• ই-পেপার

যেসব উপায়ে এআই ব্যবহার করে হালাল উপার্জন করবেন

অশ্লীলতা মানব জীবনে সর্বদা লাঞ্ছনা বয়ে আনে

ইসলামী জীবন ডেস্ক
অশ্লীলতা মানব জীবনে সর্বদা লাঞ্ছনা বয়ে আনে
সংগৃহীত ছবি

ইসলাম মানবজাতিকে চারিত্রিক পবিত্রতা, শালীনতা ও নৈতিকতার শিক্ষা দেয়। ঈমানের দাবি হলো মানুষের মুখের ভাষা, আচরণ, পোশাক, দৃষ্টি, চিন্তা-সবকিছুর মধ্যেই যেন শালীনতা ও পবিত্রতা বজায় রাখতে হবে। তাই ইসলাম শুধু অশ্লীল কাজকেই হারাম করেনি; বরং অশ্লীলতার প্রচার, প্রসার, স্বাভাবিকীকরণ এবং তাতে সহযোগিতা করাকেও কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করেছে। কারণ অশ্লীলতা ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয় এবং তা শেষ পর্যন্ত ব্যক্তির জন্য দুনিয়া ও আখিরাতে অপমান ও লাঞ্ছনার কারণ হয়।

এ ব্যাপারে পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন, 'নিশ্চয়ই যারা এটা পছন্দ করে যে মুমিনদের মধ্যে অশ্লীলতা ছড়িয়ে পড়ুক, তাদের জন্য দুনিয়া ও আখিরাতে রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক আজাব। আর আল্লাহ জানেন এবং তোমরা জান না।' (সুরা : নুর, আয়াত : ১৯)

পবিত্র কোরআনের এই আয়াত প্রত্যেক মুসলমানের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এখানে শুধু অশ্লীল কাজের কথা বলা হয়নি; বরং অশ্লীলতার 'প্রচার ও প্রসার' কামনা করাকেও ভয়াবহ অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। কেউ যদি নিজে অশ্লীলতায় লিপ্ত না-ও হয়, কিন্তু এমন পরিবেশ তৈরি করে, যাতে অশ্লীলতা মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে এবং স্বাভাবিক বিষয় হয়ে ওঠে, তাহলেও সেও এ সতর্কবার্তার অন্তর্ভুক্ত হতে পারে (নাউজুবিল্লাহ!)।

শয়তান মানুষকে বিভ্রান্ত করার জন্য অশ্লীলতার স্বাভাবিকীকরণের প্রক্রিয়া অবলম্বন করে। এটা তার অন্যতম বড় কৌশল। যে কৌশলের ব্যাপারে মহান আল্লাহ তাঁর বান্দাদের সতর্ক করেছেন, 'হে মুমিনরা, তোমরা শয়তানের পদাঙ্কসমূহ অনুসরণ কোরো না। আর যে শয়তানের পদাঙ্কসমূহ অনুসরণ করবে, নিশ্চয়ই সে অশ্লীলতা ও মন্দ কাজের নির্দেশ দেবে।' (সুরা : নুর, আয়াত : ২১)

বোঝা গেল, মানব সমাজে যারা অশ্লীলতা স্বাভাবিকীকরণে কাজ করে, তারা মূলত শয়তানের ফাঁদে পা দিয়েছে। বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রায়ই কিছু অশ্লীল শব্দ, বাক্য বা স্লোগান 'ট্রেন্ড' হয়ে যায়। অসংখ্য মানুষ না বুঝেই সেগুলো 'মিম' বা 'ট্রেন্ড' মনে করে শেয়ার করে, মন্তব্যে ব্যবহার করে কিংবা ভিডিও বানিয়ে আরো ছড়িয়ে দেয়। কিন্তু একজন মুমিনের জন্য কোনো বিষয় জনপ্রিয় হওয়াই তার বৈধতার প্রমাণ নয়। মুমিন কখনো এসব কাজে লিপ্ত হতে পারে না। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, 'মুমিন কখনো দোষারোপকারী ও নিন্দাকারী হতে পারে না, অভিশাপকারী হতে পারে না, অশ্লীল কাজ করে না এবং কটুভাষীও হয় না।' (তিরমিজি, হাদিস : ১৯৭৭) 

অনেক ক্ষেত্রে মানুষ মতবিরোধ ও বিতর্কে জেতার জন্য অশ্লীল পথ অবলম্বন করে বসে। অথচ ইসলাম মতবিরোধ ও বিতর্কের ক্ষেত্রেও শালীনতা বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছে। এ ব্যাপারে মহান আল্লাহ বলেন, 'তুমি তোমার রবের পথে হিকমত ও সুন্দর উপদেশের মাধ্যমে আহ্বান করো এবং সুন্দরতম পন্থায় তাদের সঙ্গে বিতর্ক করো।' (সুরা : নাহল, আয়াত : ১২৫)

অতএব, প্রতিপক্ষ ভুল করলেও তার জবাবে অশ্লীল ভাষা, কুরুচিপূর্ণ উপহাস বা নোংরা শব্দ ব্যবহার করা ইসলামের শিক্ষা নয়। সত্য প্রতিষ্ঠার জন্যও শালীনতা বিসর্জন দেওয়া বৈধ নয়। বর্তমানে সবচেয়ে বেশি অশ্লীলতা ছড়ানো হয় ইন্টারনেটে। অশ্লীল একটি পোস্ট, মন্তব্য বা শেয়ার মুহূর্তের মধ্যে লাখো মানুষের কাছে পৌঁছে যেতে পারে। তাই আমাদের প্রত্যেকের চিন্তা করা উচিত আমার একটি লাইক, শেয়ার, কমেন্ট ইত্যাদি মানুষের মধ্যে অশ্লীলতার প্রসার ঘটাচ্ছে কি না? আমি কি নিজের অজান্তেই শয়তানের কোনো পরিকল্পনার অংশ হয়ে যাচ্ছি?

রাসুল (সা.) বলেন, 'আর যে ব্যক্তি ইসলামে কোনো খারাপ নিয়মের প্রচলন ঘটাবে, তার জন্য তার গুনাহ তো রয়েছেই, অন্যদিকে সে অনুসারে আমলকারীদের গুনাহও তার জন্য রয়েছে। অবশ্য এর কারণে তাদের গুনাহ বিন্দুমাত্র হ্রাস করা হবে না।' (নাসায়ি, হাদিস : ২৫৫৪)

সুতরাং অশ্লীল শব্দ, অশ্লীল কৌতুক, অশালীন ট্রেন্ড কিংবা নোংরা সংস্কৃতি ছড়িয়ে দেওয়ার আগে একজন মুমিনের মনে রাখা উচিত কঠিন কিয়ামতের দিনে প্রতিটি শেয়ার, প্রতিটি মন্তব্য এবং প্রতিটি শব্দেরও হিসাব দিতে হবে। মহান আল্লাহ সবাইকে এসব থেকে বিরত থাকার তাওফিক দান করুন। আমিন।

উপকারী জ্ঞান লাভে মহানবী (সা.)-এর শিখানো দোয়া

ইসলামী জীবন ডেস্ক
উপকারী জ্ঞান লাভে মহানবী (সা.)-এর শিখানো দোয়া
সংগৃহীত ছবি

জ্ঞান মানুষের জীবনকে আলোকিত করে, তবে সব জ্ঞান মানুষের জন্য কল্যাণকর নয়। এমন অনেক জ্ঞান রয়েছে যা অহংকার, বিভ্রান্তি বা গুনাহের পথ উন্মুক্ত করে; আবার এমন জ্ঞানও আছে যা মানুষকে আল্লাহর পরিচয় লাভে সাহায্য করে, আমলকে শুদ্ধ করে, চরিত্রকে পরিশীলিত করে এবং দুনিয়া ও আখিরাতের সফলতার পথ দেখায়। তাই ইসলামে উপকারী জ্ঞান অর্জনের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।

মহানবী (সা.) নিজেই আল্লাহর কাছে এমন জ্ঞানের জন্য দোয়া করতেন, যা মানুষের ঈমান, আমল ও নৈতিকতাকে সমৃদ্ধ করে এবং আল্লাহর নৈকট্য অর্জনে সহায়ক হয়। একই সঙ্গে তিনি এমন জ্ঞান থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করতেন, যা মানুষের কোনো উপকারে আসে না।  তাই একজন মুমিনের প্রতিদিনের প্রার্থনার অন্যতম অংশ হওয়া উচিত—আল্লাহর কাছে উপকারী জ্ঞান, কবুলযোগ্য আমল এবং কল্যাণময় জীবন কামনা করা। এই বিষয়ে সবচেয়ে প্রসিদ্ধ ও সহজ একটি দোয়াটি হলো—

اَللّٰهُمَّ اِنِّيْ اَسْأَلُكَ عِلْمًا نَافِعًا، وَرِزْقًا طَيِّبًا، وَعَمَلًا مُتَقَبَّلًا

উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকা ইলমান নাফিআ, ওয়া রিজক্বান ত্বইয়্যিবা, ওয়া আমালান মুতাক্বাব্বালা। 
অর্থ : ‘হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট উপকারী জ্ঞান, উত্তম রিজিক এবং কবুলযোগ্য আমল প্রার্থনা করি।’

হাদিস : উম্মে সালামা (রা.)-থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, মহানবী (সা.) প্রতিদিন ফজরের নামাজের পর নিয়মিত এই দোয়াটি পাঠ করতেন। (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ৯২৫, মুসনাদে আহমাদ, হাদিস : ২৬৬০২)


 

আল্লাহ সম্পর্কে যেসব ধারণা পোষণ করা সম্পূর্ণ অনুচিত

ইসলামী জীবন ডেস্ক
আল্লাহ সম্পর্কে যেসব ধারণা পোষণ করা সম্পূর্ণ অনুচিত
সংগৃহীত ছবি

আল্লাহ সম্পর্কে কুধারণা একটি অত্যন্ত মারাত্মক আধ্যাত্মিক ব্যাধি। ইসলামে এটি কবিরা গুনাহ (মহাপাপ) হিসেবে বিবেচিত। এটি মানুষের ঈমানকে দুর্বল করে, আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ করে এবং তাঁর প্রতি অবিশ্বাসের মনোভাব সৃষ্টি করে। আল্লাহ সম্পর্কে কুধারণা কী?

আল্লাহ সম্পর্কে কুধারণার অর্থ হলো সন্দেহ, অবিশ্বাস ও নেতিবাচক ধারণা পোষণ করা। ইসলামের পরিভাষায়, যিনি বিশ্বাস ও আস্থার যোগ্য, তাঁর প্রতি আস্থা না রাখা বা তাঁর সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা পোষণ করাই কুধারণা। আর আল্লাহ সম্পর্কে কুধারণা বলতে বোঝায়- এটা মনে করা যে আল্লাহ তাঁর দ্বিনকে সাহায্য করবেন না, আল্লাহ তাঁর বাণীকে বিজয়ী করবেন না, আল্লাহ বান্দার সব বিষয়ে যথেষ্ট নন, আল্লাহ তাকে ক্ষমা করবেন না বা দয়া করবেন না। (নাউজুবিল্লাহ)
এসব আল্লাহর প্রতি মারাত্মক কুধারণা, যা মানুষের ওপর আল্লাহর অসন্তোষ ও অভিশাপ ডেকে আনে। এর বিপরীত হলো আল্লাহ সম্পর্কে সুধারণা রাখা ঈমানি দায়িত্ব। অর্থাৎ মহান আল্লাহ তাঁর সাহায্য, ক্ষমা, রহমত ও বিজয়ের প্রতিশ্রুতি যে দিয়েছেন, সে ব্যাপারে দৃঢ়বিশ্বাস রাখা। কাজেই যে ব্যক্তি মনে করে যে মিথ্যা ও বাতিল চিরকাল সত্যের ওপর বিজয়ী থাকবে, সে প্রকৃতপক্ষে আল্লাহ সম্পর্কে কুধারণা পোষণ করে।

