• ই-পেপার

গণরায় না মানলে নতুন সাংবিধানিক সংকটের মুখে পড়বে দেশ : আখতার

ধর্ষণচেষ্টার ঘটনার জেরে ২ মাস ধরে তালাবদ্ধ জাবির প্রক্টর অফিস

জাবি প্রতিনিধি
ধর্ষণচেষ্টার ঘটনার জেরে ২ মাস ধরে তালাবদ্ধ জাবির প্রক্টর অফিস
ছবি: কালের কণ্ঠ

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) প্রক্টর অফিসে টানা দুই মাসের বেশি সময় ধরে ঝুলছে তালা। গত ১৬ মে শিক্ষার্থীরা প্রক্টরের পদত্যাগের দাবিতে অফিসটিতে তালা লাগান। দুই মাস ১০ দিন পার হলেও এখনো তা খোলা হয়নি।

গত ১২ মে ক্যাম্পাসে এক নারী শিক্ষার্থীকে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনার পর শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থতার অভিযোগে প্রক্টর অধ্যাপক একেএম রাশিদুল আলমের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন শুরু হয়। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, প্রক্টরের দায়িত্বকালেই ক্যাম্পাসে একাধিক গুরুতর সহিংসতার ঘটনা ঘটলেও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তাই তিনি পদত্যাগ না করা পর্যন্ত প্রক্টর অফিসের তালা খুলবেন না বলে জানান তারা।

আন্দোলনের মুখে ১৭ মে সাত সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। কমিটিকে সাত কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়। পরে ১৫ জুন অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভায় সেই প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়। তবে তদন্ত প্রতিবেদন ও সুপারিশ প্রকাশের দাবিতে অনড় রয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুই সদস্য জানান, তদন্ত কমিটি একটি কার্যকর প্রক্টরিয়াল বডি গঠনের সুপারিশ করেছে। পাশাপাশি প্রক্টরকে দায়িত্ব পালনে আরও সক্রিয় ও দায়িত্বশীল হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত প্রক্টরিয়াল বডি পুনর্গঠনে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি।

ুেুুু

এদিকে ঘটনার দুই মাসের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও ধর্ষণচেষ্টার মূল অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। এতে বিচারপ্রক্রিয়া ও ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা নিয়ে শিক্ষার্থীদের উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

এরই মধ্যে ক্যাম্পাসে নারী শিক্ষার্থীদের হয়রানির আরও কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে। গত ৩০ জুন টিএসসি এলাকায় নারী শিক্ষার্থীদের ওয়াশরুমে গোপনে ভিডিও ধারণের চেষ্টার অভিযোগে এক বহিরাগতকে আটক করেন শিক্ষার্থীরা। পরে ৩ জুলাই ছাত্রীদের অনুমতি ছাড়া ছবি তোলার অভিযোগে ধামরাই উপজেলা যুবদলের সাবেক এক নেতাকেও আটক করা হয়।

নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী আনিকা তাবাসসুম ফারাবী বলেন, ধর্ষণচেষ্টার ঘটনার পরও ক্যাম্পাসে নারী হয়রানির ঘটনা থামেনি। এতে প্রমাণ হয়েছে, নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রক্টর কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেননি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মুহাম্মদ কামরুল আহসান বলেন, তদন্ত কমিটি ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা জোরদারে কুইক রেসপন্স টিম (কিউআরটি) গঠন, জরুরি হটলাইন চালু, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের পরিচয়পত্র বহন বাধ্যতামূলক করা এবং বহিরাগতদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণের সুপারিশ করেছে।

তিনি জানান, একটি কার্যকর প্রক্টরিয়াল বডি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে জনবল সংকট ও দায়িত্ব বণ্টনসংক্রান্ত কিছু জটিলতার কারণে সময় লাগছে।

তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের বিষয়ে উপাচার্য বলেন, সিন্ডিকেটের রেজুলেশন প্রকাশের আগে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো সম্ভব নয়। তবে সুপারিশগুলো বাস্তবায়নে প্রশাসন কাজ করছে।

