বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে গাজীপুরের চন্দ্রায় অবস্থিত ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসির হেডকোয়ার্টার্সে মাসব্যাপী র্যালি ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। ওয়ালটনের এনভায়রনমেন্ট, হেলথ অ্যান্ড সেফটি (ইএইচএস) বিভাগের উদ্যোগে এ কর্মসূচি চলছে।
কর্মসূচির অংশ হিসেবে রবিবার (৭ জুন) ‘জলবায়ু পরিবর্তন: আজকের পদক্ষেপ, আগামীর নিরাপত্তা’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বৃক্ষরোপণ, বর্ণাঢ্য র্যালি, আইডিয়া শেয়ারিং ও আলোচনা সভাসহ বিভিন্ন কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে দিবসটি পালন করা হয়। সকালে ফলজ ও ওষুধি গাছের চারা রোপণের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করা হয়।
জানা গেছে, মাসব্যাপী নানা আয়োজনের মাধ্যমে চলতি বছরের ১৯ মে থেকে ওয়ালটন হেডকোয়ার্টার্সে বিশ্ব পরিবেশ দিবস উদযাপন কার্যক্রম শুরু হয়। এর অংশ হিসেবে ৭ জুন স্থানীয় বিশাইদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কমিউনিটি অ্যাওয়ারনেস প্রোগ্রাম, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি এবং পরিবেশ, জলবায়ু পরিবর্তন ও জীববৈচিত্র্য বিষয়ক বিশেষ কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।
পাশাপাশি ওয়ালটন হেডকোয়ার্টার্সের আশপাশের এলাকা থেকে প্লাস্টিক সংগ্রহ ও রিসাইক্লিং কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। স্থানীয়দের সঙ্গে পরিবেশ সংরক্ষণ এবং প্লাস্টিক দূষণ বিষয়ে সচেতনতামূলক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
এ ছাড়া আয়োজন করা হয় বর্ণাঢ্য র্যালির। ব্যানার, ফেস্টুন ও পরিবেশবান্ধব স্লোগানসংবলিত প্ল্যাকার্ড হাতে ওয়ালটন পরিবারের সদস্যরা র্যালিতে অংশ নেন।
র্যালি শেষে পরিবেশ বিষয়ে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ এবং ক্যাম্পেইন পরিচালনা করা হয়। এছাড়া পরিবেশ রক্ষায় করণীয় ও ওয়ালটনের বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে বক্তারা পরিবেশ সুরক্ষা, টেকসই উৎপাদন ব্যবস্থা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ওয়ালটন হাই-টেকের অ্যাডিশনাল ম্যানেজিং ডিরেক্টর ইউসুফ আলী এবং ইএইচএস বিভাগের প্রধান মোস্তাফিজুর রহমান রাজুসহ হেডকোয়ার্টার্সের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
ওয়ালটনের অ্যাডিশনাল ম্যানেজিং ডিরেক্টর ইউসুফ আলী বলেন, ওয়ালটন কেবল প্রযুক্তিপণ্য উৎপাদনই করে না, বরং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় শুরু থেকেই প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। কারখানা প্রাঙ্গণে ক্ষতিকর রাসায়নিকের সঠিক ব্যবস্থাপনা, বর্জ্য শোধন এবং কার্বন নিঃসরণ কমাতে আধুনিক পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, ২০২৬ সালের বৈশ্বিক স্লোগানকে ধারণ করে গ্রিন ফ্যাক্টরি গড়ে তোলার এ ধারা আরও জোরদার করা হবে।
ইএইচএস বিভাগের প্রধান মোস্তাফিজুর রহমান রাজু বলেন, “আমাদের শিল্পাঞ্চলে পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব রোধ করতে আমরা আন্তর্জাতিক মানদণ্ড কঠোরভাবে অনুসরণ করছি। ক্ষতিকর রাসায়নিকের নিরাপদ ব্যবস্থাপনা, তরল বর্জ্য শোধনাগারের সার্বক্ষণিক কার্যকারিতা এবং শতভাগ প্লাস্টিক ও অন্যান্য বর্জ্য পুনর্ব্যবহারযোগ্য করার প্রক্রিয়া নিশ্চিত করেছি। আজকের এই বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ও সচেতনতা ক্যাম্পেইন আমাদের সেই ধারাবাহিক প্রচেষ্টারই অংশ।”
রেফ্রিজারেটর প্রোডাকশন বিভাগের প্রধান নাসির উদ্দীন, মানবসম্পদ বিভাগের প্রধান কাউসার উদ্দীন চৌধুরী এবং প্রশাসন বিভাগের প্রধান তানভীর আহম্মেদ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।




