জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) প্রক্টর অফিসে টানা দুই মাসের বেশি সময় ধরে ঝুলছে তালা। গত ১৬ মে শিক্ষার্থীরা প্রক্টরের পদত্যাগের দাবিতে অফিসটিতে তালা লাগান। দুই মাস ১০ দিন পার হলেও এখনো তা খোলা হয়নি।
গত ১২ মে ক্যাম্পাসে এক নারী শিক্ষার্থীকে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনার পর শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থতার অভিযোগে প্রক্টর অধ্যাপক এ কে এম রাশিদুল আলমের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন শুরু হয়। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, প্রক্টরের দায়িত্বকালেই ক্যাম্পাসে একাধিক গুরুতর সহিংসতার ঘটনা ঘটলেও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তাই তিনি পদত্যাগ না করা পর্যন্ত প্রক্টর অফিসের তালা খুলবেন না বলে জানান তারা।
আন্দোলনের মুখে ১৭ মে সাত সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। কমিটিকে সাত কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়। পরে ১৫ জুন অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভায় সেই প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়। তবে তদন্ত প্রতিবেদন ও সুপারিশ প্রকাশের দাবিতে অনড় রয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুই সদস্য জানান, তদন্ত কমিটি একটি কার্যকর প্রক্টরিয়াল বডি গঠনের সুপারিশ করেছে। পাশাপাশি প্রক্টরকে দায়িত্ব পালনে আরও সক্রিয় ও দায়িত্বশীল হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত প্রক্টরিয়াল বডি পুনর্গঠনে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি।

এদিকে ঘটনার দুই মাসের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও ধর্ষণচেষ্টার মূল অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। এতে বিচারপ্রক্রিয়া ও ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা নিয়ে শিক্ষার্থীদের উদ্বেগ আরো বেড়েছে।
এরই মধ্যে ক্যাম্পাসে নারী শিক্ষার্থীদের হয়রানির আরও কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে। গত ৩০ জুন টিএসসি এলাকায় নারী শিক্ষার্থীদের ওয়াশরুমে গোপনে ভিডিও ধারণের চেষ্টার অভিযোগে এক বহিরাগতকে আটক করেন শিক্ষার্থীরা। পরে ৩ জুলাই ছাত্রীদের অনুমতি ছাড়া ছবি তোলার অভিযোগে ধামরাই উপজেলা যুবদলের সাবেক এক নেতাকেও আটক করা হয়।
নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী আনিকা তাবাসসুম ফারাবী বলেন, ধর্ষণচেষ্টার ঘটনার পরও ক্যাম্পাসে নারী হয়রানির ঘটনা থামেনি। এতে প্রমাণ হয়েছে, নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রক্টর কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেননি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মুহাম্মদ কামরুল আহসান বলেন, তদন্ত কমিটি ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা জোরদারে কুইক রেসপন্স টিম (কিউআরটি) গঠন, জরুরি হটলাইন চালু, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের পরিচয়পত্র বহন বাধ্যতামূলক করা এবং বহিরাগতদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণের সুপারিশ করেছে।
তিনি জানান, একটি কার্যকর প্রক্টরিয়াল বডি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে জনবল সংকট ও দায়িত্ব বণ্টনসংক্রান্ত কিছু জটিলতার কারণে সময় লাগছে।
তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের বিষয়ে উপাচার্য বলেন, সিন্ডিকেটের রেজুলেশন প্রকাশের আগে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো সম্ভব নয়। তবে সুপারিশগুলো বাস্তবায়নে প্রশাসন কাজ করছে।
ধর্ষণচেষ্টার মূল অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা না যাওয়ায় দুঃখ প্রকাশ করে তিনি বলেন, মামলাটি সিআইডিতে স্থানান্তর করা হয়েছে এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। দ্রুত অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।






