• ই-পেপার

ট্রেজারি বন্ড রি-ইস্যুর তারিখ কবে? যা জানা গেল

বাস্তবে মিলছে না বাংলাদেশ ব্যাংকের এক্সিট সুবিধা

আগ্রহ দেখাচ্ছে না বেসরকারি ব্যাংক বন্ধ শিল্প সচল করতে দরকার নতুন ঋণ

অনলাইন ডেস্ক
বাস্তবে মিলছে না বাংলাদেশ ব্যাংকের এক্সিট সুবিধা

ব্যাংক খাতের খেলাপি ঋণ কমানো এবং আটকে থাকা অর্থ ফেরাতে বাংলাদেশ ব্যাংক সম্প্রতি এককালীন ‘এক্সিট’ সুবিধা চালু করলেও বাস্তবে এর সুফল পাচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনার প্রায় দুই সপ্তাহ পার হলেও বেসরকারি ব্যাংকগুলোর একটি বড় অংশ এখনো আবেদন গ্রহণ, সুদ মওকুফ কিংবা নিষ্পত্তির বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থানে আসেনি। অনেক ব্যাংক ঝুঁকি, পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন, আর্থিক ক্ষতি এবং ভবিষ্যতে খেলাপির আশঙ্কার কথা উল্লেখ করে এ সুবিধা কার্যকরে অনীহা দেখাচ্ছে। এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ প্রতিদিন।

অন্যদিকে ব্যবসায়ীরা বলছেন, শুধু সুদ মওকুফ বা এককালীন নিষ্পত্তির সুযোগ দিলেই হবে না। দীর্ঘদিনের মন্দা, উচ্চ সুদের চাপ, উৎপাদন ব্যাহত হওয়া এবং নগদ অর্থের সংকটে কয়েক শ শিল্পপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে। এসব প্রতিষ্ঠান পুনরায় চালু করতে সহজ শর্তে নতুন অর্থায়নের ব্যবস্থা না করলে খেলাপি ঋণ আদায়ও সম্ভব হবে না।

গত ২৯ জুন বাংলাদেশ ব্যাংক একটি সার্কুলার জারি করে জানায় ৩০ জুন ২০২৬ ভিত্তি তারিখে মন্দ ও ক্ষতিজনক মানে শ্রেণিকৃত ঋণগুলো এককালীন ‘এক্সিট’ সুবিধার আওতায় আনা যাবে। তবে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন এবং ব্যাংক-গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে এ সুবিধা দেওয়া হবে। যোগ্য ঋণগ্রহীতাকে এককালীন পুরো বকেয়া অর্থ পরিশোধ করতে হবে এবং প্রতিটি আবেদন ব্যাংক পৃথকভাবে বিবেচনা করবে। তবে ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট থেকে চলতি বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত সময়ে যেসব ঋণ সম্পূর্ণ পুনঃতফসিল করা হয়েছে, সেগুলো এ সুবিধার বাইরে রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে স্বল্পমেয়াদি কৃষিঋণ এবং কুটির, ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প (সিএমএসএমই) খাতের ঋণও এ সুবিধার আওতায় আসবে না। ব্যাংকাররা বলছেন, বহুদিন ধরে আটকে থাকা বিপুল পরিমাণ খেলাপি ঋণ আদায়ে এই উদ্যোগ কার্যকর হতে পারে। এতে ব্যাংকগুলো নগদ অর্থ ফেরত পাবে এবং নতুন ঋণ দেওয়ার সক্ষমতাও বাড়বে। তবে কোনো গ্রাহককে সুবিধা দেওয়ার আগে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই ও তদন্ত সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। কিন্তু বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বড় ধরনের জটিলতার কথা তুলে ধরছেন ব্যাংকাররা। তাদের দাবি, সার্কুলারে বেসরকারি ব্যাংকের ঋণে সুদ মওকুফের বিষয়টি স্পষ্ট নয়। প্রচলিত ব্যাংকিং ব্যবস্থায় প্রতি ত্রৈমাসিকে ঋণের ওপর সুদ যোগ হয়ে তা নতুন মূলধনের (প্রিন্সিপাল) অংশে পরিণত হয়। বছরের পর বছর এভাবে সুদ মূলধনের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে, যা ব্যাংক আয় হিসেবে দেখিয়েছে। সেই আয়ের ওপর সরকারকে করও পরিশোধ করা হয়েছে এবং শেয়ারহোল্ডারদের লভ্যাংশও দেওয়া হয়েছে। ফলে ইতোমধ্যে আয় হিসেবে গণ্য হওয়া সুদের অংশ এখন মওকুফ করা বা ফেরত দেওয়া ব্যাংকের পক্ষে বাস্তবে সম্ভব নয় বলে মনে করছেন অনেক ব্যাংকার। অন্যদিকে ব্যবসায়ীদের যুক্তি, বর্তমানে অধিকাংশ খেলাপি শিল্প উদ্যোক্তার হাতে এককালীন ঋণ পরিশোধের মতো অর্থ নেই। অর্থ থাকলে তারা আগে নিজেদের বন্ধ কারখানাই চালু করতেন। তাদের মতে, ব্যবসা সচল না হলে ঋণ পরিশোধের সক্ষমতাও তৈরি হবে না। তাই ২০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা তহবিল থেকে নতুন ঋণের ব্যবস্থা করা হলে কারখানা চালুর মাধ্যমে কর্মসংস্থান বাড়বে।

শিল্প পুলিশ ও উদ্যোক্তা সংগঠনগুলোর তথ্য অনুযায়ী, গত দুই বছরে গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকট, উচ্চ সুদহার, অতিরিক্ত উৎপাদন ব্যয় এবং অর্থায়নের অভাবে ৫ শতাধিক শিল্পকারখানা স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। এসব কারখানা বন্ধ হওয়ার ফলে বিপুলসংখ্যক শ্রমিক কর্মহীন হয়েছেন। শুধু তৈরি পোশাক খাতেই প্রায় দেড় লাখ শ্রমিক চাকরি হারিয়েছেন। অন্যান্য খাতের হিসাব যুক্ত করলে এ সংখ্যা আরও অনেক বেশি হবে। এ পরিস্থিতিতে বন্ধ শিল্প ও সেবা খাতের প্রতিষ্ঠান পুনরায় চালুর জন্য সরকার ২০ হাজার কোটি টাকার একটি প্রাক-অর্থায়ন স্কিম গঠন করেছে। ব্যাংকগুলোর উদ্বৃত্ত তারল্য ব্যবহার করে পরিচালিত এ তহবিলের লক্ষ্য হলো আংশিক বা সম্পূর্ণ বন্ধ এবং কার্যকর মূলধনের সংকটে থাকা শিল্প ও সেবা প্রতিষ্ঠানকে নতুন অর্থায়ন দেওয়া, যাতে তারা পুনরায় উৎপাদনে ফিরতে পারে। এ বিষয়ে বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবু বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, বন্ধ কারখানার মালিকদের হাতে টাকা থাকলে তারা কারখানাই চালু করত। তাই শুধু এককালীন সুদ মওকুফ করে ঋণ পরিশোধের সুযোগ দিলে সমস্যার সমাধান হবে না। উৎপাদন ও কর্মসংস্থান পুনরুদ্ধারে বাংলাদেশ ব্যাংকের ঘোষিত ২০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ তহবিল থেকে সহজ শর্তে নতুন ঋণ দিতে হবে। এই তহবিল থেকে অর্থায়ন পেলে অনেক বন্ধ শিল্পপ্রতিষ্ঠান আবার উৎপাদনে ফিরতে পারবে এবং ব্যাংকের খেলাপি ঋণও ধীরে ধীরে আদায়ের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালা অনুযায়ী এককালীন এক্সিট সুবিধার আবেদন এলে সেগুলো যথাযথভাবে যাচাইবাছাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা অনুসারেই গ্রাহককে এককালীন ঋণ পরিশোধ করতে হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ব্যাংকগুলোর সঙ্গে আলোচনা করেই এককালীন এক্সিট সুবিধার নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে। এর উদ্দেশ্য হলো ব্যাংকগুলো যেন কোনো ধরনের জটিলতায় না পড়ে গ্রাহকদের এ সুবিধা দিতে পারে। পাশাপাশি যেসব উদ্যোক্তা বন্ধ কারখানা পুনরায় চালু করতে চান, তারা ২০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ তহবিল থেকেও ঋণ নিতে পারবেন। প্রয়োজনে এসব নির্দেশনা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন হচ্ছে কি না, সেটিও বাংলাদেশ ব্যাংক পর্যবেক্ষণ করবে।

গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, আটকে থাকা ঋণের অর্থ উদ্ধার, ব্যাংকিং খাতে তারল্য বৃদ্ধি এবং দীর্ঘমেয়াদি ঋণসংক্রান্ত মামলার জট কমাতে এটি একটি ইতিবাচক উদ্যোগ। তবে বাস্তব প্রয়োগের ক্ষেত্রে কিছু নীতিগত বিষয় ও প্রায়োগিক জটিলতা রয়েছে। সেগুলোর স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া হলে নীতিমালাটি আরও কার্যকর হবে বলে তিনি মনে করেন।

সংশ্লিষ্টদের মতে, খেলাপি ঋণ কমাতে এককালীন এক্সিট সুবিধা গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হলেও শুধু ঋণ নিষ্পত্তির সুযোগ দিয়ে কাক্সিক্ষত ফল মিলবে না। বন্ধ শিল্পকারখানা পুনরুজ্জীবিত করতে দ্রুত নতুন অর্থায়ন নিশ্চিত করা গেলে উৎপাদন, কর্মসংস্থান ও ব্যাংক ঋণ আদায় তিন ক্ষেত্রেই ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে।

ঢাকায় আন্তর্জাতিক পর্যটন প্রদর্শনী শুরু ৩ সেপ্টেম্বর

নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকায় আন্তর্জাতিক পর্যটন প্রদর্শনী শুরু ৩ সেপ্টেম্বর

দেশের প্রথম আন্তর্জাতিক ট্রাভেল ট্রেড মার্কেটপ্লেস বাংলাদেশ ট্রাভেল মার্টের (বিটিএম) আয়োজন হতে যাচ্ছে। বাংলাদেশ আউটবাউন্ড ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশনের (বোটোয়া) উদ্যোগে ৩ থেকে ৫ সেপ্টেম্বর রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল ঢাকায় এই ট্রাভেল মার্ট অনুষ্ঠিত হবে। এতে বাংলাদেশসহ ২০টি দেশের ১৩০টির বেশি প্রদর্শক, শতাধিক পর্যটন-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান এবং প্রায় ১৫ হাজার দর্শনার্থীর অংশগ্রহণের আশা করছেন আয়োজকরা।

শনিবার (১১ জুলাই) হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল ঢাকায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান বোটোয়ার সভাপতি সৈয়দ গোলাম মোহাম্মদ। তিনি বলেন, বাংলাদেশের পর্যটন শিল্প বর্তমানে সম্ভাবনার নতুন দিগন্তে প্রবেশ করেছে। সরকারের নীতিগত সহায়তা, বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ, উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা ও আন্তর্জাতিক সংযোগ বৃদ্ধির ফলে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম সম্ভাবনাময় পর্যটন গন্তব্য হিসেবে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে।

সৈয়দ গোলাম মোহাম্মদ জানান, দেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, সমৃদ্ধ ইতিহাস, বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি, প্রত্নতাত্ত্বিক ঐতিহ্য ও আন্তরিক আতিথেয়তা আন্তর্জাতিক পর্যটকদের কাছে বাংলাদেশকে ক্রমেই আরো আকর্ষণীয় করে তুলছে। এই সম্ভাবনাকে বৈশ্বিক পর্যায়ে আরো সুসংগঠিতভাবে উপস্থাপন এবং আন্তর্জাতিক পর্যটন শিল্পের সঙ্গে বাংলাদেশের সংযোগ জোরদার করার লক্ষ্যে বোটোয়া প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ ট্রাভেল মার্ট আয়োজন করছে। ৩ থেকে ৫ সেপ্টেম্বরের এ আয়োজন দেশের পর্যটন, ভ্রমণ ও এভিয়েশন শিল্পের বিকাশে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে।

বোটোয়ার সাধারণ সম্পাদক মো. শরিফুল ইসলাম শরিফ বলেন, সংগঠনটি মূলত দেশের আউটবাউন্ড পর্যটন শিল্পের প্রতিনিধিত্ব করলেও একই সঙ্গে ইনবাউন্ড পর্যটনের সম্প্রসারণ, আন্তর্জাতিক পর্যটক আকর্ষণ, পর্যটন খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও বৈশ্বিক পর্যায়ে বাংলাদেশের ইতিবাচক ব্র্যান্ডিংয়ে কাজ করছে।

ট্রাভেল মার্টের চিফ কো-অর্ডিনেটর মহসিন ইকবাল জানান, বাংলাদেশ ট্রাভেল মার্ট-২০২৬ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পর্যটন বোর্ড, এয়ারলাইন্স, হোটেল, ডেস্টিনেশন ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি (ডিএমসি), ট্যুর অপারেটর, ট্রাভেল এজেন্সি এবং আন্তর্জাতিক ক্রেতা-বিক্রেতাদের এক প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসবে, যা বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পকে বৈশ্বিক বাজারের সঙ্গে আরো কার্যকরভাবে যুক্ত করবে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বাংলাদেশ ট্রাভেল মার্টে প্রথমবারের মতো বিজনেস-টু-বিজনেস (বিটুবি) এবং বিজনেস-টু-কনজ্যুমার (বিটুসি) কার্যক্রম পৃথক দুটি প্রদর্শনী হলে অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া দেশের ট্রাভেল ফেয়ারের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক হোস্টেড বায়ার প্রোগ্রাম আয়োজন করা হবে, যার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রেতা ও প্রদর্শকদের মধ্যে নির্ধারিত ব্যবসায়িক বৈঠকের ব্যবস্থা থাকবে।

আয়োজকদের মতে, বিটুবি কার্যক্রমে আন্তর্জাতিক বায়ার-সেলার মিটিং, বিজনেস নেটওয়ার্কিং ও অংশীদারত্ব নিয়ে আলোচনা হবে। এর মাধ্যমে পর্যটন, হসপিটালিটি ও এভিয়েশন খাতে নতুন বিনিয়োগ, বাজার সম্প্রসারণ, সীমান্ত-অতিক্রমী পর্যটন সহযোগিতা ও আন্তর্জাতিক ব্যবসায়িক সুযোগ সৃষ্টির সম্ভাবনা তৈরি হবে। অন্যদিকে, বিটুসি প্ল্যাটফর্মে দর্শনার্থীরা দেশি-বিদেশি ভ্রমণ প্যাকেজ, বিমান টিকিট, হোটেল বুকিং, ভিসা সেবা, বিভিন্ন গন্তব্য-সংক্রান্ত তথ্য ও অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের বিশেষ ভ্রমণ অফার সম্পর্কে সরাসরি জানতে ও সেবা নিতে পারবেন।

সংবাদ সম্মেলনে বোটোয়ার সিনিয়র সহসভাপতি মো. মহসিন ইকবাল, সহসভাপতি এ কে এম কামরুজ্জামানসহ সংগঠনের পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

পোশাকশিল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে বায়লা ফিউচার সামিট ২০-২১ জুলাই

নিজস্ব প্রতিবেদক
পোশাকশিল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে বায়লা ফিউচার সামিট ২০-২১ জুলাই

বাংলাদেশের তৈরি পোশাক ও বস্ত্রশিল্পের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং টেকসই উৎপাদন ব্যবস্থার সম্ভাবনা নিয়ে আগামী ২০ ও ২১ জুলাই ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে ‘বায়লা ফিউচার সামিট ২০২৬’।

বাংলাদেশ অ্যাপারেল ইয়ুথ লিডারস অ্যালায়েন্স (বায়লা) আয়োজিত দুই দিনব্যাপী এই সম্মেলনে অংশ নেবেন ১ হাজার ৫০০ জনের বেশি অংশগ্রহণকারী, ৫০০ জনের বেশি সিএক্সও এবং দেশি-বিদেশি ২০ জনের বেশি বক্তা।

শনিবার (১১ জুলাই) রাজধানীতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ আয়োজনের বিস্তারিত তুলে ধরেন বায়লার নেতারা।

তারা জানান, ‘থিংক বিয়ন্ড টুডে’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত এ সম্মেলনের মূল লক্ষ্য হল দেশের পোশাকশিল্পকে আগামী দিনের বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা, প্রযুক্তিগত পরিবর্তন এবং টেকসই উৎপাদনের চাহিদা মোকাবিলায় প্রস্তুত করা। একই সঙ্গে নতুন প্রজন্মের নেতৃত্ব গড়ে তোলা এবং শিল্পখাতে উদ্ভাবনী চিন্তাভাবনার বিকাশ ঘটানোও এ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য।

আয়োজকদের মতে, বিশ্বব্যাপী পোশাকশিল্প দ্রুত ডিজিটাল রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডেটা অ্যানালিটিকস, ইন্ডাস্ট্রি ৪.০, স্বয়ংক্রিয় উৎপাদন ব্যবস্থা এবং স্মার্ট সাপ্লাইচেইন ব্যবস্থাপনা আগামী দিনের শিল্পকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করবে। বাংলাদেশের পোশাকশিল্পকে সেই পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে হলে প্রযুক্তি গ্রহণ ও দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই।

সম্মেলনের বিভিন্ন সেশনে নেতৃত্ব, এআই, ইন্ডাস্ট্রি ৪.০, ফিউচার অব ফাইন্যান্স, টেকসই উন্নয়ন, উদ্ভাবন, তথ্যনির্ভর সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং বৈশ্বিক পোশাক শিল্পের নতুন প্রবণতা নিয়ে আলোচনা হবে। বিশেষভাবে এআই-নির্ভর কস্টিং, স্যাম্পলিং, উৎপাদন ব্যবস্থাপনা এবং বিপণন কৌশল নিয়ে আলোচনা হবে, যা পোশাকশিল্পের উৎপাদনশীলতা ও প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

সম্মেলনে বক্তব্য দেবেন বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসান, উদ্যোক্তা কুতুবউদ্দিন আহমেদ, লেখক ও ব্যাংকার মাশরুর আরেফিন, অর্থনীতিবিদ ড. এম মাসরুর রিয়াজ, উদ্যোক্তা মিরন আলীসহ দেশি-বিদেশি শিল্পনেতা ও বিশেষজ্ঞরা। তারা শিল্পের আগামী এক দশকের সম্ভাবনা, চ্যালেঞ্জ এবং কৌশলগত দিকনির্দেশনা তুলে ধরবেন।

এবারের সম্মেলনের অন্যতম আকর্ষণ ‘বায়লা ফিউচার লিডারস ২০২৬’ শীর্ষক জাতীয় আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় কেস প্রতিযোগিতা। দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এতে অংশ নেবেন। নির্বাচিত দলগুলো গ্র্যান্ড ফিনালেতে শিল্পনেতাদের সামনে নিজেদের উদ্ভাবনী সমাধান উপস্থাপনের সুযোগ পাবেন। আয়োজকদের মতে, এ উদ্যোগের মাধ্যমে শিক্ষার্থী ও শিল্পখাতের মধ্যে একটি কার্যকর সেতুবন্ধন তৈরি হবে এবং ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব গড়ে তোলার ক্ষেত্রে নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে।

বায়লার সভাপতি আবরার হোসেন সায়েম বলেন, বিশ্বের উৎপাদন মানচিত্রে বাংলাদেশ ইতোমধ্যে একটি শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করেছে। তবে এ অবস্থান ধরে রাখতে এবং আরো এগিয়ে যেতে হলে উদ্ভাবন, প্রযুক্তি গ্রহণ, দক্ষ নেতৃত্ব এবং ভবিষ্যৎ-প্রস্তুত মানবসম্পদ গড়ে তুলতে হবে।

বায়লার প্রথম সহসভাপতি ও ইভেন্ট ডিরেক্টর হাসিন আরমান অয়ন বলেন, শিল্পনেতা, নীতিনির্ধারক, উদ্ভাবক, শিক্ষাবিদ ও তরুণ প্রজন্মকে একই প্ল্যাটফর্মে এনে ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের জন্য বাস্তবভিত্তিক সমাধান খুঁজে বের করাই এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য।

