kalerkantho

রবিবার । ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৩১  মে ২০২০। ৭ শাওয়াল ১৪৪১

করোনা মোকাবিলা

২২ কোটি টাকা অনুমোদন পেল এনজিওরা

আরিফুর রহমান   

৮ এপ্রিল, ২০২০ ২১:১৩ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



২২ কোটি টাকা অনুমোদন পেল এনজিওরা

প্রাণঘাতি নোভেল করোনাভাইরাস মোকাবিলায় শ্রমজীবী ও স্বল্প আয়ের মানুষদের সহযোগিতায় সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি সেবা সংস্থাগুলোও এগিয়ে আসছে। এখন পর্যন্ত বিভিন্ন এনজিওকে ২২ কোটি টাকা অনুমোদন দিয়েছে এনজিও ব্যুরো। ২২টি প্রকল্পের বিপরীতে এই টাকা দেওয়া হয়েছে। এরমধ্যে এককভাবে ব্র্যাক অনুমোদন পেয়েছে ১৬ কোটি টাকা। বাসমা ফাউন্ডেশন পেয়েছে ৮৫ লাখ টাকা।  তবে তিন বছর আগে মিয়ানমার থেকে রোহিঙ্গারা প্রাণভয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসার পরপরই দেশীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো থেকে যেভাবে সাড়া মিলেছিল; চলমান মানবিক বিপর্যয়ে এখন পর্যন্ত ততটা সাড়া মেলেনি বলে জানিয়েছে এনজিও ব্যুরো। 

এনজিও ব্যুরো থেকে পাওয়া তথ্য বলছে, করোনা ভাইরাস বাংলাদেশে শনাক্তের পর গত ২৪ মার্চ এনজিও ব্যুরোর মহাপরিচালক কে এম আব্দুস সালাম দেশি ও বিদেশি এনজিওগুলোর নির্বাহী পরিচালক এবং কান্ট্রি ডিরেক্টর বরাবর চিঠি দেন। চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন, সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাগুলোরও এই পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা প্রয়োজন। করোনাভাইরাস সম্পর্কে তৃণমূল পর্যায়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে প্রয়োজনী স্বাস্থ্য সেবা জোরদার করতে এনজিওদের ভূমিকা রাখার অনুরোধ করেন তিনি। এনজিওগুলো তৃণমূল পর্যায়ে সাধারণ মানুষদের মাঝে স্বাস্থ্য সচেতনতা বাড়াতে কি ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, তা এনজিও  ব্যুরোকে জানানোর কথাও বলা হয় ওই চিঠিতে। কিন্তু এনজিওগুলোর কাছ থেকে গত দুই সপ্তাহে কাঙ্খিত সাড়া মেলেনি বলে জানিয়েছেন এনজিও ব্যুরোর কর্মকর্তারা। 

এনজিও ব্যুরোর মহাপরিচালক কে এম আব্দুস সালাম কালের কণ্ঠকে বলেন, দরিদ্র মানুষদের স্বাস্থ্য সরঞ্জাম পৌঁছে দেওয়া এবং ত্রাণ দিয়ে সহযোগিতা করতে আমরা এনজিওদের কাছ থেকে যতটা সাড়া পাওয়ার আশা করেছিলাম, এখন পর্যন্ত ততটা পাওয়া যায়নি। তবে রোহিঙ্গাদের মানবিক বিপর্যয়ের সঙ্গে চলমান কভিড ১৯ মানবিক বিপর্যয়ের মধ্যে কিছুটা পার্থক্য রয়েছে। রোহিঙ্গা সমস্যাটা ছিল শুধু বাংলাদেশের জন্য। তখন দেশি বিদেশি বড় বড় বেসরকারি সংস্থাগুলো এগিয়ে এসেছিল। এবারের মানবিক বিপর্যয় শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়; বিশ্বের সব দেশে একই সমস্যা। এছাড়া এখন বিশ্বের সব দেশে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে চলতে বলা হচ্ছে। একে অপরের সঙ্গে সরাসরি দেখা করার সুযোগ নেই। সারা বিশ্ব লকডাউন। কেউ চলাচল করতে পারছে না। এখন সবাই নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে ব্যস্ত। এই দুটি কারণে চলমান মানবিক বিপর্যয়ে এখন পর্যন্ত এনজিওদের কাছ থেকে আশানুরূপ সাড়া মিলছে না। আব্দুস সালাম আশা করছেন, সামনের দিনগুলোতে এনজিওদের সহযোগিতার পরিমাণ আরো বাড়বে। 

