• ই-পেপার

আজকের নামাজের সময়সূচি, ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৫

খেলাধুলায় কোনো দেশকে সমর্থন করা কি জায়েজ?

মুফতি ওমর বিন নাছির
খেলাধুলায় কোনো দেশকে সমর্থন করা কি জায়েজ?
সংগৃহীত ছবি

খেলাধুলা মানুষের বিনোদন, শারীরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং মানসিক প্রশান্তির একটি বৈধ মাধ্যম। যুগে যুগে মানুষ বিভিন্ন খেলাকে কেন্দ্র করে আনন্দ-উৎসব করেছে এবং প্রিয় দল বা দেশের প্রতি সমর্থন প্রকাশ করেছে। বিশেষ করে বিশ্বকাপ, অলিম্পিক কিংবা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট-ফুটবল প্রতিযোগিতার সময় দেশ-সমর্থনের বিষয়টি ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়। তবে একজন মুসলিমের জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো—খেলাধুলায় কোনো দেশ বা দলকে সমর্থন করা কি শরীয়তসম্মত? এটি কি বৈধ ভালোবাসা ও স্বাভাবিক আগ্রহের অন্তর্ভুক্ত, নাকি তা অন্ধ পক্ষপাতিত্ব ও গুনাহের পর্যায়ে পড়ে?

ইসলাম মানুষের স্বাভাবিক প্রবৃত্তিকে অস্বীকার করে না; বরং তা সঠিক নীতিমালার মধ্যে পরিচালিত করতে শিক্ষা দেয়। তাই খেলাধুলায় দেশ-সমর্থনের বিষয়টিও ইসলামের মূলনীতি, কুরআন-সুন্নাহর নির্দেশনা এবং ন্যায়-অন্যায়ের মানদণ্ডে বিচার করা প্রয়োজন।

ইসলামের দৃষ্টিতে খেলাধুলার বৈধতা
ইসলাম উপকারী ও কল্যাণকর খেলাধুলাকে বৈধ ঘোষণা করেছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজে ঘোড়দৌড়, তীরন্দাজি, কুস্তি ইত্যাদি উৎসাহিত করেছেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘শক্তিশালী মুমিন দুর্বল মুমিনের চেয়ে উত্তম এবং আল্লাহর নিকট অধিক প্রিয়।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ২৬৬৪)
এ থেকে বোঝা যায়, শরীরচর্চা ও উপকারী খেলাধুলা ইসলামে প্রশংসনীয়।


দেশকে সমর্থন করার হুকুম
কোনো খেলায় একটি দেশকে সমর্থন করা মূলত নাজায়েজ নয়। কারণ এটি মানুষের স্বাভাবিক পছন্দ ও আবেগের বিষয়। কেউ নিজের জন্মভূমি, সংস্কৃতি কিংবা পছন্দের খেলোয়াড়ের কারণে একটি দলকে সমর্থন করতে পারে। তবে এই সমর্থন তখনই বৈধ থাকবে, যখন তা শরীয়তের সীমার মধ্যে থাকবে এবং অন্ধ পক্ষপাতিত্বে পরিণত হবে না। কেননা ইসলাম অন্ধ দলীয় পক্ষপাতিত্ব নিষিদ্ধ করেছে। কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, হে মুমিনরা! তোমরা ন্যায়বিচারের ওপর দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত থাকো এবং আল্লাহর জন্য সাক্ষ্য দাও, যদিও তা তোমাদের নিজেদের বিরুদ্ধে হয়।’ (সুরা : নিসা, আয়াত : ১৩৫)
এই আয়াত শিক্ষা দেয় যে, কোনো ব্যক্তি, দল বা দেশের প্রতি ভালোবাসা যেন আমাদের ন্যায়বিচার থেকে বিচ্যুত না করে।

আরও ইরশাদ হয়েছে, ‘কোনো সম্প্রদায়ের প্রতি বিদ্বেষ যেন তোমাদেরকে ন্যায়পরায়ণতা থেকে বিরত না রাখে। ন্যায়বিচার করো; এটিই তাকওয়ার অধিক নিকটবর্তী।’ (সুরা : মায়িদাহ, আয়াত : ৮)
অতএব, খেলার মাঠেও ন্যায়-অন্যায়ের বিচার হারিয়ে ফেলা যাবে না।

কাফিরদের ধর্ম ও আদর্শের প্রতি ভালোবাসা নিষিদ্ধ
আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আপনি এমন কোনো সম্প্রদায় পাবেন না যারা আল্লাহ ও আখিরাতে ঈমান রাখে অথচ তারা আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের বিরোধিতাকারীদের প্রতি হৃদ্যতা পোষণ করে।’ (সুরা : মুজাদালাহ, আয়াত : ২২)
এ আয়াতের অর্থ হলো, একজন মুসলিম কাফিরদের কুফর, ইসলামবিরোধিতা বা আল্লাহ-রাসুলের বিরোধিতাকে ভালোবাসতে পারে না। তাই মুসলিম পরিচয়ের চেয়ে বিধর্মীদের পরিচয়ে পরিচিত হওয়া অত্যন্ত ঘৃণিত একটি কাজ। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘হে ঈমানদাররা! তোমরা ইহুদি ও খ্রিষ্টানদের (অন্তরঙ্গ অভিভাবক ও আনুগত্যের কেন্দ্র হিসেবে) গ্রহণ কোরো না।’ (সুরা : মায়িদাহ, আয়াত : ৫১

মুফাসসিররা ব্যাখ্যা করে, এখানে সাধারণ সৌহার্দ্য বা লেনদেন নিষিদ্ধ করা হয়নি; বরং এমন বন্ধুত্ব, আনুগত্য ও সমর্থন নিষিদ্ধ করা হয়েছে যা মুসলিম পরিচয় ও স্বার্থের বিরুদ্ধে যায়। এভাবে রাসুলুল্লাহ (সা.) অমুসলিমদের সঙ্গে ন্যায়বিচার, সদাচরণ ও উত্তম আচরণ করেছেন; কিন্তু তাদের কুফর ও বাতিল বিশ্বাসকে কখনো সমর্থন করেননি। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘যারা দ্বীনের কারণে তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেনি, তাদের প্রতি সদাচরণ ও ন্যায়বিচার করতে আল্লাহ তোমাদের নিষেধ করেন না।’ (সুরা : মুমতাহিনাহ, আয়াত : ৮)

পক্ষপাতিত্বের ব্যাপারে সতর্কতা
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি গোত্রবাদ বা অন্ধ পক্ষপাতিত্বের দিকে আহ্বান করে, সে আমাদের দলভুক্ত নয়।’ (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস : ৫১২১)
আরেক বর্ণনায় তিনি বলেন, ‘এ ধরনের পক্ষপাতিত্ব পরিত্যাগ করো; এটি অত্যন্ত নিকৃষ্ট।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৪৯০৫; সহিহ মুসলিম, হাদিস : ২৫৮৪)
সুতরাং কোনো দেশের সমর্থন এমন পর্যায়ে পৌঁছে গেলে যে, অন্যদের গালি দেওয়া, ঝগড়া করা, শত্রুতা সৃষ্টি করা বা মুসলিম ভ্রাতৃত্ব নষ্ট করা শুরু হয়, তাহলে তা হারাম বা অন্তত গুরুতরভাবে নিন্দনীয় হয়ে যায়।

খেলাধুলায় সমর্থনের ক্ষেত্রে মুসলিমের করণীয়
১. খেলাকে খেলাই মনে করা। খেলাকে জীবনের প্রধান বিষয় বানানো যাবে না। এটি বিনোদনের একটি মাধ্যম মাত্র।
২. ফরজ ইবাদত অবহেলা না করা। কোনো ম্যাচের কারণে সালাত, কোরআন তিলাওয়াত বা অন্যান্য দ্বীনি দায়িত্ব অবহেলা করা বৈধ নয়।
৩. গালি ও কটূক্তি পরিহার করা। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘মুমিন গালি দেয় না এবং অভিশাপও দেয় না।’ (সুনান তিরমিজি, হাদিস : ১৯৭৭)
৪. ভ্রাতৃত্ব নষ্ট না করা। একটি খেলার কারণে বন্ধুত্ব, আত্মীয়তা বা মুসলিম ভ্রাতৃত্ব ক্ষতিগ্রস্ত করা অত্যন্ত অনুচিত।
৫. জুয়া ও হারাম কার্যক্রম থেকে দূরে থাকা। খেলার ফলাফল নিয়ে বাজি ধরা, জুয়া খেলা বা অর্থ লেনদেন করা স্পষ্ট হারাম।


