• ই-পেপার

গবেষণার উন্নয়নে ঢাবি ও মার্জিয়া করিম ফাউন্ডেশনের সমঝোতা স্বাক্ষর

ঢাবি উপাচার্যের সঙ্গে রাশিয়ার প্রতিনিধিদলের সাক্ষাৎ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
ঢাবি উপাচার্যের সঙ্গে রাশিয়ার প্রতিনিধিদলের সাক্ষাৎ
ছবি : কালের কণ্ঠ

ঢাকায় নিযুক্ত রাশিয়ার দূতাবাসের ফার্স্ট সেক্রেটারি ও রাশিয়ান হাউসের পরিচালক মিস আলেকজান্দ্রা এ খেলভনয় বৃহস্পতিবার (১১ জুন) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের সঙ্গে তার কার্যালয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন।

এ সময় দূতাবাসের সাংস্কৃতিক কার্যক্রম বিভাগের প্রধান প্রশান্ত কুমার বর্মণ এবং সিনিয়র প্রশাসনিক কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

সাক্ষাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং রাশিয়ার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ভাষা ও সংস্কৃতিবিষয়ক চলমান যৌথ শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রম আরো জোরদার করার বিষয়ে আলোচনা হয়। এ ছাড়া বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যে সাংস্কৃতিক দল বিনিময়ের বিষয়টিও আলোচনায় গুরুত্ব পায়।

বৈঠকে রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গ স্টেট ইউনিভার্সিটির সহযোগিতায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটে তিন মাসব্যাপী একটি বিনামূল্যের রুশ ভাষা কোর্স চালুর সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা করা হয়। পাশাপাশি ইনস্টিটিউটে চলমান রুশ ভাষা কোর্সের সম্প্রসারণের ওপরও উভয় পক্ষ গুরুত্বারোপ করেন।

প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি পেতে যাচ্ছে ববি শিক্ষার্থীর উদ্ভাবনী কৃত্রিম হাত ও মিসাইল

ববি প্রতিনিধি
প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি পেতে যাচ্ছে ববি শিক্ষার্থীর উদ্ভাবনী কৃত্রিম হাত ও মিসাইল
সংগৃহীত ছবি

সম্প্রতি বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী সুজন চন্দ্র পালের তৈরি একটি কৃত্রিম হাত এবং ‘থান্ডারবোল্ট’ নামের একটি প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির মডেল গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনায় এসেছে। তার উদ্ভাবনী প্রযুক্তি প্রকল্প বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের স্বীকৃতি পেতে যাচ্ছে।

বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কার্যালয়ে সাক্ষাতের সময় উপাচার্য জানান, খুব শিগগির সুজন চন্দ্র পালকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই উদ্ভাবনের স্বীকৃতি প্রদান করা হবে। পাশাপাশি তার গবেষণামূলক কাজকে আরো এগিয়ে নিতে প্রয়োজনীয় একাডেমিক, প্রযুক্তিগত ও আর্থিক সহযোগিতা দেওয়ার বিষয়েও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন উদ্যোগ নেবে।

সীমিত ল্যাব সুবিধা ও অবকাঠামোর মধ্যেও নিজস্ব আগ্রহ, গবেষণাচিন্তা ও প্রযুক্তিগত দক্ষতার মাধ্যমে সুজন দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন প্রকল্পে কাজ করে আসছেন। তার সাম্প্রতিক উদ্ভাবনগুলো গণমাধ্যমে আলোচনায় আসার পর বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নজরে আসে। এরপর তাকে উৎসাহিত করতে এবং গবেষণা ও উদ্ভাবনকে স্বীকৃতি দিতে উদ্যোগ নেওয়া হয়।

সুজন চন্দ্র পাল বলেন, ‘ছোটবেলা থেকেই নতুন কিছু উদ্ভাবনের প্রতি আমার আগ্রহ ছিল। সীমিত সুযোগের মধ্যেও আমি কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের এই স্বীকৃতি আমাকে ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে গবেষণা ও প্রযুক্তি উন্নয়নে অনুপ্রাণিত করবে।’

পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. মো. আরিফ উল ইসলাম বলেন, ‘সুজন আমাদের বিভাগের একজন মেধাবী ও পরিশ্রমী শিক্ষার্থী। তার উদ্ভাবনী চিন্তা শিক্ষার্থীদের জন্য অনুপ্রেরণাদায়ক। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এই উদ্যোগ গবেষণামুখী পরিবেশ তৈরিতে সহায়ক হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘এমন সৃজনশীল উদ্যোগ ভবিষ্যতে দেশের প্রযুক্তি ও প্রতিরক্ষা গবেষণার ক্ষেত্রেও নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিতে পারে।’

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মামুন অর রশিদ বলেন, ‘সুজন চন্দ্র পালের উদ্ভাবনী কাজ সত্যিই প্রশংসনীয়। বিশ্ববিদ্যালয় তার গবেষণা ও প্রযুক্তি উন্নয়নের কাজে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে। প্রয়োজনে দেশি-বিদেশি সংস্থা থেকেও সহযোগিতা নেওয়া হবে, যাতে তিনি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অবদান রাখতে পারেন।’

