চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে (জুলাই-মে) রেকর্ড পরিমাণ রাজস্ব আদায় করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এ সময়ে প্রতিষ্ঠানটির মোট রাজস্ব আদায় হয়েছে ৩ লাখ ৬০ হাজার ৬৪২ কোটি টাকা, যা একই সময়ের মধ্যে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ।
রবিবার (২১ জুন) রাতে এনবিআরের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, আগের অর্থবছরের একই সময়ে রাজস্ব আদায় হয়েছিল ৩ লাখ ২৭ হাজার ৭৮৫ কোটি ৭৮ লাখ টাকা। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে রাজস্ব আদায় বেড়েছে ৩২ হাজার ৮৫৬ কোটি টাকা বা ১০ দশমিক ২ শতাংশ।
তবে রেকর্ড আদায় হলেও লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় এখনও বড় ঘাটতি রয়েছে। চলতি অর্থবছরে এনবিআরের সংশোধিত রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৫ লাখ ৩ হাজার কোটি টাকা। মে মাস পর্যন্ত আদায়ের লক্ষ্য ছিল ৪ লাখ ৪২ হাজার ৮৪ কোটি টাকা। এর বিপরীতে আদায় হয়েছে ৩ লাখ ৬০ হাজার ৬৪২ কোটি টাকা, অর্থাৎ ঘাটতি রয়েছে ৮১ হাজার ৪৪২ কোটি টাকা। এ সময়ে লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের হার ৮১ দশমিক ৫৮ শতাংশ।
খাতভিত্তিক হিসাবে প্রথম ১১ মাসে কাস্টমস বিভাগে রাজস্ব আদায় বেড়েছে ৭ দশমিক ৮ শতাংশ, ভ্যাট বিভাগে ১০ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ এবং আয়কর বিভাগে ১২ দশমিক ৫৪ শতাংশ।
এনবিআরের তথ্য অনুযায়ী, জুন মাসের প্রথম ২০ দিনেই আরও ২৯ হাজার ৩১১ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে। ফলে ২০ জুন পর্যন্ত মোট আদায়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৮৯ হাজার ৯৫৩ কোটি টাকা। এটি আগের অর্থবছরের পুরো বছরের মোট আদায় ৩ লাখ ৭০ হাজার ৮৪৩ কোটি টাকার চেয়েও বেশি।
রাজস্ব বোর্ডের আশা, জুনের শেষ ১০ দিনে আরও প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকা আদায় করা সম্ভব হবে। সে ক্ষেত্রে চলতি অর্থবছরে মোট রাজস্ব আদায় ৪ লাখ ১৫ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছাবে, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ হবে। যদিও তখনও লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় প্রায় ৮৮ হাজার কোটি টাকার ঘাটতি থেকে যাবে। তবে আগের অর্থবছরের তুলনায় রাজস্ব আদায় বাড়বে প্রায় ৪৩ হাজার ১৫৭ কোটি টাকা।
রাজস্ব আদায় বাড়াতে আয়কর, ভ্যাট ও কাস্টমস বিভাগের কর্মকর্তাদের নিয়ে পৃথক তিনটি টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে এনবিআর। কর ফাঁকি শনাক্তকরণ, অডিট কার্যক্রম জোরদার, উৎসে কর ও ভ্যাট আদায়ের তদারকি, পোস্ট ক্লিয়ারেন্স অডিট এবং ঝুঁকিপূর্ণ করদাতাদের ওপর নজরদারি বাড়ানোর মতো উদ্যোগের ফলে রাজস্ব আদায়ে গতি এসেছে বলে মনে করছে সংস্থাটি।
বিজ্ঞপ্তিতে এনবিআর বলেছে, দেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও সরকারি ব্যয় নির্বাহের জন্য প্রয়োজনীয় রাজস্ব সংগ্রহে তাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।





