kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১২ ফাল্গুন ১৪২৭। ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২১। ১২ রজব ১৪৪২

ইউরোপে জিএসপি প্লাস

শ্রম অধিকার নিশ্চিত করার তাগিদ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২১ জানুয়ারি, ২০২১ ০৯:৫৬ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



শ্রম অধিকার নিশ্চিত করার তাগিদ

২০২৪ বা ২০২৬ সালের মধ্যে বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে বেরিয়ে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের পথে। উত্তরণের পর শুল্কমুক্ত সুবিধা থাকবে না। এই সময়ে শুল্কমুক্ত সুবিধার আওতায় আসতে হলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের শর্ত হিসেবে শ্রম অধিকার ও মানবাধিকার নিশ্চিত করতে হবে। এ জন্য বাংলাদেশকে ২৭টি মানবাধিকার ও শ্রমমান সম্পর্কিত আন্তর্জাতিক রীতি মেনে চলতে হবে। আর তাই বাংলাদেশের রপ্তানির বড় বাজার ইউরোপে অগ্রাধিকার বাজার সুবিধা (জিএসপি প্লাস) পেতে শ্রম অধিকার নিশ্চিত করার পরামর্শ দিয়েছে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। গতকাল বুধবার প্রসপেক্ট অব ইউস জিএসপি প্লাস ফর বাংলাদেশ; অড্রেসিং চ্যালেঞ্জ রিলেটেড টু লেবার ‘ল’ অ্যান্ড রাইটস’ শীর্ষক ভার্চুয়াল আলোচনাসভায় এমন তথ্য তুলে ধরে সিপিডি। প্রতিষ্ঠানটির বিশেষ ফেলো ড. মুস্তাফিজুর রহমানের সঞ্চালনায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম।

প্রবন্ধে বলা হয়; বাংলাদেশের বড় রপ্তানি বাজার ইউরোপ। স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) হিসেবে এই বাজারে এব্রিথিং বাট আর্মস (ইবিএ) আওতায় শুল্ক ও কোটামুক্ত সুবিধা পেয়ে আসছে। দেশের মোট রপ্তানির ৫৮ শতাংশ যায় এই বাজারে। এর মধ্যে ৬৪ শতাংশই পোশাক খাতের পণ্য। ফলে ইবিএ সুবিধা প্রত্যাহার হলে গড়ে ৮.৭ শতাংশ হারে শুল্ক দিয়ে এই বাজারে প্রবেশ করতে হবে। ফলে আশঙ্কা করা হচ্ছে এ সময় প্রতিবছর ৫.৭ শতাংশ রপ্তানি কমবে।

মালিকপক্ষের সংগঠন বিজিএমইএ সহসভাপতি আরশাদ জামাল দিপু বলেন, ‘শ্রম আইন বাস্তবায়নে দেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থা বিবেচনায় নিতে হবে। কারণ ৯৮ শতাংশ উদ্যোক্তাই বাংলাদেশের।’ তিনি একটি সমন্বিত শ্রম নীতি করার পরামর্শ দেন; যেন ট্রেড ইউনিয়নের কারণে উৎপাদন প্রক্রিয়া ব্যাহত না হয়।

অন্যদিকে শ্রমিক নেতা চৌধুরী আশিকুল আলম বলেন, ‘বৈশ্বিক চেইনে ব্যবসা করতে হলে বৈশ্বিক মানদণ্ড মেনেই করতে হবে। এটা শিল্পের প্রবৃদ্ধির জন্যই দরকার।’ বিকেএমইএ জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, ‘শ্রম আইন সংশোধনের জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নে যে ১২টি প্রস্তাব করা হয়েছে এর ছয়টিই বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বাস্তবায়ন যোগ্য নয়। এসব প্রস্তাব বাংলাদেশ থেকে অতি উৎসাহীদের পাঠানো প্রস্তাব।’

বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের (বিইএফ) মহাসচিব ফারুক আহমেদ বলেন, ‘কোনো চাপে নয়, বাংলাদেশের সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য শ্রম আইন বিশ্বমানের করতে হবে।’ তবে তিনি মনে করেন জিএসপি প্লাস সুবিধা একটি রাজনৈতিক ইস্যু। কেননা পাকিস্তান ও বলিভিয়ার শ্রম অধিকার বাংলাদেশ থেকে উন্নত নয়।

আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা আইএলওর কান্ট্রি ডিরেক্টর টুওমো পটিআইনন বলেন, ‘শ্রম অধিকার ও সুশাসন নিশ্চিতের জন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর গুণগত মান ও দক্ষতা বাড়াতে হবে।’ তিনি জাতীয় কর্ম পরিকল্পনা (এনএপি) ও সামাজিক সংলাপকে গুরুত্ব দিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। এটা সরকারের অর্থনৈতিক রূপকল্প বাস্তবায়নে সহায়ক হবে।

মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশের জন্য জিএসপি প্লাস যেমন দরকার একই সঙ্গে শ্রম অধিকার নিশ্চিত করা আরো গুরুত্বপূর্ণ। এটা দেশের জন্য। এগুলো বাস্তবায়ন করা গেলে জিএসপি প্লাস পেতে সহায়ক হবে। এ জন্য প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়াতে হবে। শ্রম আদালত বাড়াতে হবে। এ ছাড়া বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে অভ্যন্তরীণ আইনের সঙ্গে সমন্বয় রেখে তা বাস্তবায়ন করতে হবে।’ রাষ্ট্রদূত রেন্সজে তেরিংকের মতে, বাংলাদেশকে শ্রমিকবান্ধব একটি দেশ হিসেবে পরিচিত করার প্রয়োজন রয়েছে, যা শুধু জিএসপি+ সুবিধা পেতে নয় বরং শ্রমিকদের সামগ্রিক উন্নয়নে সাহায্য করবে।

সংলাপে সূচনা বক্তব্যে সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন জানান, বাংলাদেশের জিএসপি প্লাস সুবিধা পেতে প্রাসঙ্গিক মানদণ্ডগুলোর পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োগের ক্ষেত্রে আইনগত ত্রুটিগুলো পর্যালোচনা এবং শ্রমের মান সম্পর্কিত জিএসপি প্লাসের প্রয়োজনীয়তা পূরণ বিষয়ে যৌথভাবে সিপিডি ও নেটওয়ার্কস ম্যাটার এই গবেষণা পরিচালনা করেছে। এতে আরো বক্তব্য দেন বিইএফের সভাপতি কামরান টি রহমান, শ্রম অধিদপ্তরের পরিচালক মো. বেলাল হোসেন শেখ, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাজেকুজ্জামান রতন প্রমুখ।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা