• ই-পেপার

বায়তুল মোকাররমের নতুন খতিব কে এই আব্দুল মালেক

জীবনে অসংখ্য নামাজ কাজা হলে করণীয় কী?

অনলাইন ডেস্ক
জীবনে অসংখ্য নামাজ কাজা হলে করণীয় কী?
সংগৃহীত ছবি

সালাত বা নামাজ অন্যতম ফরজ ইবাদত। পবিত্র কোরআনে ৮২ বার নামাজের কথা এসেছে। ইরশাদ হয়েছে, ‘যখন তোমরা সালাত (নামাজ) পূর্ণ করবে তখন দাঁড়ানো, বসা ও শোয়া অবস্থায় আল্লাহকে স্মরণ করবে। অতঃপর যখন নিশ্চিন্ত হবে, তখন সালাত (পূর্বের নিয়মে) কায়েম করবে। নিশ্চয়ই সালাত মুমিনদের ওপর নির্দিষ্ট সময়ে ফরজ। (সুরা নিসা, আয়াত: ১০৩)।

অন্যদিকে হাদিসেও একাধিকবার নামাজ আদায় করার কথা এসেছে। সেই সঙ্গে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে ওয়াক্তমতো নামাজ আদায়ের ওপর। এমনকি খোদ মহান আল্লাহ তা’আলার কাছেও যথাসময়ে সালাত আদায় করা অধিক প্রিয় একটি আমল।

আবদুল্লাহ ইবনু মাসঊদ (রা.) বলেন, একবার আমি রাসুল (সা.) কে জিজ্ঞাসা করলাম, কোন আমল আল্লাহর কাছে অধিক প্রিয়? জবাবে তিনি (নবীজি সা.) বললেন, যথাসময়ে সালাত আদায় করা। ইবনু মাসঊদ (রা.) পুনরায় জিজ্ঞাসা করলেন, এরপর কোনটি? নবীজি (সা.) বললেন, এরপর পিতা-মাতার প্রতি সদ্ব্যবহার। পরে ইবনু মাসঊদ (রা.) আবারও জিজ্ঞাসা করলেন, তারপর কোনটি? রাসুল (সা.) বললেন, এরপর আল্লাহর পথে জিহাদ বা জিহাদ ফি সাবিলিল্লাহ্। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫০২)

কেউ নামাজরত থাকেলে তার জন্য ফেরেশতারাও মহান রাব্বুল আলামিনের কাছে দোয়া করতে থাকেন। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে এসেছে, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমাদের কেউ যতক্ষণ পর্যন্ত সালাতরত থাকবে ততক্ষণ পর্যন্ত ফেরেশতারা এ বলে দোয়া করতে থাকে- হে আল্লাহ! আপনি তাকে ক্ষমা করে দিন, হে আল্লাহ! তার প্রতি রহম করুন (এ দোয়া চলতে থাকবে) যতক্ষণ পর্যন্ত লোকটি সালাত (নামাজ) ছেড়ে না দাঁড়াবে অথবা তার অজু ভঙ্গ না হবে। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৩০০২)

তবে বিশেষ কোনো কারণে যদি কোনো ওয়াক্তের নামাজ ছুটে যায় তবে পরবর্তীতে সেই নামাজের কাজা আদায় করতে হয়। বিশেষ করে ফরজ কিংবা ওয়াজিব নামাজ ছুটে গেলে তার কাজা আদায় করা আবশ্যক। এ ক্ষেত্রে অধিকাংশ ইসলামিক স্কলারদের মত, যে ওয়াক্তের নামাজ কাজা হবে, পরের ওয়াক্তের সালাত আদায়ের আগে সেই কাজা আদায় করে নিতে হবে। অর্থাৎ, কারও যদি যোহরের ওয়াক্ত ছুটে যায়, তাহলে আসরের ওয়াক্তের আগে তাকে যোহরের কাজা আদায় করতে হবে। এ ক্ষেত্রে শুধু ফরজ নামাজ আদায় করলেই হবে। সুন্নত না পড়লে কোনো অসুবিধা নেই। আর কাজা নামাজ আদায়ের ক্ষেত্রে সূরা-কেরাত মূল নামাজের মতোই।

কিন্তু কারও যদি একাধিক ওয়াক্তের নামাজ কাজা থাকে তাহলে সে ক্ষেত্রে ধারাবাহিকভাবে কাজা আদায় করতে হবে। অর্থাৎ, কারও যদি জোহর, আসর ও মাগরিবের ওয়াক্তের নামাজ কাজা হয়, তাহলে এশার সময় কাজা আদায় করলে আগে জোহরের কাজা আদায় করতে হবে। এরপর ক্রমান্বয়ে আসর ও মাগরিবের কাজা আদায় করতে হবে।

খোদ রাসুল (সা.) ও যুদ্ধের সময় এমনটি করেছিলেন। আব্দুল্লাহ ইবনু মাসঊদ (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে এসেছে, মুশরিকরা খন্দকের যুদ্ধের সময় রাসুল (সা.) কে ৪ ওয়াক্তের সালাত আদায়ে বিঘ্নের সৃষ্টি করে। এমনকি রাতের কিছু অংশও অতিবাহিত হয়ে যায়, কিন্তু তিনি সালাত আদায় করতে পারলেন না। পরে নবীজি (সা.) বিলাল (রা.) কে আজান (এশা) দিতে বললেন। এরপর বিলাল (রা.) আজান দিয়ে ইকামত দিলেন। পরে রাসুল (সা.) জোহরের সালাত আদায় করলেন। এরপর আবারও তিনি (বিলাল রা.) ইকামত দিলেন, রাসুল (সা.) আসরের সালাত আদায় করলেন। তারপর আবার ইকামত দেয়া হয় এবং রাসুল (সা.) মাগরিবের সালাত আদায় করলেন। একইভাবে পুনরায় ইকামত দেয়া হয় এবং রাসুল (সা.) এশার সালাত আদায় করলেন। (সুনান আত তিরমিজি, হাদিস: ১৭৯-১৮০; সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫৬৯)

জাবির (রা.) থেকে বর্ণিত আরেকটি হাদিসে এসেছে, খন্দকের যুদ্ধ চলাকালে একসময় ওমর (রা.) কুরাইশ কাফিরদের ভর্ৎসনা করতে লাগলেন এবং বললেন, সূর্যাস্তের পূর্বে আমি আসরের সালাত আদায় করতে পরিনি। জাবির (রা.) আরও বর্ণনা করেন, ওই ঘটনার পর আমরা বুতহান উপত্যকায় উপস্থিত হলাম। সেখানে তিনি সূর্যাস্তের পর সে সালাত আদায় করলেন, তারপর মাগরিবের সালাত আদায় করলেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫৭১)

তবে কেউ যদি অবহেলায় কিংবা শয়তানের ধোঁকায় পড়ে অসংখ্য দিন নামাজ না পড়েন, অথবা নামাজ ছেড়ে দিয়েছিলেন, তাহলে করণীয় কী? এ ক্ষেত্রে প্রায়সময়ই অনেকে জীবনে অসংখ্য নামাজ কাজা করার বিষয়টিকে ‘উমরি কাজা’ বলে অবহিত করে থাকেন। কিন্তু আসলেই যদি কারও জীবনে এক বা দুই বছর কিংবা এর চেয়েও বেশি সময়ের নামাজ কাজা হয়, তবে শরিয়তের বিধান অনুযায়ী তিনি কীভাবে সে নামাজগুলো আদায় করবেন তা নিয়ে অনেকেই দ্বিধায় ভুগেন।

