• ই-পেপার

ব্যাংক হিসাবের ফরম হবে দুই পৃষ্ঠার

ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলতে ন্যূনতম টাকা জমা রাখলেই হবে

  • ► টাকা জমা দেওয়ার সীমা উঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে
  • ► জাতীয় পরিচয়পত্র থাকলেই খোলা যাবে ব্যাংক হিসাব
  • ► ঋণের ফরম হবে ৫ পৃষ্ঠার

দেশের বাজারে আজ সোনার ভরি কত?

অনলাইন ডেস্ক
দেশের বাজারে আজ সোনার ভরি কত?

দেশের বাজারে গতকাল শনিবার আরেক দফা কমানো হয়েছে সোনার দাম। ভরিপ্রতি ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা কমিয়ে সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৩৮ হাজার ১২১ টাকা, যা ওই দিন সকাল ১০টা থেকেই কার্যকর হয়েছে।

বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) জানায়, স্থানীয় বাজারে তেজাবী সোনার (পাকা সোনা) দাম কমার পরিপ্রেক্ষিতে এই দাম কমানো হয়েছে। 

বাজুস জানায়, নতুন দাম অনুযায়ী, ২১ ক্যারেটের এক ভরি সোনায় ৪ হাজার ১৪১ টাকা কমিয়ে ২ লাখ ২৭ হাজার ৩৩১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া ১৮ ক্যারেটের এক ভরি সোনায় ৩ হাজার ৫৫৮ টাকা কমিয়ে নতুন দাম ১ লাখ ৯৪ হাজার ৮৪৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। আর সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনায় ২ হাজার ৯১৬ টাকা কমিয়ে দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫৮ হাজার ৬৮৯ টাকা।

এর আগে গত শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনায় ২ হাজার ২১৫ টাকা কমিয়ে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয় ২ লাখ ৪২ হাজার ৪৯৫ টাকা। 

এদিকে সোনার দাম কমানোর পাশাপাশি রুপার দামও কমানো হয়েছে। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ১১৭ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ হাজার ৬৫৭ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ১৭৫ টাকা কমিয়ে ৫ হাজার ৩৬৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ১১৭ টাকা কমিয়ে ৪ হাজার ৬০৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির এক ভরি রুপার দাম ১১৭ টাকা কমিয়ে ৩ হাজার ৪৪১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

ব্যবসায় বড় বাধা আমলাতন্ত্র

নিবন্ধন, ছাড়পত্রের নামে ঘাটে ঘাটে হয়রানি আয়কর-ভ্যাট নোটিসে আতঙ্কে থাকেন ব্যবসায়ীরা

অনলাইন ডেস্ক
ব্যবসায় বড় বাধা আমলাতন্ত্র

বাংলাদেশে নতুন ব্যবসা শুরু করার ক্ষেত্রে খাতভেদে ২৩টি বা তার বেশি দপ্তর থেকে ১৫০টির মতো অনাপত্তি, লাইসেন্স বা ছাড়পত্র নিতে হয়। ট্রেড লাইসেন্স নিতে হয় সিটি করপোরেশন, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ থেকে। দিতে হয় ভূমি কর ও হোল্ডিং ট্যাক্স। সেই ট্যাক্স আবার নির্ধারণ করে জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে কমিটি।

এরপর আছে কোম্পানি নিবন্ধন, আয়কর ও ভ্যাট নিবন্ধন জটিলতা। এসবের পাশাপাশি পরিবেশ ছাড়পত্র, পরিবেশ সনদ, ফায়ার লাইসেন্স, ফায়ার লে আউট প্ল্যান, নির্মাণ অনুমোদন ও শিল্প আইআরসি-সংক্রান্ত নানা ইস্যু।

এসব ঝামেলা মোকাবিলা করে বাংলাদেশে ব্যবসা-বিনিয়োগে এখন আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন উদ্যোক্তারা। অনেকে কারখানা বন্ধ করে ব্যবসা-বাণিজ্য গুটিয়ে ফেলছেন। অনেকে কর্মসংস্থানের চিন্তা করে সামাজিক দায়বদ্ধ থেকে লোকসান দিয়েও পুরোনো ব্যবসা কোনো রকমে ধরে রেখেছেন।

বিকেএমইএর প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ হাতেম বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, সরকার নানা ধরনের নীতিসহায়তার কথা বললেও বাস্তবে ব্যবসা-বাণিজ্য অনেক কঠিন হয়ে গেছে। ব্যবসার প্রধান বাধা আমলাতন্ত্র। একটি পরিবেশ ছাড়পত্রের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে নানারকম কাগজপত্র জমা দেওয়ার পরও মাসের পর মাস ঘুরতে হয়। আর ট্রেড লাইসেন্স পাওয়ার ক্ষেত্রে হয়রানি আরও বেশি।  

তৈরি পোশাক খাতের এই ব্যবসায়ী নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, ‘আমার নিজের কারখানা স্থাপনে নারায়ণগঞ্জের একটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ট্রেড লাইসেন্সের আবেদন পাঁচ বছর আটক রেখেছিলেন।’

বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি হেলাল উদ্দিন বলেন, ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের সবচেয়ে বড় হয়রানি হয় আয়কর ও ভ্যাট আদায়ে। প্রতি বছর নিয়মিত আয়কর-ভ্যাট পরিশোধ করা হলেও হঠাৎ করে পাঁচ থেকে ছয় বছর পর ব্যবসায়ীর কাছে ৫ থেকে ৬ কোটি টাকার ভ্যাট প্রাপ্তির নোটিস পাঠানো হয়। এটা দেখে অনেক ব্যবসায়ীর প্রেসার (রক্তচাপ) বেড়ে যায়। শেষে হিসাব করে দেখা যায়, প্রাপ্তির পরিমাণ হয়তো ৫ থেকে ৬ লাখ টাকা অথবা কোনো প্রাপ্তি নেই। অথচ নোটিস আসে কোটি টাকার। এ হয়রানির জন্য সরকারি কর্মকর্তাদের কোনো জবাবদিহি নেই।

দোকান মালিক সমিতির এই ব্যবসায়ী নেতা জানান, আয়করের ক্ষেত্রেও আচমকা এ ধরনের নোটিস চলে আসে-যেটি দেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের জন্য বড় আতঙ্কের বিষয়। আমাদের আবেদন- প্রতি বছরের ট্যাক্সের হিসাব সেই বছরেই নিষ্পন্ন করা হোক। পরে যেন হয়রানি করা না হয়। ব্যবসায়ীদের কাছে বাংলাদেশে ব্যবসার চিত্রটি এমনই হতাশাজনক ও আতঙ্কের। আর এ আতঙ্কজনক পরিস্থিতির জন্য সরকারি ও সেবাদানকারী সংস্থাগুলোকেই দায়ী করছেন ব্যবসায়ীরা। তারা বলছেন, ব্যবসা শুরুর পরিকল্পনায় উদ্যোক্তাদের নানা দপ্তরে ঘুরতে হয়। নানা সংস্থার হয়রানিও নানা রকম। এসব হয়রানি কমাতে হলে ঘাটে ঘাটে দিতে হয় টাকা।

জানা যায়, বিভিন্ন দপ্তরের ট্রেড লাইসেন্স প্রাপ্তির খরচ বিভিন্ন রকম। এর মধ্যে রয়েছে আয়কর ও ভ্যাট নিবন্ধন, সাইনবোর্ড খরচ, লাইসেন্স ফি ইত্যাদি। কোনো কোনো ক্ষেত্রে আবার স্থানীয় কর অর্থাৎ যে জায়গায় লাইসেন্স নেওয়া হয়, সে জায়গায় ফ্যাক্টরি বা দোকান অথবা কোনো স্থাপনা করতে চাইলে সে স্থানের অনুমোদন বাবদ খরচ। আছে ভূমি কর ও হোল্ডিং ট্যাক্স। অর্থাৎ ব্যবসা মানেই খরচের বোঝা।

ব্যবসা শুরুর এই জটিল ও দীর্ঘ প্রক্রিয়ার কারণে ‘ইজ অব ডুয়িং বিজনেস’ সূচকে বাংলাদেশের পিছিয়ে থাকার অন্যতম প্রধান কারণ। বিশ্বব্যাংকের সর্বশেষ মূল্যায়নে (২০২০) ১৯০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১৬৮তম। যদিও বিশ্বব্যাংক এ মূল্যায়ন বন্ধ রেখেছে। তবে অবস্থার কোনো উন্নতি হয়নি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ফলে ব্যবসা সম্প্রসারণ হচ্ছে না, বিনিয়োগও বাড়ছে না।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী- চলতি অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে (জুলাই-মার্চ) বাংলাদেশে নিট বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) কমেছে ২৩ দশমিক ৫৬ শতাংশ। আলোচ্য সময়ে বিদেশি বিনিয়োগ কমে ১ দশমিক ০৬ বিলিয়ন ডলারে নেমেছে, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ১ দশমিক ৩১ বিলিয়ন ডলার।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যদিও সরকার ই-গভর্ন্যান্স বা ডিজিটালাইজেশনের মাধ্যমে প্রক্রিয়াগুলো সহজ করার উদ্যোগ নিয়েছে, তবু বাস্তব ক্ষেত্রে উদ্যোক্তারা এখনো নানা জটিলতার সম্মুখীন হচ্ছেন। প্রায় ৪০টি মতো সেবা দিচ্ছে বিডা। তার পরও রয়েছে নানা বাধা। কাগজপত্র অনলাইনে জমা দিলেও এগুলো পরীক্ষানিরীক্ষা ও পরিদর্শন কার্যক্রম পরিচালিত হয় ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে। আবার অনলাইন পোর্টালের কারিগরি ত্রুটির কারণে ফি প্রদান বা নথিপত্র আপলোডে উদ্যোক্তাদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়।

বর্তমানে দেশে ব্যবসার নিবন্ধন প্রক্রিয়া অনলাইনে করা গেলেও নাম ছাড়পত্র নিবন্ধন এবং লাইসেন্স পেতে সাধারণত গড়ে ১৫ থেকে ৩০ কার্যদিবস বা তার বেশি সময় লেগে যায়। ট্রেড লাইসেন্স, ট্যাক্স আইডেন্টিফিকেশন নম্বর, ভ্যাট সনদ এবং পরিবেশ ছাড়পত্রের মতো নানা অনুমোদন পেতে বিভিন্ন দপ্তরে যেতে হয়, যা সময় বাড়িয়ে দেয়। এরপর রয়েছে জমি বা সম্পত্তি নিবন্ধন এবং বিরোধ নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতা। বিদ্যুৎ সংযোগ পাওয়া এবং কর প্রদানের ক্ষেত্রেও অনেক ধাপ পার হতে হয়। পরিবেশ ছাড়পত্র, নির্মাণ অনুমোদন, শিল্প আইআরসি এবং ফায়ার লে আউট প্ল্যান প্রাপ্তির ক্ষেত্রে বিদ্যমান আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও দীর্ঘসূত্রতা বাংলাদেশে ব্যবসা পরিচালনা এবং নতুন বিনিয়োগের ক্ষেত্রে মারাত্মক প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে।

