যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সাময়িক শান্তি চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। এই চুক্তির ইতিবাচক প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমেছে এবং মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের (ফেড) সুদের হার বৃদ্ধির আশঙ্কা কিছুটা কমেছে। এর জের ধরে বিশ্ববাজারে সোনার দাম লাফিয়ে বেড়ে প্রায় এক সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। খবর রয়টার্স
সোমবার (১৫ জুন) আন্তর্জাতিক বাজারে স্পট গোল্ডের দাম ২ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৩৩৬ দশমিক ৪৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা গত ৯ জুনের পর সর্বোচ্চ। অন্যদিকে, আগামী আগস্টে সরবরাহের জন্য মার্কিন সোনার ফিউচার চুক্তি ২ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে ৪ হাজার ৩৫৮ ডলারে পৌঁছেছে।
মার্কিন ও ইরানি কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, দুই দেশই যুদ্ধ বন্ধ করতে এবং গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দিতে একটি প্রাথমিক সমঝোতায় পৌঁছেছে। এই চুক্তির খবর ছড়িয়ে পড়তেই বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমতে শুরু করে। তবে তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ভবিষ্যৎ কী হবে, তা পরবর্তী আলোচনার ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) এক পোস্টে জানিয়েছেন, আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে এই শান্তি চুক্তিটি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হবে।
বাজার বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান ইউবিএস-এর বিশ্লেষক জিওভানি স্টাউনোভো বলেন, তেলের দাম কমে যাওয়ায় বিনিয়োগকারীরা ধরে নিচ্ছেন যে সুদের হার আর নাও বাড়তে পারে। আর এই ধারণাই সোনার দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে। তবে চলতি সপ্তাহের শেষের দিকে ফেডারেল রিজার্ভের নীতি নির্ধারণী সভা থেকে স্পষ্ট কোনো বার্তা না পাওয়া পর্যন্ত সোনার দাম এই অবস্থানেই ওঠানামা করতে পারে।
এদিকে বৈশ্বিক বাজারে মার্কিন ডলারের সূচক ১০ দিনের মধ্যে সর্বনিম্ন স্তরে নেমে গেছে। ডলারের মান কমায় অন্যান্য মুদ্রার ক্রেতাদের জন্য সোনা কেনা সাশ্রয়ী হয়েছে। বিপরীতে, অপরিশোধিত তেলের দাম কমে গত তিন মাসেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে।
এর আগে গত ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন-ইসরায়েলি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই সোনার দাম বেশ চাপে ছিল। কারণ জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতি বেড়েছিল, যার ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো সুদের হার দীর্ঘ সময় চড়া রাখবে বলে মনে করা হচ্ছিল।
সাধারণত সোনাকে মূল্যস্ফীতির বিরুদ্ধে সুরক্ষাকবচ মনে করা হলেও সুদের হার উচ্চ থাকলে সোনা তার আকর্ষণ হারায়। কারণ সোনা জমিয়ে রাখলে কোনো অতিরিক্ত মুনাফা বা সুদ পাওয়া যায় না।
সিএমই ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, এই শান্তি চুক্তির পর আগামী ডিসেম্বরে মার্কিন সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা গত সপ্তাহের ৬৯ শতাংশ থেকে কমে ৫৩ শতাংশে নেমে এসেছে। বিনিয়োগকারীরা এখন ফেডের আসন্ন সভার সিদ্ধান্তের দিকে তীক্ষ্ণ নজর রাখছেন।
তবে বহুজাতিক ব্যাংক বার্কলেস মনে করছে, দীর্ঘমেয়াদে সোনার বাজার চাঙ্গাই থাকবে। কারণ হিসেবে তারা বিশ্বব্যাপী স্থায়ী মূল্যস্ফীতি, ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্তৃক রিজার্ভ হিসেবে সোনা মজুত রাখার প্রবণতাকে উল্লেখ করেছে।
সোনার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও ঊর্ধ্বমুখী। রুপার (স্পট সিলভার) দাম ৪ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৭০ দশমিক ৭৬ ডলারে পৌঁছেছে। এছাড়া প্ল্যাটিনামের দাম ৩ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৭৭৮ দশমিক ২০ ডলার এবং প্যালাডিয়ামের দাম ৪ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৩৪৬ দশমিক ৩৬ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম পড়বে দাম ২ লাখ ৩০ হাজার ৪২২ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১৯ হাজার ৯৮৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮৮ হাজার ৫৪৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৫৩ হাজার ৫৫৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এদিকে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ হাজার ৩৬৫ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৫ হাজার ১৩২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ৪৩২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ৩ হাজার ৩২৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।