প্রখ্যাত আলেম ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম (রহ.) তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ ‘জাদুল মাআদ’-এ আল্লাহ সম্পর্কে কুধারণার বহু দৃষ্টান্ত উল্লেখ করেছেন। সেখান থেকে আমাদের সময় ও প্রসঙ্গের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কয়েকটি বিষয় নিচে তুলে ধরা হলো- ইবনুল কাইয়্যিম (রহ.) বলেন, বেশির ভাগ মানুষই আল্লাহ সম্পর্কে যথার্থ ধারণা পোষণ করে না। তারা নিজেদের ব্যাপারে এবং অন্যদের ব্যাপারে আল্লাহর ফয়সালা সম্পর্কে কুধারণা করে। এ থেকে শুধু সেই ব্যক্তি মুক্ত থাকতে পারে, যে আল্লাহকে, তাঁর নামসমূহ, গুণাবলি এবং তাঁর অসীম প্রজ্ঞাকে যথাযথভাবে চিনেছে।’ এরপর তিনি বলেন-

১. আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হওয়া : যে ব্যক্তি আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ে যায় এবং তাঁর অনুগ্রহের আশা ছেড়ে দেয়, সে আল্লাহ সম্পর্কে কুধারণা করেছে।

২. মনে করা যে সত্য কখনো বিজয়ী হবে না : যে ব্যক্তি বিশ্বাস করে-আল্লাহ সত্যকে সাহায্য করবেন না, তাঁর দ্বিনকে পূর্ণতা দেবেন না, তাঁর প্রিয় বান্দাদের বিজয় দেবেন না, বরং বাতিলই স্থায়ীভাবে বিজয়ী থাকবে, সে আল্লাহর মহিমা, প্রজ্ঞা, শক্তি ও পরিপূর্ণতার পরিপন্থী ধারণা পোষণ করেছে।

৩. আল্লাহর ফয়সালার পেছনে প্রজ্ঞা অস্বীকার করা : যে ব্যক্তি মনে করে পৃথিবীতে যা কিছু ঘটে, তা আল্লাহর তাকদির অনুযায়ী নয়, অথবা আল্লাহ কোনো গভীর প্রজ্ঞা ছাড়াই সব কিছু নির্ধারণ করেছেন, সে আল্লাহর রবুবিয়‍্যাত, সার্বভৌমত্ব ও অসীম প্রজ্ঞাকে অস্বীকার করেছে।

৪. মনে করা যে আল্লাহ নেককার ও পাপীকে সমানভাবে শাস্তি দেবেন : যে ব্যক্তি মনে করে, আল্লাহ তাঁর একনিষ্ঠ ও সৎ বান্দাদেরও শত্রুদের মতো একইভাবে শাস্তি দেবেন, সে আল্লাহ সম্পর্কে মারাত্মক কুধারণা করেছে।

৫. আখিরাত ও পুনরুত্থান অস্বীকার করা : যে ব্যক্তি বিশ্বাস করে না যে আল্লাহ মৃত্যুর পর সব মানুষকে পুনরুত্থিত করবেন, সৎকর্মশীলকে পুরস্কৃত করবেন, পাপীকে শাস্তি দেবেন এবং মানুষের সব মতভেদ ও সত্য-মিথ্যার ফয়সালা করবেন, সে আল্লাহ সম্পর্কে কুধারণা করেছে।

৬. মনে করা যে আল্লাহ নেক আমল নষ্ট করে দেবেন : যে ব্যক্তি মনে করে যে আল্লাহ তাঁর সন্তুষ্টির জন্য করা আন্তরিক নেক আমল বিনা কারণে নষ্ট করে দেবেন, অথবা সারা জীবন ইবাদতকারীকে শাস্তি দেবেন, আর যারা সারা জীবন আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের বিরোধিতা করেছে, তাদের সর্বোচ্চ মর্যাদা দান করবেন, সে আল্লাহ সম্পর্কে কুধারণা করেছে।

৭. দোয়া ও তাওয়াক্কুলের পরও আল্লাহ সাড়া দেবেন না, এমন ধারণা করা : যে ব্যক্তি আন্তরিকভাবে আল্লাহর কাছে চায়, তাঁর ওপর ভরসা করে, সাহায্য প্রার্থনা করে; তার পরও মনে করে আল্লাহ তাকে নিরাশ করবেন এবং তার দোয়া কবুল করবেন না, সে আল্লাহ সম্পর্কে কুধারণা করেছে।

৮. আল্লাহকে অসন্তুষ্ট করার পর অন্য কারো ওপর ভরসা করা : যে ব্যক্তি আল্লাহকে অসন্তুষ্ট করার পর কোনো ফেরেশতা, জীবিত বা মৃত মানুষ কিংবা অন্য কাউকে আল্লাহর পরিবর্তে আশ্রয় মনে করে এবং বিশ্বাস করে যে তারা তাকে আল্লাহর শাস্তি থেকে রক্ষা করবে, সে আল্লাহ সম্পর্কে কুধারণা করেছে। এ ধরনের বিশ্বাস মানুষকে আল্লাহ থেকে আরো দূরে সরিয়ে দেয় এবং তার শাস্তি বৃদ্ধি করে।

এক মিনিটে আপনি যেসব মহামূল্যবান আমল করতে পারেন

ইসলামী জীবন ডেস্ক
এক মিনিটে আপনি যেসব মহামূল্যবান আমল করতে পারেন
সংগৃহীত ছবি

সময় মানুষের জীবন। সময়কে কখনো অপচয় হতে বা অকাজে নষ্ট হতে দেয়ার মতো নয়। প্রজ্ঞাবান ও বুদ্ধিমান সেই ব্যক্তি যে তার সময়ের সদ্ব্যবহার করে। তাই বুদ্ধিমান ব্যক্তি সময়কে অহেতুক কাজে বা অর্বাচীন কথায় ব্যয় করে না। বরং তিনি সময়কে প্রশংসনীয় উদ্যোগ ও ভালো কাজের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখেন। যে কাজ আল্লাহকে সন্তুষ্ট করে এবং মানুষের উপকার বয়ে আনে। জীবনের প্রতিটি মিনিটে আপনি একটি করে প্রস্তর স্থাপন করতে পারেন যা আপনার মর্যাদার ভবনকে উচ্চকিত করবে এবং যা দিয়ে আপনার জাতি সৌভাগ্যমণ্ডিত হতে পারবে। 

 আপনি যদি মর্যাদার শিখরে পৌঁছাতে চান এবং আপন জাতিকে সৌভাগ্যমণ্ডিত করতে চান তবে আরাম-আয়েশকে না-বলুন এবং অনর্থক কথা ও কাজ পরিহার করুন।

 এক মিনিট সময়ের মাঝে অনেক ভালো কাজ করা যেতে পারে এবং বিশাল সওয়াব পাওয়া যেতে পারে। শুধু আপনার জীবনের এক মিনিট সময় ব্যয় করে আপনি আপনার দানের পরিধি বাড়াতে পারেন, কোনো কিছু উপলব্ধি করতে পারেন, কোনো কিছু মুখস্থ করতে পারেন, যে কোনো নেককাজ করতে পারেন। শুধু এক মিনিটেই আপনার ভালো কাজের আমলনামায় এই আমলগুলো লেখা হয়ে যাবে যদি আপনি জানেন কিভাবে এক মিনিট সময়কে কাজে লাগাতে হয় এবং বাস্তবে কাজে লাগান। কবি বলেন, ‘প্রতিটি মিনিটে বৃহত্তর কল্যাণে প্রবৃত্ত হও। যদি তুমি এক মিনিটকে ভুলে যাও তবে এর চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ও ভুলে যাবে; বরঞ্চ বাস্তবতাকে ভুলে যাবে।’ এক মিনিটে আপনি যেসব মহামূল্যবান আমল করতে পারেন নিম্নে এর কিছু বাস্তব নমুনা পেশ করা হলো—

১. এক মিনিটে আপনি সুরা ফাতিহা মনে মনে দ্রুতগতিতে ৩ বার পড়তে পারেন। কেউ কেউ হিসাব কষে দেখিয়েছেন একবার সুরা ফাতিহা পড়লে ৬০০টিরও বেশি নেকি পাওয়া যায়। তাই আপনি যদি তিনবার সুরা ফাতিহা পাঠ করেন তবে আল্লাহ্‌র ইচ্ছায় ১৮০০-র বেশি নেকি হাসিল করবেন। এত নেকী আপনি এক মিনিটেই পাচ্ছেন।

 ২. এক মিনিটে আপনি সুরা ইখলাস (কুল হুওয়াল্লাহু আহাদ) মনে মনে দ্রুতগতিতে ২০ বার পড়তে পারেন। এই সুরা একবার পাঠ করলে কোরআন শরিফের এক তৃতীয়াংশ পড়ার সমান সওয়াব পাওয়া যায়। তাই আপনি যদি এ সুরাটি ২০ বার পাঠ করেন তবে তা ৭ বার কোরআন পড়ার সমতুল্য। অতএব আপনি যদি এ সূরাটি প্রতিদিন এক মিনিটে ২০ বার পাঠ করেন তবে মাসে আপনার ৬০০ বার পাঠ করা হয় এবং বছরে ৭২০০ বার পাঠ করা হয়। যার সওয়াব ২৪০০ বার সম্পূর্ণ কোরআন পড়ার সমতুল্য।

৩. এক মিনিটে আপনি আল্লাহর কিতাবের এক পৃষ্ঠা পাঠ করতে পারেন।

৪. এক মিনিটে আপনি কোরআনের ছোট একটি আয়াত মুখস্থ করতে পারেন।

৫. এক মিনিটে আপনি নিম্নোক্ত দোয়াটি ২০ বার পড়তে পারেন।

لَا إِلَهَ إِلا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ

এর সওয়াব ইসমাঈল (আ.) এর বংশের ৮ জন দাসকে আল্লাহর ওয়াস্তে মুক্ত করার সমান।

৬. এক মিনিটে আপনি  سُبْحَانَ اللَّهِ وَبِحَمْدِه  ১০০ বার পড়তে  পারেন। যে ব্যক্তি একদিনে এই দোয়াটি ১০০ বার পড়ে তার সমস্ত গুনাহ মাফ করে দেয়া হয়; যদিও তা সমুদ্রের ফেনার সমান হয় না কেন।  

৭. এক মিনিটে আপনি  سُبْحَانَ اللهِ وَبِحَمْدِهِ سُبْحَانَ اللهِ الْعَظِيمِ  ৫০ বার পড়তে পারেন। এ দুটি এমন বাক্য যা পড়তে খুব সহজ; আমলের পাল্লাতে অনেক ভারী হবে; রহমানের নিকটে অতি প্রিয়; যেমনটি বর্ণনা করেছেন ইমাম বুখারি ও ইমাম মুসলিম (রহ.)।

৮. মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘সুব্‌হানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ, আল্লাহু আক্‌বার পাঠ করা যা কিছুর উপর সূর্য উদিত হয়েছে সবকিছু থেকে আমার নিকট অধিক প্রিয়।’ (হাদিসটি বর্ণনা করেছেন মুসলিম, ২৬৯৫)

আপনি এক মিনিটে বাক্যগুলো ১৮ বারের বেশি পড়তে পারেন। এ বাক্যগুলো আল্লাহর নিকট সবচেয়ে প্রিয়। এগুলো সর্বোত্তম কথা এবং আমলের পাল্লাতে এগুলোর ওজন অনেক বেশি হবে। যেমনটি এ মর্মে বর্ণিত সহিহ হাদিসসমূহে এসেছে ।

৯. এক মিনিটে আপনি  لَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ  (অর্থ, কোনো উপায়-সামর্থ্য নেই, কোনো শক্তি নেই আল্লাহ ছাড়া) ৪০ বারের বেশি পড়তে পারেন। এ বাক্যটির সওয়াব জান্নাতের জন্য সঞ্চিত অমূল্য রত্ন; যেমনটি বর্ণিত হয়েছে সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিমে। একই ভাবে এটি কষ্টসাধ্য দায়িত্ব বহন ও কঠিন কাজসমূহ আঞ্জাম দেয়ার ক্ষেত্রে এক মহৌষধ।

১০. এক মিনিটে আপনি  لاَ إِلَهَ إِلاَّ الله  (অর্থ : আল্লাহ ছাড়া সত্য কোনো উপাস্য নেই) প্রায় ৫০ বার পড়তে পারেন। এটি সর্বশ্রেষ্ঠ বাক্য ও তাওহিদের বাণী। এটি কালিমায়ে তাইয়্যেবা (উত্তম বাণী) ও সুদৃঢ় বাক্য। যে ব্যক্তির শেষ কথা হবে এই বাক্য তিনি জান্নাতে প্রবেশ করবেন। এ ছাড়াও এর ফজিলত ও মর্যাদার ব্যাপারে আরো অনেক বর্ণনা রয়েছে। 

১১. এক মিনিটে আপনি  سُبْحَانَ اللَّهِ وَبِحَمْدِهِ عَدَدَ خَلْقِهِ، وَرِضَى نَفْسِهِ، وَزِنَةَ عَرْشِهِ، وَمِدَادَ كَلِمَاتِهِ  (আল্লাহর পবিত্রতা ও প্রশংসা তাঁর সৃষ্টিকুলের সংখ্যার সমান, তাঁর সন্তুষ্টির সমান, তাঁর আরশের ওজনের সমান, তাঁর বাক্যমালার কালির সমান) এ দোয়াটি ১৫ বারের বেশি পড়তে পারেন। সাধারণ তাসবিহ ও জিকিরের চেয়ে এ বাক্যগুলো পাঠ করার সওয়াব অনেকগুণ বেশি যেমনটি মহানবী (সা.)  থেকে সহিহ হাদিসে সাব্যস্ত হয়েছে।

১২. এক মিনিটে আপনি আল্লাহর কাছে ১০০ বারের বেশি ইস্তিগফার বা ক্ষমা প্রার্থনা করতে পারেন তথা  أَسْتَغْفِرُ اللَّهَ  পড়তে পারেন। এর ফজিলত আপনার অজানা নয়। এটি ক্ষমা প্রাপ্তি ও জান্নাতে প্রবেশের উপায়। এটি সুখময় জীবন, শক্তি বৃদ্ধি, বিপদ-আপদ রোধ, সকল কাজ সহজীকরণ, বৃষ্টি বর্ষণ, সম্পদ ও সন্তানের বৃদ্ধি ইত্যাদির মাধ্যম।

১৩. এক মিনিটে আপনি সংক্ষেপে কিছু কথা বলতে পারেন যা দ্বারা আল্লাহ হয়ত এমন কোনো কল্যাণের পথ খুলে দিবেন যা আপনি ভাবতেও পারেননি।

১৪. এক মিনিটে আপনি মহানবী (সা.)-এর উপর ৫০ বার দরূদ পাঠ করতে পারেন। শুধু পড়বেন ‘সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’। এর প্রতিদানে আল্লাহ আপনার উপর ৫০০ বার সালাত (রহমত) পাঠাবেন। কারণ একবার দরুদ পাঠ করলে আল্লাহ ১০ বার এর প্রতিদান দেন।

১৫. এক মিনিটে আপনার মন আল্লাহর কৃতজ্ঞতা, তাঁর ভালবাসা, তাঁর ভয়, তাঁর প্রতি আশা এবং তাঁর প্রেমে উদ্বেল হয়ে উঠতে পারে। এর মাধ্যমে আপনি উবূদিয়্যাহ্‌ (আল্লাহর দাসত্ব) এর স্তরসমূহ অতিক্রম করতে পারেন; হতে পারে সে সময় আপনি হয়ত আপনার বিছানায় শুয়ে আছেন অথবা কোনো পথ ধরে হেঁটে যাচ্ছেন।