ব্যবসায়ীরা জানান, পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে সবুজ, কমলা বা লাল ক্যাটাগরির ছাড়পত্র পেতে নির্ধারিত সময়ের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি সময় লাগে। ছাড়পত্র না পাওয়া পর্যন্ত প্রকল্পের মূল নির্মাণ কাজ বা ইউটিলিটি (গ্যাস-বিদ্যুৎ) সংযোগ নেওয়া আইনগতভাবে অসম্ভব হয়ে পড়ে। এরপর আছে নির্মাণ অনুমোদনের বিষয়। রাজউক, সিডিএ বা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নকশা এবং নির্মাণ অনুমোদন পেতে মাসের পর মাস, এমনকি বছরও পার হয়ে যায়। এই দীর্ঘ সময়ে জমির দাম, নির্মাণসামগ্রীর মূল্য বেড়ে যায়। ব্যাংক ঋণের সুদ বাড়তে থাকায় প্রকল্পের শুরুতেই ব্যয় বেড়ে যায় ১০ থেকে ১৫ শতাংশ। এসব কিছুর পর যখন উৎপাদনে যাবে তখন আরেক বাধা শিল্প আইআরসি (ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইমপোর্ট রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট)। আইআরসি ছাড়া শুল্কমুক্ত বা রেয়াতি হারে কাঁচামাল ও ভারী যন্ত্রপাতি আমদানি করা যায় না।

ফলে নতুন কারখানা চালুর পরও বাণিজ্যিক উৎপাদনে যেতে পারে না। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স থেকে ফায়ার সেফটি প্ল্যান বা লে আউট অনুমোদন করানোও অত্যন্ত জটিল। বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের শতভাগ কমপ্লায়েন্স নিশ্চিতকরণের নামে পরিদর্শনের দীর্ঘ প্রক্রিয়া ব্যবসাকে ঝুলিয়ে রাখে। ফায়ার লে আউট প্ল্যান এবং সেফটি নো-অবজেকশন সার্টিফিকেট ছাড়া কোনো শিল্প প্রকল্পে ঋণ ছাড় করে না।

বিকেএমইএ প্রেসিডেন্ট বলেন, সরকার বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)-এর মাধ্যমে এসব নিবন্ধন ও ছাড়পত্র দেওয়ার কার্যক্রম এক ছাতার নিচে (ওয়ান স্টপ সার্ভিস) নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েও পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে পারেনি। কথা ছিল, আমাদের তৈরি পোশাক খাতের এ ধরনের ক্লিয়ারেন্স নিতে পোশাক কর্র্তৃপক্ষ হিসেবে বস্ত্র অধিদপ্তর কাজ করবে, যাতে বিভিন্ন দপ্তরে দৌড়াতে না হয়। বাস্তবতা হচ্ছে, ব্যবসায়ীদের এখনো ঘাটে ঘাটে হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে, এক দপ্তর থেকে আরেক দপ্তরে দৌড়াতে হচ্ছে।

ব্যবসায় বাধা কমাতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে আজ বৈঠক : বাংলাদেশে ব্যবসা ও বিনিয়োগ সহজীকরণের লক্ষ্যে আজ রবিবার বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরের সভাপতিত্বে একটি সভা হওয়ার কথা রয়েছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে। সভায় কোম্পানি নিবন্ধন, আয়কর ও ভ্যাট নিবন্ধন, ট্রেড লাইসেন্স, শিল্প নিবন্ধন, পরিবেশ সনদ, পরিবেশ ছাড়পত্র, শিল্প আইআরসিসহ বিভিন্ন সেবা সহজীকরণ ও অনুমোদন প্রক্রিয়ার সময় কমানো নিয়ে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা চাওয়া হয়েছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে। বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন সভায় অংশ নেবেন বলে জানা গেছে।

সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন

চরম সংকটে আবাসন খাত

বিক্রি কমেছে ৭০ থেকে ৭৫ শতাংশ পুঁজি হারাচ্ছেন নির্মাণ উপকরণ ব্যবসায়ীরা টিকে থাকতে চান নীতিসহায়তা মন্দা কাটাতে যুক্তরাষ্ট্র ঋণের সুদ ১ শতাংশে নামিয়েছিল

