kalerkantho

রবিবার। ১৭ নভেম্বর ২০১৯। ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

উদ্যোক্তা

খাঁচায় দেশি শিং-মাগুর চাষ

এমদাদুল হক মিলন, দিনাজপুর   

১৭ অক্টোবর, ২০১৯ ০৮:৫৬ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



খাঁচায় দেশি শিং-মাগুর চাষ

আল আমিনের বায়োফ্লক পদ্ধতি ব্যবহার করে মাছের চাষ। ছবি : কালের কণ্ঠ

পুকুর না থাকলেও আজকাল মাছের চাষও সম্ভব। খাঁচা তৈরি করে তার মধ্যে মাছের চাষ করা যাচ্ছে। এ পদ্ধতিতে মাছের খাবার কম লাগে এবং অসুখ না হওয়ায় চাষির আর্থিক ক্ষতিও হয় না। ইন্দোনেশিয়া এবং ভারতে খাঁচায় মাছের চাষে অসংখ্য কৃষক সম্পৃক্ত হলেও এ দেশে এখনো অনেকে পরীক্ষামূলকভাবে কাজ করছেন। দিনাজপুরের আল আমিন খানও তাঁদেরই একজন। তবে পরীক্ষামূলক চাষে সফল হয়ে তিনি বর্তমানে বাণিজ্যিকভিত্তিতে দেশি মাছের চাষ শুরু করেছেন।

বায়োফ্লক পদ্ধতি ব্যবহার করে তিনি মাছ চাষে সফল হয়েছেন। আল আমিন জানান, তিনি প্রশিক্ষণ নিয়ে বায়োফ্লক পদ্ধতিতে দেশি মাছ চাষে উদ্বুদ্ধ হন। ইন্দোনেশিয়া ও ভারতের যৌথ পদ্ধতি কাজে লাগিয়ে এ পদ্ধতিতে মাছ চাষ শুরু করেন। প্রথমবারের মতো ১২ শতক জমি নিয়ে ছয় হাজার লিটার পানি ধারণক্ষমতাসম্পন্ন একটি খাঁচা বানিয়ে তাতে দেড় কেজি শিং মাছের পোনা ছাড়েন।

তিনি জানান, পোনা ছেড়ে বাজারজাত করা পর্যন্ত সময় লাগে সাড়ে তিন থেকে চার মাস। যাতে লাভ হবে অর্ধেক। একটি খাঁচা দিয়ে শুরু করলেও এই জমিতে আরো ২১টি খাঁচা স্থাপন করতে যাচ্ছেন।

তিনি বলেন, প্রথমে বাসায় পরীক্ষামূলকভাবে বায়োফ্লক পদ্ধতিতে মাছ চাষ শুরু করেন। সেখানে সফলতা পাওয়ার পর বাণিজিক্যভাবে বায়োফ্লক পদ্ধতিতে মাছ চাষ শুরু করেন। আগামীতে খাঁচা বৃদ্ধি করে কই, পাবদা, রুই, দেশি মাগুর, টেংরাসহ বিভিন্ন প্রজাতির দেশি মাছ চাষ করবেন।

বায়োফ্লক পদ্ধতিতে মাছ চাষের জন্য তিনি গত ৪ আগস্ট সাড়ে তিন ফুট উঁচু এবং ১৩ ফুট গোলাকৃতির খাঁচাটি তৈরি করেন। খাঁচাগুলো ওয়াটার প্রুফ ত্রিপল দিয়ে ঘিরে দেন। খাঁচা তৈরি করতে ২৫-৩০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। একটি খাঁচায় সর্বোচ্চ ১২ হাজার শিং, কই ও তেলাপিয়া, মাগুর, পাবদা, ও ট্যাংরা মাছের পোনা ছাড়া যাবে। যাতে ৮০ থেকে ১০০ কেজি মাছ পাওয়া যাবে। একটি খাঁচায় বছরে তিনবার মাছ চাষ করা সম্ভব। এতে মাছের উৎপাদন বেশি হওয়ায় লাভও বেশি হয়। এ পদ্ধতিতে মাছের খাবার কম লাগে এবং অসুখ না হওয়ায় চাষিকে আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হবে না।

বায়োফ্লক পদ্ধতিতে মাছ চাষ সম্পর্কে তিনি বলেন, মাছ চাষের আগে প্রতিটি খাঁচায় অর্গানিকভাবে লবণ, চিটাগুড় ও প্রবাইটিক দিয়ে পানির (মিশ্রণ) কালচার করতে হবে। বায়োফ্লক পদ্ধতিতে মাছের বিষ্ঠা আবারও প্রোটিনে রূপান্তরিত হয়ে মাছের খাদ্যের ৭০ শতাংশ পূরণ হওয়ায় এই পদ্ধতিতে মাছের খাবারও কম লাগে। যাতে খরচ অনেক কমে আসে।

এ ব্যাপারে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ড. এস এম রেজাউল করিম বলেন, উত্তরাঞ্চলে বায়োফ্লক পদ্ধতিতে মাছ চাষ এটাই প্রথম। এটা এখন উদ্যোক্তাদের উদাহরণ হিসেবে দেখানো যাবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা