• ই-পেপার

পবিপ্রবির নতুন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম, কোষাধ্যক্ষ আতিকুর রহমান

কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন প্রো-ভিসি অধ্যাপক নূর মহল

নিজস্ব প্রতিবেদক
কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন প্রো-ভিসি অধ্যাপক নূর মহল
অধ্যাপক ড. মোছা. নূর মহল আখতার বানু। ছবি : সংগৃহীত

কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুড়িকৃবি) নতুন উপ-উপাচার্য (প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর) হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) কীটতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. মোছা. নূর মহল আখতার বানু।

রাষ্ট্রপতির অনুমোদনক্রমে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ থেকে জারিকৃত এক প্রজ্ঞাপনে এই নিয়োগের কথা জানানো হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সরকারি সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সহকারী সচিব মো. সুলতান আহমেদ স্বাক্ষরিত ওই প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, ‘কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০২১’-এর ১২(১) ধারা অনুযায়ী ড. মোছা. নূর মহল আখতার বানুকে এই পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনের শর্তানুযায়ী, উপ-উপাচার্য হিসেবে তার নিয়োগের মেয়াদ যোগদানের তারিখ থেকে চার বছর হবে। তবে এর মধ্যে তার স্বাভাবিক অবসরের বয়স পূর্ণ হলে সে সময় পর্যন্তই তিনি নিজ পদে বহাল থাকবেন।

দায়িত্ব পালনকালে তিনি তার বর্তমান পদের সমপরিমাণ বেতন-ভাতা পাবেন এবং বিধি অনুযায়ী পদসংশ্লিষ্ট অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা ভোগ করবেন। শর্তানুযায়ী তাকে সার্বক্ষণিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অবস্থান করতে হবে। এ ছাড়া তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও সংবিধি দ্বারা নির্ধারিত এবং উপাচার্য (ভাইস-চ্যান্সেলর) কর্তৃক অর্পিত ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালন করবেন। জনস্বার্থে জারি করা এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।

উল্লেখ্য, অধ্যাপক ড. মোছা. নূর মহল আখতার বানু শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন স্বনামধন্য শিক্ষাবিদ। তিনি সর্বশেষ ২৪-এর জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সঙ্গেও সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন।

৩ বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন ভিসি নিয়োগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
৩ বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন ভিসি নিয়োগ
ছবি : কালের কণ্ঠ

নেত্রকোনা বিশ্ববিদ্যালয়, হবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও কিশোরগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন উপাচার্য (ভিসি) নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সোমবার (২৭ জুলাই) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ থেকে এসংক্রান্ত পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, নেত্রকোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পদে নিয়োগ পেয়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক মো. খালেদ উজ্জামান।

কিশোরগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পদে দায়িত্ব পেয়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক মো. হাবীবুর রহমান।

আর হবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য করা হয়েছে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টি টেকনোলজি বিভাগের অধ্যাপক মো. মোজাম্মেল হককে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলরের অনুমোদনক্রমে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আইন অনুযায়ী তাদের এই পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। যোগদানের তারিখ থেকে আগামী চার বছর অথবা তাদের অবসর গ্রহণের তারিখ—যেটি আগে ঘটবে, সে সময় পর্যন্ত এই নিয়োগ বহাল থাকবে।

শর্ত অনুযায়ী, নতুন উপাচার্যেরা তাদের মূল পদের সমপরিমাণ বেতন-ভাতা পাবেন এবং বিধিসম্মত পদ-সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা ভোগ করবেন। নিয়োগ প্রাপ্তদের সার্বক্ষণিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অবস্থান করতে বলা হয়েছে। তবে জনস্বার্থে চ্যান্সেলর যেকোনো সময় এই নিয়োগ বাতিল করার ক্ষমতা সংরক্ষণ করেন।

জাবির নতুন কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. সোহেল রানা

জাবি প্রতিনিধি
জাবির নতুন কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. সোহেল রানা
অধ্যাপক ড. মো. সোহেল রানা। সংগৃহীত ছবি

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) নতুন কোষাধ্যক্ষ (ট্রেজারার) হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. সোহেল রানা। মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলরের অনুমোদনক্রমে তাকে চার বছরের জন্য এ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (২৭ জুলাই) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সরকারি সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা থেকে এ-সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করেন সহকারী সচিব মো. সুলতান আহমেদ।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ‘জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ১৯৭৩’-এর ১৪(১) ধারা অনুযায়ী অধ্যাপক ড. মো. সোহেল রানাকে ট্রেজারার পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তার নিয়োগের মেয়াদ হবে যোগদানের তারিখ থেকে চার বছর। তবে চার বছর পূর্ণ হওয়ার আগে অবসর গ্রহণের বয়স পূর্ণ হলে সেদিনই তার দায়িত্বের মেয়াদ শেষ হবে।

নিয়োগের শর্ত অনুযায়ী, তিনি তার বর্তমান পদের সমপরিমাণ বেতন-ভাতা ও সম্মানী পাবেন এবং বিধি অনুযায়ী পদ-সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা ভোগ করবেন। এ ছাড়া তাকে সার্বক্ষণিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অবস্থান করতে হবে।

প্রজ্ঞাপনে আরো বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও সংবিধি অনুযায়ী নির্ধারিত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি উপাচার্য (ভাইস-চ্যান্সেলর) প্রদত্ত ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্বও তিনি পালন করবেন। প্রয়োজনে মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলর যেকোনো সময় এ নিয়োগ বাতিল করতে পারবেন।

জনস্বার্থে জারি করা এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

লাইব্রেরিতে ঢুকে শিক্ষার্থীদের ওপর শিবিরের হামলা

অন্তত তিন শিক্ষার্থী আহত শাখা ছাত্রদলের নিন্দা

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
লাইব্রেরিতে ঢুকে শিক্ষার্থীদের ওপর শিবিরের হামলা
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে হামলার শিকার ইসলামের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী হাসিবকে উদ্ধার করছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্যরা। ভিডিও ফুটেজ থেকে সংগৃহীত

আগের দিনের ঘটনার জেরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) ভবনে হামলার পর কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে ঢুকে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে শাখা ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। এতে অন্তত তিন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। 

ঘটনার শিকার শিক্ষার্থীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সোমবার (২৭ জুলাই) দুপুর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর দপ্তর, রাকসু ভবনে কয়েকজন শিক্ষার্থীর ওপর হামলার পর বিকেলে প্রতিষ্ঠানটির কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে পাঠরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করেন রাকসু জিএস আম্মারসহ শিবিরের নেতাকর্মীরা। বিকেল পৌনে ৬টায় এ প্রতিবেদন লেখার সময় পর্যন্ত ক্যাম্পাসে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছিল।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, রবিবার (২৬ জুলাই) প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় সংস্কৃত বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মহসিন আলমের বিরুদ্ধে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ করেন একই বিভাগের এক ছাত্রী। ওই ঘটনায় রাতে প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমানের উপস্থিতিতে বৈঠক হয়। 

বৈঠকে অভিযুক্তের সঙ্গে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আনাস, একই বিভাগের হাসিব, সংস্কৃত বিভাগের মাহমুদুল হাসানসহ কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন। এ সময় সেখানে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।

এদিকে, ওই ঘটনার জেরে আজ সোমবার দুপুরে প্রক্টর দপ্তরে আবারও বৈঠক বসে। বৈঠকে রাকসু জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার, এজিএস এস এম সালমান সাব্বিরসহ রাকসু শাখা শিবিরের কয়েকজন নেতা আনাসকে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কর্মী বলে অভিযোগ তোলেন। 

অভিযোগ রয়েছে, তার মোবাইল ফোনে ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতার সঙ্গে তোলা ছবি দেখার পর প্রক্টর দপ্তরেই তাকে মারধর করা হয়। পরে প্রক্টর বিষয়টির সাময়িক সমাধান করে দিলে আনাসসহ অন্যরা সেখান থেকে চলে যান। 

এরপর বিকেল ৩টার দিকে আনাস, হাসিব, মাহমুদুলসহ কয়েকজন রাকসু ভবনে যান। রাকসুর দাবি, তারা সেখানে অতর্কিতে হামলা চালিয়ে তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক বি এম নাজমুস সাকিবকে মারধর করেন। পরে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীরা কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের পাঠকক্ষের সামনে অবস্থান নেন।

এর কিছুক্ষণ পর রাকসু জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার, এজিএস সালমান সাব্বির, বিতর্ক ও সাহিত্য সম্পাদক ইমরান লস্কর, সহ-তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক সিফাত আবু সালেহ, আহত নাজমুস সাকিব, শাখা ছাত্রশিবিরের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান, প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক মেহেদী সজীব, দপ্তর সম্পাদক মানাজির আহাসান, অর্থ সম্পাদক শামীম পাটোয়ারী, সিনেট সদস্য ও শিবিরের ক্যাম্পাস মনিটরিং কো-অর্ডিনেটর ফজলে রাব্বি মোহাম্মদ ফাহিম রেজাসহ শিবির ও রাকসুর নেতাকর্মীরা সেখানে উপস্থিত হন।

এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে বাগবিতণ্ডার একপর্যায়ে ইট-পাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রক্টর অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের পাঠকক্ষে নিয়ে যান। পরে রাকসু ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা পাঠকক্ষের ফটক দিয়ে ভেতরে ঢুকে তাদের মারধর করেন। 

প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, হামলার সময় কাঠ, বাঁশ, রড, বেল্টসহ বিভিন্ন বস্তু ব্যবহার করা হয়। বাধা দিতে গেলে পাঠকক্ষে অধ্যয়নরত কয়েকজন শিক্ষার্থীও মারধরের শিকার হন। পরে প্রক্টরিয়াল বডি, পুলিশ ও অন্য শিক্ষার্থীরা আহতদের উদ্ধার করেন। গুরুতর আহত মাহমুদুল হাসানকে অ্যাম্বুল্যান্সে তোলার সময়ও তাদের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে। পরে পুলিশ ও প্রক্টরিয়াল বডির সহায়তায় তাকে হাসপাতালে পাঠানো হয়।

