জাতীয় নাগরিক পার্টির আহবায়ক ও সংসদ সদস্য নাহিদ ইসলাম বলেছেন, মানুষ ন্যায়ের পক্ষে ভোট দিয়েছে, সংস্কারের পক্ষে ভোট দিয়েছে। এই বিএনপি সরকার গণভোট ও জুলাই সনদকে এখন অস্বীকার করছে। তারা এখন জনগণের সাথে প্রতারণা করছে, জাতির সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করছে।
তিনি বলেন, ‘আপনারা যে বিভিন্ন জেলা উপজেলায় মামলা বাণিজ্য করেছেন, নিরীহ মানুষের নামে মামলা দিয়ে দুর্নীতি এবং লুটপাট করেছেন। এই হয়রাণী থেকে মানুষকে মুক্তি দিয়ে যারা প্রকৃত অপরাধী তাদেরকে গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনুন।
সোমবার (৬ জুলাই) বিকাল ৫ টায় গাজীপুর জেলার কালিগঞ্জে সরকারি শ্রমিক কলেজ এলাকায় দেশব্যাপী জাতীয় নাগরিক পার্টির জুলাই পদযাত্রা-২০২৬ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
নাহিদ বলেন, ‘মানুষ ন্যায়ের পক্ষে ভোট দিয়েছে, সংস্কারের পক্ষে ভোট দিয়েছে। এই বিএনপি সরকার গণভোট ও জুলাই সনদকে এখন অস্বীকার করছে। জনগণের সাথে প্রতারণা করছে, জাতির সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করছে। আমরা পাঁচটা দাবি নিয়ে এসেছি, এই গণভোটের গণনা বাস্তবায়ন করতে হবে। যার মাধ্যমে সংস্কার হবে। দেশের পরিবর্তন হবে। আকাঙ্ক্ষা ছিল অভ্যুত্থানে পরিবর্তন দেখার। সেই জন্য শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে রাজপথে দাবি জানিয়েছিলাম।’
তিনি আরো বলেন, ‘বাংলাদেশে বিদ্যুতের সংকট। আপনাদের এলাকায় কি বিদ্যুৎ আছে? লোডশেডিং হচ্ছে? দৈনিক সাত থেকে আট ঘন্টা লোডশেডিং হচ্ছে। এই লোডশেডিং সমস্যার সমাধান করতে হবে। এ সরকার কথা দিয়েছিল কমিটমেন্ট দিয়েছিল বিদ্যুতের সমস্যার সমাধান করবে। যে বাজেট দিয়েছে এই বাজেটে তেমন কিছু দেখি নাই। বিদ্যুতের সমস্যার সমাধান করতে হবে। ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ দিতে হবে এবং দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। সারাদেশে আইনশৃঙ্খলার বেহাল দশা। আপনারা জানেন কয়েকদিন আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে নিজের দলের একজন এমপি বলেছিলেন, মাদক কারবারির সূতিকাগার হচ্ছে সেই কক্সবাজার থেকে। যে নিজের এলাকায় মাদক বন্ধ করতে পারে না সে সারাদেশে মাদক কিভাবে বন্ধ করবে? সারা দেশের আইন-শৃঙ্খলা কিভাবে ঠিক করবে? স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বলেন আপনি মাদক কারবার বন্ধ করুন। দেশের আইন-শৃঙ্খলা নিশ্চিত করুন।
তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের ওসমান হাদী জীবন দিয়েছিল স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের জন্য। কিন্তু আমরা দেখছি সীমান্তে সাধারণ বাংলাদেশীদেরকে হত্যা করছে বিএসএফ খুনি বাহিনী। আমরা দেখছি সীমান্তে পুশিং হচ্ছে। এই সরকার জাতীয়তাবাদী সরকার বলে। যে নাকি জাতীয়তাবাদী নিয়ে ব্যবসা করে। সীমান্তে হত্যা বন্ধ করতে পারছে না। আমরা বলব, সীমান্তে হত্যা বন্ধ করুন। জাতীয়তাবাদের নামে ব্যবসা বন্ধ করুন। বাংলাদেশের সীমান্তকে সুরক্ষা দিন।’
নাহিদ বলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান হয়েছিল আপনার আমার অংশগ্রহণের ফলে। এখন জুলাই গণঅভ্যুত্থানের নতুন নতুন নেতা আসছে। শিলং থেকে লন্ডন থেকে নাকি নেতৃত্ব দেওয়া হয়েছিল জুলাই গণঅভ্যুত্থানের। ভালো, আপনারা এখন জুলাই অভ্যুত্থানের আকাংখা বাস্তবায়ন করুন। আপনারা জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করুন। আপনারা সংস্কারের বাস্তবায়ন করুন। যদি জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে না পারেন। যদি বিচার করতে না পারেন। তাহলে নেতৃত্বের দাবিদার এ কথাটি ভুলেও মুখে আনবেন না। জুলাই জাদুঘর খুলে দিন এবং যারা জুলাই- গণঅভ্যুত্থানের হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছিল তাদের বিচার নিশ্চিত করুন। আপনারা যে বিভিন্ন জেলা উপজেলায় মামলা বাণিজ্য করেছেন, নিরীহ মানুষের নামে মামলা দিয়ে দুর্নীতি এবং লুটপাট করেছেন। এই হয়রাণী থেকে মানুষকে মুক্তি দিয়ে যারা প্রকৃত অপরাধী তাদেরকে গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনুন না।’
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দলের সদস্যসচিব আখতার হোসেন, মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম, জাতীয় যুবশক্তির সভাপতি অ্যাডভোকেট তারিকুল ইসলাম এবং সাংগঠনিক সম্পাদক রিফাত রশীদ।
এ ছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মুখ্য সংগঠক অ্যাডভোকেট আলী নাসের খান, গাজীপুর জেলা এনসিপির আহ্বায়ক ও কালীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী এম এম শোয়াইব, গাজীপুর মহানগর এনসিপির সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল মুহিম, গাজীপুর জেলা এনসিপির সদস্যসচিব খন্দকার আল আমিন এবং জেলা ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক বশির আহমেদ অপু প্রমুখ।