ধর্ষণচেষ্টার মূল অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা না যাওয়ায় দুঃখ প্রকাশ করে তিনি বলেন, মামলাটি সিআইডিতে স্থানান্তর করা হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। দ্রুত অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

আগস্ট-সেপ্টেম্বরে ২৩ দিনের অবকাশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে

অনলাইন ডেস্ক
আগস্ট-সেপ্টেম্বরে ২৩ দিনের অবকাশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে
প্রতীকী ছবি/এআই দিয়ে তৈরি

আগামী আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে ৩ দিন করে ছুটি রয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। এ ছাড়া সাপ্তাহিক ছুটিসহ মোট ২৩ দিনের অবকাশ পাবেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ছুটির পঞ্জিকা বিশ্লেষণ করে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

ছুটির পঞ্জিকা অনুযায়ী, আগস্ট মাসে মোট ১২ দিন বন্ধ থাকবে। এর মধ্যে ৯ দিন সাপ্তাহিক ছুটি এবং ৩ দিন দিবসভিত্তিক সরকারি ছুটি। সরকারি ছুটিগুলো হলো ৫ আগস্ট জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস, ১২ আগস্ট আখেরি চাহার সোম্বা এবং ২৬ আগস্ট পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী। এ মাসে ক্লাস হবে ১৯ দিন।

এদিকে সাপ্তাহিক ও দিবস মিলিয়ে মোট ১১ দিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে সেপ্টেম্বর মাসে। এ মাসেও শ্রেণি কার্যক্রম চলবে ১৯ দিন।

এর বাইরে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া বা বিশেষ পরিস্থিতি বিবেচনা করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ঐচ্ছিক ছুটিও কার্যকর হতে পারে।

কৃষিভিত্তিক উদ্যোক্তা তৈরি ও গবেষণায় সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে সরকার : মাহ্দী আমিন

অনলাইন ডেস্ক
কৃষিভিত্তিক উদ্যোক্তা তৈরি ও গবেষণায় সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে সরকার : মাহ্দী আমিন

কৃষিভিত্তিক উদ্যোক্তা, পণ্য বৈচিত্র্য এবং গবেষণা ও উদ্ভাবনকে সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তার কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন।

তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের যোগ্যতা ও আগ্রহ অনুযায়ী এগিয়ে যাওয়ার পরিবেশ নিশ্চিত করতে চায় সরকার। কেউ যদি গবেষণা ও উদ্ভাবনে নিজেকে নিবেদিত করতে চান, তবে তার জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, উপকরণ ও আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। এ ছাড়া কেউ যদি কৃষিভিত্তিক বা অন্য কোনো খাতে উদ্যোক্তা হতে চান, সেই উদ্যোগও সফল করতে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আর্থিক সহায়তা দেবে সরকার।

রবিবার (২৬ জুলাই) সকালে রাজধানীর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) নবাগত ছাত্র-ছাত্রীদের ওরিয়েন্টেশন উপলক্ষে ‘কৃষিই কৃষ্টি-কৃষিই সমৃদ্ধি’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে মাহ্দী আমিন এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে খাদ্যে স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার যে লক্ষ্য নিয়ে সরকার এগিয়ে যাচ্ছে, সেই যাত্রায় শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, গবেষক ও শিক্ষার্থীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন বলে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন মাহ্দী আমিন। নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই মুখপাত্র বলেন, আজ যারা ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রামের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু করছেন, তাদের আবেগ ও প্রত্যাশার সঙ্গে সরকারেরও গভীর প্রত্যাশা জড়িয়ে আছে। এই তরুণ শিক্ষার্থীদের পথচলাই আগামী দিনের কৃষি ও বাংলাদেশের উন্নয়নে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।

বর্তমান সরকারের মেয়াদ ও ধারাবাহিকতার প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, বর্তমান নির্বাচিত সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র পাঁচ মাস পূর্ণ হয়েছে। অর্থাৎ শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের সূচনা হয়েছে এই সরকারের আমলেই। এবং চার বছর পর যখন তারা স্নাতক সম্পন্ন করবেন, তখনও এই সরকারের ধারাবাহিকতার মধ্য দিয়েই তাদের শিক্ষাজীবন পরিপূর্ণ হবে। তাই সরকারের বিভিন্ন নীতিমালা, পরিকল্পনা ও প্রধানমন্ত্রীর উন্নয়ন-ভাবনা শিক্ষার্থীদের শিক্ষা, গবেষণা ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে বাস্তবে প্রতিফলিত হয়ে দেশ গঠনে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে তিনি প্রত্যাশা করেন।

মাহ্দী আমিন বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যে দেশের সব কৃষকের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত সুদসহ কৃষিঋণ মওকুফের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে বর্তমান গণতান্ত্রিক ও নির্বাচিত সরকার। কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় এটি একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ।

নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দেশজুড়ে ‘কৃষক কার্ড’ বাস্তবায়নের কার্যক্রমও ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই মুখপাত্র বলেন, এর মাধ্যমে নগদ অর্থ ও ঋণ সুবিধা প্রদানে বিএনপি সরকারের পূর্ববর্তী অর্জনের ধারাবাহিকতাকেই এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আমলের কৃষি অগ্রযাত্রার সূচনা এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে কৃষিখাতকে শক্তিশালী ও রপ্তানিমুখী করার অভিজ্ঞতা ও সাফল্যকে ধারণ করেই বর্তমান সরকার কাজ করে যাচ্ছে।

কৃষকদের জীবনমান উন্নত করা, কৃষক কার্ডের মাধ্যমে তাদের কাছে সহজ ও সুলভ শর্তে ঋণ পৌঁছে দেওয়া এবং সেচ, বীজ, সার ও কৃষিযন্ত্রের মতো প্রয়োজনীয় উপকরণসমূহ কৃষকদের কাছে আরও সাশ্রয়ী মূল্যে সহজলভ্য করার লক্ষ্য নিয়ে সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে বলেও জানান মাহ্দী আমিন।

বাংলাদেশকে খাদ্যে আরও বেশি স্বয়ংসম্পূর্ণ করা, কৃষকদের জীবনমান উন্নত করা এবং সাশ্রয়ী মূল্যে কৃষি উপকরণ পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি তরুণদের মাধ্যমে কৃষি উদ্যোক্তার সংখ্যা বাড়ানোর ওপর বিশেষ জোর দেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই মুখপাত্র। তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের লক্ষ্য শুধু কৃষির উৎপাদনশীলতা ও বহুমুখীকরণ বৃদ্ধি করাই নয়, বরং কৃষক কার্ডের মাধ্যমে কৃষকদের কাছে সহজ ও সুলভ শর্তে ঋণ পৌঁছে দেওয়া। একই সঙ্গে সেচ, বীজ, সার, কীটনাশক ও কৃষিযন্ত্রের মতো কৃষির প্রয়োজনীয় সব উপকরণ কৃষকদের জন্য সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী মূল্যে নিশ্চিত করার উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

কৃষিপণ্যের সাপ্লাই চেইন ও মূল্যশৃঙ্খল গড়ার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি আরও বলেন, বর্তমানে অনেক কৃষিপণ্য পর্যাপ্ত উৎপাদিত হলেও উৎপাদন এলাকা থেকে ভোক্তার কাছে পৌঁছাতে দাম কয়েক গুণ বেড়ে যায় এবং সংরক্ষণের অভাবে একটি অংশ নষ্ট হয়। এই সমস্যার স্থায়ী সমাধানে স্থানীয় পর্যায়ে সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বাজারজাতকরণ জোরদার করতে হবে। পাশাপাশি কৃষিভিত্তিক উদ্যোক্তা তৈরি ও আধুনিক কৃষি বাজার গড়ে তোলার মাধ্যমে কৃষিপণ্যের সঠিক মূল্য নিশ্চিত ও অপচয় রোধ করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