ঘটনার পর রাকসু ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা ‘নারায়ে তাকবির, আল্লাহু আকবার’; ‘হাতে তালি শিবির, মুখে বলি  শিবির’; ‘ছাত্রলীগের ঠিকানা, এই ক্যাম্পাসে হবে না’ ইত্যাদি স্লোগান দিতে থাকেন। পরে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের বিচার দাবিতে বিকেল সাড়ে ৪টা থেকে উপাচার্যের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন তারা।

হামলার প্রতিবাদ জানিয়ে পাঠকক্ষে অধ্যয়নরত পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী হেলাল উদ্দীন বলেন, ‘আমরা এখানে (গ্রন্থাগার) পড়ছিলাম। হঠাৎ তারা অতর্কিতে সবাই রিডিং রুমে ঢুকে পড়ে। তারা যাকে পায়, তাকেই ছাত্রলীগ ট্যাগ দিতে থাকে।’
 
হেলাল উদ্দীন আরো বলেন, ‘অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের দিকেও তারা হামলা করে। মতের পার্থক্য থাকলেই তাকে ছাত্রলীগ ট্যাগ দিয়ে মেরে ফেলতে চাচ্ছে। ছাত্রলীগ হলেও তাকে মেরে ফেলার অধিকার তো কারো নেই। বিচারের জন্য দেশে আইন রয়েছে।’ 

হামলার শিকার আনাস বলেন, ‘আজ (সোমবার) আমাদের প্রক্টর অফিসে ডাকা হয়। সেখানে তারা আমাকে ছাত্রলীগ ট্যাগ দেয়। সালাহউদ্দিন আম্মার লোকজন নিয়ে আমাকে মারা শুরু করে। তারপর আমাদের প্রক্টর অফিস থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়। তারপর আমরা সেখান থেকে লাইব্রেরিতে চলে আসি। এরপর অন্য কেউ হয়তো রাকসুর সামনে তাদের সঙ্গে হাতাহাতি করে। একপর্যায়ে আম্মার লোকজন নিয়ে লাইব্রেরির ভেতরে ঢুকে আমাকে মারধর করে। আমার শরীরে ২০০টিরও বেশি আঘাত করা হয়েছে।’

নিজেকে ছাত্রলীগের সাবেক কর্মী নন দাবি করে আনাস  বলেন, ‘অতীতে আমার বন্ধুরা হয়তো ছাত্রলীগ করত, তাই কোনো এক জায়গায় তাদের সঙ্গে আমার ছবি রয়েছে। তবে ছাত্রলীগের কোনো ব্যানার-ফেস্টুনে আমার ছবি নেই।’

তবে হামলার ঘটনায় ছাত্রশিবিরের জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করে শাখা শিবিরের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান বলেন, ‘এখানে শিবিরের কেউ ছিল না। আমরা আমাদের ভাই রাকসু নেতাদের ওপর হামলার খবর শুনে দ্রুত এখানে আসি। এসে এই পরিস্থিতি দেখতে পাই।’

হামলার ভিডিও ফুটেজে শিবিরের নেতাকর্মীদের উপস্থিতি প্রসঙ্গে জানতে চাইলে কোনো মন্তব্য করেননি মেহেদী।

রাকসু জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার বলেন, ‘আমাদের রাকসু ভবনে গিয়ে মারধর করেছে ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা। প্রশাসনকে আমরা ছাত্রলীগের ওই নেতাকে পুলিশের হাতে দেওয়ার আহ্বান জানাই। কিন্তু তারা কিছুই করেননি। আমাদের ওপর হামলার পর বাধ্য হয়ে আমাদের এখানে আসতে হয়েছে।’

এদিকে, শিক্ষার্থীদের ওপর শিবিরের হামলার নিন্দা জানিয়ে শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী বলেন, ‘যে নারী শিক্ষার্থীকে নিয়ে ঝামেলা শুরু, আমরা জেনেছি তাকে শিবিরের এক নেতা পছন্দ করতেন। এ কারণে একটি নারীঘটিত বিষয়কে গোপনে সমাধান না করে শিবিরের সন্ত্রাসী বাহিনী বিষয়টিকে রাজনৈতিক রূপ দিয়েছে।’ 

রাহী বলেন আরো বলেন, ‘আমরা আমাদের পবিত্র জায়গা লাইব্রেরিতে শিবিরের এ হামলার তীব্র নিন্দা জানাই। যারা সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগ ট্যাগ দিয়ে হামলা চালিয়েছে, তাদের ছাত্র সংসদের পদ ও ছাত্রত্ব বাতিল করতে হবে।’

এ ব্যাপারে তাৎক্ষণিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কারো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।