রিসার্চ ডটকমের ‘বেস্ট ইউনিভার্সিটিজ ইন বাংলাদেশ ২০২৫-২৬’ র্যাংকিংয়ে দেশের শীর্ষ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ (আইইউবি)। বাংলাদেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে আইইউবির অবস্থান তৃতীয়।
র্যাংকিংয়ে আইইউবির দুজন গবেষক, ৩৩২টি প্রকাশনা এবং সম্মিলিত এইচ-ইনডেক্স ১১৮ উল্লেখ করা হয়েছে। বাংলাদেশের তালিকায় প্রথম স্থানে রয়েছে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এবং দ্বিতীয় স্থানে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)।
রিসার্চ ডটকম বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষকদের গবেষণা কার্যক্রম বিশ্লেষণ করে র্যাংকিং প্রকাশ করে। গবেষণাপত্র, উদ্ধৃতি বা সাইটেশন, এবং গবেষণার প্রভাবসহ বিভিন্ন বিবলিওমেট্রিক সূচকের ভিত্তিতে এই র্যাংকিং করা হয়। এ জন্য ওপেনঅ্যালেক্স এবং ক্রসরেফের মতো আন্তর্জাতিক একাডেমিক ডেটাবেজ থেকে তথ্য নেওয়া হয়।
রিসার্চ ডটকমের মাইক্রোবায়োলজি বিষয়ের র্যাংকিংয়ে বাংলাদেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে প্রথম অবস্থানে রয়েছে আইইউবি। এ ক্ষেত্রে আইইউবির ডিপার্টমেন্ট অব লাইফ সায়েন্সেসের অধ্যাপক ড. শাহ এম ফারুকের গবেষণা অবদান উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর প্রকাশনার সংখ্যা ১৫৩ এবং ডি-ইনডেক্স ৬৬।
এর আগে, নেচার ইনডেক্স র্যাংকিংয়ে দেশের শীর্ষ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বীকৃতি পায় আইইউবি। একই র্যাংকিংয়ে ফিজিকেল সায়েন্সেস বা পদার্থবিজ্ঞান বিষয়ে বাংলাদেশে প্রথম হয় বিশ্ববিদ্যালয়টি। রিসার্চ ডটকম র্যাঙ্কিংয়েও মাইক্রোবায়োলজিতে শীর্ষ অবস্থানের মাধ্যমে দুটি আন্তর্জাতিক গবেষণাভিত্তিক র্যাংকিংয়ে বিজ্ঞানের দুটি গুরুত্বপূর্ণ শাখায় দেশের সেরা অবস্থান অর্জন করল আইইউবি।
আইইউবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম তামিম বলেন, ‘এই অর্জনগুলো প্রমাণ করে যে একাধিক বৈজ্ঞানিক ক্ষেত্রে আইইউবির গবেষণা সক্ষমতা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দৃশ্যমান হচ্ছে। মানসম্মত গবেষণার পরিবেশ তৈরি, শক্তিশালী গবেষক দল গঠন এবং আন্তর্জাতিক মানের কাজকে উৎসাহিত করাই আমাদের লক্ষ্য।’
সহ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. ড্যানিয়েল ডব্লিউ লুন্ড বলেন, ‘গবেষণাভিত্তিক র্যাংকিং গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এগুলো প্রকাশনা ও গবেষণার প্রভাবের মতো পরিমাপযোগ্য সূচকের ওপর নির্ভর করে। মাইক্রোবায়োলজি ও ফিজিক্যাল সায়েন্সেসে আইইউবির অবস্থান আমাদের শিক্ষক ও গবেষকদের কাজের মানকে তুলে ধরে।’
সংশ্লিষ্ট বিষয়ের গবেষকদের ডি-ইনডেক্সের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান নির্ধারণ করে রিসার্চ ডট কম। ডি-ইনডেক্স বা ডিসিপ্লিন এইচ-ইনডেক্স নির্দিষ্ট বিষয়ে একজন গবেষকের প্রকাশনা ও সাইটেশনের প্রভাব পরিমাপ করে। অন্যদিকে এইচ-ইনডেক্স একজন গবেষকের প্রকাশনার সংখ্যা ও সেগুলোর গবেষণা প্রভাব মূল্যায়নের বহুল ব্যবহৃত একটি সূচক।
র্যাংকিংয়ের জন্য ব্যবহৃত তথ্য ২০২৪ সালের ২৭ নভেম্বর সংগ্রহ করা হয়। রিসার্চ ডটকম জানিয়েছে, এবারের র্যাংকিংয়ে বিভিন্ন বিষয়ের ২ লাখ ৭৯ হাজার ৯৭১ জন বিজ্ঞানীর প্রোফাইল বিশ্লেষণ করা হয়েছে।