১৬. এক মিনিটে আপনি সহজবোধ্য উপকারী কোনো বইয়ের দুই পৃষ্ঠার বেশি পড়তে পারেন।

১৭. এক মিনিটের টেলিফোন যোগাযোগের মাধ্যমে আপনি ‘সিলাতুর রাহেম’ বা আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষার আমল পালন করতে পারেন।

১৮. এক মিনিটে আপনি দুই হাত তুলে ব্যাপক অর্থবোধক দোয়াগুলো হতে পছন্দমতো যে কোনো দোয়া করতে পারেন।

১৯. এক মিনিটে আপনি কয়েকজন ব্যক্তিকে সালাম দিতে পারেন ও তাদের সাথে মুসাফাহা করতে পারেন।

২০. এক মিনিটে আপনি কোনো ব্যক্তিকে একটি মন্দ কাজ থেকে নিষেধ করতে পারেন।   

২১. এক মিনিটে আপনি একটি ভালো কাজের আদেশ করতে পারেন।

২২. এক মিনিটে আপনি একজন ভাইকে নসিহত করতে পারেন।

২৩. এক মিনিটে আপনি একজন দুশ্চিন্তাগ্রস্ত মানুষকে সান্ত্বনা দিতে পারেন।

২৪. এক মিনিটে আপনি পথ থেকে ক্ষতিকর কোনো বস্তু অপসারণ করতে পারেন। 

২৫. এই এক মিনিটের সদ্ব্যবহার অবহেলায় কাটানো বাকি সময়গুলোর সদ্ব্যবহার করার অনুপ্রেরণা হিসাবে কাজ করতে পারে।

ইমাম শাফেয়ী রাহিমাহুল্লাহ বলেন, ‘যখন ঘুমন্ত লোকেরা ঘুমিয়ে থাকে তখন আমি আমার চোখের অশ্রু ফেলি এবং শ্রেষ্ঠ কবিতার একটি চরণ বারবার আওড়াতে থাকি। কোনো জ্ঞান অর্জন ছাড়া রাতগুলো কেটে যাবে এবং আমার জীবন থেকে হিসাব করা হবে—এটি কি সময়ের অপব্যয় নয়?’ পরিশেষে জানুন আপনার ইখলাস (একনিষ্ঠতা) ও আল্লাহর নজরদারির অনুভূতির ভিত্তিতে আপনার প্রতিদান বাড়বে, আপনার নেকীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে। 

জেনে রাখুন, এই আমলগুলোর বেশিরভাগের ক্ষেত্রেই আপনাকে তেমন কিছু করতে হবে না। এগুলোর জন্য আপনার পবিত্রতার প্রয়োজন নেই, ক্লান্তি বা কায়িক শ্রম নেই। বরং আপনি এ আমলগুলো করতে পারেন যখন আপনি পায়ে হেঁটে চলছেন অথবা গাড়িতে চড়ে কোথাও যাচ্ছেন অথবা শুয়ে আছেন অথবা দাঁড়িয়ে আছেন অথবা বসে আছেন অথবা কারো জন্য অপেক্ষা করছেন।

একই ভাবে এ আমলগুলো সুখী হওয়ার উপকরণ, আত্মপ্রশান্তির মাধ্যম, চিন্তা ও দুঃশ্চিন্তা দূর করার উপায়। আল্লাহ আমাদেরকে ও আপনাদেরকে তাঁর সন্তুষ্টি অর্জন করার তাওফিক দিন। আমাদের নবীর প্রতি আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।

ড. মুহাম্মদ বিন ইব্রাহিম আল-হামাদ প্রণীত ‘এক মিনিটকে কাজে লাগানোর সর্বোত্তম উপায়’ শীর্ষক লিফলেট থেকে সংকলিত।
সূত্র :  শাইখ মুহাম্মদ সালেহ আল-মুনাজ্জিদ