অনলাইন ডেস্ক
চরম সংকটে আবাসন খাত

দেশের আবাসন খাত এখন গভীর সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ফ্ল্যাট বিক্রি কমে যাওয়ার পাশাপাশি নির্মাণ ব্যয় অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যাওয়ায় চাপে পড়েছে আবাসন কোম্পানিগুলো। একই সঙ্গে রড, সিমেন্ট, বালি, ইট, পাথরসহ প্রায় ২৬৯টি নির্মাণ উপকরণের বাজারেও চলছে মন্দা। বিক্রি কমে যাওয়ায় পুঁজি হারাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।

খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, দীর্ঘদিনের উচ্চ মূল্যস্ফীতি, ব্যাংক ঋণের উচ্চ সুদহার, ডলারের অস্থিরতা ও নির্মাণ উপকরণের লাগামহীন দাম বৃদ্ধির কারণে আবাসন খাতে এক ধরনের স্থবিরতা তৈরি হয়েছে। নতুন প্রকল্প হাতে নিতে পারছেন না অনেক উদ্যোক্তা। আবার চলমান প্রকল্পও ধীরগতিতে এগোচ্ছে। এমন মন্দাবস্থা থেকে উত্তরণে এই খাতের ব্যবসায়ীদের জন্য নীতি সহায়তা জরুরি। সেই সঙ্গে আবাসন ক্রেতাদেরকে স্বল্প সুদে ব্যাংক ঋণের সুযোগ দেওয়াও প্রয়োজন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

রিহ্যাবের তথ্য মতে, পুরো শিল্প খাতে মাসিক বিক্রি ১ হাজার থেকে কমে ২৫০-৩০০টিতে নেমে এসেছে। যেখানে বছরে ৫ থেকে ৮ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধির প্রত্যাশা ছিল, সেখানে উল্টো স্থবির হয়ে পড়েছে। কিছু প্রকল্পে ৫ থেকে ১০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি কমতে দেখা গেছে। বিলাসবহুল ফ্ল্যাটের বাজার সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বসুন্ধরা, গুলশান, বনানী ও ধানমন্ডিতে বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্টের বিক্রি ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ কমেছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আবাসন বা রিয়েল এস্টেট খাত বাংলাদেশের অর্থনীতির একটি স্তম্ভ। এ খাত যদি সংকটে পড়ে, তাহলে পুরো অর্থনীতিই বিপর্যয়ের মুখোমুখি হবে। জিডিপিতে ১৮ শতাংশ অবদান রাখা এ খাত বর্তমানে নানা কারণে মন্দার সম্মুখীন। রড, সিমেন্ট, ইট, বালি ও পাথরের মূল্য প্রায় ৩০ শতাংশ বেড়েছে।

রাজধানীর বিভিন্ন নির্মাণ উপকরণের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, গত দুই বছরে বিক্রি নেমেছে অর্ধেকে। বাংলামোটর টাইলস মার্কেটের জান্নাত এন্টারপ্রাইজের ব্যবস্থাপক মো. জিয়াদ বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, গত আড়াই বছর ধরে ব্যবসার অবস্থা খুবই খারাপ। আগে প্রতিদিন ৩ থেকে ৪ লাখ টাকার টাইলস বিক্রি হতো, এখন সেখানে দিনে মাত্র ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকার বিক্রি হচ্ছে। কোনো কোনো দিন ক্রেতাই পাওয়া যায় না। ফলে ব্যাংক ঋণের কিস্তি, গুদাম ভাড়া ও শ্রমিক ব্যয় মেটাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

বর্তমানে একটি ফ্ল্যাট বা বিল্ডিং নির্মাণের খরচ প্রায় ৩০ শতাংশ বেড়ে যাওয়ায় ক্রেতাদের ক্রয়ক্ষমতা কমেছে। ফ্লোর এরিয়া রেশিও (এফএআর) কমে যাওয়ায় আগে যেখানে ৮-৯ তলা দালান নির্মাণের সুযোগ ছিল, এখন সেটি ৫-৬ তলায় সীমিত। ফলে জমির মালিকরা তাঁদের জমি আবাসন কোম্পানির কাছে হস্তান্তর করতে আগ্রহ হারাচ্ছেন।

এ বিষয়ে রিহ্যাবের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট আবদুর রাজ্জাক বলেন, এখন পুরো খাতটাই চাপের মধ্যে আছে। বিক্রি নেমে এসেছে ২০ থেকে ২৫ শতাংশে। নতুন প্রকল্প গ্রহণও কমেছে। ফলে শুধু ডেভেলপার নয়, নির্মাণ উপকরণের সঙ্গে জড়িত হাজার হাজার ব্যবসায়ীও সংকটে। বিক্রি না থাকায় অনেকের পুঁজি শেষ হয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, ব্যাংক ঋণের সুদহার বেড়েছে, নির্মাণ ব্যয় বেড়েছে, কিন্তু ক্রেতা কমে গেছে। এই পরিস্থিতিতে টিকে থাকতে হলে আবাসন ও নির্মাণ উপকরণ খাতের জন্য বিশেষ নীতি সহায়তা দরকার।

খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, আবাসন খাতের সঙ্গে প্রায় ১৬৯টির বেশি ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ শিল্প জড়িত। এর মধ্যে রয়েছে রড, সিমেন্ট, সিরামিক, কাচ, রং, ইট, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম, অ্যালুমিনিয়াম, কাঠ ও স্যানিটারি পণ্যের বাজার। আবাসন খাতের মন্দা সরাসরি এসব শিল্পেও প্রভাব ফেলছে।

বাংলাদেশ সিমেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিসিএমএ) সভাপতি প্রিমিয়ার সিমেন্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. আমিরুল হক বলেন, সিমেন্ট শিল্পে মন্দাভাব চলছে। চাহিদা না থাকায় সক্ষমতার ৫৫ থেকে ৬০ শতাংশ কম উৎপাদন করছে। নির্মাণ উপকরণ খাত এখন টিকে থাকার লড়াই করছে। ব্যবসা সচল রাখতে হলে সহজ শর্তে ঋণ ও নীতিগত সহায়তা প্রয়োজন। দেশের বড় বড় শিল্পগ্রুপের ক্ষতি হলে আগামীতে কোনো শিল্প গড়ে উঠবে না। নির্মাণ শিল্পের সঙ্গে দুই কোটির বেশি মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত। বর্তমানে ১৪-১৫ শতাংশ সুদে ঋণ নিয়ে ব্যবসা করাও কঠিন। তবে অর্থ ও বাণিজ্যমন্ত্রী এবং গভর্নরের ইতিবাচক উদ্যোগগুলোতে আমি আশাবাদী। শিল্প খাতের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক যতগুলো সার্কুলার করেছে গত ১০-১৫ বছরের কোনো গভর্নর তা করেননি।

আবাসন খাতের উদ্যোক্তারা জানান, একই সঙ্গে এলসি খোলার জটিলতা ও ডলারের উচ্চমূল্যের কারণে কাঁচামাল আমদানিও ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে। তাদের মতে, শুধুমাত্র আবাসন কোম্পানিকে নয়, নির্মাণ উপকরণ ব্যবসায়ীদের জন্যও বিশেষ সহায়তা প্রয়োজন। বিশেষ করে কম সুদে ঋণ, কর ছাড় এবং সহজ অর্থায়নের সুযোগ দিলে খাতটি কিছুটা ঘুরে দাঁড়াতে পারে।

এ বিষয়ে জিপিএইচ ইস্পাতের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলমাস শিমুল বলেন, আবাসন খাতে স্থবিরতার প্রভাব পড়েছে ইস্পাত শিল্পে। রডের উৎপাদন কমে এক-তৃতীয়াংশে নেমে এসেছে। এভাবে চলতে থাকলে আমাদের এই ইন্ডাস্ট্রিকে সচল রাখা যাবে না। চাহিদা না থাকায় উৎপাদন দুই-তৃতীয়াংশ কমাতে বাধ্য হয়েছি আমরা।

গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের সম্মানীয় ফেলো প্রফেসর মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, আবাসন খাত দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি। এ খাত সচল থাকলে কর্মসংস্থান বাড়ে, শিল্পকারখানার উৎপাদন বাড়ে এবং সরকারের রাজস্ব আয়ও বৃদ্ধি পায়। ফলে খাতটিকে বাঁচাতে দ্রুত কার্যকর নীতি সহায়তা প্রয়োজন। আবাসন খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, নির্মাণ উপকরণের দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখতে বাজার তদারকি বাড়ানো এবং উৎপাদন ও আমদানিতে নীতিগত সুবিধা দেওয়াও জরুরি। তা না হলে আবাসন খাতের বর্তমান সংকট আরও গভীর হতে পারে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের জানুয়ারিতে গৃহঋণের সর্বোচ্চ সুদের হার ছিল ৯ শতাংশ, ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে তা বেড়ে ১৭ শতাংশে পৌঁছায় এবং ২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত সুদহার ছিল ১৪ শতাংশ। নীতি সহায়তা ও স্বল্প সুদে ব্যাংক ঋণের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন খাতও ঘুরে দাঁড়ানোর উদাহরণ রয়েছে। মহামন্দার ফলে ২০০৩ সালে ঋণের সুদহার ১ শতাংশে নেমেছিল। এতে বাড়ি বিক্রির হার তুঙ্গে উঠেছিল।

এ বিষয়ে বেসরকারি খাতের মিউচ্যুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, ফ্ল্যাট কেনা বা বাড়ি নির্মাণে দেওয়া ঋণের সুদহার বেশি হওয়ার কারণেও গ্রাহকরা ব্যাংকবিমুখ হচ্ছেন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আবাসন খাতে ঋণ দেওয়ার জন্য বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে। কারণ এ খাতে ঋণের মেয়াদ দীর্ঘ হয়। কিন্তু বাংলাদেশে এ ধরনের বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা খুবই নগণ্য। সরকারি-বেসরকারি মাত্র তিনটি বিশেষায়িত আর্থিক প্রতিষ্ঠান আবাসন খাতে ঋণ দেয়। এ প্রতিষ্ঠানগুলোর পাশাপাশি ব্যাংকগুলো ঋণ দিলেও সেটির সুদহার বেশি। সরকার উদ্যোগী হলে আবাসন খাতে স্বল্প সুদে ঋণ দেওয়ার সুযোগ আছে। এ মূল্যবৃদ্ধির ক্ষেত্রে সরকারের নীতিরও দায় আছে।

সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন

ফিনএক্সেল আয়োজিত ‘রিটেইল ব্যাংকিং ওয়েলথ ম্যানেজমেন্ট এক্সিলেন্স’ কর্মশালা

অনলাইন ডেস্ক
ফিনএক্সেল আয়োজিত ‘রিটেইল ব্যাংকিং ওয়েলথ ম্যানেজমেন্ট এক্সিলেন্স’ কর্মশালা
সংগৃহীত ছবি

‘রিটেইল ব্যাংকিং ওয়েলথ ম্যানেজমেন্ট এক্সিলেন্স’ শীর্ষক একটি প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করেছে দেশের আর্থিক খাতের কনসালটেন্সি প্রতিষ্ঠান ফিন্যান্সিয়াল এক্সিলেন্স লিমিটেড (ফিনএক্সেল)।

শনিবার (১৬ মে) রাজধানীর একটি হোটেলে দুই দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন এবিবির চেয়ারম্যান ও সিটি ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাসরুর আরেফিন। প্রশিক্ষণে বিভিন্ন ব্যাংক থেকে ৩০ জন ব্যাংকার অংশ নিয়েছেন।

ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলতে ন্যূনতম টাকা জমা রাখলেই হবে | কালের কণ্ঠ