও শিক্ষায় বেড়ে ওঠেন তিনি। শৈশব থেকেই তিনি ছিলেন অধ্যবসায়ী, দায়িত্বশীল এবং নেতৃত্বপ্রবণ। গ্রামীণ পরিবেশে বেড়ে উঠলেও তার চিন্তা ও স্বপ্ন কখনো সীমাবদ্ধ ছিলো না। সমাজ, শিক্ষা ও মানুষের উন্নয়ন নিয়ে তার কৌতূহল এবং দূরদর্শী দৃষ্টিভঙ্গি পরবর্তীকালে তাকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নেতৃত্বের আসনে নিয়ে যায়।

শিক্ষা : জ্ঞান অর্জনের অবিরাম যাত্রা
ড. নুরুজ্জামানের শিক্ষা জীবন ছিল ধারাবাহিক সাফল্যে ভরপুর। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তীতে তথ্যপ্রযুক্তি ও ব্যবস্থাপনার ক্রমবর্ধমান গুরুত্ব উপলব্ধি করে ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমস (এমআইএস) বিষয়ে এমবিএ সম্পন্ন করেন।
শিক্ষার প্রতি তার আগ্রহ এখানেই থেমে থাকেনি। উচ্চতর গবেষণার লক্ষ্যে তিনি টেকনো ইন্ডিয়া ইউনিভার্সিটি থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। তার গবেষণার বিষয় ছিল বাংলাদেশের নিম্নআয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য একটি কার্যকর সামাজিক ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার সংযোগ কাঠামো। এ গবেষণা তার মানবিক দর্শন এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন ভাবনার প্রতিফলন।

করপোরেট নেতৃত্বের উজ্জ্বল অধ্যায়
পেশাগত জীবনের শুরু থেকেই ড. নুরুজ্জামান করপোরেট ব্যবস্থাপনা ও কৌশলগত পরিকল্পনায় অসাধারণ দক্ষতার পরিচয় দেন। দীর্ঘ ৩২ বছরের কর্মজীবনে তিনি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নেতৃত্ব দিয়ে অর্জন করেছেন অসংখ্য সাফল্য।
বর্তমানে তিনি ড্যাফোডিল গ্রুপ সিইও হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ড্যাফোডিল গ্রুপের চেয়ারম্যান ড. মো. সবুর খানের কৌশলগত নেতৃত্বের সঙ্গে সমন্বয় করে তিনি গ্রুপের সামগ্রিক ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।

তার নেতৃত্বে ড্যাফোডিল গ্রুপ শিক্ষা, প্রযুক্তি, তথ্যপ্রযুক্তি সেবা, স্বাস্থ্যসেবা, মানবসম্পদ উন্নয়ন, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক কর্মসংস্থান এবং ডিজিটাল ব্যবসা খাতে আরও শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করেছে।

একজন দক্ষ সিইও হিসেবে তিনি শুধু প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করেন না; বরং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, ব্যবসা সম্প্রসারণ, আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব এবং মানবসম্পদ উন্নয়নের দীর্ঘমেয়াদি রূপরেখা প্রণয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের অগ্রদূত
বাংলাদেশে ডিজিটাল রূপান্তরের যাত্রায় ড. নুরুজ্জামান একজন পরিচিত মুখ। তিনি বিশ্বাস করেন প্রযুক্তি কেবল একটি ব্যবসায়িক উপকরণ নয়; বরং সামাজিক পরিবর্তনের শক্তিশালী মাধ্যম। তথ্যপ্রযুক্তি, সফটওয়্যার গুণগত মান নিশ্চিতকরণ, ডিজিটাল অবকাঠামো এবং প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোক্তা উন্নয়নে তিনি দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন।

তিনি ইন্টারন্যাশনাল সফটওয়্যার টেস্টিং কোয়ালিফিকেশনস বোর্ড (ISTQB)-এর বাংলাদেশ প্রতিনিধি এবং টেস্ট ম্যাচিউরিটি মডেল ইন্টিগ্রেশন (TMMi) ফাউন্ডেশনেরও বাংলাদেশ প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
তার নেতৃত্বে প্রযুক্তি খাতে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি এবং আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন সফটওয়্যার সংস্কৃতি বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি সাধিত হয়েছে।

স্টার্টআপ ও অ্যাঞ্জেল ইনভেস্টমেন্টে নতুন দিগন্ত
ড. নুরুজ্জামান শুধু করপোরেট প্রশাসক নন; তিনি একজন সফল উদ্যোক্তা সহায়ক এঞ্জেল ইনভেস্টর এবং স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম ডেভেলপমেন্টের মেন্টরও। বাংলাদেশের স্বাস্থ্য প্রযুক্তি খাতে বিপ্লব ঘটানো প্রতিষ্ঠান ডকটাইম লিমিটেডের সহ-প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। স্বাস্থ্যসেবাকে সাধারণ মানুষের হাতের নাগালে পৌঁছে দিতে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মভিত্তিক সমাধান তৈরিতে তার অবদান বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। তিনি নিজেকে উদ্যোক্তা হিসেবে সামনে আনতে চান না। বরং তিনি এমন একটি পরিবেশ গড়ে তুলতে আগ্রহী, যেখানে নতুন উদ্যোক্তারা বেড়ে উঠতে পারেন। তাঁর কাছে সাফল্য মানে নিজের প্রতিষ্ঠানের সম্প্রসারণ নয়; বরং আরও অনেক প্রতিষ্ঠানের জন্ম দেওয়ার মতো একটি পরিবেশ তৈরি করা।

বৈশ্বিক কর্মসংস্থান ও দক্ষ অভিবাসনের প্রবক্তা
বর্তমান বিশ্বে দক্ষ জনশক্তির চাহিদা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ বাস্তবতা উপলব্ধি করে ড. নুরুজ্জামান আন্তর্জাতিক কর্মসংস্থান ও দক্ষ অভিবাসন ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।
তিনি মনে করেন, বাংলাদেশের তরুণ জনগোষ্ঠী দেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ। সঠিক প্রশিক্ষণ, ভাষাগত দক্ষতা এবং আন্তর্জাতিক মানের প্রস্তুতি নিশ্চিত করা গেলে তারা বিশ্ববাজারে আরও সফল হতে পারে। তার পরিকল্পনা ও কার্যক্রমের মাধ্যমে বহু তরুণ আন্তর্জাতিক কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্পর্কে সচেতনতা লাভ করছে এবং সরাসরি কর্মসংস্থান লাভ করছে।

বিশ্বের ৪০টিরও বেশি দেশে অভিজ্ঞতার আলো
ড. নুরুজ্জামান বিশ্বের ৪০টিরও বেশি দেশ সফর করেছেন। এসব সফরের মাধ্যমে তিনি বিভিন্ন দেশের অর্থনীতি, ব্যবসা, প্রযুক্তি, শিক্ষা এবং প্রশাসনিক কাঠামো সম্পর্কে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করেন।

এ আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা তাকে বৈশ্বিক দৃষ্টিভঙ্গিসম্পন্ন নেতা হিসেবে গড়ে তুলেছে। তিনি স্থানীয় বাস্তবতার সঙ্গে বৈশ্বিক অভিজ্ঞতার সমন্বয় ঘটিয়ে কার্যকর ব্যবসায়িক মডেল তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন।

যুব উন্নয়ন ও ক্রীড়া প্রশাসনে সম্পৃক্ততা
তরুণ সমাজের উন্নয়নকে তিনি জাতীয় অগ্রগতির অন্যতম পূর্বশর্ত মনে করেন। এ বিশ্বাস থেকেই তিনি গ্রামীণ শিক্ষা জীবন থেকে বিভিন্ন ক্লাব প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনা এবং জাতীয় পর্যায়ে দীর্ঘদিন ধরে ক্রীড়া ও যুব উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ উশু ফেডারেশনের সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। খেলাধুলার মাধ্যমে শৃঙ্খলা, আত্মবিশ্বাস, নেতৃত্বগুণ এবং সুস্থ জীবনধারা গড়ে তোলার লক্ষ্যে তিনি কাজ করে যাচ্ছেন।

সমাজসেবার মানবিক অধ্যায়
করপোরেট সাফল্যের পাশাপাশি সমাজসেবাকে তিনি নিজের জীবনের অন্যতম দায়িত্ব হিসেবে বিবেচনা করেন। এ চিন্তা থেকেই তিনি প্রতিষ্ঠা করেন ‘মেধালালন সার্কেল’। সংগঠনটি নিম্নআয়ের মেধাবী শিক্ষার্থীদের আর্থিক ও শিক্ষাগত সহায়তা প্রদান করে তাদের উচ্চশিক্ষার পথ সুগম করছে, যা তাঁর পিএইচডি থিসিসের প্রায়োগিক আখ্যান। 

এ ছাড়া তিনি ‘আমরা মেঘনাবাসী’ সংগঠনের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে নিজ জন্মভূমির উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছেন। করোনাকালে খাদ্য সহায়তা, মাদকবিরোধী কার্যক্রম, ক্রীড়া প্রতিযোগিতা আয়োজন, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি এবং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির নানা উদ্যোগে তার সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিলো প্রশংসনীয়।

পারিবারিক জীবন
ব্যস্ত পেশাগত জীবনের পাশাপাশি তিনি পারিবারিক জীবনেও সমানভাবে দায়িত্বশীল। তার সহধর্মিণী ফারহা দিবা ড্যাফোডিল পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের একজন সিনিয়র শিক্ষক। তাদের একমাত্র পুত্র আবরার ফাইয়াজ বর্তমানে কানাডায় উচ্চশিক্ষা গ্রহণপূর্বক চাকরি করছেন। পরিবারের প্রতি দায়িত্ববোধ, শিক্ষা ও মূল্যবোধের চর্চা তার ব্যক্তিজীবনের অন্যতম ভিত্তি।

বাংলাদেশের এক বৈশ্বিক দূত
ড. মোহাম্মদ নুরুজ্জামানের কর্মজীবনের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো—তিনি প্রতিটি ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সম্ভাবনাকে বিশ্বদরবারে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন। করপোরেট সুশাসন, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন, ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবা, উদ্যোক্তা উন্নয়ন এবং মানবসম্পদ বিকাশে তার নিরলস প্রচেষ্টা দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রশংসিত হয়েছে।

আজ তিনি শুধু একজন সফল করপোরেট নির্বাহী নন; তিনি বাংলাদেশের প্রযুক্তিনির্ভর উন্নয়ন, সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং বৈশ্বিক সহযোগিতার এক প্রতীক। তার জীবনগাথা নতুন প্রজন্মের জন্য প্রেরণা, যেখানে কঠোর পরিশ্রম, সততা, দূরদর্শিতা এবং মানবিক মূল্যবোধ এক সুতোয় গাঁথা। ড. মোহাম্মদ নুরুজ্জামানের জীবন ও কর্ম প্রমাণ করে—স্বপ্ন যদি বড় হয়, দৃষ্টিভঙ্গি যদি সুদূরপ্রসারী হয় এবং মানুষের কল্যাণ যদি লক্ষ্য হয়, তাহলে একটি গ্রাম থেকে উঠে এসেও বিশ্বমঞ্চে নেতৃত্ব দেওয়া সম্ভব।

ডিজিটাল ডিসকভারি ডে-২০২৬

ল্যাবরেটরি ডায়াগনস্টিকস ও ডিজিটাল হেলথকেয়ারের সর্বাধুনিক উদ্ভাবন উপস্থাপন

অনলাইন ডেস্ক
ল্যাবরেটরি ডায়াগনস্টিকস ও ডিজিটাল হেলথকেয়ারের সর্বাধুনিক উদ্ভাবন উপস্থাপন
সংগৃহীত ছবি

মেডিপ্যাক টেকনোলজিস লিমিটেড, অ্যাবট ডায়াগনস্টিকসের সহযোগিতায় সফলভাবে ডিজিটাল ডিসকভারি ডে ২০২৬ আয়োজন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাজধানীর ক্রাউন প্লাজা ঢাকা এয়ারপোর্টে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত স্বাস্থ্যসেবা পেশাজীবী, ল্যাবরেটরি বিশেষজ্ঞ, হাসপাতাল প্রশাসক এবং শিল্পখাতের নেতৃবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন। এবারের আয়োজনের প্রতিপাদ্য ছিল ‘উদ্ভাবনের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবার অগ্রযাত্রা’।

অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন মি. চন্দ্রেশ মাদানি (Chaandrish Madani), ডিস্ট্রিবিউটর অপারেশন ম্যানেজার, কোর ডায়াগনস্টিকস, অ্যাবট এবং মি. শামসুদ্দিন জিয়া, চিফ অপারেটিং অফিসার, মেডিপ্যাক টেকনোলজিস লিমিটেড। তারা আধুনিক স্বাস্থ্যসেবায় ডিজিটাল রূপান্তর, উদ্ভাবন এবং প্রযুক্তিনির্ভর সমাধানের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

উদ্বোধনী বক্তব্যে মি. শামসুদ্দিন জিয়া বলেন, ‘ডিজিটাল রূপান্তর এবং ইন্টেলিজেন্ট ডায়াগনস্টিকসের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। ডিজিটাল ডিসকভারি ডে ২০২৬-এর মাধ্যমে আমরা এমন একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করতে চাই, যেখানে স্বাস্থ্যসেবা পেশাজীবীরা বৈশ্বিক উদ্ভাবনের সঙ্গে পরিচিত হতে পারবেন, জ্ঞান বিনিময় করতে পারবেন এবং এমন প্রযুক্তি সম্পর্কে জানতে পারবেন যা বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবার দক্ষতা, নির্ভুলতা এবং রোগী সেবার মান উন্নয়নে সহায়ক হবে।’

অনুষ্ঠানে বিশেষজ্ঞ বক্তৃতা প্রদান করেন:

• মি. সিহি পার্ক (Sehee Park), মার্কেটিং ম্যানেজার, DHS & Systems, Core Diagnostics, Abbott • মিস ক্রিস্টিন গোপালাকৃষ্ণন (Kristin Gopalakrishnan), ডিজিটাল হেলথ সল্যুশনস এক্সিকিউটিভ, Core Diagnostics, Abbott • প্রফেসর ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ডা. এস. এম. মাহবুবুল আলম, এমবিবিএস, এমসিপিএস (ক্লিনিক্যাল প্যাথলজি), এফসিপিএস (হিস্টোপ্যাথলজি), সিনিয়র কনসালট্যান্ট, এভারকেয়ার হাসপাতাল, ঢাকা

বক্তারা ল্যাবরেটরি অটোমেশন, ডিজিটাল হেলথ সল্যুশনস, কানেক্টেড ডায়াগনস্টিকস এবং স্বাস্থ্যসেবার কার্যকারিতা ও রোগীর সেবার মান উন্নয়নে প্রযুক্তির ভূমিকা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মতামত তুলে ধরেন। অংশগ্রহণকারীরা ডায়াগনস্টিক প্রযুক্তি, ল্যাবরেটরি ইনফরমেটিক্স, ওয়ার্কফ্লো অপ্টিমাইজেশন এবং ডিজিটাল হেলথকেয়ার সল্যুশনসের সর্বশেষ উদ্ভাবন সম্পর্কে জানার সুযোগ পান।

অনুষ্ঠানটি স্বাস্থ্যসেবা খাতের পেশাজীবীদের জন্য জ্ঞান বিনিময়, মতবিনিময় এবং নেটওয়ার্কিংয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করে। আলোচনায় স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলো কীভাবে উদ্ভাবনী প্রযুক্তি ব্যবহার করে দক্ষতা বৃদ্ধি, মান নিয়ন্ত্রণ শক্তিশালীকরণ এবং উন্নত ক্লিনিক্যাল সিদ্ধান্ত গ্রহণ নিশ্চিত করতে পারে, সে বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়।

সমাপনী বক্তব্যে মি. নিজামউদ্দিন হাসান রশিদ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মেডিপ্যাক টেকনোলজিস লিমিটেড, অনুষ্ঠানের সকল বক্তা, অংশগ্রহণকারী এবং সহযোগীদের ধন্যবাদ জানান। তিনি বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবা খাতে আধুনিক প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনী সমাধান পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

তিনি বলেন, ‘স্বাস্থ্যসেবার ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে ইন্টেলিজেন্ট ডায়াগনস্টিকস, ডিজিটাল কানেক্টিভিটি এবং ধারাবাহিক উদ্ভাবনের ওপর। ডিজিটাল ডিসকভারি ডে ২০২৬-এর মতো উদ্যোগের মাধ্যমে আমরা বৈশ্বিক স্বাস্থ্যসেবা প্রযুক্তির অগ্রগতিকে বাংলাদেশের বাস্তব চাহিদার সঙ্গে সংযুক্ত করতে চাই, যাতে স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলো আরও দক্ষ, নির্ভুল এবং রোগীকেন্দ্রিক সেবা প্রদান করতে পারে।’

ডিজিটাল ডিসকভারি ডে ২০২৬-এর মাধ্যমে মেডিপ্যাক টেকনোলজিস লিমিটেড এবং অ্যাবট ডায়াগনস্টিকস উদ্ভাবননির্ভর, স্মার্ট ও সংযুক্ত স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার বিকাশে তাদের যৌথ অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।