আয়োজকদের প্রত্যাশা, এ সম্মেলনের মাধ্যমে বাংলাদেশের পোশাক শিল্পে প্রযুক্তিনির্ভর উদ্ভাবন, টেকসই উৎপাদন এবং ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব বিকাশের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। পাশাপাশি ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ ব্র্যান্ডকে একটি উচ্চমূল্য সংযোজনকারী, প্রযুক্তিনির্ভর এবং বৈশ্বিকভাবে প্রতিযোগিতামূলক উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠার পথ আরো সুদৃঢ় হবে।

ব্যবসা সহজ করতে সরকারি উদ্যোগ চান উদ্যোক্তারা

নিজস্ব প্রতিবেদক
ব্যবসা সহজ করতে সরকারি উদ্যোগ চান উদ্যোক্তারা
ছবি : কালের কণ্ঠ

বৈশ্বিক বাণিজ্যের অনিশ্চয়তা, উচ্চ সুদের ব্যাংকঋণ, জ্বালানিসংকট এবং প্রশাসনিক জটিলতায় ব্যবসা পরিচালনা ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে বলে জানিয়েছেন ধানমণ্ডি-মোহাম্মদপুর অঞ্চলের ব্যবসায়ীরা। এসব সমস্যা মোকাবেলায় ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় কমানো, ট্রেড লাইসেন্সসহ সরকারি সেবার ডিজিটালাইজেশন, এলসি খোলার প্রক্রিয়া সহজ করা এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নের দাবি জানিয়েছেন তারা।

শনিবার (১১ জুলাই) রাজধানীর নিউ ধানমণ্ডি কনভেনশন হলে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত ‘সার্বিক স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়ন’ শীর্ষক মতবিনিময়সভায় এসব দাবি উঠে আসে। এতে ধানমণ্ডি-মোহাম্মদপুর এলাকার ১৫টি ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং শতাধিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি অংশ নেন।

সভায় ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ বলেন, দেশের ব্যবসায়ীরা অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখলেও কর ও ভ্যাটসংক্রান্ত জটিলতা, প্রশাসনিক প্রতিবন্ধকতা এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি তাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। জ্বালানি ও বিদ্যুতের সংকট উৎপাদন ও পরিবহন ব্যয় বাড়িয়ে দিয়েছে। পাশাপাশি সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে দোকানপাট ও শপিং মল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত বিক্রি ও টার্নওভারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বাজেটে উৎসে করকে অগ্রিম কর হিসেবে গণ্য করা, শিল্পের কাঁচামাল আমদানিতে উৎসে কর হ্রাস এবং সিএমএসএমই খাতের জন্য ৫ হাজার কোটি টাকার তহবিল ঘোষণা ইতিবাচক উদ্যোগ। তবে উচ্চ রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা এবং সরকারি ব্যাংকঋণের ওপর অতিনির্ভরতা বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ সংকুচিত করছে।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালক মাহমুদুন নবী, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) দ্বিতীয় সচিব নুসরাত ফারজানা, ভ্যাট কমিশনারেটের অতিরিক্ত কমিশনার নির্ঝর আহমেদ, ঢাকা মহানগর পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. তারেক জুবায়ের এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা জোনায়েদ কবীর সোহাগ বক্তব্য দেন। তারা ব্যবসা সহজীকরণ, কর ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, চাঁদাবাজি দমন, ট্রেড লাইসেন্স সেবা উন্নয়ন এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

মুক্ত আলোচনায় ব্যবসায়ীরা ট্রেড লাইসেন্স নবায়নের মেয়াদ পাঁচ বছর করা, নারী উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ শর্তে প্রণোদনা, নতুন উদ্যোক্তাদের এলসি সুবিধা সম্প্রসারণ, রিয়েল এস্টেট খাতে করহার কমানো, চশমা শিল্পে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি আমদানি সহজ করা এবং ডিজিটাল মার্কেটিং ও ফ্রিল্যান্সিং খাতের জন্য পৃথক নীতিমালা প্রণয়নের দাবি জানান।

অনুষ্ঠানের শেষে ৩৯টি প্রতিষ্ঠানকে ডিসিসিআইর সদস্য পদ সনদ প্রদান করা হয়।

ট্রেজারি বন্ড রি-ইস্যুর তারিখ কবে? যা জানা গেল | কালের কণ্ঠ