এনজিও ব্যুরো থেকে পাওয়া তথ্য বলছে, কভিড ১৯ প্রাদুর্ভাবের পর উদ্ভুত পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য এনজিও ব্যুরোর মহাপরিচালককে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে গত ২৪ মার্চ। কমিটি গঠনের উদ্দেশ্য হলো- বেসরকারি এনজিওদের করোনা সংক্রান্ত দাখিল করা প্রকল্প অনুমোদন করা। এছাড়া সরকারি ও বেসরকারি সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করা। এনজিওগুলোর কাজে নজরদারি করা। কিন্তু তথ্য বলছে, এখন পর্যন্ত এনজিওদের কাছ থেকে কাঙ্খিত সাড়া মেলেনি। অবশ্য এখন পর্যন্ত বেশ কয়েকটি এনজিও মানবিকতার ডাকে এগিয়ে এসেছে। এবং তারা মাঠ পর্যায়ে কাজ করছে। এখন পর্যন্ত যে কয়েকটি এনজিও প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- ব্র্যাক, বাসমা ফাউন্ডেশন, ফ্রেন্ডশিপ, গণ উন্নয়ন কেন্দ্র, আল খায়ের ফাউন্ডেশন, ডু বেটার ফর দ্য চিলড্রেন, জাগো নারী, মানবমুক্তি, জমজম, অল কনসার্ন, জনস্বাস্থ্য কেন্দ্র, কোস্ট ট্রাস্ট, আহসানিয়া মিশন ও ইপসা। এসব এনজিও প্রথমে সাধারণ মানুষের মাঝে সাবান, মাস্ক, হ্যান্ড স্যানিটাইজারসহ স্বাস্থ্য সরঞ্জাম দিয়েছে। অবশ্য এখন ত্রাণের দিকে বেশি নজর দেওয়া হচ্ছে। এনজিও ব্যুরো আশা করছে, পরিস্থিতি উন্নতি হলে দেশি ও বিদেশি এনজিও এগিয়ে আসবে। যদিও রোহিঙ্গা সংকটের মতো এবারের সংকটে ততটা সাড়া মিলবে না। কারণ, বাংলাদেশে বেশিরভাগ সহায়তা আসে ইউরোপ ও আমেরিকা থেকে। 

এবার করোনাভাইরাস এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি হানা দিয়েছে ইউরোপ ও আমেরিকায়। তাই ওইসব দেশে নিজেরাই তাদের অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে ব্যস্ত থাকবে। ফলে আগের মতো ততটা সহযোগিতা মিলবে না ইউরোপ ও আমেরিকা থেকে। এনজিও ব্যুরো থেকে পাওয়া তথ্য বলছে, বর্তমানে দেশে ২৫৬টি বিদেশি এনজিও কাজ করছে। এককভাবে যুক্তরাষ্ট্রের আছে ৭৮টি। এ ছাড়া ইউরোপের বিভিন্ন দেশের ১১৭টি এনজিও রয়েছে। এনজিও ব্যুরোর হিসাবে, দেশে ২ হাজার ৫৬৫ এনজিও কাজ করছে। এর মধ্যে দেশি এনজিও আছে ২ হাজার ২০৯টি এবং বিদেশি ২৫৬টি। যদিও বেসরকারি এনজিও আরো অনেক বেশি আছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। গত ২০১৮-১৯ অর্থবছরে মোট ৭ হাজার ৯২৯ কোটি টাকার অর্থছাড় করেছে এনজিও ব্যুরো।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা