• ই-পেপার

জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সমাধিতে জবি উপাচার্যের শ্রদ্ধা

জাবির নতুন কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. সোহেল রানা

জাবি প্রতিনিধি
জাবির নতুন কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. সোহেল রানা
অধ্যাপক ড. মো. সোহেল রানা। সংগৃহীত ছবি

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) নতুন কোষাধ্যক্ষ (ট্রেজারার) হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. সোহেল রানা। মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলরের অনুমোদনক্রমে তাকে চার বছরের জন্য এ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (২৭ জুলাই) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সরকারি সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা থেকে এ-সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করেন সহকারী সচিব মো. সুলতান আহমেদ।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ‘জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ১৯৭৩’-এর ১৪(১) ধারা অনুযায়ী অধ্যাপক ড. মো. সোহেল রানাকে ট্রেজারার পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তার নিয়োগের মেয়াদ হবে যোগদানের তারিখ থেকে চার বছর। তবে চার বছর পূর্ণ হওয়ার আগে অবসর গ্রহণের বয়স পূর্ণ হলে সেদিনই তার দায়িত্বের মেয়াদ শেষ হবে।

নিয়োগের শর্ত অনুযায়ী, তিনি তার বর্তমান পদের সমপরিমাণ বেতন-ভাতা ও সম্মানী পাবেন এবং বিধি অনুযায়ী পদ-সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা ভোগ করবেন। এ ছাড়া তাকে সার্বক্ষণিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অবস্থান করতে হবে।

প্রজ্ঞাপনে আরো বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও সংবিধি অনুযায়ী নির্ধারিত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি উপাচার্য (ভাইস-চ্যান্সেলর) প্রদত্ত ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্বও তিনি পালন করবেন। প্রয়োজনে মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলর যেকোনো সময় এ নিয়োগ বাতিল করতে পারবেন।

জনস্বার্থে জারি করা এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

লাইব্রেরিতে ঢুকে শিক্ষার্থীদের ওপর শিবিরের হামলা

অন্তত তিন শিক্ষার্থী আহত শাখা ছাত্রদলের নিন্দা

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
লাইব্রেরিতে ঢুকে শিক্ষার্থীদের ওপর শিবিরের হামলা
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে হামলার শিকার ইসলামের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী হাসিবকে উদ্ধার করছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্যরা। ভিডিও ফুটেজ থেকে সংগৃহীত

আগের দিনের ঘটনার জেরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) ভবনে হামলার পর কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে ঢুকে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে শাখা ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। এতে অন্তত তিন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। 

ঘটনার শিকার শিক্ষার্থীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সোমবার (২৭ জুলাই) দুপুর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর দপ্তর, রাকসু ভবনে কয়েকজন শিক্ষার্থীর ওপর হামলার পর বিকেলে প্রতিষ্ঠানটির কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে পাঠরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করেন রাকসু জিএস আম্মারসহ শিবিরের নেতাকর্মীরা। বিকেল পৌনে ৬টায় এ প্রতিবেদন লেখার সময় পর্যন্ত ক্যাম্পাসে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছিল।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, রবিবার (২৬ জুলাই) প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় সংস্কৃত বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মহসিন আলমের বিরুদ্ধে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ করেন একই বিভাগের এক ছাত্রী। ওই ঘটনায় রাতে প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমানের উপস্থিতিতে বৈঠক হয়। 

বৈঠকে অভিযুক্তের সঙ্গে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আনাস, একই বিভাগের হাসিব, সংস্কৃত বিভাগের মাহমুদুল হাসানসহ কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন। এ সময় সেখানে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।

এদিকে, ওই ঘটনার জেরে আজ সোমবার দুপুরে প্রক্টর দপ্তরে আবারও বৈঠক বসে। বৈঠকে রাকসু জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার, এজিএস এস এম সালমান সাব্বিরসহ রাকসু শাখা শিবিরের কয়েকজন নেতা আনাসকে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কর্মী বলে অভিযোগ তোলেন। 

অভিযোগ রয়েছে, তার মোবাইল ফোনে ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতার সঙ্গে তোলা ছবি দেখার পর প্রক্টর দপ্তরেই তাকে মারধর করা হয়। পরে প্রক্টর বিষয়টির সাময়িক সমাধান করে দিলে আনাসসহ অন্যরা সেখান থেকে চলে যান। 

এরপর বিকেল ৩টার দিকে আনাস, হাসিব, মাহমুদুলসহ কয়েকজন রাকসু ভবনে যান। রাকসুর দাবি, তারা সেখানে অতর্কিতে হামলা চালিয়ে তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক বি এম নাজমুস সাকিবকে মারধর করেন। পরে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীরা কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের পাঠকক্ষের সামনে অবস্থান নেন।

এর কিছুক্ষণ পর রাকসু জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার, এজিএস সালমান সাব্বির, বিতর্ক ও সাহিত্য সম্পাদক ইমরান লস্কর, সহ-তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক সিফাত আবু সালেহ, আহত নাজমুস সাকিব, শাখা ছাত্রশিবিরের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান, প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক মেহেদী সজীব, দপ্তর সম্পাদক মানাজির আহাসান, অর্থ সম্পাদক শামীম পাটোয়ারী, সিনেট সদস্য ও শিবিরের ক্যাম্পাস মনিটরিং কো-অর্ডিনেটর ফজলে রাব্বি মোহাম্মদ ফাহিম রেজাসহ শিবির ও রাকসুর নেতাকর্মীরা সেখানে উপস্থিত হন।

এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে বাগবিতণ্ডার একপর্যায়ে ইট-পাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রক্টর অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের পাঠকক্ষে নিয়ে যান। পরে রাকসু ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা পাঠকক্ষের ফটক দিয়ে ভেতরে ঢুকে তাদের মারধর করেন। 

প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, হামলার সময় কাঠ, বাঁশ, রড, বেল্টসহ বিভিন্ন বস্তু ব্যবহার করা হয়। বাধা দিতে গেলে পাঠকক্ষে অধ্যয়নরত কয়েকজন শিক্ষার্থীও মারধরের শিকার হন। পরে প্রক্টরিয়াল বডি, পুলিশ ও অন্য শিক্ষার্থীরা আহতদের উদ্ধার করেন। গুরুতর আহত মাহমুদুল হাসানকে অ্যাম্বুল্যান্সে তোলার সময়ও তাদের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে। পরে পুলিশ ও প্রক্টরিয়াল বডির সহায়তায় তাকে হাসপাতালে পাঠানো হয়।

ঘটনার পর রাকসু ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা ‘নারায়ে তাকবির, আল্লাহু আকবার’; ‘হাতে তালি শিবির, মুখে বলি  শিবির’; ‘ছাত্রলীগের ঠিকানা, এই ক্যাম্পাসে হবে না’ ইত্যাদি স্লোগান দিতে থাকেন। পরে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের বিচার দাবিতে বিকেল সাড়ে ৪টা থেকে উপাচার্যের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন তারা।

হামলার প্রতিবাদ জানিয়ে পাঠকক্ষে অধ্যয়নরত পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী হেলাল উদ্দীন বলেন, ‘আমরা এখানে (গ্রন্থাগার) পড়ছিলাম। হঠাৎ তারা অতর্কিতে সবাই রিডিং রুমে ঢুকে পড়ে। তারা যাকে পায়, তাকেই ছাত্রলীগ ট্যাগ দিতে থাকে।’
 
হেলাল উদ্দীন আরো বলেন, ‘অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের দিকেও তারা হামলা করে। মতের পার্থক্য থাকলেই তাকে ছাত্রলীগ ট্যাগ দিয়ে মেরে ফেলতে চাচ্ছে। ছাত্রলীগ হলেও তাকে মেরে ফেলার অধিকার তো কারো নেই। বিচারের জন্য দেশে আইন রয়েছে।’ 

হামলার শিকার আনাস বলেন, ‘আজ (সোমবার) আমাদের প্রক্টর অফিসে ডাকা হয়। সেখানে তারা আমাকে ছাত্রলীগ ট্যাগ দেয়। সালাহউদ্দিন আম্মার লোকজন নিয়ে আমাকে মারা শুরু করে। তারপর আমাদের প্রক্টর অফিস থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়। তারপর আমরা সেখান থেকে লাইব্রেরিতে চলে আসি। এরপর অন্য কেউ হয়তো রাকসুর সামনে তাদের সঙ্গে হাতাহাতি করে। একপর্যায়ে আম্মার লোকজন নিয়ে লাইব্রেরির ভেতরে ঢুকে আমাকে মারধর করে। আমার শরীরে ২০০টিরও বেশি আঘাত করা হয়েছে।’

নিজেকে ছাত্রলীগের সাবেক কর্মী নন দাবি করে আনাস  বলেন, ‘অতীতে আমার বন্ধুরা হয়তো ছাত্রলীগ করত, তাই কোনো এক জায়গায় তাদের সঙ্গে আমার ছবি রয়েছে। তবে ছাত্রলীগের কোনো ব্যানার-ফেস্টুনে আমার ছবি নেই।’

তবে হামলার ঘটনায় ছাত্রশিবিরের জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করে শাখা শিবিরের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান বলেন, ‘এখানে শিবিরের কেউ ছিল না। আমরা আমাদের ভাই রাকসু নেতাদের ওপর হামলার খবর শুনে দ্রুত এখানে আসি। এসে এই পরিস্থিতি দেখতে পাই।’

হামলার ভিডিও ফুটেজে শিবিরের নেতাকর্মীদের উপস্থিতি প্রসঙ্গে জানতে চাইলে কোনো মন্তব্য করেননি মেহেদী।

রাকসু জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার বলেন, ‘আমাদের রাকসু ভবনে গিয়ে মারধর করেছে ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা। প্রশাসনকে আমরা ছাত্রলীগের ওই নেতাকে পুলিশের হাতে দেওয়ার আহ্বান জানাই। কিন্তু তারা কিছুই করেননি। আমাদের ওপর হামলার পর বাধ্য হয়ে আমাদের এখানে আসতে হয়েছে।’

এদিকে, শিক্ষার্থীদের ওপর শিবিরের হামলার নিন্দা জানিয়ে শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী বলেন, ‘যে নারী শিক্ষার্থীকে নিয়ে ঝামেলা শুরু, আমরা জেনেছি তাকে শিবিরের এক নেতা পছন্দ করতেন। এ কারণে একটি নারীঘটিত বিষয়কে গোপনে সমাধান না করে শিবিরের সন্ত্রাসী বাহিনী বিষয়টিকে রাজনৈতিক রূপ দিয়েছে।’ 

রাহী বলেন আরো বলেন, ‘আমরা আমাদের পবিত্র জায়গা লাইব্রেরিতে শিবিরের এ হামলার তীব্র নিন্দা জানাই। যারা সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগ ট্যাগ দিয়ে হামলা চালিয়েছে, তাদের ছাত্র সংসদের পদ ও ছাত্রত্ব বাতিল করতে হবে।’

এ ব্যাপারে তাৎক্ষণিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কারো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সুবিপ্রবির নতুন উপ-উপাচার্য নোবিপ্রবির অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর

নোবিপ্রবি প্রতিনিধি
সুবিপ্রবির নতুন উপ-উপাচার্য নোবিপ্রবির অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর
অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর সরকার। সংগৃহীত ছবি

সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (সুবিপ্রবি) নতুন উপ-উপাচার্য (প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর) হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর সরকার।

সোমবার (২৭ জুলাই) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা থেকে এ-সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। 

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলরের অনুমোদনক্রমে ‘সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০২০’-এর ১২(১) ধারা অনুযায়ী তাকে এ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনের শর্ত অনুযায়ী, যোগদানের তারিখ থেকে চার বছর অথবা অবসর গ্রহণের তারিখ—যেটি আগে ঘটবে, সে সময় পর্যন্ত তার নিয়োগ বহাল থাকবে। তিনি মূল পদের সমপরিমাণ বেতন-ভাতা পাবেন এবং বিধি অনুযায়ী পদ-সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সুবিধা ভোগ করবেন।

এ ছাড়া তাকে সার্বক্ষণিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অবস্থান করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও সংবিধি অনুযায়ী নির্ধারিত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি উপাচার্য প্রদত্ত ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্বও পালন করবেন। প্রয়োজনে মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলর যেকোনো সময় এ নিয়োগ বাতিল করতে পারবেন।

রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে জারি করা প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সহকারী সচিব মো. শাহ আলম সিরাজ। জনস্বার্থে অবিলম্বে এ আদেশ কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তিন দফা দাবিতে ঢাবি উপাচার্যের কাছে নারী শিক্ষার্থীদের স্মারকলিপি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
তিন দফা দাবিতে ঢাবি উপাচার্যের কাছে নারী শিক্ষার্থীদের স্মারকলিপি
ছবি : কালের কণ্ঠ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) পাঁচটি ছাত্রী হলের শিক্ষার্থীরা হল প্রশাসনের বিভিন্ন বৈষম্যমূলক ও অমানবিক নিয়মের অবসান এবং নারী শিক্ষার্থীদের জন্য সমান সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার দাবিতে উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছেন। সোমবার (২৭ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৪টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে উপাচার্যের কাছে তিন দফা দাবি-সংবলিত স্মারকলিপি জমা দেন তারা।

