জাতীয় সংসদ ভবন প্রাঙ্গণে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠান আয়োজনের প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)। বিক্ষোভ পরবর্তী সমাবেশে দলটির নেতারা অভিযোগ করেছেন, দেশকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ‘করদ রাজ্যে’ পরিণত করার চক্রান্ত চলছে এবং সরকার মার্কিন তোষণ নীতি অনুসরণ করছে।
আজ সোমবার রাজধানীর পল্টন মোড়ে আয়োজিত সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সিপিবির সভাপতি কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পাদিত ‘দেশবিরোধী বাণিজ্যচুক্তি’ বাতিল করার পরিবর্তে সরকার মার্কিন তোষণ নীতি গ্রহণ করেছে। সংসদ ভবন প্রাঙ্গণে মার্কিন স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের অনুমতি তারই বহিঃপ্রকাশ। সরকার ও বিরোধী দল দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ববিরোধী ভূমিকা পালন করছে।’ এ পরিস্থিতিতে দেশপ্রেমিক মানুষের সম্মিলিত প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।
সমাবেশে সিপিবির সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন বলেন, ‘জনগণের সার্বভৌম ইচ্ছার প্রতীক ও রাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান সংসদ ভবন প্রাঙ্গণকে কোনো বিদেশি রাষ্ট্রের জাতীয় দিবস উদযাপনের ভেন্যু হিসেবে ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া স্বাধীনতা ও জাতীয় আত্মমর্যাদাবোধের পরিপন্থী। আর ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানি সামরিক জান্তার সহযোগী ছিল। সেই দেশের স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের জন্য সংসদ ভবন ব্যবহারের অনুমতি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতি অবমাননার শামিল।’ এ ঘটনার জন্য দায়ীদের নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার দাবিও জানান তিনি।
সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশে অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক ও কৌশলগত বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে। এমন প্রেক্ষাপটে জাতীয় সংসদ ভবন প্রাঙ্গণে এ ধরনের অনুষ্ঠান আয়োজন দেশের পররাষ্ট্রনীতির স্বাধীনতা, জাতীয় মর্যাদা ও সার্বভৌমত্ব নিয়ে অপ্রয়োজনীয় প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।’ ভবিষ্যতে জাতীয় সংসদ ভবনসহ রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় মর্যাদার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত কোনো স্থাপনা বিদেশি রাষ্ট্রের জাতীয় দিবস বা অনুরূপ আয়োজনের জন্য ব্যবহারের অনুমতি না দেওয়ার দাবি জানান তারা।
এ সময় মুক্তিযুদ্ধে গণহত্যার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ও স্বাধীনতাবিরোধী ভূমিকা রাখা একটি দলের প্রধানের সাম্প্রতিক বক্তব্যেরও সমালোচনা করেন সিপিবি নেতারা। তাদের দাবি, মুক্তিযুদ্ধ থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ও জামায়াত বাংলাদেশের জনগণের স্বার্থের বিপরীত অবস্থানে রয়েছে।
সমাবেশ থেকে সিপিবির সভাপতি আগামী ৮ জুলাই দেশব্যাপী জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পাদিত ‘দেশবিরোধী বাণিজ্য চুক্তি’ বাতিলের দাবিও পুনর্ব্যক্ত করেন। এর আগে পল্টন মোড় থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে জাতীয় প্রেসক্লাব ও কদম ফোয়ারা প্রদক্ষিণ করে আবার পল্টনে এসে সমাবেশে মিলিত হয়।




