• ই-পেপার

খুলনায় যুবকের গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার

শীতলক্ষ্যায় গোসলে নেমে ডুবে প্রাণ গেল পোশাক শ্রমিকের

নারায়ণগঞ্জ সিটি প্রতিনিধি
শীতলক্ষ্যায় গোসলে নেমে ডুবে প্রাণ গেল পোশাক শ্রমিকের
সংগৃহীত ছবি

নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদীতে গোসল করতে নেমে ডুবে স্বাধীন (১৯) নামের এক পোশাক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (২৭ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে শহরের নবীগঞ্জ খেয়াঘাট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত স্বাধীন হাজীগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা বাদল মিয়ার ছেলে।

ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানায়, বিকেলে স্বাধীন শীতলক্ষ্যা নদীতে গোসল করতে নেমে হঠাৎ নিখোঁজ হন। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়রা তাকে খুঁজতে শুরু করেন। পরে খবর পেয়ে হাজীগঞ্জ ফায়ার স্টেশন ও নদী ফায়ার স্টেশনের ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে।

সিনিয়র স্টেশন কর্মকর্তা মো. নুরুল আলম দুলালের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে বিকেল ৪টা ২৫ মিনিটে ডুবুরিরা স্বাধীনকে নদী থেকে উদ্ধার করেন। তবে ততক্ষণে তার মৃত্যু হয়।

পরে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে নিহতের মরদেহ পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

ঘুষের টাকা গুনতে গুনতে ভূমি কর্মকর্তা বললেন, এক মাসে কাজ কমপ্লিট করে দেওয়া হবে

সালথা-নগরকান্দা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি
ঘুষের টাকা গুনতে গুনতে ভূমি কর্মকর্তা বললেন, এক মাসে কাজ কমপ্লিট করে দেওয়া হবে
সংগৃহীত ছবি

ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার ডাঙ্গী ইউনিয়নের ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা মো. সরোয়ার হোসেনের ঘুষ নেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। সোমবার (২৭ জুলাই) দুপুরে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ে। 

ভাইরাল ওই ভিডিওতে দেখা যায়, ভূমি কর্মকর্তা সরোয়ার তার ব্যক্তিগত কক্ষের চৌকি খাটের ওপর বসে জনৈক এক ব্যক্তির কাছ থেকে ঘুষ নিচ্ছেন। নোটগুলো ৫০০ ও এক হাজার টাকার ছিল। এ সময় এক মাসের মধ্যে কাজ কমপ্লিট করে দেওয়া হবে বলে তাকে বলতে শোনা যায়।

এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত ডাঙ্গী ইউনিয়ন ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা সরোয়ার হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

নগরকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজওয়ানা আফরিন বলেন, আমি ভিডিওটি দেখেছি। বিষয়টি নিয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রসঙ্গত, কয়েকদিন আগে বোয়ালমারী উপজেলার সাতৈর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের উপসহকারী কর্মকর্তা মো. ইমরান হোসেনের গুনে গুনে ঘুষ নেওয়ার ভিডিও ভাইরাল হয়। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর গত ২৬ জুলাই তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়।

খাল পুনঃখনন শেষে ৩৬ লাখ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দিলেন ইউএনও

সদরপুর-চরভদ্রাসন (ফরিদপুর) প্রতিনিধি
খাল পুনঃখনন শেষে ৩৬ লাখ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দিলেন ইউএনও
ছবি : কালের কণ্ঠ

সরকারি অর্থের সাশ্রয়, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির এক ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শরীফ শাওন। উপজেলার দুটি খাল পুনঃখনন প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার পর অব্যয়িত ৩৬ লাখ ৪০ হাজার ৬২০ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দিয়েছেন তিনি।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, প্রায় ২ কোটি ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে সদরপুর উপজেলার চরবিষ্ণুপুর ইউনিয়নের লোহারটেক ব্রিজ থেকে শ্রীরামদী বাজার পর্যন্ত প্রায় ৪ কিলোমিটার এবং কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের দড়িকৃষ্ণপুর এলাকার কাটাখালী ব্রিজ থেকে ভূবেনেশ্বর নদ অভিমুখে প্রায় সাড়ে ৪ কিলোমিটার খাল পুনঃখনন করা হয়। মোট প্রায় সাড়ে ৮ কিলোমিটার খাল পুনঃখননের মাধ্যমে পানি নিষ্কাশনব্যবস্থার উন্নয়ন, কৃষিকাজে সেচ সুবিধা বৃদ্ধি এবং দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা নিরসনের লক্ষ্য নিয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয়।

প্রায় তিন মাসব্যাপী প্রকল্পের কাজ শেষে শ্রমিকদের মজুরি, যন্ত্রপাতি ব্যবহার, পরিবহন ব্যয় এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক খরচসহ সব বিল পরিশোধ করা হয়। এরপর প্রকল্পের অব্যয়িত ৩৬ লাখ ৪০ হাজার ৬২০ টাকা সরকারি বিধি অনুযায়ী সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়।

প্রকল্পটির উদ্বোধন করেন ফরিদপুর-৪ (সদরপুর, ভাঙ্গা ও চরভদ্রাসন) আসনের সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম বাবুল। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, তার তত্ত্বাবধানেই প্রকল্পটির বাস্তবায়ন কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার পর অব্যয়িত অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়ার ঘটনা খুবই বিরল। তারা বলেন, সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করার এ উদ্যোগ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। এজন্য তারা সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম বাবুল, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শরীফ শাওন এবং প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) নুরুনাহারকে ধন্যবাদ জানান।

স্থানীয়দের মতে, খাল পুনঃখননের ফলে বর্ষা মৌসুমে দ্রুত পানি নিষ্কাশন সম্ভব হবে, কৃষিজমিতে সেচ সুবিধা বাড়বে এবং দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যারও উল্লেখযোগ্য উন্নতি হবে।

এ বিষয়ে সদরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শরীফ শাওন বলেন, ‘সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও সঠিক অর্থ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব। প্রকল্পের সব কাজ নির্ধারিত মান বজায় রেখে সম্পন্ন করা হয়েছে। শ্রমিকদের মজুরি, যন্ত্রপাতি, পরিবহনসহ সব ধরনের বৈধ ব্যয় পরিশোধের পর যে অর্থ অবশিষ্ট ছিল, তা সরকারি বিধি অনুযায়ী সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে।’

মোরেলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত

মোরেলগঞ্জ (বাগেরহাট) প্রতিনিধি
মোরেলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত
সংগৃহীত ছবি

বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কামাল হোসেন মুফতিকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অনিয়ম, দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা, পরিত্যক্ত ভবন এবং শৌচাগারে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ পাওয়ার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

রবিবার (২৬ জুলাই) স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরীর সই করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, গত ২৫ জুলাই স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনের সময় হাসপাতালে বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা, পরিত্যক্ত ভবন এবং শৌচাগারে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ পাওয়া যায়। এসব কারণে চিকিৎসাসেবার মান ও সুনাম ক্ষুণ্ন হচ্ছে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এতে আরো বলা হয়, সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ৩৯(১) ধারা অনুযায়ী কোনো সরকারি কর্মচারীর বিরুদ্ধে বিভাগীয় কার্যধারা প্রস্তাব বা রুজু হলে অভিযোগের গুরুত্ব, দায়িত্ব থেকে বিরত রাখার প্রয়োজনীয়তা এবং তদন্তে প্রভাব বিস্তারের আশঙ্কা বিবেচনায় তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা যেতে পারে।

এসব বিষয় বিবেচনায় ডা. কামাল হোসেন মুফতিকে প্রজ্ঞাপনের তারিখ থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। বরখাস্তকালীন সময়ে তিনি বিধি অনুযায়ী খোরপোশ ভাতা পাবেন।

জনস্বার্থে জারি করা এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।