• ই-পেপার

আজকের নামাজের সময়সূচি, ৭ জুন ২০২৬

বিপদের সময় যেসব দোয়া পড়বেন

ইসলামী জীবন ডেস্ক
বিপদের সময় যেসব দোয়া পড়বেন
সংগৃহীত ছবি

জীবনে চলার পথে মানুষ নানা বিপদ-আপদের সম্মুখীন হয় । এতে ধৈর্য ধারণ ও আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা মুমিনের কর্তব্য। কেননা আল্লাহই আমাদের চূড়ান্ত ভরসাস্থল। তাইতো কোরআনে আল্লাহ তাআলা ধৈর্য ও সালাতের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা করতে বলেছেন। আল্লাহ বলেন, ‘আর তোমরা ধৈর্য ও সালাতের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা করো। নিশ্চয় তা বিনয়ী ছাড়া অন্যদের ওপর কঠিন। (সুরা : বাকারা, আয়াত : ৪৫)

মহানবী (সা.) যখনই কোনো বিপদের আভাস পেতেন তখনই তিনি নামাজ ও দোয়ায় মশগুল হয়ে পড়তেন। একাধিক সহিহ হাদিসে মহানবী (সা.)-এর এই অভ্যাসের কথা বর্ণিত হয়েছে। সাহাবি হুজাইফা (রা.) বলেন, মহানবী (সা.) কঠিন সমস্যার সম্মুখীন হলে নামাজে দাঁড়িয়ে যেতেন। (আবু দাউদ, হাদিস নং : ১৩১৯)

তাই বিপদ-আপদে একজন মুমিনের সর্বত্তোম করনীয় হলো-বিপদ থেকে উত্তরণের বিভিন্ন উপায় অবলম্বনের পাশাপাশি হাদিসে বর্ণিত দোয়াগুলোতে অভ্যস্থ হওয়া। কেননা দোয়াই হলো মুমিনের শ্রেষ্ঠ হাতিয়ার। বিপদের সময় পঠিতব্য কিছু দোয়া হলো-

১. বিপদে সহজতার দোয়া

اللَّهمَّ لا سَهْلَ إلَّا ما جعَلْتَه سَهلًا وأنتَ تجعَلُ الحَزْنَ سَهلًا إذا شِئْتَ 

উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা লা সাহলা ইল্লা মা জাআলতাহু সাহলা, ওয়া আন্তা তাজআলুল হাজানা সহলান ইজা শিতা।

অর্থ : হে আল্লাহ, আপনি যা সহজ করেন, তা ছাড়া কিছুই সহজ নয়। আপনি চাইলে কঠিন বিপদকেও সহজ করতে পারেন। (সহিহ ইবনে হিব্বান, হাদিস নং : ৯৭৪)


২. বিপদে আল্লাহকে সঙ্গি বানানোর দোয়া

حَسۡبِیَ اللّٰهُ لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا هُوَ عَلَیۡهِ تَوَکَّلۡتُ وَ هُوَ رَبُّ الۡعَرۡشِ الۡعَظِیۡمِ 

উচ্চারণ : ‘হাসবিয়াল্লাহু লা ইলাহা ইল্লা হুয়া, আলাইহি তাওয়াক্কালতু, ওয়া হুয়া রাব্বুল আরশিল আজিম।

অর্থ : আমার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট, তিনি ছাড়া কোন ইলাহ নেই। আমি তাঁরই ওপর ভরসা করেছি আর তিনিই আরশের রব। (সুরা : তাওবা, আয়াত : ১২৯)


৩. বিপদে আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করে দোয়া

يَا حَيُّ يَا قَيُّومُ بِرَحْمَتِكَ أَسْتَغِيثُ، وأَصْلِحْ لي شَأْنِي كُلَّهُ وَلَا تَكِلْنِي إِلَى نَفْسِي طَرْفَةَ عَيْنٍ أبدا 

উচ্চারণ : ইয়া হাইয়ু ইয়া কাইয়ুমু, বিরাহমতিক আস্তাগিস, ওয়া আসলিহ লি শাআনি কুল্লাহু, ওয়ালা তাকিলনি ইলা নাফসি তরফাতা আইনিন আবাদা।

অর্থ : হে চিরস্থায়ী, সব কিছুর ধারক ও রক্ষাকর্তা! আমি আপনার করুণার মাধ্যমে সাহায্য চাই; আমার সব সমস্যা মিটিয়ে দিন এবং এক পলকের জন্যও আমার ভার আমার নিজের ওপর দেবেন না।’ (সুনানে নাসায়ি, হাদিস নং : ১০৪০৫)

জীবিতদের দোয়া মৃতদের উপকারে আসে

ইসলামী জীবন ডেস্ক
জীবিতদের দোয়া মৃতদের উপকারে আসে
সংগৃহীত ছবি

জীবিতদের দোয়া মৃতদের উপকারে আসে, এ কথা কোরআন ও হাদিস দ্বারা প্রমাণিত এবং এটি আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াতের আকিদা ও বিশ্বাস। এ বিষয়ে পবিত্র কোরআনে এসেছে, আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘(আর এই সম্পদ তাদের জন্য) যারা তাদের পরে এসেছে। যারা বলে, হে আমাদের পালনকর্তা! আমাদের এবং আমাদের ভাইদের ক্ষমা করো, যারা আমাদের আগে ঈমান এনেছে। আর ঈমানদারদের বিরুদ্ধে আমাদের অন্তরে কোনো বিদ্বেষ রেখো না। হে আমাদের রব! নিশ্চয়ই তুমি স্নেহশীল ও পরম দয়ালু।’ (সুরা : হাশর, আয়াত : ১০)

এখানে পূর্ববর্তী মুমিনদের জন্য (যাতে জীবিত ও মৃত সবাই আছেন) দোয়া করার প্রশংসা করা হয়েছে।

এ ছাড়া ইবরাহিম (আ.) ও নুহ (আ.) তাঁদের পিতা-মাতা ও মৃত-জীবিত সব মুমিনের জন্য দোয়া করেছেন। (সুরা : ইবরাহিম, আয়াত : ৪১; সুরা নুহ, আয়াত : ২৮)

আল্লাহ তাআলা বিশ্বনবী মুহাম্মদ (সা.)-কে সব নর-নারীর জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করার আদেশ করেছেন। আল্লাহ বলেন, ‘অতএব তুমি জেনে রাখো যে আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই। আর তুমি ক্ষমা প্রার্থনা করো তোমার ও মুমিন নর-নারীদের জন্য। বস্তুত আল্লাহ ভালোভাবেই জানেন তোমাদের চলাফেরা ও আশ্রয় সম্পর্কে।’ (সুরা : মুহাম্মাদ, আয়াত : ১৯)

আসমানের ফেরেশতারাও সব মুমিন নর-নারীর জন্য ক্ষমা প্রাথর্না করে, যা জীবিত-মৃত সবাইকে শামিল করে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘যারা আরশ বহন করে এবং যারা তার চারপাশে আছে, তারা তাদের পালনকর্তার প্রশংসাসহ পবিত্রতা ঘোষণা করে ও তাঁর প্রতি ঈমান রাখে। আর তারা মুমিনদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে বলে, হে আমাদের রব! তোমার অনুগ্রহ ও জ্ঞান সবকিছুতে পরিব্যাপ্ত। অতএব যারা তওবা করে ও তোমার রাস্তায় চলে তাদের তুমি ক্ষমা করো এবং জাহান্নামের আজাব থেকে রক্ষা করো! হে আমাদের প্রতিপালক! আর তাদের তুমি প্রবেশ করাও চিরস্থায়ী বসবাসের জান্নাত, যার প্রতিশ্রুতি তুমি তাদের দিয়েছ।

আর তাদের বাপ-দাদা, স্বামী-স্ত্রী ও সন্তান-সন্ততিদের মধ্যে যারা সৎকর্ম করেছে তাদেরও। নিশ্চয়ই তুমি তো পরাক্রমশালী ও প্রজ্ঞাময় এবং তুমি তাদের মন্দ কাজ থেকে রক্ষা করো। আর যাকে তুমি মন্দ কাজ থেকে রক্ষা করলে তাকে তো তুমি কিয়ামতের দিন (জান্নাতে প্রবেশ করানোর মাধ্যমে) অনুগ্রহ করলে। আর সেটাই হলো মহা সফলতা।’ (সুরা : গাফের, আয়াত : ৭-৯)
এ দোয়াগুলোতে জীবিত-মৃত সব মুমিনের জন্য দোয়া করা হয়েছে।

দোয়া মৃতের পক্ষে কল্যাণকর হওয়ার সবচেয়ে বড় দলিল হলো জানাজার সালাত। জানাজার সালাত মূলত দোয়া। জানাজার সালাতে আল্লাহর রাসুল (সা.) যেসব দোয়া করতেন সেগুলো থেকেই তা পরিষ্কার। এ জন্য নিষ্ঠার সঙ্গে দোয়া করা একান্ত জরুরি। রাসুলুল্লাহ (সা.) মাইয়েতের জন্য নিষ্ঠার সঙ্গে প্রার্থনা করতে বলেছেন। তিনি বলেন, ‘তোমরা যখন মাইয়েতের জন্য জানাজার সালাত আদায় করবে তখন তার জন্য নিষ্ঠার সঙ্গে দোয়া করবে।’ (আবু দাউদ, হাদিস : ৩১৯৯)

ওসমান বিন আফফান (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করিম (সা.) মৃতের দাফনকার্য সম্পন্ন করে কবরের পাশে দাঁড়িয়ে বলতেন, ‘তোমরা তোমাদের ভাইয়ের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করো এবং তার দৃঢ় থাকার জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করো। কেননা সত্বর সে জিজ্ঞাসিত হবে।’ (আবু দাউদ, হাদিস : ৩২২১)

কবর জিয়ারতকালীন কবরস্থ ব্যক্তিদের জন্য দোয়া করা যায়। আয়েশা (রা.) বললেন, হে আল্লাহর রাসুল (সা.), আমি কিভাবে তাদের জন্য দোয়া করব? তিনি বলেন, তুমি বলবে—‘আস্সালা-মুআলা আহলিদ দিয়া-রি মিনাল মুমিনিনা ওয়াল মুসলিমিনা; ওয়া ইয়ারহামুল্লা-হুল মুস্তাক্বদিমিনা মিন্না ওয়াল মুস্তাখিরিনা; ওয়া ইন্না ইনশা-আল্লা-হু বিকুম লাহেকুন।’

অনুবাদ : ‘মুমিন ও মুসলিম কবরবাসীর ওপর শান্তি বর্ষিত হোক। আমাদের অগ্রবর্তী ও পরবর্তীদের ওপর আল্লাহ রহম করুন! আল্লাহ চাহে তো আমরা অবশ্যই আপনাদের সঙ্গে মিলিত হতে যাচ্ছি।’ (নাসাঈ, হাদিস : ২০৩৭; মুসলিম, হাদিস : ২১৪৬)

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর অভ্যাস ছিল, তিনি শেষ রাতে উঠে জান্নাতুল বাকি কবরস্থানে চলে যেতেন এবং দোয়া করতেন। (দেখুন—সহিহ মুসলিম, হাদিস : ২১৪৫)

উপরোক্ত আয়াত ও হাদিসগুলো থেকে স্পষ্ট হয়ে গেল যে দোয়া জীবিত ও মৃত সবার জন্য কল্যাণকর। দোয়া করলে এর দ্বারা মৃতরাও উপকৃত হয়।

আল্লাহ যেভাবে কল্যাণের ফয়সালা করেন

ইসলামী জীবন ডেস্ক
আল্লাহ যেভাবে কল্যাণের ফয়সালা করেন
সংগৃহীত ছবি

মানুষের জীবনে চাওয়া-পাওয়া, আশা-নিরাশা, সফলতা-ব্যর্থতা—এসব যেন একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। মানুষ যখন কাঙ্ক্ষিত কোনো কিছু অর্জন করে তখন সেটাকে আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ মনে করে।

আবার যখন কোনো স্বপ্ন ভেঙে যায়, প্রার্থিত কোনো সুযোগ হাতছাড়া হয় কিংবা জীবনের পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়ে পড়ে, তখন অনেকেই মনে করেন আল্লাহ হয়তো তার প্রতি অসন্তুষ্ট। অথচ একজন মুমিনের দৃষ্টিভঙ্গি ভিন্ন। সে বিশ্বাস করে, তার জীবনের প্রতিটি ঘটনা আল্লাহর জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও রহমতের অধীনেই সংঘটিত হয়। কারণ আল্লাহ তাআলা বান্দার বর্তমান নয়, তার অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ—সবকিছু জানেন।

তাই অনেক সময় যে বিষয়টিকে আমরা ক্ষতি মনে করি, তার মধ্যেই লুকিয়ে থাকে অমূল্য কল্যাণ; আর যেটিকে আমরা লাভ মনে করি, সেটিই কখনো কখনো হয়ে ওঠে বড় ক্ষতির কারণ। মুমিনের দায়িত্ব হলো আল্লাহর সিদ্ধান্তের ওপর ভরসা রাখা এবং প্রতিটি অবস্থায় তাঁর হিকমতের প্রতি আস্থা রাখা।

সবকিছুর পেছনে রয়েছে আল্লাহর অসীম প্রজ্ঞা
আল্লাহ তাআলা মানুষের স্রষ্টা। তিনি মানুষের অন্তরের অবস্থা, প্রয়োজন, দুর্বলতা এবং ভবিষ্যৎ পরিণতি সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ জ্ঞান রাখেন। তাই তিনি যা ফয়সালা করেন, তা বান্দার প্রকৃত কল্যাণের জন্যই করেন। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, ‘হতে পারে তোমরা কোনো বিষয়কে অপছন্দ করছ, অথচ তা তোমাদের জন্য কল্যাণকর। আর হতে পারে তোমরা কোনো বিষয়কে ভালো মনে করছ, অথচ তা তোমাদের জন্য অকল্যাণকর। আল্লাহ জানেন, তোমরা জানো না।’
(সুরা : বাকারা, আয়াত : ২১৬)
এই আয়াত আমাদের শেখায়, মানুষের বিচার সীমাবদ্ধ; কিন্তু আল্লাহর জ্ঞান অসীম। আমরা শুধু বাহ্যিক অবস্থা দেখি, কিন্তু আল্লাহ দেখেন তার সুদূরপ্রসারী ফলাফল।

ব্যর্থতা সব সময় প্রত্যাখ্যান নয়
মানুষ সাধারণত ব্যর্থতাকে জীবনের সমাপ্তি মনে করে। কিন্তু ইসলামের শিক্ষা হলো, প্রতিটি ব্যর্থতার আড়ালেও আল্লাহর কোনো না কোনো হিকমত লুকিয়ে থাকে। কখনো আল্লাহ বান্দাকে এমন একটি পথ থেকে ফিরিয়ে দেন, যার শেষপ্রান্তে রয়েছে বিপদ, কষ্ট, গুনাহ কিংবা ধ্বংস। আমরা শুধু বন্ধ হয়ে যাওয়া দরজাটি দেখি, কিন্তু আল্লাহ জানেন সেই দরজার ওপারে কী অপেক্ষা করছে। হয়তো যে চাকরিটি আপনি পাননি, সেটি আপনার দ্বিন, পরিবার কিংবা মানসিক প্রশান্তির জন্য ক্ষতিকর ছিল। হয়তো যে সম্পর্কটি ভেঙে গেছে, সেটি ভবিষ্যতে আপনার জীবনের সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষার কারণ হতে পারত। হয়তো যে ব্যবসাটি সফল হয়নি, তার মধ্যে এমন ক্ষতি লুকিয়ে ছিল, যা থেকে আল্লাহ আপনাকে রক্ষা করতে চেয়েছেন। তাই একজন মুমিন ব্যর্থতার মধ্যেও আল্লাহর রহমত ও কল্যাণের সন্ধান করে।

মুমিনের জীবনে প্রতিটি অবস্থা কল্যাণকর
মহানবী (সা.) মুমিনের জীবন সম্পর্কে এক অসাধারণ সত্য তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, ‘মুমিনের বিষয়টি সত্যিই আশ্চর্য! তার প্রতিটি অবস্থাই কল্যাণকর। যখন সে সুখ পায় তখন আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করে; এতে তার কল্যাণ হয়। আর যখন দুঃখ-কষ্টে আক্রান্ত হয় তখন ধৈর্য ধারণ করে; এতেও তার কল্যাণ হয়।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ২৯৯৯)

এই হাদিস প্রমাণ করে যে মুমিনের জীবনে কোনো ঘটনাই অর্থহীন নয়। সুখ হোক কিংবা দুঃখ—সবকিছু তার জন্য কল্যাণের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

কষ্টের আড়ালে থাকে স্বস্তির বার্তা
জীবনের কঠিন সময়গুলো মানুষকে ভেঙে দেয় না; বরং অনেক সময় তাকে আরো শক্তিশালী, পরিণত ও আল্লাহমুখী করে তোলে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আল্লাহ কোনো ব্যক্তিকে তার সাধ্যের বাইরে দায়িত্ব দেন না।’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ২৮৬)

আল্লাহ তাআলা আরো বলেন, ‘নিশ্চয়ই কষ্টের সঙ্গেই রয়েছে স্বস্ত্তি।’ (সুরা : ইনশিরাহ, আয়াত : ৫-৬)
এই আয়াতগুলো মুমিনকে আশা ও সাহস জোগায়। কারণ আল্লাহ যখন পরীক্ষা দেন, তখন সেই পরীক্ষার মধ্যেই মুক্তির পথও নির্ধারণ করে রাখেন।

তাকদিরের প্রতি বিশ্বাস মুমিনকে প্রশান্তি দেয়
একজন মুমিন বিশ্বাস করে যে পৃথিবীতে যা কিছু ঘটে সবই আল্লাহর পূর্বনির্ধারিত ফয়সালার অংশ। তাই সে হারিয়ে যাওয়া বিষয় নিয়ে অতিরিক্ত আফসোস করে না এবং প্রাপ্ত বিষয় নিয়ে অহংকারও করে না। মহানবী (সা.) ইবনে আব্বাস (রা.)-কে উপদেশ দিয়ে বলেছেন, ‘জেনে রাখো, যা তোমাকে এড়িয়ে গেছে তা কখনো তোমার জন্য নির্ধারিত ছিল না; আর যা তোমার কাছে এসেছে, তা কখনো তোমাকে এড়িয়ে যেতে পারত না।’ (তিরমিজি, হাদিস : ২৫১৬)

এই বিশ্বাস মানুষের হৃদয়ে গভীর প্রশান্তি সৃষ্টি করে এবং তাকে হতাশা থেকে রক্ষা করে।

ব্যর্থতার পর মুমিনের করণীয়
ব্যর্থতার মুখোমুখি হলে একজন মুমিনের উচিত- আল্লাহর সিদ্ধান্তের ওপর সন্তুষ্ট থাকার চেষ্টা করা। ধৈর্য ও সবরের সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবেলা করা। নিজের ভুলত্রুটি ও দুর্বলতাগুলো পর্যালোচনা করা। নতুনভাবে পরিকল্পনা করে আবার চেষ্টা করা। বেশি বেশি দোয়া, ইস্তিগফার ও নফল ইবাদতে মনোযোগ দেওয়া। আল্লাহর রহমত থেকে কখনো নিরাশ না হওয়া। অত্যন্ত দৃঢ়ভাবে এই বিশ্বাস রাখা যে আল্লাহর পরিকল্পনা মানুষের পরিকল্পনার চেয়ে অনেক উত্তম।

সুতরাং জীবনের প্রতিটি ব্যর্থতা হারিয়ে যাওয়ার গল্প নয়; অনেক ব্যর্থতা আসলে রক্ষা পাওয়ার গল্প। যে সুযোগটি আপনি হারিয়েছেন, হয়তো সেটিই আপনার জন্য ক্ষতিকর ছিল। যে স্বপ্নটি পূরণ হয়নি, হয়তো তার চেয়ে উত্তম কিছু আল্লাহ আপনার জন্য সংরক্ষণ করে রেখেছেন। একজন মুমিন জানে, আল্লাহর কোনো ফয়সালাই উদ্দেশ্যহীন নয়। তিনি যখন কিছু দেন, তাতে কল্যাণ থাকে; আবার যখন কিছু থেকে বঞ্চিত করেন তাতেও কল্যাণ লুকিয়ে থাকে। তাই সুখে শুকরিয়া এবং দুঃখে সবর—এই দুই ডানায় ভর করেই মুমিন তার জীবনযাত্রা পরিচালনা করে।

মনে রাখতে হবে, আল্লাহ বান্দার শত্রু নন; তিনি পরম দয়ালু ও সর্বজ্ঞ রব। তাই কোনো দরজা বন্ধ হয়ে গেলে হতাশ না হয়ে তাঁর ওপর ভরসা রাখতে হবে। কারণ অনেক সময় যে ব্যর্থতাকে আমরা দুর্ভাগ্য মনে করি, সেটিই আল্লাহর পক্ষ থেকে আমাদের সঠিক গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার সবচেয়ে নিখুঁত ব্যবস্থা। আর এটাই হলো আল্লাহ যেভাবে তাঁর বান্দার জন্য কল্যাণের ফয়সালা করেন তার এক অনন্য ও হৃদয়স্পর্শী বাস্তবতা।

সামনে দিয়ে বিড়াল হেঁটে যাওয়া কি আসলেই অশুভ? জেনে নিন ইসলাম কী বলে

অনলাইন ডেস্ক
সামনে দিয়ে বিড়াল হেঁটে যাওয়া কি আসলেই অশুভ? জেনে নিন ইসলাম কী বলে
সংগৃহীত ছবি

আমাদের সমাজে বহুল প্রচলিত একটি কুসংস্কার হলো—কোনো ভালো কাজে বের হওয়ার সময় সামনে দিয়ে বিড়াল হেঁটে গেলে বা রাস্তা পার হলে যাত্রা অশুভ হয়। অনেকেই একে অমঙ্গলের লক্ষণ মনে করে কাজ থেকে বিরত থাকেন কিংবা ভিন্ন পথ ধরেন। কিন্তু ঘরের আশেপাশে ঘুরে বেড়ানো নিরীহ এই প্রাণীটিকে ঘিরে এমন ধারণা পোষণ করার কি আদৌ কোনো ভিত্তি আছে ইসলামে? পবিত্র কোরআন ও হাদিসের আলোকে বিড়াল পোষা, এর প্রতি মানবিক আচরণ এবং আমাদের সমাজে প্রচলিত এই ‘অশুভ’ ধারণার আসল সত্যটি জানা প্রতিটি মুসলিমের জন্য অত্যন্ত জরুরি।

