কেউ ব্যস্ত বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে স্কলারশিপ, ভর্তিপ্রক্রিয়া জানতে, আবার কেউ ভাষা পরীক্ষার প্রস্তুতি, ভিসা গাইডলাইন সম্পর্কে জানতে। অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের বৃত্তির সুযোগ, টিউশন ফি, ভিসা প্রক্রিয়াসহ বিদেশে উচ্চশিক্ষার বিভিন্ন পরামর্শ দিতে ব্যস্ত স্টল প্রতিনিধিরা।
গতকাল শনিবার রাজধানীর আন্তর্জাতিক কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) আন্তর্জাতিক শিক্ষামেলার শেষ দিনে এমন দৃশ্যের দেখা মেলে। আয়োজকরা জানান, তিন দিনব্যাপী এ মেলায় অন্তত ২০ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষা বিষয়ে সেবা নিয়েছেন।
আইসিসিবির গুলনকশা হলে দেখা যায়, মেলার প্রথম দুই দিনের তুলনায় গতকাল শেষ দিনে উপস্থিতি বেশি। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অভিভাবকরা এসেছেন।
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তানজিম আহমেদ বলেন, ‘এক জায়গায় বিভিন্ন দেশের বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে ধারণা হয়েছে, যা জানতে অন্তত তিন থেকে চার দিন সময় লাগত। বিদেশে উচ্চশিক্ষায় ভর্তিপ্রক্রিয়া, টিউশন ফি ও স্কলারশিপ সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পেয়েছি। ভবিষ্যতে সিদ্ধান্ত নিতে অনেক সুবিধা হবে।’
নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান বলেন, ‘উচ্চশিক্ষা গ্রহণে অস্ট্রেলিয়ায় যাওয়ার পরিকল্পনা আছে। সেখানকার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সুযোগ সম্পর্কে জানতে এসেছি।
আইইএলটিএস প্রস্তুতি, ভিসাপ্রক্রিয়া এবং পড়াশোনা শেষে ক্যারিয়ারের সুযোগ সম্পর্কেও বিস্তারিত জেনেছি।’
মেলায় আসা অভিভাবক মো. আবদুল করিম বলেন, ‘উচ্চশিক্ষায় সন্তানকে বিদেশে পড়াতে চাই। কিন্তু সঠিক তথ্য পাওয়া সব সময় সহজ হয় না। খরচ, বৃত্তি এবং নিরাপদ ভর্তিপ্রক্রিয়া সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকা খুবই জরুরি। মেলায় এসে মোটামুটি একটা ধারণা হয়েছে।’
আয়োজকদের তথ্যানুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার শুরু হওয়া এ মেলায় গতকাল শনিবার বিকেল ৫টা পর্যন্ত তিন দিনে প্রায় ২০ হাজার শিক্ষার্থী নিবন্ধন করেছেন। এবারের উৎসবে ৪৫টিরও বেশি দেশের আড়াই হাজারের বেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য তুলে ধরা হয়। স্কলারশিপ, ভর্তিপ্রক্রিয়া, ভাষা পরীক্ষার প্রস্তুতি, ভিসা গাইডলাইন ও ক্যারিয়ার পরিকল্পনা নিয়ে সেমিনার এবং বিশেষজ্ঞদের আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। পরিবেশ সচেতনতার অংশ হিসেবে ছিল ‘লক্ষ্য এক কোটি বৃক্ষ’ উদ্যোগও।
নলেজ হাবের কর্মকর্তা আরিফ সৈয়দ বলেন, গত তিন দিনে প্রায় হাজারের বেশি শিক্ষার্থী ব্যক্তিগত পরামর্শ নিয়েছেন। বেশির ভাগই যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়ায় উচ্চশিক্ষা এবং আইইএলটিএস প্রস্তুতি সম্পর্কে জানতে এসেছেন। রাশিয়া সেন্টার ফর এডুকেশনের এমডি ইলিনা বাস জানান, অনেক শিক্ষার্থী এখন শুধু ভর্তি নয়, ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বিবেচনায় দেশ ও বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচন করছেন।
এবারের উৎসবে সরাসরি অংশ নিয়েছিল মালয়েশিয়ার সেজি ইউনিভার্সিটি এবং মরিশাসে অবস্থিত ভেলোর ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির (ভিআইটি) মরিশাস ক্যাম্পাস। দেশের শীর্ষস্থানীয় শিক্ষা পরামর্শক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে ঢাকা আইইএলটিএস সেন্টার, নলেজ হাব, ড্রিম স্টাডি ইন্টারন্যাশনাল, এইচ অ্যান্ড এইচ গ্লোবাল এডুকেশন, এডু মেন্টর, ব্রাইট ফিউচার বাই স্যাম, স্টাডি উইন্ডো ইন্টারন্যাশনাল, অ্যাডমিশন কানেক্ট, টপটিয়ার এডুকেশন কনসালট্যান্ট, এইমস এডুকেশন, মাস্টারমাইন্ড ডিজিটাল, এমআইই ইংলিশ একাডেমি, এমআইই পাথওয়েজ, রাশিয়ান সেন্টার ফর এডুকেশন, স্টিকার ভিসা, এডুকোয়েস্ট, এডুকেয়ার এডুকেশন অ্যান্ড মাইগ্রেশন বাংলাদেশ এবং মাস্টার স্যাব।
ফেয়ার কনভেনার ইন্টারন্যাশনালের ডিরেক্টর অব ইভেন্টস অ্যান্ড সেলস আশিকুর রহমান তানভীর বলেন, তিন দিনে প্রায় ২০ হাজার শিক্ষার্থী নিবন্ধন করেছেন। তাঁরা উচ্চশিক্ষা বিষয়ে পরামর্শ নিয়েছেন।
ফেয়ার কনভেনার ইন্টারন্যাশনালের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদ গালিব বলেন, ‘বাংলাদেশের মেধাবী শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন আজ আর সীমানায় আটকে নেই। আমরা চাই, প্রতিটি শিক্ষার্থী সঠিক তথ্য ও দিকনির্দেশনা পেয়ে বিশ্বের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নিজের জায়গা করে নিক। তৃতীয় দিনের এই বিপুল উপস্থিতিই প্রমাণ করে, স্বপ্নটা এখন কতটা বড়।’