স্মারকলিপি দেওয়ার আগে প্রশাসনিক ভবনের সামনে রোকেয়া হল, শামসুন নাহার হল, কবি সুফিয়া কামাল হল, বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল এবং বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হলের শিক্ষার্থীরা সংবাদ সম্মেলন করেন।

শিক্ষার্থীদের তিন দফা দাবির মধ্যে রয়েছে— বৈধ পরিচয়পত্র প্রদর্শনের মাধ্যমে সব নারী শিক্ষার্থীর সব ছাত্রী হলে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা, হলের মূল ফটকে সময়সীমা ও বের হওয়ার জটিল নিয়ম শিথিল করা এবং আবাসিক শিক্ষার্থীদের মা, বোন বা অন্য নারী অভিভাবকদের সহজ প্রক্রিয়ায় হলে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া।

সংবাদ সম্মেলনে রোকেয়া হলের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান জেরিন বলেন, বছরের পর বছর ধরে নারী শিক্ষার্থীদের ওপর অযৌক্তিক ও বৈষম্যমূলক নিয়ম চাপিয়ে রাখা হয়েছে। রাতে সামান্য দেরি হলেও অনেককে হলে প্রবেশ করতে দেওয়া হয় না। আবার জরুরি অসুস্থতা বা পরিবারের সদস্যের মৃত্যু হলেও দীর্ঘ অনুমতি প্রক্রিয়ার কারণে দ্রুত হল থেকে বের হওয়া সম্ভব হয় না।

তিনি বলেন, ‘আমাদের মা-বাবা মারা গেলেও নিজের হাতে আবেদন লিখে অনুমতি নিয়ে বের হতে হয়। গুরুতর অসুস্থ হলেও দুই-তিন ঘণ্টা লেগে যায়। এই অমানবিক নিয়মগুলোর পরিবর্তন চাই।’

২৪ ঘণ্টা হলের গেট খোলা রাখার দাবির বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে জেরিন বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে সেটি তাদের প্রধান দাবি নয়। আগে নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। ক্যাম্পাস ও হলসংলগ্ন এলাকায় ভবঘুরে, নেশাগ্রস্ত ও বখাটেদের উৎপাত বন্ধের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়ার পর শিক্ষার্থীদের মতামতের ভিত্তিতে ২৪ ঘণ্টা হল খোলা রাখার বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে।’

সংবাদ সম্মেলনে অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের সমস্যার বিষয়ও তুলে ধরা হয়। কবি সুফিয়া কামাল হলের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী জাকিয়া আক্তার বলেন, অনাবাসিক হওয়ায় নিজের হলে সীমিত সুযোগ পেলেও অন্য কোনো ছাত্রী হলে প্রবেশ করতে পারেন না। ফলে অনেক সময় কাছের হলের ক্যান্টিন ব্যবহার করাও সম্ভব হয় না।

তিনি বলেন, ‘আমি একজন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, আমার বৈধ হল কার্ড আছে। তাহলে কেন শুধু অন্য হলের শিক্ষার্থী হওয়ার কারণে আমাকে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না? অনাবাসিক হলেই কি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি আমাদের অধিকার কমে যায়?’

বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হলের সংযুক্ত অনাবাসিক শিক্ষার্থী সামিয়া অভিযোগ করেন, দেড় বছর ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়লেও তিনি নিজের সংযুক্ত হলে কার্যত প্রবেশের সুযোগ পাননি। অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের সন্দেহের চোখে দেখা হয় এবং হলের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক, সহশিক্ষা ও সাংগঠনিক কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার সুযোগ থেকেও তারা বঞ্চিত হন।

কবি সুফিয়া কামাল হল সংসদের সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) শিমু আক্তার বলেন, আবাসিক ও অনাবাসিক—উভয় ধরনের নারী শিক্ষার্থীদের প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে গিয়ে যে হয়রানিমূলক আচরণের অভিযোগ উঠেছে, তা দূর করার দাবিতেই পাঁচটি নারী হলের প্রতিনিধিরা একত্রিত হয়েছেন।

শিক্ষার্থীরা তাদের যৌক্তিক দাবিগুলো দ্রুত বাস্তবায়নে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ প্রত্যাশা করেন। তবে দাবি বাস্তবায়নে দ্রুত দৃশ্যমান উদ্যোগ নেওয়া না হলে ভবিষ্যতে আরো কঠোর কর্মসূচি ঘোষণারও হুঁশিয়ারি দেন তারা।

জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সমাধিতে জবি উপাচার্যের শ্রদ্ধা | কালের কণ্ঠ