ইসলামে বিড়াল পালনের অনুমতি রয়েছে। অনেক সাহাবীও বিড়াল পালতেন। তবে বিড়াল পোষার শর্ত হলো অবশ্যই বিড়ালের যথাযথ যত্ন নিতে হবে এবং তাকে ঠিকমতো খাবার দিতে হবে। কারণ, শুধুমাত্র একটি বিড়ালের প্রতি অন্যায়ের ফলে হাদিসে এক নারীকে কঠিন শাস্তি দেয়ার কথাও এসেছে।

আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে, রাসুল (সা.) বলেছেন- একজন নারীকে একটি বিড়ালের কারণে আযাব দেয়া হয়েছিল। সে বিড়ালটিকে বেঁধে রেখেছিল। পরে ওই অবস্থায় বিড়ালটি মারা যায়। এজন্য ওই নারীর পরিণতি হয় জাহান্নাম। কারণ, সে বিড়ালটিকে দানা-পানি কিছুই দেয়নি এবং ছেড়েও দেয়নি যাতে সে নিজ খুশিমতো জমিনের পোকা-মাকড় খেয়ে বেঁচে থাকত। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৩২৩৬)

আবার পোষা বিড়ালে উচ্ছিষ্টও ইসলামের দৃষ্টিতে নাপাক নয়। আবু কাতাদর পুত্রবধূ কাবশা বিনত কা’ব ইবনু মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে এসেছে, একবার আবু কাতাদা (রা.) তার কাছে এলেন এবং তিনি তার অজুর পানি ঢেলে দিলেন। ওই সময় একটি বিড়াল এসে পানি পান করতে শুরু করল। তখন আবু কাতাদা (রা.) বিড়ালটির জন্য পানির পাত্রটি কাত করে ধরলেন। এতে বিড়ালটি পরিতৃপ্ত হয়ে পানি পান করল। ওই সময় আবু কাতাদা (রা.) তাকে আশ্চর্য হয়ে তাকিয়ে থাকতে দেখে বললেন- হে ভ্রাতুষ্পুত্র, তুমি এতে বিস্ময় প্রকাশ করছ! পরে হ্যাঁ সূচক জবাব দিলে আবু কাতাদা (রা.) বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন- বিড়ালের উচ্ছিষ্ট নাপাক নয়। কারণ, বিড়াল তো তোমাদের আশপাশেই ঘোরাফেরা করে। (সুনান আত তিরমিজি, হাদিস : ৯২)

তবে বিড়াল পোষার ক্ষেত্রে অনুমতি থাকলেও ইসলামে প্রাণিটি কেনা-বেচায় নিষেধ রয়েছে। আবু যুবায়র (রহ.) হতে বর্ণিত একটি হাদিসে এসেছে, একবার আমি জাবির (রা.) এর কাছে কুকুর ও বিড়ালের মূল্য সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। জবাবে তিনি বললেন, নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ ব্যাপারে সাবধান করে দিয়েছেন (অর্থাৎ, কেনা-বেচায় নিষেধ করেছেন)। (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ৩৯০৭)

এ ক্ষেত্রে বাসা-বাড়ির আশপাশে প্রায়সময় বিড়াল ঘুরাফেরা করলেও পোষা এই প্রাণিটিকে ঘিরে একটি কথা প্রায়ই শোনা যায়। অনেকেই বলে থাকেন, কারও সামনে দিয়ে বিড়াল অতিক্রম করলে বা বিড়াল কারও রাস্তা কাটলে অমঙ্গল হয়। কেউ কেউ এমনও বলে থাকেন যে, বিড়াল সামনে দিয়ে যাওয়া একটি অশুভ লক্ষণ। আবার কেউ কেউ কোনো উদ্দেশ্যে বের হওয়ার পর যদি বিড়াল সামনে দিয়ে অতিক্রম করে তবে অমঙ্গলের আশঙ্কায় সেই কাজ থেকে বিরতও থাকেন। আসলেই কি ইসলামি শরিয়তে এমন কিছু আছে?

প্রথমত, অশুভ বা কুলক্ষণে বিশ্বাস করা ইসলামে সবচেয়ে বড় কবিরা গুনাহ (পাপ) শিরকের অন্তর্ভুক্ত। আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন- কুলক্ষণে বিশ্বাস করা শিরকের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত। এমন কেউই আমাদের মধ্যে নেই যার মনে এর ধারণা আসে না। তবে আল্লাহ তা’আলা তার ওপর (মুমিন লোকের) ভরসার কারণে তা দূর করে দেন। (সুনান আত তিরমিজি, হাদিস : ১৬১৪)

আরেকটি হাদিসে এসেছে, আবু হুরায়য়া (রা.) বলেছেন- আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এই কথা বলতে শুনেছি যে, শুভ-অশুভ নির্ণয়ে কোনো লাভ নেই, বরং শুভ লক্ষণ গ্রহণ করা ভালো। ওই সময় সাহাবীরা জিজ্ঞাসা করলেন- ইয়া রাসুলুল্লাহ (সা.), শুভ লক্ষণ কি? জবাবে নবীজি (সা.) বললেন, ভালো বাক্য যা তোমাদের কেউ শুনে থাকে। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৫৩৪৩)

অন্যদিকে পবিত্র কোরআন বা হাদিসের কোথাও বিড়াল সামনে দিয়ে রাস্তা পার হলে তাতে অমঙ্গল হবে বা এটি অশুভ কোনোকিছু এমন কোনো বিষয়ের উল্লেখ নেই। তবে জিন জাতি যে বিড়াল ও সাপসহ বিভিন্ন প্রাণির রূপ ধারণ করতে পারে সে বিষয়ে সহিহ হাদিসে বর্ণনা এসেছে। কিন্তু এই বিষয়টিকে ঘিরে সব বিড়ালকেই জিন ভাবা কিংবা বিড়াল সামনে দিয়ে গেলে কারও অমঙ্গল হবে এমন ধারণা করা মোটেও উচিত নয়।

তবে বিড়াল সামনে দিয়ে গেলে যদি কারও মধ্যে দ্বিধার সৃষ্টি হয় বা অসুবিধাজনক কিছু মনে হয় তবে চাইলে দোয়া পড়া যায়। আহমাদ আল-কুরাশী (রহ.) সূত্রে বর্ণিত একটি হাদিসে এসেছে, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে একবার শুভ ও অশুভ লক্ষণ সম্পর্কে আলোচনা করা হলে তিনি বলেন- হ্যাঁ, শুভ লক্ষণ হচ্ছে ফা’ল (শুভ চিন্তা)। আর এমন অশুভ কিছু নেই যা মুসলিমকে কোনো কাজে বা কোথাও যাত্রা থেকে বিরত রাখতে পারে। তবে তোমাদের মধ্যে কেউ যদি কোনো অসুবিধাজনক কিছু দেখতে পায়, তাহলে সে যেন বলে-

للَّهُمَّ لَا يَأْتِي بِالْحَسَنَاتِ إِلَّا أَنْتَ، وَلَا يَدْفَعُ السَّيِّئَاتِ إِلَّا أَنْتَ، وَلَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِكَ

বাংলা: আল্লাহুম্মা লা ইয়াতি বিল হাসানাতি ইল্লা আনতা, ওয়ালা ইয়াদফাউস সাইয়িআতি ইল্লা আনতা, ওয়ালা হাওলা ওয়ালা কুউয়াতা ইল্লা বিকা (অথবা ইল্লা বিল্লাহ)।

অর্থ: হে আল্লাহ! আপনিই তো কল্যাণদাতা এবং আপনিই তো অকল্যাণ দূরকারী। আপনি ছাড়া আমাদের কোনো উপায় নেই, শক্তিও নেই। (সুনান আবু দাউদ, হাদিস : ৩৯১৯)