কৃষিপণ্যের অপচয় রোধ, সরবরাহ ব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং রপ্তানিমুখী কৃষিভিত্তিক শিল্প গড়ে তুলতে ভ্যালু অ্যাডিশন (মূল্য সংযোজন) ও ডাইভার্সিফিকেশনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন মাহ্দী আমিন। তিনি বলেন, কৃষিপণ্যের সাপ্লাই চেইন আরও কার্যকর করা, সংরক্ষণ সক্ষমতা বাড়ানো এবং পণ্যে ভ্যালু অ্যাডিশন করা বর্তমান সময়ের অন্যতম বড় দাবি। উদাহরণ দিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, আম থেকে চাটনি বা জুস এবং টমেটো থেকে সস বা অন্যান্য প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্য তৈরি করা সম্ভব। এভাবে কৃষিপণ্যে ভ্যালু এড করতে পারলে একদিকে যেমন অপচয় কমবে, অন্যদিকে সাপ্লাই চেইন শক্তিশালী হবে এবং দেশের বিভিন্ন জেলা ও বিভাগে পণ্যের দাম স্থিতিশীল রাখা যাবে। এর মাধ্যমে নতুন পণ্য বৈচিত্র্য সৃষ্টির পাশাপাশি রপ্তানিমুখী কৃষিভিত্তিক শিল্প গড়ে তোলার নতুন সুযোগ তৈরি হবে।

শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক অবদানের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই মুখপাত্র আরও বলেন, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু কৃষি শিক্ষার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। কৃষির পাশাপাশি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদসহ সামগ্রিক ফুড ইকোসিস্টেমের প্রতিটি ক্ষেত্রে এই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, গবেষক ও শিক্ষার্থীদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে দেশবাসী সেই অবদান প্রত্যক্ষ করে আসছে এবং আগামী দিনেও এই ধারা আরও সমৃদ্ধ হবে বলে তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সাহস, নেতৃত্ব ও ভূমিকার কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, আগামীর বাংলাদেশের প্রকৃত কান্ডারী আমাদের শিক্ষার্থীরাই। শিক্ষার্থীদের মেধা ও উদ্ভাবনী শক্তিকে কাজে লাগাতে বর্তমান সরকার সবসময় তাদের পাশে রয়েছে।

রাষ্ট্র পরিচালনায় তারুণ্যের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটানোর ওপর জোর দিয়ে মাহ্দী আমিন আরও বলেন, সরকার এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চায় যার ভিত্তি হবে সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার। যেখানে মেধার যথাযথ মূল্যায়ন হবে, কোনো বৈষম্য থাকবে না। এবং সব শ্রেণি-পেশার মানুষ একসঙ্গে একটি সমৃদ্ধ, মানবিক ও নিরাপদ রাষ্ট্র বিনির্মাণে ভূমিকা রাখবে।

শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস এবং দেশের কৃষি উৎপাদনে বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অবদানের ভূয়সী প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই মুখপাত্র। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বর্তমান শিক্ষার্থীদের শিক্ষা, গবেষণা ও সাফল্যের মাধ্যমে এই প্রতিষ্ঠানের সুনাম দেশ ও সীমানা পেরিয়ে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে আরও বেশি সমৃদ্ধ হবে।

দেশের কৃষি উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, কৃষির বহুমুখীকরণ এবং গবেষণার ক্ষেত্রে শেকৃবির সাবেক ও বর্তমান শিক্ষক এবং প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের গুরুত্বপূর্ণ অবদানের কথা স্মরণ করেন প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা। তিনি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যালামনাইরা উচ্চমানের গবেষণা পরিচালনা করছেন এবং যুগান্তকারী উদ্ভাবনের সঙ্গে যুক্ত থেকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের মুখ উজ্জ্বল করছেন। নবীন শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ও গবেষণালব্ধ সাফল্য আগামী দিনেও এই ধারা অব্যাহত রাখবে।