উপাচার্যের সাথে শিক্ষার্থী সুজন চন্দ্র পালের সাক্ষাৎকালে পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান ড. রহিমা নাসরিন, সহকারী অধ্যাপক ড. মো. আরিফুল ইসলাম এবং গবেষণা ও সম্প্রসারণ অফিসের পরিচালক ড. সোনিয়া খান সনি উপস্থিত ছিলেন।

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও ইউজিসি পাচ্ছে ১২ হাজার ৩০০ কোটি টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক
পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও ইউজিসি পাচ্ছে ১২ হাজার ৩০০ কোটি টাকা
ছবি : কালের কণ্ঠ

দেশের ৫৮টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ব্যয় নির্বাহের জন্য ১২ হাজার ৩০০ কোটি ৪ লাখ টাকার বাজেট অনুমোদন করেছে ইউজিসি। এ বাজেটে দেশের ৫৮টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য ১২ হাজার ১ কোটি ৮২ লাখ টাকা এবং ইউজিসির জন্য ২৯৮ কোটি ৫৮ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের মোট বাজেটের মধ্যে ৭ হাজার ৪২৮ কোটি ৪৩ লাখ টাকা পরিচালন ব্যয় এবং ৪৩টি প্রকল্পের অনুকূলে ৪ হাজার ৫৭৩ কোটি ৩৯ লাখ টাকা উন্নয়ন ব্যয় হিসেবে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

ইউজিসি চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মামুন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ১৭৮তম পূর্ণ কমিশন সভায় বৃহস্পতিবার (১১ জুন) এ বাজেট অনুমোদন করা হয়। 

সভার কার্যপত্র উপস্থাপন করেন ইউজিসি সচিব ড. ফখরুল ইসলাম। সভায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেট এবং ২০২৬-২৭ অর্থবছরের মূল বাজেটের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন ইউজিসির অর্থ ও হিসাব বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আইয়ুব ইসলাম।

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৫৭টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুকূলে সংশোধিত বাজেটে বরাদ্দের পরিমাণ ছিল ১০ হাজার ৮০২ কোটি ২১ লাখ টাকা। সে হিসাবে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্য বরাদ্দ বেড়েছে ১ হাজার ৪৯৭ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে সর্বোচ্চ রাজস্ব বাজেট পেয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, যার পরিমাণ ৯৪৯ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। 

উচ্চশিক্ষায় গবেষণা ও বৈদেশিক স্কলারশিপ খাতের জন্য ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ইউজিসি’র মূল বাজেটে ২৩৮ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের মূল বাজেটে গবেষণা ও বৈদেশিক স্কলারশিপ খাতে মোট ২২৯ কোটি টাকা বরাদ্দ ছিল। এর মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের বাজেটে ১৯৪ কোটি টাকা এবং ইউজিসির বাজেটে গবেষণা ও বৈদেশিক স্কলারশিপ খাতের জন্য ৩৫ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছিল। সে হিসাবে আগামী অর্থবছরে এ খাতে মোট বরাদ্দ ৯ কোটি টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ইউজিসির জন্য বরাদ্দকৃত মোট বাজেটের প্রায় ৮০ শতাংশ গবেষণা ও বৈদেশিক স্কলারশিপ খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, ২০২৬ সালের ৪ এপ্রিল অনুষ্ঠিত মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের মধ্যমেয়াদি বাজেট কাঠামো (২০২৬-২৭ থেকে ২০২৮-২৯) বিষয়ক ত্রিপক্ষীয় সভায় গবেষণা খাতে দ্বৈততা পরিহারের লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়সমূহ এবং বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের গবেষণা খাত একীভূত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের গবেষণা খাতের ২০০ কোটি টাকা কমিশনের বাজেটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ফলে ইউজিসির গবেষণা খাতে বরাদ্দ দাঁড়িয়েছে ২২৬ কোটি টাকা। এর সঙ্গে বৈদেশিক স্কলারশিপ খাতে ১২ কোটি টাকা যোগ হয়ে মোট বরাদ্দ হয়েছে ২৩৮ কোটি টাকা। 

বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের সঙ্গে পরামর্শক্রমে শিগগিরই একটি নীতিমালা প্রণয়নের মাধ্যমে গবেষণা খাতের এ বরাদ্দ আরো কার্যকরভাবে ব্যবহারের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে বলে সভাকে জানান ইউজিসি চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, গবেষণার অর্থ কেন্দ্রীয়ভাবে বরাদ্দ করা হলেও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর গবেষণা কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত হবে না। বরং গবেষণার সম্ভাব্য প্রভাব, গুণগত মান এবং প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় অর্থ আরও কার্যকরভাবে বণ্টনের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

