• ই-পেপার

আজকের নামাজের সময়সূচি, ১৭ মার্চ ২০২৫

জাদুটোনার ক্ষতি থেকে বাঁচাবে ছোট্ট যে আমল

অনলাইন ডেস্ক
জাদুটোনার ক্ষতি থেকে বাঁচাবে ছোট্ট যে আমল
সংগৃহীত ছবি

ইসলামে জাদুটোনা সম্পূর্ণ হারাম। এটি ধ্বংসাত্মক কবিরা গুনাহের মধ্যে অন্যতম। পবিত্র কুরআনেও জাদুটোনার বিষয়টির উল্লেখ রয়েছে। ইরশাদ হয়েছে, ‘আর সুলাইমান (আ.) কুফরি করেনি, বরং শয়তানরা কুফরি করেছে। তারা মানুষকে যাদু শেখাত...‘(সুরা বাকারা, আয়াত: ১০২)

অন্যদিকে হাদিসেও ধ্বংসাত্মক এই কাজ থেকে বিরত থাকতে কঠোর নির্দেশনা এসেছে। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে, রাসুল (সা.) সাতটি ধ্বংসকারী কাজ থেকে বিরত থাকতে বলেছেন। সেগুলো হলো— (১) আল্লাহর সঙ্গে শরিক করা, (২) জাদু করা, (৩) আল্লাহ যার হত্যা নিষেধ করেছেন যথার্থ কারণ ছাড়া তাকে হত্যা করা, (৪) এতিমের সম্পদ (অন্যায়ভাবে) আত্মসাৎ করা, (৫) সুদ খাওয়া, (৬) যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পলায়ন করা এবং (৭) সধবা, সরলমনা ও ঈমানদার নারীকে অপবাদ দেয়া। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১৬৪)

খোদ নবীজি (সা.) ওপরও একবার এক ইহুদি জাদু করেছিল। এর প্রভাবে রাসুল (সা.) কোনো কাজ না করেও তাঁর মনে হতো তিনি সেই কাজটি করেছেন। পরে মহান আল্লাহর নির্দেশে দু’জন ফেরেশতা নবীজির (সা.) চিকিৎসা করেছিলেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫৩৫১)

এ ক্ষেত্রে দুনিয়ার ক্ষণস্থায়ী জীবনে জাদু-টোনার মতো ভয়ংকর বিপদ থেকে কীভাবে রক্ষা মিলবে, সে বিষয়েও নির্দেশনা এসেছে। আবদুল্লাহ ইবন খুবায়ব (রা.) তার বাবার সূত্রে বর্ণনা করেন, একবার বর্ষণমুখর রাতে গভীর অন্ধকারে আমাদের জন্য দোয়া করার উদ্দেশ্যে আমারা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে খুঁজতে বের হলাম। পরে এক জায়গায় আমরা নবীজিকে (সা.) পেলাম। তখন তিনি (রাসুল সা.) বললেন- বল। আমি কিছুই বললাম না। নবীজি (সা.) আবারও বললেন, বল। এরপরও আমি চুপ করে রইলাম। তারপর রাসুল (সা.) আবারও বললেন- বল। তখন আমি প্রশ্ন করলাম- কি বলব? জবাবে নবীজি (সা.) বললেন- প্রতিদিন সকাল-সন্ধ্যায় কুল হুয়াল্লাহু আহাদ এবং মুআওওয়াযাতায়ন (সুরা ফালাক ও সুরা নাস) তিনবার পাঠ করবে, তাহলে তা সব কিছুর ক্ষেত্রে তোমার জন্য যথেষ্ট হবে। (সুনান আত তিরমিজি, হাদিস: ৩৫৭৫)

এছাড়াও আরেকটি হাদিসে কালো জাদু বা জাদু-টোনার ক্ষতিকর প্রভাব থেকে বাঁচতে দোয়ার কথা এসেছে। উসমান ইবন আফফান (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন- প্রতিদিন সকালে ও সন্ধ্যায় যে ব্যক্তি তিনবার নিচের দোয়াটি পাঠ করবে কোনোকিছুই তার অনিষ্ট করতে পারবে না। দোয়াটি হলো-

بِسْمِ اللَّهِ الَّذِي لاَ يَضُرُّ مَعَ اسْمِهِ شَيْءٌ فِي الأَرْضِ وَلاَ فِي السَّمَاءِ وَهُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ

বাংলা: বিসমিল্লাহিল্লাজি লা-ইয়াদুররু মাআস্‌মিহি শাইয়্যিন ফিল আরদি ওয়ালা ফিস-সামায়ি ওয়া-হুয়াস-সামিউল আলিম।

অর্থ: আমি আল্লাহর নাম নিচ্ছি। জমিন ও আসমানের কোনোকিছুই যাঁর নামে বরকতের ক্ষতি সাধন করতে পারে না। তিনি সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞ। (সুনান আত তিরমিজি: হাদিস: ৩৩৮৮)

আজকের নামাজের সময়সূচি, ৬ ‍জুলাই ২০২৬

অনলাইন ডেস্ক
আজকের নামাজের সময়সূচি, ৬ ‍জুলাই ২০২৬

আজ সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬, ২২ আষাঢ় ১৪৩৩, ২০ মহররম, ১৪৪৮।

ঢাকা ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি নিম্নরূপ—

জোহরের সময় শুরু ১২টা ০৭ মিনিটে।

আসরের সময় শুরু ৪টা ৪৩ মিনিটে।

মাগরিব ৬টা ৫৪ মিনিটে।

এশার সময় শুরু ৮টা ২০ মিনিটে।

আগামীকাল ফজর শুরু ৩টা ৫৩ মিনিটে 

আজ ঢাকায় সূর্যাস্ত ৬টা ৫০ মিনিটে এবং আগামীকাল সূর্যোদয় ৫টা ১৪ মিনিটে।

সূত্র : ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার বসুন্ধরা, ঢাকা।

জীবনে অসংখ্য নামাজ কাজা হলে করণীয় কী?

অনলাইন ডেস্ক
জীবনে অসংখ্য নামাজ কাজা হলে করণীয় কী?
সংগৃহীত ছবি

সালাত বা নামাজ অন্যতম ফরজ ইবাদত। পবিত্র কোরআনে ৮২ বার নামাজের কথা এসেছে। ইরশাদ হয়েছে, ‘যখন তোমরা সালাত (নামাজ) পূর্ণ করবে তখন দাঁড়ানো, বসা ও শোয়া অবস্থায় আল্লাহকে স্মরণ করবে। অতঃপর যখন নিশ্চিন্ত হবে, তখন সালাত (পূর্বের নিয়মে) কায়েম করবে। নিশ্চয়ই সালাত মুমিনদের ওপর নির্দিষ্ট সময়ে ফরজ। (সুরা নিসা, আয়াত: ১০৩)।

অন্যদিকে হাদিসেও একাধিকবার নামাজ আদায় করার কথা এসেছে। সেই সঙ্গে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে ওয়াক্তমতো নামাজ আদায়ের ওপর। এমনকি খোদ মহান আল্লাহ তা’আলার কাছেও যথাসময়ে সালাত আদায় করা অধিক প্রিয় একটি আমল।

আবদুল্লাহ ইবনু মাসঊদ (রা.) বলেন, একবার আমি রাসুল (সা.) কে জিজ্ঞাসা করলাম, কোন আমল আল্লাহর কাছে অধিক প্রিয়? জবাবে তিনি (নবীজি সা.) বললেন, যথাসময়ে সালাত আদায় করা। ইবনু মাসঊদ (রা.) পুনরায় জিজ্ঞাসা করলেন, এরপর কোনটি? নবীজি (সা.) বললেন, এরপর পিতা-মাতার প্রতি সদ্ব্যবহার। পরে ইবনু মাসঊদ (রা.) আবারও জিজ্ঞাসা করলেন, তারপর কোনটি? রাসুল (সা.) বললেন, এরপর আল্লাহর পথে জিহাদ বা জিহাদ ফি সাবিলিল্লাহ্। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫০২)

কেউ নামাজরত থাকেলে তার জন্য ফেরেশতারাও মহান রাব্বুল আলামিনের কাছে দোয়া করতে থাকেন। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে এসেছে, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমাদের কেউ যতক্ষণ পর্যন্ত সালাতরত থাকবে ততক্ষণ পর্যন্ত ফেরেশতারা এ বলে দোয়া করতে থাকে- হে আল্লাহ! আপনি তাকে ক্ষমা করে দিন, হে আল্লাহ! তার প্রতি রহম করুন (এ দোয়া চলতে থাকবে) যতক্ষণ পর্যন্ত লোকটি সালাত (নামাজ) ছেড়ে না দাঁড়াবে অথবা তার অজু ভঙ্গ না হবে। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৩০০২)