ইবিতে ছাত্রশক্তির সভায় পদবঞ্চিতদের হট্টগোল

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
ইবিতে ছাত্রশক্তির সভায় পদবঞ্চিতদের হট্টগোল
ছবি : কালের কণ্ঠ

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) জাতীয় ছাত্রশক্তি আয়োজিত জুলাই স্মৃতিচারণাসভায় হট্টগোল করেছেন পদবঞ্চিত নেতাকর্মীরা। রবিবার (২৬ জুলাই) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় এ ঘটনা ঘটে। 

এ সময় ছাত্রশক্তি ইবি শাখার কমিটিতে ছাত্রলীগ (নিষিদ্ধ) পুনর্বাসন ও প্রকৃত আন্দোলনকারীদের বঞ্চিত করার অভিযোগ তুলে এনসিপির সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় নেতাদের উপস্থিতিতেই তারা এই হট্টগোল করে। হট্টগোলকারী সবাই শাখা বৈবিছাআর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী।

সভায় জাতীয় নাগরিক পার্টির সদস্যসচিব ও সংসদ সদস্য আখতার হোসেন, যুগ্ম আহ্বায়ক আলী আহসান জুনায়েদ ও সারোয়ার তুষার, যুগ্ম মুখ্য সংগঠক ও সংসদ সদস্য ডা. মাহমুদা আলম মিতু, জাতীয় ছাত্রশক্তির সভাপতি জাহিদ আহসান, দপ্তর সম্পাদক মাহফুজুর রহমান উপস্থিত ছিলেন। 

জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় শাখা ছাত্রশক্তির আলোচনাসভায় এনসিপির নেতারা বক্তব্য প্রদানকালে শাখা বৈবিছাআর সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব মুবাশ্বির আমিন ও যুগ্ম সদস্যসচিব বাঁধন বিশ্বাসের নেতৃত্বে কিছু নেতাকর্মী হট্টগোল শুরু করেন। পরে এনসিপি নেতা আলী আহসান জুনায়েদসহ অন্যরা হট্টগোলকারীদের অন্যত্র সরিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেন।

ইবি বৈবিছাআর যুগ্ম সদস্যসচিব বাঁধন বিশ্বাস বলেন, কমিটির আহ্বায়ক ফুয়াদ হাসান পূর্বে ছাত্রলীগ করতেন। জুলাইয়ে পরেও তিনি হল দখল করে ছাত্রলীগ পুনর্বাসনের চেষ্টা করেন। পরে আমাদের বাধায় হল থেকে নামতে বাধ্য হন তিনি। 

বাঁধন বিশ্বাস আরো বলেন, ফুয়াদ জাহিদের কোরামের সঙ্গে রাজনীতি করায় পদ পেয়েছে। এ ছাড়া কমিটির সদস্যসচিব বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হেনস্তার সঙ্গে জড়িত। তার বিরুদ্ধে কমিটিও হয়েছে। জুলাইয়ের আন্দোলনের ভিত্তিতে যেহেতু কমিটি দেওয়া হয়েছে, কিন্তু সেখানে প্রকৃত আন্দোলনকারীদের রাখা হয়নি। আমরা কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে এ বিষয়ে জানার জন্য গিয়েছিলাম।

এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদ আহসান বলেন, সভায় একটা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। তবে যারা ক্ষুব্ধ ছিলেন, তাদের সঙ্গে আমরা কথা বলেছি। আজকে এখানে যারা এসেছিলেন, সবাই জুলাই আন্দোরনকারী। কমিটি নিয়ে অনেকের মাঝেই ক্ষুব্ধতা থাকে। আমরা তাদের কথা শুনেছি। এর প্রেক্ষিতে আমরা শিগগিরই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।