• ই-পেপার

তামাকপণ্যে ৩৫০% আমদানি শুল্ক আরোপ

বাড়বে পাঙ্গাশ মাছের দাম

অনলাইন ডেস্ক
বাড়বে পাঙ্গাশ মাছের দাম
ছবি : কালের কণ্ঠ

দেশীয় মৎস্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্পকে সুরক্ষা দিতে আমদানি করা পাঙ্গাশ মাছের ফিলের ওপর ২০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপ হয়েছে। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপন করছেন। 

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেল ৩টার দিকে বাজেট প্রস্তাব পেশ করা শুরু করেন তিনি। কিছু কিছু পণ্য ও সেবার ওপর শুল্ককর বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে এসব পণ্যের দাম বেড়ে যেতে পারে। বাজেটের শুল্ককর প্রস্তাব ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই কার্যকর হয়ে যায়।

আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, জ্বালানি, চিকিৎসাসামগ্রী, মোবাইল ফোন, বিদ্যুৎ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে কর ও শুল্ক ছাড়ের প্রস্তাব আসতে পারে; এতে বাড়তে পারে আমদানি করা পাঙ্গাশ মাছের দাম।

৬০ পণ্যে কর ছাড়ে স্বস্তির আশা ভোক্তাদের

নিজস্ব প্রতিবেদক
৬০ পণ্যে কর ছাড়ে স্বস্তির আশা ভোক্তাদের

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমাতে নিত্যপ্রয়োজনীয় ৬০টি পণ্যের ওপর উৎসের কর উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর প্রস্তাব দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। একই সঙ্গে দেশীয় তৈলবীজ ব্যবহার করে ভোজ্যতেল উৎপাদনকে উৎসাহ দিতে ১০ বছরের কর সুবিধারও প্রস্তাব করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশের প্রতিটি ব্যক্তি ও পরিবারের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের লক্ষ্যে সরকার একটি জনমুখী পদক্ষেপ হিসেবে নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন পণ্যের ওপর উৎসের কর হ্রাসের উদ্যোগ নিয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, ধান, চাল, গম, আলু, গবাদিপশু, হাঁস-মুরগি, মাছ, পেঁয়াজ, রসুন, আদা, লবণ, চিনি, ভোজ্যতেল, বীজসহ মৌলিক কৃষি ও ভোগ্যপণ্যের ওপর বর্তমানে বিদ্যমান ৫ শতাংশ, ২ শতাংশ ও ১ শতাংশ উৎসের  কর কমিয়ে ০ দশমিক ৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হবে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, বিগত বছরগুলোতে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় যে চাপ সৃষ্টি হয়েছিল, তা কমাতে এবং সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুত বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে বাজারে সরবরাহ ও মূল্য পরিস্থিতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। এ ছাড়া দেশে ভোজ্যতেলের সরবরাহ বৃদ্ধি ও আমদানিনির্ভরতা কমানোর লক্ষ্যে দেশীয় তৈলবীজ ব্যবহার করে ভোজ্যতেল উত্পাদনকারী শিল্পের জন্য বিশেষ কর সুবিধা প্রস্তাব করা হয়েছে। এ খাতে বিনিয়োগকারীরা প্রথম পাঁচ বছর শতভাগ কর অব্যাহতি পাবেন। পরবর্তী তিন বছর ৫০ শতাংশ এবং শেষ দুই বছর ২৫ শতাংশ কর অব্যাহতির সুবিধা ভোগ করবেন। এ পদক্ষেপ দেশীয় ভোজ্যতেল উৎপাদন বৃদ্ধি, কৃষকদের তৈলবীজ চাষে উৎসাহিত করা এবং দীর্ঘমেয়াদে ভোজ্যতেলের বাজার স্থিতিশীল রাখতে সহায়ক হবে।

ব্যাবসায়িক অ্যাকাউন্ট খুলতে বিআইএন বাধ্যতামূলক

অনলাইন ডেস্ক
ব্যাবসায়িক অ্যাকাউন্ট খুলতে বিআইএন বাধ্যতামূলক

ব্যাবসায়িক ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলতে বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে ব্যবসা শনাক্তকরণ নম্বর (বিআইএন)।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণার সময় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ কথা জানান।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘ভ্যাটের আওতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ব্যাবসায়িক কোনো ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলার ক্ষেত্রে মূসক নিবন্ধন গ্রহণ বাধ্যতামূলক করার জন্য আইনে প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনয়নের প্রস্তাব করছি।’

অর্থাৎ ব্যাংক ও ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান বা অন্য কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠানে চলতি হিসাব খুলতে বা ঋণ নিতে হলে বিআইএন নিতে হবে।

ইলেকট্রিক গাড়ি ও ই-বাইক খাতে শুল্ক-কর ছাড়

নিজস্ব প্রতিবেদক
ইলেকট্রিক গাড়ি ও ই-বাইক খাতে শুল্ক-কর ছাড়
ছবি : কালের কণ্ঠ

পরিবেশ দূষণ কমানো, জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার এবং দেশে বৈদ্যুতিক যানবাহন শিল্পে বিনিয়োগ আকর্ষণের লক্ষ্যে ইলেকট্রিক গাড়ি (ইভি), বাস, ট্রাক ও ই-বাইক খাতে ব্যাপক শুল্ক-কর ছাড়ের প্রস্তাব দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী।

বাজেট বক্তৃতায় তিনি জানান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী পরিবহনে ব্যবহৃত ইলেকট্রিক বাস আমদানিতে বিদ্যমান সব ধরনের শুল্ক-কর অব্যাহতি এবং অন্যান্য ইলেকট্রিক বাস ও ট্রাকের ক্ষেত্রে ভ্যাট ছাড়া বাকি সব শুল্ক-কর ছাড়ের সুবিধা ৩০ জুন ২০৩০ পর্যন্ত বহাল রাখা হবে।

এ ছাড়া ইলেকট্রিক গাড়ি আমদানিতে করভার কমানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। বর্তমানে ৯৩ শতাংশ করভার ২৫ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত মূল্যের ইভির ক্ষেত্রে ৬৪ শতাংশ এবং ৫০ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত মূল্যের গাড়ির ক্ষেত্রে ৮০ শতাংশে নামিয়ে আনার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

দেশে ইভি উৎপাদন উৎসাহিত করতে স্থানীয়ভাবে উচ্চ মূল্য সংযোজনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য যন্ত্রাংশ ও উপকরণ আমদানিতে ৩ শতাংশ আমদানি শুল্ক ছাড়া বাকি সব শুল্ক-কর মওকুফের প্রস্তাব করা হয়েছে। তুলনামূলক কম মূল্য সংযোজনকারী প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে ১৫ শতাংশ আমদানি শুল্ক রেখে অন্যান্য শুল্ক-কর অব্যাহতি দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
স্থানীয় ইলেকট্রিক বাস ও ট্রাক উৎপাদন শিল্পের কাঁচামাল ও উপকরণ আমদানিতেও বিশেষ কর-সুবিধার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এসব রেয়াতি সুবিধা ৩০ জুন ২০৩১ পর্যন্ত বহাল থাকবে।

এ ছাড়া দেশীয় ই-বাইক উত্পাদন ও সংযোজনকারী প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি স্থানীয়ভাবে যন্ত্রাংশ উৎপাদনকারী ভেন্ডর প্রতিষ্ঠানগুলোকেও উপকরণ আমদানিতে রেয়াতি সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।

এদিকে ইলেকট্রিক যানবাহনের ব্যবহার বাড়াতে বিআরটিএতে নিবন্ধন ও নবায়নের ক্ষেত্রে বিদ্যমান ২ লাখ টাকার অগ্রিম আয়কর উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোরও প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, ইলেকট্রিক গাড়ির মোটর সক্ষমতা (কিলোওয়াট) অনুযায়ী অগ্রিম আয়কর ২৫ হাজার থেকে ১ লাখ টাকার মধ্যে নির্ধারণ করা হবে। ২০০ কিলোওয়াট পর্যন্ত গাড়ির জন্য ২৫ হাজার টাকা, ৩০০ কিলোওয়াট পর্যন্ত ৫০ হাজার টাকা, ৪০০ কিলোওয়াট পর্যন্ত ৭৫ হাজার টাকা এবং ৪০০ কিলোওয়াটের বেশি সক্ষমতার গাড়ির জন্য ১ লাখ টাকা অগ্রিম আয়কর প্রস্তাব করা হয়েছে।