অত্খএব, লাধুলায় কোনো দেশ বা দলকে সমর্থন করা নাজায়েজ বা অবৈধ কোনো বিষয় নয়। তবে তা হতে হবে সীমিত, শালীন এবং শরীয়তের গণ্ডির মধ্যে। যদি সমর্থন অন্ধ পক্ষপাতিত্ব, গালিগালাজ, বিদ্বেষ, মারামারি, অহংকার, জুয়া কিংবা দ্বীনি দায়িত্ব অবহেলার কারণ হয়ে যায়, তাহলে তা গুনাহে পরিণত হবে।

একটি ম্যাচের ফলাফল কখনো মুসলিম ভ্রাতৃত্ব, নৈতিকতা বা আল্লাহর আনুগত্যের চেয়ে বড় হতে পারে না। তাই একজন মুমিন খেলাকে বিনোদনের পর্যায়ে রাখবে, অন্ধ পক্ষপাতিত্ব থেকে বেঁচে থাকবে এবং সর্বদা কোরআন-সুন্নাহর আদর্শকে নিজের আবেগের ওপর প্রাধান্য দেবে। তাহলেই তার আনন্দও হবে বৈধ, আর তার চরিত্রও থাকবে ইসলামের সৌন্দর্যে অলংকৃত।

ভুল হলে অনুতপ্ত হয়ে যে দোয়া পড়বেন

ইসলামী জীবন ডেস্ক
ভুল হলে অনুতপ্ত হয়ে যে দোয়া পড়বেন
সংগৃহীত ছবি

মানুষ ভুল করে, গুনাহে জড়িয়ে পড়ে—এটাই মানবজাতির স্বভাব। কিন্তু মহান আল্লাহ তাআলার অসীম দয়া ও অনুগ্রহের দরজা সব সময় খোলা। বান্দা যখন আন্তরিক অনুশোচনা নিয়ে নিজের পাপের জন্য লজ্জিত হয়, আল্লাহর দিকে ফিরে আসে এবং চোখের অশ্রুতে তাওবা করে, তখন আল্লাহ তাআলা তার গুনাহ ক্ষমা করে দেন।  তাই একজন মুমিনের উচিত তাওবার পর এমন দোয়া করা, যা তার হৃদয়কে পবিত্র করবে, ঈমানকে দৃঢ় করবে এবং তাকে পুনরায় গুনাহে ফিরে যাওয়া থেকে রক্ষা করবে। তেমনি একটি দোয়া হলো-

 رَبَّنَا أَتْمِمْ لَنَا نُورَنَا وَاغْفِرْ لَنَا إِنَّكَ عَلَىٰ كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ

উচ্চারণ : ‘রাব্বানা আতমিম লানা নুরানা ওয়াগফির লানা ইন্নাকা আলা কুল্লি শাইয়িন ক্বাদির।’

অর্থ : হে আমাদের রব। আপনি আমাদের জ্যোতিতে পরিপূর্ণতা দান করুন এবং আমাদের ক্ষমা করুন। নিশ্চয়ই আপনি সব কিছুর ওপর শক্তিমান। (সুরা : তাহরিম, আয়াত : ৮)

নতুন হিজরি বছর বরণে মুমিনের করণীয়

ইসলামী জীবন ডেস্ক
নতুন হিজরি বছর বরণে মুমিনের করণীয়
সংগৃহীত ছবি

সময়ের চাকা অবিরাম ঘুরছে। দিন, মাস ও বছরের পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে মানুষ এগিয়ে যাচ্ছে তার চূড়ান্ত গন্তব্যের দিকে। প্রতিটি নতুন বছর মানুষের জীবনে নতুন সম্ভাবনার বার্তা নিয়ে আসে, আবার স্মরণ করিয়ে দেয় জীবনের ক্ষণস্থায়িত্ব ও মৃত্যুর অনিবার্য বাস্তবতাকে। একজন মুসলমানের কাছে নতুন হিজরি বছরের আগমন শুধু ক্যালেন্ডারের পাতা পরিবর্তনের ঘটনা নয়; বরং এটি আত্মসমালোচনা, তাওবা, আত্মশুদ্ধি এবং আল্লাহর পথে নতুন উদ্যমে চলার এক মূল্যবান সুযোগ।

হিজরি সনের সূচনা জড়িয়ে আছে ইসলামের ইতিহাসের এক যুগান্তকারী ঘটনা—মহানবী (সা.)-এর হিজরতের সঙ্গে। এই হিজরত ছিল না শুধু ভৌগোলিক স্থানান্তর; বরং এটি ছিল সত্য ও ন্যায়ের পথে অবিচল থাকার, ত্যাগ-তিতিক্ষা ও আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আস্থার এক অনন্য দৃষ্টান্ত। তাই নতুন হিজরি বছর আমাদের সামনে সেই মহান শিক্ষাগুলোকে নতুন করে স্মরণ করিয়ে দেয় এবং নিজেদের ঈমানি জীবনকে পুনর্গঠনের আহ্বান জানায়। মহান আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছে মাসের সংখ্যা বারোটি... এর মধ্যে চারটি সম্মানিত মাস।’ (সুরা : তাওবাহ, আয়াত : ৩৬)

নতুন হিজরি বছরের প্রথম মাস মহররম, যা ইসলামে বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ একটি মাস। তাই একজন সচেতন মুমিনের উচিত এই বছরকে গুনাহ থেকে ফিরে আসা, নেক আমল বৃদ্ধি করা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের দৃঢ় সংকল্পের মাধ্যমে বরণ করা।

মহররম : আল্লাহর সম্মানিত মাস
মহররম ইসলামের চারটি সম্মানিত মাসের অন্যতম। এই মাসে ইবাদত-বন্দেগির গুরুত্ব অন্যান্য সময়ের তুলনায় আরো বেশি। ইসলামের প্রাথমিক যুগ থেকেই এই মাস মুসলমানদের কাছে মর্যাদা ও সম্মানের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়ে এসেছে। মুফাসসিরগণ বলেন, সম্মানিত মাসগুলোতে নেক আমলের প্রতিদান বৃদ্ধি করা হয় এবং গুনাহের ভয়াবহতাও অধিক গুরুতর হয়। তাই এ মাসে পাপাচার থেকে দূরে থাকা এবং আল্লাহর আনুগত্যে জীবন পরিচালনা করা বিশেষভাবে জরুরি।

‘আল্লাহর মাস’ মহররম
মহররম মাসের বিশেষ মর্যাদা বোঝাতে মহানবী (সা.) একে ‘আল্লাহর মাস’ বলে উল্লেখ করেছেন। হাদিসে এসেছে, ‘রমজানের পর সর্বোত্তম রোজা হলো আল্লাহর মাস মহররমের রোজা।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ১১৬৩)
ইমাম ইবনে রজব হাম্বলি (রহ.) বলেন, কোনো কিছুকে আল্লাহর দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা তার বিশেষ মর্যাদা ও সম্মানের প্রমাণ বহন করে। তাই মহররম মাসকে ইবাদত ও তাকওয়ার মাধ্যমে অতিবাহিত করা একজন মুমিনের দায়িত্ব।

আশুরা : মহররমের সর্বশ্রেষ্ঠ দিন
মহররম মাসের সবচেয়ে ফজিলতপূর্ণ দিন হলো ১০ মহররম বা আশুরা। মহানবী (সা.) মদিনায় এসে দেখলেন, ইহুদিরা আশুরার দিনে রোজা রাখে। কারণ এদিন আল্লাহ তাআলা মুসা (আ.) ও তাঁর অনুসারীদের ফেরাউনের অত্যাচার থেকে মুক্তি দিয়েছিলেন। নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘মুসা (আ.)-এর অনুসরণের ক্ষেত্রে আমি তোমাদের চেয়ে অধিক হকদার।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ২০০৪)

এরপর তিনি নিজেও রোজা রাখেন এবং সাহাবিদের রোজা রাখার নির্দেশ দেন। আশুরার রোজার ফজিলত সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আমি আল্লাহর কাছে আশা করি, আশুরার রোজা পূর্ববর্তী এক বছরের গুনাহের কাফফারা হবে।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ১১৬২)

সুন্নাহ অনুযায়ী ৯ ও ১০ মহররম অথবা ১০ ও ১১ মহররম মিলিয়ে দুটি রোজা রাখা উত্তম।


নতুন হিজরি বছর বরণে মুমিনের করণীয়
১. আন্তরিক তাওবা করা : নতুন বছরের সূচনায় অতীত জীবনের গুনাহ, অবহেলা ও ভুলত্রুটির জন্য মহান আল্লাহর কাছে খাঁটি তাওবা করা উচিত। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘হে মুমিনরা! তোমরা সবাই আল্লাহর কাছে তাওবা করো, যাতে তোমরা সফল হতে পারো।’ (সুরা : নুর, আয়াত : ৩১)

২. আত্মসমালোচনা ও আত্মশুদ্ধি করা : গত বছরের আমল পর্যালোচনা করা এবং নিজের ভুল-ত্রুটি সংশোধনের পরিকল্পনা গ্রহণ করা একজন মুমিনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। ওমর (রা.) বলেছেন, ‘তোমাদের হিসাব নেওয়ার আগে তোমরা নিজেদের হিসাব গ্রহণ করো।’ 

৩. নামাজের প্রতি যত্নবান হওয়া : পাঁচ ওয়াক্ত নামাজকে জীবনের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করার দৃঢ় সংকল্প গ্রহণ করতে হবে। কারণ নামাজই বান্দা ও আল্লাহর মধ্যকার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক।

৪. কোরআনের সঙ্গে সম্পর্ক গভীর করা : নতুন বছরে প্রতিদিন নিয়মিত কোরআন তিলাওয়াত, অর্থ অনুধাবন এবং তার আলোকে জীবন পরিচালনার অঙ্গীকার করা প্রয়োজন। আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয়ই এই কোরআন এমন পথ প্রদর্শন করে যা সর্বাধিক সরল ও সঠিক।’ (সুরা : ইসরা, আয়াত : ৯)

৫. নফল রোজা ও ইবাদত বৃদ্ধি করা : মহররমের রোজা, তাহাজ্জুদ, জিকির, দোয়া ও অন্যান্য নফল ইবাদতের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের চেষ্টা করা উচিত।

৬. দান-সদকা ও মানবসেবা করা : অসহায়, দরিদ্র ও অভাবগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং মানবকল্যাণমূলক কাজে অংশগ্রহণ করা ইসলামের অন্যতম শিক্ষা।

৭. আত্মীয়তার সম্পর্ক সুদৃঢ় করা : পিতা-মাতার সেবা, আত্মীয়-স্বজনের খোঁজখবর নেওয়া এবং পারিবারিক সম্পর্ক রক্ষা করা একজন মুমিনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।


মনগড়া আমল ও বিদআত থেকে সতর্কতা জরুরি
হিজরি নববর্ষ উপলক্ষে সমাজে অনেক সময় বিশেষ নামাজ, নির্দিষ্ট দোয়া, উৎসব, মিছিল বা বিভিন্ন রীতিনীতি প্রচলিত দেখা যায়; কিন্তু এসবের অধিকাংশের কোনো সহিহ ভিত্তি কোরআন ও সুন্নাহতে পাওয়া যায় না। মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আমাদের দ্বিনের মধ্যে এমন কিছু সংযোজন করবে, যা এর অংশ নয়, তা প্রত্যাখ্যাত।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ২৬৯৭, সহিহ মুসলিম, হাদিস : ১৭১৮)
অতএব, সকল ইবাদত ও আমল হতে হবে শুধুমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য এবং রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহ অনুসারে।

সুতরাং নতুন হিজরি বছর একজন মুমিনের কাছে শুধু নতুন তারিখের সূচনা নয়; বরং এটি আত্মশুদ্ধির নতুন অধ্যায়, তাওবার নতুন দরজা এবং আল্লাহর দিকে ফিরে আসার এক মূল্যবান আহ্বান। মহররমের মর্যাদা, আশুরার ফজিলত এবং হিজরতের মহান শিক্ষা আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে প্রকৃত সফলতা দুনিয়ার চাকচিক্যে নয়; বরং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের মধ্যেই নিহিত।

তাই আসুন, নতুন হিজরি বছরকে আমরা উৎসব-আড়ম্বরের মাধ্যমে নয়, বরং আন্তরিক তওবা, বেশি বেশি ইবাদত, কোরআনের সঙ্গে গভীর সম্পর্ক, মানবসেবা এবং তাকওয়াপূর্ণ জীবনযাপনের দৃঢ় সংকল্পের মাধ্যমে বরণ করি। অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে নতুন বছরকে নেক আমল ও কল্যাণের বছরে পরিণত করি। মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে মহররমের বরকত অর্জন, আশুরার ফজিলত লাভ এবং কোরআন-সুন্নাহর আলোকে জীবন পরিচালনার তাওফিক দান করুন। আমিন।

কাবা শরীফে মোড়ানো হলো স্বর্ণখচিত নতুন গিলাফ

অনলাইন ডেস্ক
কাবা শরীফে মোড়ানো হলো স্বর্ণখচিত নতুন গিলাফ
সংগৃহীত ছবি

আরবি নববর্ষ ১৪৪৮ হিজরির সূচনালগ্নে পবিত্র কাবা শরীফে  স্বর্ণখচিত নতুন গিলাফ (কিসওয়া) স্থাপন করা হয়েছে। সোমবার স্থানীয় সময় এশার নামাজের পর মসজিদুল হারামে আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন কিসওয়া উন্মোচন করা হয়।

ঐতিহ্য অনুযায়ী সাধারণত হজের সময় কাবার গিলাফ পরিবর্তন করা হলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মহররম মাসের শুরুতে এটি পরিবর্তনের রীতি অনুসরণ করা হচ্ছে। সেই ধারাবাহিকতায় এবারও পুরনো গিলাফ সরিয়ে নতুন কিসওয়া স্থাপন করা হয়। এ উপলক্ষে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত মুসল্লিরা তা দেখার জন্য ভিড় করেন।

সৌদি আরবের আল জৌদ এলাকায় অবস্থিত কিং আব্দুল আজিজ কমপ্লেক্সে বিশেষ কারিগরি প্রক্রিয়ায় কাবার গিলাফ তৈরি করা হয়। প্রায় ১১ মাসের পরিশ্রমে শতাধিক দক্ষ কারিগর এটি প্রস্তুত করেন এবং সাতটি ধাপে সম্পন্ন হয় এর নির্মাণ প্রক্রিয়া।

নতুন কিসওয়া তৈরিতে ব্যবহৃত হয়েছে ৪৭ খণ্ড উচ্চমানের রেশমি কাপড়। এতে পবিত্র কোরআনের ৬৮টি আয়াত স্বর্ণ ও রৌপ্যের সূতার ক্যালিগ্রাফির মাধ্যমে অলঙ্কৃত করা হয়েছে। প্রায় ১২০ কেজি ২৪ ক্যারেট স্বর্ণ এবং ১০০ কেজি রৌপ্য ব্যবহৃত হয়েছে এই অলঙ্করণে। পুরো গিলাফটির ওজন প্রায় ১ হাজার ৪১৫ কিলোগ্রাম।

অনুষ্ঠানে সৌদি রাজপরিবারের প্রতিনিধিসহ মসজিদুল হারামের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পরে নতুন কিসওয়া আনুষ্ঠানিকভাবে কাবা শরিফের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

নিয়ম অনুযায়ী পুরোনো গিলাফ ছোট ছোট অংশে কেটে বিভিন্ন দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের কাছে স্মারক হিসেবে বিতরণ করা হয়।

আজকের নামাজের সময়সূচি, ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ | কালের কণ্ঠ