ইউজিসি চেয়ারম্যান আরো বলেন, দেশের বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের চাহিদার তুলনায় এ বরাদ্দ অপ্রতুল। তবুও সমাজের প্রয়োজন এবং অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত খাতগুলো চিহ্নিত করে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সঙ্গে অর্থ ব্যয় করা গেলে দেশের উচ্চশিক্ষা খাত উল্লেখযোগ্যভাবে উপকৃত হবে। ইউজিসির মূল লক্ষ্য দেশে গুণগত উচ্চশিক্ষা নিশ্চিত করা এবং গবেষণার সংস্কৃতি গড়ে তোলা। দেশের টেকসই উন্নয়ন ও জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি বিনির্মাণে মানসম্পন্ন গবেষণার কোনো বিকল্প নেই। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে গবেষণা ও উদ্ভাবনী কার্যক্রম সম্প্রসারণে উৎসাহিত করতে ইউজিসি গবেষণা ও উদ্ভাবন খাতে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে এবং ভবিষ্যতে এ খাতে বরাদ্দ আরও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

সভায় ইউজিসি সদস্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, প্রফেসর ড. মো. সাইদুর রহমান, প্রফেসর ড. মাছুমা হাবিব, প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আইয়ুব ইসলাম ও প্রফেসর ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন, পরিকল্পনা কমিশনের আর্থসামাজিক অবকাঠামো বিভাগের সদস্য (সচিব) নাসরীন জাহান, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন, চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. পেয়ার আহম্মেদ, খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. নাজমুল আহসান, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (ডিন ক্যাটাগরি) প্রফেসর ড. মো. শওকাত আলী, সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও ডিন (প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদ) প্রফেসর ড. মো. নিজাম উদ্দিন এবং সিলেট মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (ডিন ক্যাটাগরি) প্রফেসর ডা. মো. জিয়াউর রহমান চৌধুরী এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি অতিরিক্ত সচিব (বিশ্ববিদ্যালয়) আলিফ রুদাবা পূর্ণ কমিশনের সদস্য হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

মাভাবিপ্রবিতে বিশ্বকাপ দেখানো হবে বড় পর্দায়

মাভাবিপ্রবি প্রতিনিধি
মাভাবিপ্রবিতে বিশ্বকাপ দেখানো হবে বড় পর্দায়
ছবি: কালের কণ্ঠ

আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপ-২০২৬ উপলক্ষে শিক্ষার্থীদের জন্য বড় পর্দায় খেলা দেখার ব্যবস্থা করেছে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (মাভাবিপ্রবি) প্রশাসন। এ লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ৮ ফুট উচ্চতা ও ১০ ফুট দৈর্ঘ্যের একটি এলইডি স্ক্রিন স্থাপন করা হচ্ছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, তৃতীয় একাডেমিক ভবনের সামনে স্থাপিত এ স্ক্রিনে বিশ্বকাপের প্রতিটি ম্যাচ সরাসরি প্রদর্শন করা হবে। শিক্ষার্থীরা যাতে একসঙ্গে খেলা উপভোগ করতে পারেন এবং ক্যাম্পাসে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়, সে লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এবিএম শহীদুল ইসলামের উদ্যোগে এ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, তিনি খেলাধুলাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে কাজ করে যাচ্ছেন। ফুটবলের পাশাপাশি অন্য খেলাধুলা এবং বিশেষ করে নারী শিক্ষার্থীদের ক্রীড়া কার্যক্রমে অংশগ্রহণ বৃদ্ধিতেও তিনি গুরুত্ব দিচ্ছেন।

এর আগে আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপ-২০২৬ উপলক্ষে শিক্ষার্থীদের সম্মিলিতভাবে খেলা দেখার ব্যবস্থা করার দাবিতে মাভাবিপ্রবি ছাত্রদল উপাচার্যের কাছে একটি স্মারকলিপি প্রদান করে। গত ৯ জুন দেওয়া ওই স্মারকলিপিতে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বড় পর্দার মাধ্যমে বিশ্বকাপের খেলা উপভোগের সুযোগ তৈরির দাবি জানানো হয়। পরে বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন, ক্যাম্পাসে বড় পর্দায় বিশ্বকাপের খেলা দেখার সুযোগ তাদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা ছিল। প্রশাসনের এ উদ্যোগে তারা আনন্দিত। তাদের মতে, একসঙ্গে খেলা দেখার আয়োজন শিক্ষার্থীদের মধ্যে সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও পারস্পরিক বন্ধন আরো দৃঢ় করবে।

এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে অনেক শিক্ষার্থী উপাচার্যকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তারা বলেন, শিক্ষার্থীদের চাহিদাকে গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ায় বিশ্বকাপ ঘিরে ক্যাম্পাসে নতুন উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে। ইতোমধ্যে এ আয়োজনকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, বিশ্বকাপ উপলক্ষে অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন দেশের দল ও তারকা খেলোয়াড়দের ছবি নিয়ে থিমভিত্তিক ডিসপ্লেরও ব্যবস্থা করা হবে। সেখানে শিক্ষার্থী ও দর্শনার্থীরা স্মৃতিচারণমূলক ছবি তোলার সুযোগ পাবেন।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আশা, বিশ্বকাপ চলাকালে এ আয়োজন শিক্ষার্থীদের মিলনমেলায় পরিণত হবে এবং ক্যাম্পাসজুড়ে উৎসবের আবহ সৃষ্টি করবে। পাশাপাশি খেলা উপভোগের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও অংশগ্রহণমূলক সংস্কৃতি আরো বিকশিত হবে।