• ই-পেপার

নিউমুরিং টার্মিনাল লিজ দেওয়ার প্রতিবাদে ঢাবিতে বিক্ষোভ

প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই কুবিতে আসছেন ফয়জুল করিম

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই কুবিতে আসছেন ফয়জুল করিম
সংগৃহীত ছবি

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি) প্রশাসনের অনুমতি না থাকা সত্ত্বেও ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের উদ্যোগে আয়োজিত দোয়া মাহফিলে অংশ নিচ্ছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করিম।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক আবছার উদ্দীন ইফতি।

জানা যায়, শনিবার (২৫ জুলাই) বাদ আসর ‘জুলাই শহীদদের স্মরণে দোয়া ও ইসলাহী ইজতেমা’র আয়োজন করেছে শাখা ইসলামী ছাত্র আন্দোলন। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে মুফতি সৈয়দ মোহাম্মদ ফয়জুল করিমের। অনুষ্ঠানটি আয়োজনের জন্য প্রক্টরিয়াল বডির কাছে লিখিত আবেদন জানিয়েছিল সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ। তবে নিরাপত্তার অজুহাত দেখিয়ে সেই আবেদনের অনুমতি দেয়নি প্রশাসন।

প্রশাসনের অনুমতি না মিললেও পূর্বঘোষিত সূচিমোতাবেক প্রধান অতিথিকে নিয়েই অনুষ্ঠান সম্পন্ন করার ব্যাপারে অনড় অবস্থান নিয়েছে সংগঠনটি।

এ বিষয়ে শাখা ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের সেক্রেটারি আবছার উদ্দীন ইফতি বলেন, ‘আমরা নিয়ম মেনেই প্রক্টরের কাছে অনুমতির আবেদন করেছিলাম। কিন্তু নিরাপত্তার অজুহাতে আমাদের অনুমতি দেওয়া হয়নি। প্রশাসন অনুমতি না দিলেও কাল উনি (মুফতি ফয়জুল করিম) আসবেন এবং আমরা নির্ধারিত প্রোগ্রাম করব।’

অনুমতি না দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. অব্দুল হাকিম জানান, ‘তারা আমাদের কাছে আবেদন করেছিল। কিন্তু উনি একজন প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব এবং একটি রাজনৈতিক দলের দ্বিতীয় শীর্ষ নেতা। এই মুহূর্তে ক্যাম্পাসে উনার উপযুক্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়। তাই সার্বিক নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করেই এই কর্মসূচির অনুমতি দেওয়া হয়নি।’

প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কর্মসূচি আয়োজনের বিষয়ে প্রক্টর আরো বলেন, ‘অনুমতি না দেওয়ার পরও যদি তারা প্রোগ্রাম আয়োজন করে এবং সেখানে কোনো অপ্রীতিকর বা নিরাপত্তাজনিত ঘটনা ঘটে, তবে তার দায়ভার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নেবে না।’

বাকৃবিতে দুই হলের শিক্ষার্থীদের দফায় দফায় সংঘর্ষ, আহত ১৩

বাকৃবি প্রতিনিধি
বাকৃবিতে দুই হলের শিক্ষার্থীদের দফায় দফায় সংঘর্ষ, আহত ১৩
সংগৃহীত ছবি

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) দুই হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে দুই হলের অন্তত ১৩ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে সংঘর্ষ শুরু হয়। পরে প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা রাত ৪টার দিকে ঘটনাস্থলে এসে হল প্রভোস্টদের ঘটনা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। 

এদিকে শুক্রবার (২৪ জুলাই) দুপুরে আবারও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। দুপুর ২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের আব্দুল জব্বার মোড় এলাকায় আশরাফুল হক হলের এক শিক্ষার্থীকে শহীদ শামসুল হক হলের প্রায় ১০-১৫ জন শিক্ষার্থী মারধর করেন। পরে আড়াইটার দিকে দুই হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে আবারও সংঘর্ষ শুরু হয়। প্রায় ঘণ্টাব্যাপী ইট-পাটকেল নিক্ষেপ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া দুই হলের ৪ শিক্ষার্থী আহত হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, কৃষি প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের লেভেল-১ ও সেমিস্টার-২-এর দুই শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত বিরোধকে কেন্দ্র করে এ ঘটনার সূত্রপাত হয়। অভিযোগ রয়েছে, ওই ব্যাচের এক নারী শিক্ষার্থীকে বডি শেমিংমূলক কটূক্তি করার জেরে বৃহস্পতিবার রাত আড়াইটার দিকে আশরাফুল হক হলের ৮ থেকে ১০ জন শিক্ষার্থী শহীদ শামসুল হক হলের এক শিক্ষার্থীর কক্ষে গিয়ে হুমকি দিয়ে আসে। পরে বিষয়টি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। কিছুক্ষণ পর দুই পক্ষের মধ্যে ফোনালাপের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা হলেও রাত সাড়ে ৩টার দিকে শহীদ শামসুল হক হলের ৬০ থেকে ৭০ জন শিক্ষার্থী লাঠিসোঁটা নিয়ে আশরাফুল হক হলে যায়। এ সময় হলের দিকে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ, জানালার কাচ, সিসিটিভি ও লাইট ভাঙচুর করে শামসুল হক হলের শিক্ষার্থীরা। এ সময় ৯ জন শিক্ষার্থী আহত হন। পরে প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা রাত ৪টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং হল প্রভোস্টদের ঘটনা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।

বাকৃবির হেল্থ কেয়ার সেন্টারের কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, বৃহস্পতিবার রাতে সংঘর্ষের ঘটনায় আহত ৯ জন ও শুক্রবার দুপুরে ৪ শিক্ষার্থীকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে একজনকে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল আলীম বলেন, বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে দুই হলে মারামারি হয়েছে। খবর পেয়ে প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের মীমাংসা করে দেওয়া হয়। কিন্তু জুমার নামাজের পর আবার মারামারি শুরু হয়। এ ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে শাস্তির আওতায় আনা হবে। 

 

বাকৃবিতে দেশীয় প্রযুক্তিতে প্রথম জৈব ছত্রাকনাশক উদ্ভাবন

বাকৃবি প্রতিনিধি
বাকৃবিতে দেশীয় প্রযুক্তিতে প্রথম জৈব ছত্রাকনাশক উদ্ভাবন
ছবি: কালের কণ্ঠ

দেশে প্রথমবারের মতো সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে জৈব ছত্রাকনাশক উদ্ভাবন করেছে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) একদল গবেষক। দেশীয় উৎসের ট্রাইকোডার্মা অ্যাসপেরেলাম থেকে তৈরি ‘পিজি-ট্রাইকোডার্মা’ নামের এ বায়োফরমুলেশন একই সঙ্গে জৈব ছত্রাকনাশক ও জৈব সার হিসেবে কাজ করবে। 

গবেষকদের দাবি, এটি ফসলের রোগ দমনের পাশাপাশি ফলন বৃদ্ধি, মাটির স্বাস্থ্য উন্নয়ন এবং মৎস্য খাতে পানির গুণগত মান উন্নত করতেও কার্যকর।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদ রোগতত্ত্ব (প্ল্যান্ট প্যাথোলজি) বিভাগের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে গবেষণার ফলাফল তুলে ধরেন প্রধান গবেষক ও বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শাহজাহান মঞ্জিল। 

অধ্যাপক শাহজাহান মঞ্জিল বলেন, দীর্ঘ ২৫ বছরের নিরবচ্ছিন্ন গবেষণার পর আমরা দেশে প্রথমবারের মতো পরিবেশবান্ধব জৈব ছত্রাকনাশক উদ্ভাবনে সক্ষম হয়েছি। বর্তমানে দেশে ব্যবহৃত মোট বালাইনাশকের প্রায় ৪৫ থেকে ৪৬ শতাংশই রাসায়নিক ছত্রাকনাশক। এসব ছত্রাকনাশকের অতিরিক্ত ব্যবহার শুধু ক্ষতিকর ছত্রাকই নয়, মাটিতে থাকা উপকারী অণুজীব ও ছত্রাকও ধ্বংস করে। ফলে পরিবেশ, মাটির স্বাস্থ্য ও জনস্বাস্থ্যের ওপর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। এ বাস্তবতায় পরিবেশবান্ধব ও টেকসই বিকল্প হিসেবে উদ্ভাবন করা হয়েছে ‘পিজি-ট্রাইকোডার্মা’, যা একই সঙ্গে জৈব ছত্রাকনাশক ও জৈব সার হিসেবে কাজ করে।

তিনি আরো বলেন, গবেষণার শুরুতে দেশের বিভিন্ন কৃষি-পরিবেশ অঞ্চল থেকে হাজার হাজার মাটি ও রাইজোস্ফিয়ার (ছত্রাকের স্পোর) নমুনা সংগ্রহ করা হয়। সেখান থেকে শতাধিক ট্রাইকোডার্মা ছত্রাক পৃথক করে তাদের কার্যকারিতা দীর্ঘদিন ধরে যাচাই-বাছাই করা হয়। পরবর্তীতে সর্বাধিক কার্যকর, স্থিতিশীল ও বাংলাদেশের জলবায়ুর সঙ্গে অভিযোজিত ট্রাইকোডার্মা অ্যাসপেরেলাম নির্বাচন করে এর ভিত্তিতে বায়োফরমুলেশন তৈরি করা হয়। যেহেতু এটি দেশীয় উৎসের অণুজীব, তাই আমদানিনির্ভর বায়োপণ্যের তুলনায় এটি অধিক কার্যকর, টেকসই এবং তুলনামূলকভাবে কম ব্যয়বহুল হবে বলে আশা করছেন গবেষকরা।

গবেষণায় দেখা গেছে, এ জৈব ছত্রাকনাশক সব ধরনের ফসলেই কার্যকর। বিশেষ করে টমেটো, আলু, বেগুন, ঢেঁড়স, মরিচ, শশা, লাউ, কুমড়াসহ বিভিন্ন সবজি, ডালজাতীয় ফসল, চা ও পান চাষে এর ইতিবাচক ফল পাওয়া গেছে। এসব ফসলে ফিউজারিয়াম উইল্ট, রুট রট, স্ক্লেরোটিয়াম ব্লাইট এবং পাতার দাগ রোগ সফলভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়েছে।

প্রযুক্তিটি শুধু কৃষিতেই নয়, ছাদকৃষি ও মৎস্যখাতেও সম্ভাবনাময়। মৎস্যখাতে ট্রাইকোডার্মার কার্যকারিতা সম্পর্কে অধ্যাপক ড. মো. শাহেদ রেজা বলেন, মাছচাষের একটি বড় অংশ হলো মাছের খাদ্য। চাষের সময় অব্যবহৃত খাদ্য এবং মাছের মল পানির গুণাগুণ নিম্ন করে তুলে। ট্রাইকোডার্মাভিত্তিক এ পণ্যটি ব্যবহারে পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেন (ডিও) বৃদ্ধি পায় এবং অ্যামোনিয়ার পরিমাণ হ্রাস পায়। ফলে মাছ উৎপাদন লাভজনক হয়। তবে এটি শুধু ছোট পরিসরে পরীক্ষা করা হয়েছে। আমরা বড় পরিসরে প্রয়োগের মাধ্যমে এর কার্যকারিতা যাচাই করতে পারব।

কৃষি রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. কে এম মহিউদ্দিন বলেন, পিজি-ট্রাইকোডার্মা জৈব ছত্রাকনাশকের কোনো ক্ষতিকর দিক নেই। এটি শতভাগ নিরাপদ। অন্যান্য ছত্রাকনাশক বা যে কোনো কীটনাশক প্রয়োগে ফসল কমপক্ষে সাতদিন পর থেকে সংগ্রহ করতে হয় এবং রাসায়নিক প্রয়োগ করার পর কমপক্ষে ২৪ ঘণ্টা ওই জমিতে কৃষক প্রবেশ করতে পারে না। তবে আমাদের এই পণ্যটির ক্ষেত্রে এরকম বাধ্যবাধকতা নেই। এতে ক্ষতিকর কোনো উপাদান নেই। টেলকম পাউডারের সঙ্গে ট্রাইকোডার্মা ছত্রাক ব্যবহার করে এটি বাজারজাত করা হয়েছে। ফলে এটি সম্পূর্ণভাবে জৈব, এতে ক্ষতিকর কোনো উপাদান নেই।

গবেষকদের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে প্রস্তাবিত পণ্যটি বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের (বিএআরসি) নির্ধারিত স্ট্যান্ডার্ডাইজেশন ও নিবন্ধন প্রক্রিয়ার চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে উদ্ভাবিত এই পরিবেশবান্ধব বায়ো-পণ্যগুলো কৃষকদের কাছে সহজলভ্য হবে এবং দেশের টেকসই কৃষি উন্নয়ন, নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন ও রাসায়নিক বালাইনাশকের ব্যবহার হ্রাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সংবাদ সম্মেলনে কৃষি রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. কে এম মহিউদ্দিন, ফিশারিজ টেকনোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. শাহেদ রেজা ও গবেষণার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থীসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

জুলাইয়ের চেতনা ধারণ করে নতুন বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান ঢাবি প্রো-ভিসির

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
জুলাইয়ের চেতনা ধারণ করে নতুন বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান ঢাবি প্রো-ভিসির
ছবি: কালের কণ্ঠ

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ধারণ করে ঐক্যবদ্ধভাবে নতুন বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী। 

একই সঙ্গে গণ-অভ্যুত্থানের ইতিহাস সংরক্ষণে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ’ নির্মাণ, কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিতে ‘জুলাই কর্নার’ স্থাপন এবং প্রতি বছর ১৪ জুলাই ‘জুলাই উইমেন্স ডে’ পালনের ঘোষণা দেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজয় একাত্তর হলে ‘ফিরে দেখা চব্বিশ : জুলাই মহাকাব্যের দুই বছর’ শীর্ষক এক আলোচনাসভায় তিনি এই ঘোষণা দেন। 

অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দেশের সব গণতান্ত্রিক আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানেও এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ফ্যাসিবাদের পতনের মূল কারিগর ছিল।

শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, এই বিজয়ের স্পিরিট ধারণ করেই আগামীর বাংলাদেশ গড়তে হবে। 

ইতিহাস সংরক্ষণে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্যোগ তুলে ধরে প্রো-ভিসি জানান, ক্যাম্পাসে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের পাশাপাশি জুলাই স্মৃতি সংগ্রহশালাটিকে আরো সমৃদ্ধ করা হবে।

বিজয় একাত্তর হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. স ম আলী রেজার সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তানজীমউদ্দিন খান। 

অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মো. সাইফুল্লাহ। এ ছাড়া ডাকসুর আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক সম্পাদক জসীমউদ্দিন খান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক আবদুল কাদের, হল সংসদের ভিপি হাসান আল বান্না ও জিএস আশিক বিল্লাহসহ ছাত্র নেতৃবৃন্দ বক্তব্য দেন।

এদিকে, গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে ঢাবিতে মাসব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে শুক্রবার (২৪ জুলাই) বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হলে দিনব্যাপী নানা আয়োজন করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ‘শহীদদের কাছে খোলা চিঠি লিখন প্রতিযোগিতা’, ‘দ্রোহের বিপ্লবের জুলাই’ শীর্ষক চিত্রাঙ্কন এবং ‘ফিরে দেখা জুলাই’ শীর্ষক কুইজ প্রতিযোগিতা।

এ ছাড়া শুক্রবার রাত ৮টায় হল মিলনায়তনে স্মৃতিচারণা, আলোচনাসভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। হল প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মাহবুবা সুলতানার সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে প্রো-ভিসি (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী ও প্রক্টর মো. ইসরাফিল প্রাং উপস্থিত থাকবেন।
 

নিউমুরিং টার্মিনাল লিজ দেওয়ার প্রতিবাদে ঢাবিতে বিক্ষোভ | কালের কণ্ঠ