তবে বিশেষ কোনো কারণে যদি কোনো ওয়াক্তের নামাজ ছুটে যায় তবে পরবর্তীতে সেই নামাজের কাজা আদায় করতে হয়। বিশেষ করে ফরজ কিংবা ওয়াজিব নামাজ ছুটে গেলে তার কাজা আদায় করা আবশ্যক। এ ক্ষেত্রে অধিকাংশ ইসলামিক স্কলারদের মত, যে ওয়াক্তের নামাজ কাজা হবে, পরের ওয়াক্তের সালাত আদায়ের আগে সেই কাজা আদায় করে নিতে হবে। অর্থাৎ, কারও যদি যোহরের ওয়াক্ত ছুটে যায়, তাহলে আসরের ওয়াক্তের আগে তাকে যোহরের কাজা আদায় করতে হবে। এ ক্ষেত্রে শুধু ফরজ নামাজ আদায় করলেই হবে। সুন্নত না পড়লে কোনো অসুবিধা নেই। আর কাজা নামাজ আদায়ের ক্ষেত্রে সূরা-কেরাত মূল নামাজের মতোই।

কিন্তু কারও যদি একাধিক ওয়াক্তের নামাজ কাজা থাকে তাহলে সে ক্ষেত্রে ধারাবাহিকভাবে কাজা আদায় করতে হবে। অর্থাৎ, কারও যদি জোহর, আসর ও মাগরিবের ওয়াক্তের নামাজ কাজা হয়, তাহলে এশার সময় কাজা আদায় করলে আগে জোহরের কাজা আদায় করতে হবে। এরপর ক্রমান্বয়ে আসর ও মাগরিবের কাজা আদায় করতে হবে।

খোদ রাসুল (সা.) ও যুদ্ধের সময় এমনটি করেছিলেন। আব্দুল্লাহ ইবনু মাসঊদ (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে এসেছে, মুশরিকরা খন্দকের যুদ্ধের সময় রাসুল (সা.) কে ৪ ওয়াক্তের সালাত আদায়ে বিঘ্নের সৃষ্টি করে। এমনকি রাতের কিছু অংশও অতিবাহিত হয়ে যায়, কিন্তু তিনি সালাত আদায় করতে পারলেন না। পরে নবীজি (সা.) বিলাল (রা.) কে আজান (এশা) দিতে বললেন। এরপর বিলাল (রা.) আজান দিয়ে ইকামত দিলেন। পরে রাসুল (সা.) জোহরের সালাত আদায় করলেন। এরপর আবারও তিনি (বিলাল রা.) ইকামত দিলেন, রাসুল (সা.) আসরের সালাত আদায় করলেন। তারপর আবার ইকামত দেয়া হয় এবং রাসুল (সা.) মাগরিবের সালাত আদায় করলেন। একইভাবে পুনরায় ইকামত দেয়া হয় এবং রাসুল (সা.) এশার সালাত আদায় করলেন। (সুনান আত তিরমিজি, হাদিস: ১৭৯-১৮০; সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫৬৯)

জাবির (রা.) থেকে বর্ণিত আরেকটি হাদিসে এসেছে, খন্দকের যুদ্ধ চলাকালে একসময় ওমর (রা.) কুরাইশ কাফিরদের ভর্ৎসনা করতে লাগলেন এবং বললেন, সূর্যাস্তের পূর্বে আমি আসরের সালাত আদায় করতে পরিনি। জাবির (রা.) আরও বর্ণনা করেন, ওই ঘটনার পর আমরা বুতহান উপত্যকায় উপস্থিত হলাম। সেখানে তিনি সূর্যাস্তের পর সে সালাত আদায় করলেন, তারপর মাগরিবের সালাত আদায় করলেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫৭১)

তবে কেউ যদি অবহেলায় কিংবা শয়তানের ধোঁকায় পড়ে অসংখ্য দিন নামাজ না পড়েন, অথবা নামাজ ছেড়ে দিয়েছিলেন, তাহলে করণীয় কী? এ ক্ষেত্রে প্রায়সময়ই অনেকে জীবনে অসংখ্য নামাজ কাজা করার বিষয়টিকে ‘উমরি কাজা’ বলে অবহিত করে থাকেন। কিন্তু আসলেই যদি কারও জীবনে এক বা দুই বছর কিংবা এর চেয়েও বেশি সময়ের নামাজ কাজা হয়, তবে শরিয়তের বিধান অনুযায়ী তিনি কীভাবে সে নামাজগুলো আদায় করবেন তা নিয়ে অনেকেই দ্বিধায় ভুগেন।

এ ক্ষেত্রে ইসলামিক স্কলার শায়খ আহমাদুল্লাহর মতে কারও অসংখ্য নামাজ কাজা হওয়ার বিষয়ে ওলামায়ে-কেরামদের মধ্যে দু’টি মত রয়েছে। এরমধ্যে সাম্প্রতিক সময়ের ওলামায়ে আরবদের একটি মত হলো- ‘উমরি কাজা’ বলতে কোনোকিছু নেই। ইসলামেও এমন কোনো শব্দ নেই। আর আরেকটি মত হলো- একজন মুসলিম আগে অবহেলা করে ছাড়ার পর আর নামাজ পড়তেন না, কিন্তু এখন আল্লাহ তা’আলা তাকে সঠিক বুঝ দিয়েছেন, হেদায়েত পেয়েছেন, তাই যতদিন বালেগ (প্রাপ্তবয়স্ক) হওয়ার পর তিনি নামাজ পড়েননি, সেই নামাজগুলো তার কাজা আদায় করা উচিত। বেশিরভাগ প্রখ্যাত আলেম এই মতটির পক্ষে।

সুতরাং, কারও এক বা দুই বছর কিংবা এর চেয়ে বেশি সময়ের নামাজ কাজা থাকলে, আনুমানিক হিসেব করে ধারাবাহিকভাবে তিনি ওই পরিমাণ নামাজের কাজা আদায় করবেন। এ ক্ষেত্রে প্রতিদিন দুই-চার রাকাত করে কাজা আদায় করতে পারেন। সেই সঙ্গে নফল নামাজের পরিমাণ বাড়ানো উচিত বলেও মনে করেন ইসলামিক স্কলার শায়খ আহমাদুল্লাহ।

ভুল হলে তাওবায় মেলে অসীম ক্ষমা

ইসলামী জীবন ডেস্ক
ভুল হলে তাওবায় মেলে অসীম ক্ষমা
সংগৃহীত ছবি

মানুষ ভুলের ঊর্ধ্বে নয়। পৃথিবীতে এমন কোনো মানুষ নেই, যিনি জীবনের কোনো না কোনো পর্যায়ে গুনাহ বা ভুলের সম্মুখীন হননি। তবে ইসলামের সৌন্দর্য এখানেই যে এটি মানুষকে পাপের কারণে হতাশ হতে শেখায় না; বরং তাওবার মাধ্যমে মহান রবের সান্নিধ্যে ফিরে আসার আহ্বান জানায়। আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদের জন্য তাওবার দরজা সর্বদা উন্মুক্ত রেখেছেন এবং আন্তরিক তাওবাকারীদের ক্ষমা করার সুস্পষ্ট অঙ্গীকার করেছেন।


এ প্রসঙ্গে রাসুলুল্লাহ (সা.) এক অনন্য সুসংবাদ প্রদান করেছেন। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘সেই মহান সত্তার কসম, যাঁর হাতে আমার প্রাণ! যদি তোমরা কোনো পাপই না করতে, তাহলে আল্লাহ তাআলা তোমাদের সরিয়ে এমন এক জাতিকে নিয়ে আসতেন, যারা পাপ করত; অতঃপর আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করত, আর আল্লাহ তাদের ক্ষমা করে দিতেন।’ (মুসলিম, হাদিস : ২৭৪৯; জামে তিরমিজি, হাদিস : ২৫২৬)

