বিশ্ববাজারে মূল্যস্ফীতির শঙ্কা এবং যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার বৃদ্ধির পূর্বাভাসের জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম বড় ধরনের পতনের মুখে পড়েছে। মঙ্গলবার (১৯ মে) লেনদেনের শুরুতে মূল্যবান এই ধাতুর দাম কমে গত দেড় মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন স্তরের কাছাকাছি নেমে এসেছে।
বাজার বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাজারে আজ সকাল পর্যন্ত স্পট গোল্ডের দাম ০.৬ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৫৩৯.৫৪ মার্কিন ডলারে নেমে এসেছে। এর আগে সোমবারও (১৮ মে) দাম কমে ৪ হাজার ৪৭৯.৫৪ ডলারে নেমেছিল, যা গত ৩০ মার্চের পর সর্বনিম্ন।
একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে আগামী জুনে সরবরাহের চুক্তি থাকা সোনার ফিউচার মূল্য ০.৩ শতাংশ কমে আউন্স প্রতি ৪ হাজার ৫৪৩ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
বাজার বিশ্লেষকেরা বলছেন, পারস্য উপসাগরে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা দীর্ঘায়িত হওয়ার কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ছে। এর ফলে মূল্যস্ফীতি সামাল দিতে মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ (ফেড) সুদের হার আরো বাড়াতে পারে—এমন আভাসেই বিনিয়োগকারীরা সোনা বিক্রি বাড়িয়ে দিয়েছেন।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠান অ্যাক্টিভট্রেডস’র জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক রিকার্ডো ইভানজেলিস্তা বলেন, পারস্য উপসাগরের অচলাবস্থা থেকে তৈরি হওয়া মূল্যস্ফীতির আশঙ্কায় ফেডারেল রিজার্ভের কঠোর নীতি গ্রহণের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। আর এই কারণেই নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে পরিচিত সোনার ওপর চাপ বাড়ছে।
তিনি আরো বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সংঘাতের দিকে বিনিয়োগকারীরা কড়া নজর রাখছেন। কারণ এই পরিস্থিতির ওপরই নির্ভর করছে ফেডের পরবর্তী মুদ্রানীতি।
সাধারণত সোনাকে মূল্যস্ফীতিজনিত লোকসান মোকাবেলার হাতিয়ার হিসেবে গণ্য করা হলেও সুদের হার বাড়লে সোনার মতো অলভ্যাংশধারী সম্পদে বিনিয়োগের আকর্ষণ কমে যায়। ফলে বিনিয়োগকারীরা সোনা ছেড়ে মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের দিকে ঝুঁকছেন, যার কারণে ১০ বছর মেয়াদি মার্কিন ট্রেজারি ইল্ড এক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ স্তরে রয়েছে।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান রুট হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ থাকায় ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম কিছুটা কমলেও তা এখনো প্রতি ব্যারেল ১১০ ডলারের ওপরে অবস্থান করছে।
সোনার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও কমেছে। এদিন স্পট সিলভারের (রুপা) দাম ২.৩ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৭৫.৮৬ ডলারে নেমেছে। এ ছাড়া প্ল্যাটিনামের দাম ০.৮ শতাংশ কমে ১ হাজার ৯৬৪.৭৪ ডলার এবং প্যালাডিয়ামের দাম ১.৯ শতাংশ কমে ১ হাজার ৩৯১.৮৬ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
সূত্র : রয়টার্স





