• ই-পেপার

হত্যা মামলার আসামির খোঁজে পুলিশ, ফেসবুকে ভ্রমণের ছবি

সদরপুরে পুকুরে গোসল করতে নেমে মাদরাসাছাত্রের মৃত্যু

সদরপুর-চরভদ্রাসন (ফরিদপুর) প্রতিনিধি
সদরপুরে পুকুরে গোসল করতে নেমে মাদরাসাছাত্রের মৃত্যু

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় পুকুরে ডুবে আবদুল্লাহ (৮) নামে এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। 

সোমবার (৬ জুলাই) বিকেলে উপজেলার ভাষানচর ইউনিয়নের সুবদেব নগর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত আবদুল্লাহ ভাষানচর ইউনিয়নের চানপুর গ্রামের বেলায়েত হোসেন ও রিনা আক্তারের ছেলে।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আবদুল্লাহ গত তিন-চার দিন ধরে তার নানা সদর আলীর বাড়িতে বেড়াতে এসেছিল। বিকেলে বাড়ির পাশে ইসলাম বয়াতীর পুকুরে গোসল করতে যায়। এরপর দীর্ঘক্ষণ তাকে খুঁজে না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে অনুসন্ধান শুরু করেন। 

একপর্যায়ে স্থানীয় বাসিন্দা রাসেলের পুকুরে নেমে খোঁজাখুঁজি করে শিশুটিকে উদ্ধার করেন। পরে দ্রুত তাকে সদরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ব্যাপারে সদরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আবদুল্লাহ আল মামুন শাহ বলেন, পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল ও হাসপাতালে পৌঁছে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

ককটেল বিস্ফোরণে উত্তপ্ত সাভার, প্রতিবাদে মিছিল এনসিপির

অনলাইন ডেস্ক
ককটেল বিস্ফোরণে উত্তপ্ত সাভার, প্রতিবাদে মিছিল এনসিপির
সংগৃহীত ছবি

সাভারে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) পদযাত্রা শেষে আয়োজিত সমাবেশ চলাকালে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করা হয়েছে। এ ঘটনায় অন্তত চারজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে মো. শাহীন খন্দকার (৩০), মো. জসিম (২৬) ও মো. শাহাদাত হোসেনের (৪০) পরিচয় জানা গেলেও অপর একজনের নাম তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলামের নেতৃত্বে প্রতিবাদী মিছিল করেছে দলটি।

সোমবার (৬ জুলাই) রাত পৌনে ১০টার দিকে সাভার থানা স্ট্যান্ডসংলগ্ন ঈদগাহ মাঠে এ ঘটনা ঘটে।

এনসিপির কেন্দ্রীয় সদস্য ইয়াসির আরাফাত জানান, সমাবেশে ঢাকা জেলা এনসিপির আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার নাবিলা তাসনিদ বক্তব্য দিচ্ছিলেন। এ সময় দুর্বৃত্তরা ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়।

ইয়াসির আরাফাতের ভাষ্য অনুযায়ী, বিস্ফোরণের সময় সমাবেশের মঞ্চে এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম, সদস্যসচিব আখতার হোসেন এমপি এবং মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলমসহ দলের কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

এনাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ইএমও ডা. হাসান বলেন, আমরা চারজন রোগী পেয়েছি। এর মধ্যে পায়ে একজনের গুরুতর আঘাত ছিল। এর মধ্যে তিনজনকে জরুরি বিভাগে চিকিৎসা দিয়ে অস্ত্রোপচারের জন্য পাঠানো হয়েছে। অপরজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

ঘটনার বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ভুল ট্রেনে খুলনায়, পুলিশের সহায়তায় পরিবারের কাছে ফিরল তৌহিদ

খুলনা অফিস
ভুল ট্রেনে খুলনায়, পুলিশের সহায়তায় পরিবারের কাছে ফিরল তৌহিদ
সংগৃহীত ছবি

বাড়ি ফেরার উদ্দেশে বের হলেও ভুল ট্রেনে উঠে শত শত কিলোমিটার দূরের খুলনায় পৌঁছে যায় আট বছরের শিশু তৌহিদুল ইসলাম বাবু। অচেনা শহরে পথ হারিয়ে বিপদের মুখে পড়লেও শেষ পর্যন্ত খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারের উদ্যোগে পরিবারের কাছে নিরাপদে ফিরেছে সে।

ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টার সূত্র জানায়, গত বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) রাত ৮টার পর সোনাডাঙ্গা থানা পুলিশ তৌহিদকে কেন্দ্রটিতে নিয়ে আসে। পরে কর্মকর্তারা তার সঙ্গে কথা বলে জানতে পারেন, ঢাকার একটি মাদরাসায় পড়াশোনা করত সে। পড়াশোনায় আগ্রহ না থাকায় বাড়ি ফেরার উদ্দেশে বের হলেও ভুলবশত কক্সবাজারগামী ট্রেনের পরিবর্তে খুলনাগামী ট্রেনে উঠে পড়ে।

খুলনায় পৌঁছানোর পর এক ব্যক্তি আশ্রয় দেওয়ার কথা বলে তাকে সঙ্গে নিয়ে যায়। তৌহিদের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই ব্যক্তি তাকে পাঞ্জাবি খুলে ফেলতে বলেন এবং মোবাইল ফোনে আরেকজনকে কল করে বলেন, ‘একজনকে পেয়েছি, নিয়ে আসছি।’

এসব কথা শুনে আতঙ্কিত হয়ে সুযোগ বুঝে সেখান থেকে পালিয়ে যায় তৌহিদ। পরে সে সোনাডাঙ্গা বাস টার্মিনালে গিয়ে কক্সবাজারে ফেরার চেষ্টা করে। কিন্তু তার কাছে কোনো টাকা না থাকায় অসহায় অবস্থায় ঘোরাঘুরি করতে থাকে। এ সময় এক ব্যক্তি তাকে সোনাডাঙ্গা থানায় নিয়ে যান। পরে পুলিশ তাকে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে হস্তান্তর করে।

ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারের ইনচার্জ এসআই মাহমুদা জানান, শিশুটির দেওয়া একটি মোবাইল নম্বরের সূত্র ধরে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। খবর পেয়ে তার খালু কক্সবাজার থেকে খুলনায় এসে প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে তাকে পরিবারের জিম্মায় নিয়ে যান।

তৌহিদের খালু জুয়েল রানা জানান, গত ৩ জুলাই শিশুটির ছোট মামা তাকে মাদ্রাসা থেকে ঘুরতে বের করেছিলেন। সঙ্গে আরো দুই শিশু ছিল। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রাস্তা পার হওয়ার সময় তৌহিদ সবার পেছনে পড়ে যায়। পরে সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, সে অন্যদিকে চলে গেছে। অনেক খোঁজাখুঁজির পরও তাকে না পেয়ে ঢাকার মিরপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। পরে খুলনা থেকে ফোন পেয়ে তাকে নিতে আসেন তিনি।

ডিবি পুলিশের ওপর হাতবোমা হামলা, ছিনিয়ে নেওয়া হলো আসামি

মাদারীপুর প্রতিনিধি
ডিবি পুলিশের ওপর হাতবোমা হামলা, ছিনিয়ে নেওয়া হলো আসামি
সংগৃহীত ছবি

মাদারীপুর সদর উপজেলার একাধিক মামলার আসামি পারভেজ ব্যাপারীকে গ্রেপ্তারের পর হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে তাকে ছিনিয়ে নিয়েছে সহযোগীরা। এসময় আসামির ফেলে যাওয়া ৩০০টি ইয়াবা উদ্ধার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ।

মাদারীপুর জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু নাঈম এ তথ্য জানান। সোমবার (৬ ‍জুলাই) রাত ৮টার দিকে সদর উপজেলার লক্ষ্মীগঞ্জে এ ঘটনা ঘটে।

পালিয়ে যাওয়া পারভেজ ব্যাপারী ওই এলাকার বাসিন্দা। তার বিরুদ্ধে থানায় একাধিক মামলা রয়েছে বলে দাবি পুলিশের।

প্রত্যক্ষদর্শী এক ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, পারভেজকে গ্রেপ্তারের পর পুলিশ তাকে নিয়ে অস্ত্র উদ্ধারের জন্য পুকুরপাড়ে যায়। পারভেজের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী সেখানে নেওয়ার পর তার লোকজন একাধিক বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে তাকে ছিনিয়ে নেয়।

মাদারীপুর জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু নঈম জানান, পারভেজ একজন চিহ্নিত মাদক কারবারি। সন্ধ্যার পর ওই এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে এসময় পারভেজের সহযোগীরা হাতবোমা বিস্ফোরণ ঘটালে তিনি পালিয়ে যান। পরে ঘটনাস্থলে ফেলে যাওয়া ৩০০টি ইয়াবা পাওয়া যায়। তবে কোনো পু‌লিশ সদস্য আহত হননি। পারভেজকে ধরতে থানা পুলিশের পাশাপাশি গোয়েন্দা পুলিশ কাজ করে যাচ্ছে।