এই হাদিসের মূল শিক্ষা হলো, আল্লাহ তাআলা পাপকে ভালোবাসেন না; কিন্তু পাপী বান্দার আন্তরিক অনুতাপ, বিনম্র হৃদয়ে করা তাওবা এবং ক্ষমা প্রার্থনাকে অত্যন্ত ভালোবাসেন। মানুষ হিসেবে ভুল হওয়া স্বাভাবিক; কিন্তু সেই ভুলের ওপর অটল থাকা কিংবা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হওয়া একজন মুমিনের বৈশিষ্ট্য হতে পারে না।

পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ ঘোষণা করেন, ‘আপনি বলুন, হে আমার সেই বান্দারা, যারা নিজেদের ওপর সীমালঙ্ঘন করেছে! তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করে দেন।’ (সুরা : আয-ঝুমার, আয়াত : ৫৩)
এই আয়াত মানবজাতির জন্য আশা, সাহস ও আশ্বাসের এক চিরন্তন ঘোষণা। গুনাহ যত বড়ই হোক না কেন, আন্তরিক তাওবা করলে আল্লাহ তাআলা তা ক্ষমা করতে সক্ষম। তাই কোনো পাপী বান্দার জন্য নিরাশার কোনো অবকাশ নেই।

অন্য এক হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, আদম সন্তানের প্রত্যেকেই ভুলকারী; আর ভুলকারীদের মধ্যে সর্বোত্তম তারা, যারা অধিক তাওবা করে। (জামে তিরমিজি, হাদিস : ২৪৯৯)

তবে আলোচ্য হাদিসের অর্থ কখনোই এই নয় যে মানুষ ইচ্ছাকৃতভাবে গুনাহ করবে এবং পরে তাওবা করবে।

এমন মানসিকতা আল্লাহর প্রতি ধৃষ্টতা ও আত্মপ্রবঞ্চনার নামান্তর। প্রকৃত তাওবা হলো, গুনাহ থেকে অবিলম্বে বিরত হওয়া, কৃতকর্মের জন্য আন্তরিকভাবে অনুতপ্ত হওয়া, ভবিষ্যতে সেই গুনাহে আর ফিরে না যাওয়ার দৃঢ় সংকল্প গ্রহণ করা এবং মানুষের হক নষ্ট হয়ে থাকলে তা যথাযথভাবে আদায় বা ক্ষমা গ্রহণ করা।
মহান আল্লাহ তাআলা তাওবাকারীদের মর্যাদা সম্পর্কে ঘোষণা করেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ অধিক তাওবাকারীদের ভালোবাসেন এবং পবিত্রতা অর্জনকারীদেরও ভালোবাসেন।’ (সুরা : আল-বাকারা, আয়াত : ২২২)

এটি একজন মুমিনের জন্য পরম সৌভাগ্যের সংবাদ। কারণ যে ব্যক্তি আন্তরিকভাবে তাওবা করে, সে শুধু ক্ষমাই লাভ করে না; বরং আল্লাহর ভালোবাসারও অধিকারী হয়ে যায়।

আজকের সমাজে অনেক মানুষ অতীতের গুনাহের কারণে হতাশ হয়ে পড়েন। কেউ মনে করেন, ‘আমার মতো পাপীকে আল্লাহ আর ক্ষমা করবেন না।’ অথচ এটি শয়তানের অন্যতম বড় প্রতারণা। শয়তান চায় মানুষ গুনাহের পর তাওবা না করে হতাশার অতল গহ্বরে ডুবে যাক। কিন্তু একজন প্রকৃত মুমিন কখনো আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয় না। যতক্ষণ প্রাণ কণ্ঠাগত না হয় এবং কিয়ামতের বড় আলামত—পশ্চিম দিক থেকে সূর্য উদিত হওয়া—প্রকাশ না পায়, ততক্ষণ তাওবার দরজা উন্মুক্ত থাকে।

অতএব আমাদের প্রত্যেকের উচিত নিজের গুনাহের জন্য মহান আল্লাহর দরবারে বিনম্রচিত্তে ক্ষমা প্রার্থনা করা, বেশি পরিমাণে ইস্তিগফার পাঠ করা, নেক আমলের মাধ্যমে জীবনকে সমৃদ্ধ করা এবং সর্বদা আত্মশুদ্ধির চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া।

আজকের নামাজের সময়সূচি, ১৭ মার্চ ২০২৫ | কালের কণ্ঠ