এ ক্ষেত্রে ইসলামিক স্কলার শায়খ আহমাদুল্লাহর মতে কারও অসংখ্য নামাজ কাজা হওয়ার বিষয়ে ওলামায়ে-কেরামদের মধ্যে দু’টি মত রয়েছে। এরমধ্যে সাম্প্রতিক সময়ের ওলামায়ে আরবদের একটি মত হলো- ‘উমরি কাজা’ বলতে কোনোকিছু নেই। ইসলামেও এমন কোনো শব্দ নেই। আর আরেকটি মত হলো- একজন মুসলিম আগে অবহেলা করে ছাড়ার পর আর নামাজ পড়তেন না, কিন্তু এখন আল্লাহ তা’আলা তাকে সঠিক বুঝ দিয়েছেন, হেদায়েত পেয়েছেন, তাই যতদিন বালেগ (প্রাপ্তবয়স্ক) হওয়ার পর তিনি নামাজ পড়েননি, সেই নামাজগুলো তার কাজা আদায় করা উচিত। বেশিরভাগ প্রখ্যাত আলেম এই মতটির পক্ষে।

সুতরাং, কারও এক বা দুই বছর কিংবা এর চেয়ে বেশি সময়ের নামাজ কাজা থাকলে, আনুমানিক হিসেব করে ধারাবাহিকভাবে তিনি ওই পরিমাণ নামাজের কাজা আদায় করবেন। এ ক্ষেত্রে প্রতিদিন দুই-চার রাকাত করে কাজা আদায় করতে পারেন। সেই সঙ্গে নফল নামাজের পরিমাণ বাড়ানো উচিত বলেও মনে করেন ইসলামিক স্কলার শায়খ আহমাদুল্লাহ।

ভুল হলে তাওবায় মেলে অসীম ক্ষমা

ইসলামী জীবন ডেস্ক
ভুল হলে তাওবায় মেলে অসীম ক্ষমা
সংগৃহীত ছবি

মানুষ ভুলের ঊর্ধ্বে নয়। পৃথিবীতে এমন কোনো মানুষ নেই, যিনি জীবনের কোনো না কোনো পর্যায়ে গুনাহ বা ভুলের সম্মুখীন হননি। তবে ইসলামের সৌন্দর্য এখানেই যে এটি মানুষকে পাপের কারণে হতাশ হতে শেখায় না; বরং তাওবার মাধ্যমে মহান রবের সান্নিধ্যে ফিরে আসার আহ্বান জানায়। আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদের জন্য তাওবার দরজা সর্বদা উন্মুক্ত রেখেছেন এবং আন্তরিক তাওবাকারীদের ক্ষমা করার সুস্পষ্ট অঙ্গীকার করেছেন।


এ প্রসঙ্গে রাসুলুল্লাহ (সা.) এক অনন্য সুসংবাদ প্রদান করেছেন। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘সেই মহান সত্তার কসম, যাঁর হাতে আমার প্রাণ! যদি তোমরা কোনো পাপই না করতে, তাহলে আল্লাহ তাআলা তোমাদের সরিয়ে এমন এক জাতিকে নিয়ে আসতেন, যারা পাপ করত; অতঃপর আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করত, আর আল্লাহ তাদের ক্ষমা করে দিতেন।’ (মুসলিম, হাদিস : ২৭৪৯; জামে তিরমিজি, হাদিস : ২৫২৬)

এই হাদিসের মূল শিক্ষা হলো, আল্লাহ তাআলা পাপকে ভালোবাসেন না; কিন্তু পাপী বান্দার আন্তরিক অনুতাপ, বিনম্র হৃদয়ে করা তাওবা এবং ক্ষমা প্রার্থনাকে অত্যন্ত ভালোবাসেন। মানুষ হিসেবে ভুল হওয়া স্বাভাবিক; কিন্তু সেই ভুলের ওপর অটল থাকা কিংবা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হওয়া একজন মুমিনের বৈশিষ্ট্য হতে পারে না।

পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ ঘোষণা করেন, ‘আপনি বলুন, হে আমার সেই বান্দারা, যারা নিজেদের ওপর সীমালঙ্ঘন করেছে! তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করে দেন।’ (সুরা : আয-ঝুমার, আয়াত : ৫৩)
এই আয়াত মানবজাতির জন্য আশা, সাহস ও আশ্বাসের এক চিরন্তন ঘোষণা। গুনাহ যত বড়ই হোক না কেন, আন্তরিক তাওবা করলে আল্লাহ তাআলা তা ক্ষমা করতে সক্ষম। তাই কোনো পাপী বান্দার জন্য নিরাশার কোনো অবকাশ নেই।

অন্য এক হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, আদম সন্তানের প্রত্যেকেই ভুলকারী; আর ভুলকারীদের মধ্যে সর্বোত্তম তারা, যারা অধিক তাওবা করে। (জামে তিরমিজি, হাদিস : ২৪৯৯)

তবে আলোচ্য হাদিসের অর্থ কখনোই এই নয় যে মানুষ ইচ্ছাকৃতভাবে গুনাহ করবে এবং পরে তাওবা করবে।

এমন মানসিকতা আল্লাহর প্রতি ধৃষ্টতা ও আত্মপ্রবঞ্চনার নামান্তর। প্রকৃত তাওবা হলো, গুনাহ থেকে অবিলম্বে বিরত হওয়া, কৃতকর্মের জন্য আন্তরিকভাবে অনুতপ্ত হওয়া, ভবিষ্যতে সেই গুনাহে আর ফিরে না যাওয়ার দৃঢ় সংকল্প গ্রহণ করা এবং মানুষের হক নষ্ট হয়ে থাকলে তা যথাযথভাবে আদায় বা ক্ষমা গ্রহণ করা।
মহান আল্লাহ তাআলা তাওবাকারীদের মর্যাদা সম্পর্কে ঘোষণা করেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ অধিক তাওবাকারীদের ভালোবাসেন এবং পবিত্রতা অর্জনকারীদেরও ভালোবাসেন।’ (সুরা : আল-বাকারা, আয়াত : ২২২)

এটি একজন মুমিনের জন্য পরম সৌভাগ্যের সংবাদ। কারণ যে ব্যক্তি আন্তরিকভাবে তাওবা করে, সে শুধু ক্ষমাই লাভ করে না; বরং আল্লাহর ভালোবাসারও অধিকারী হয়ে যায়।

আজকের সমাজে অনেক মানুষ অতীতের গুনাহের কারণে হতাশ হয়ে পড়েন। কেউ মনে করেন, ‘আমার মতো পাপীকে আল্লাহ আর ক্ষমা করবেন না।’ অথচ এটি শয়তানের অন্যতম বড় প্রতারণা। শয়তান চায় মানুষ গুনাহের পর তাওবা না করে হতাশার অতল গহ্বরে ডুবে যাক। কিন্তু একজন প্রকৃত মুমিন কখনো আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয় না। যতক্ষণ প্রাণ কণ্ঠাগত না হয় এবং কিয়ামতের বড় আলামত—পশ্চিম দিক থেকে সূর্য উদিত হওয়া—প্রকাশ না পায়, ততক্ষণ তাওবার দরজা উন্মুক্ত থাকে।

অতএব আমাদের প্রত্যেকের উচিত নিজের গুনাহের জন্য মহান আল্লাহর দরবারে বিনম্রচিত্তে ক্ষমা প্রার্থনা করা, বেশি পরিমাণে ইস্তিগফার পাঠ করা, নেক আমলের মাধ্যমে জীবনকে সমৃদ্ধ করা এবং সর্বদা আত্মশুদ্ধির চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া।

হাদিসের বাণী

আল্লাহ কাউকে ভালোবাসলে যেভাবে তা প্রকাশ করেন

ইসলামী জীবন ডেস্ক
আল্লাহ কাউকে ভালোবাসলে যেভাবে তা প্রকাশ করেন
সংগৃহীত ছবি

আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, মহানবী (সা.) বলেছেন, নিশ্চয় আল্লাহ তাআলা বলেছেন, যে ব্যক্তি আমার কোনো বন্ধুর সাথে শত্রুতা পোষণ করবে, আমি তার সঙ্গে যুদ্ধ করার ঘোষণা করলাম। আর বান্দা আমার যে সমস্ত কাজের মাধ্যমে নিকটবর্তী হয়, সেগুলো হলো—আমি তার ওপর যা কিছু ফরজ করেছি তা (ফরজ ইবাদাতসমূহ সে পালন করে) আর আমার বান্দা নফল ইবাদাতের মাধ্যমে আমার নৈকট্য লাভ করে, এমনকি তখন আমি তাঁকে ভালোবাসতে শুরু করি। তারপর যখন আমি তাকে ভালোবাসতে থাকি, আমি তার ওই কান হয়ে যাই, যার মাধ্যমে সে শ্রবণ করে ; আমি তার ওই চোখ হয়ে যাই, যার মাধ্যমে সে দেখে; আমি তার ওই হাত হয়ে যাই, যার মাধ্যমে সে স্পর্শ করে; আমি তার ওই পা হয়ে যাই, যার মাধ্যমে সে হাঁটা-চলা করে। তখন যদি সে আমার কাছে কোনো কিছু চায়, আমি তাকে তা প্রদান করি। আর যদি সে আমার কাছে আশ্রয় চায়, আমি তাকে আশ্রয় দিই। (সহিহ বুখারি, হাদিস নং : ৬৫০২)

শিক্ষা ও বিধান
১. আল্লাহর অলিদের সঙ্গে শত্রুতা করা ভয়াবহ অপরাধ। যে ব্যক্তি আল্লাহর নেক বান্দা, দ্বীনদার ও মুত্তাকিদের কষ্ট দেয় বা শত্রুতা করে, আল্লাহ নিজেই তার বিরুদ্ধে যুদ্ধের ঘোষণা দেন।

২. আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের সবচেয়ে বড় মাধ্যম হলো ফরজ ইবাদতসমূহ যথাযথভাবে আদায় করা। তাই ফরজ ইবাদতের প্রতি বেশি মনোযোগী হওয়া জরুরি।

৩. ফরজ আদায়ের পর বান্দা যখন নফল সালাত, তাহাজ্জুদ, কোরআন তিলাওয়াত, জিকির, সদকা ইত্যাদিতে মনোযোগী হয়, তখন আল্লাহ তাকে বিশেষভাবে ভালোবাসতে শুরু করেন।

৪. আল্লাহ যখন কোনো বান্দাকে ভালোবাসেন, তখন তাকে হিদায়াত, তাকওয়া ও সঠিক পথে চলার তাওফিক দেন। সে হারাম থেকে দূরে থাকে এবং কল্যাণের পথে পরিচালিত হয়।

৫.  আল্লাহর প্রিয় বান্দার দোয়া কবুল হয়। তাই যখন বান্দা আল্লাহর প্রিয় হয়ে যায়, তখন তার দোয়া অধিক কবুল হয়। সে কিছু চাইলে আল্লাহ দান করেন এবং বিপদে আশ্রয় চাইলে তাকে রক্ষা করেন।

৬. প্রকৃত সফলতা হলো আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন। দুনিয়ার সম্পদ, পদমর্যাদা বা খ্যাতি নয়; বরং আল্লাহর প্রিয় বান্দা হওয়াই সবচেয়ে বড় সফলতা।

জানাজায় বহু মানুষের সমাগম নিয়ে ইসলামী পর্যালোচনা

মুফতি ওমর বিন নাছির
জানাজায় বহু মানুষের সমাগম নিয়ে ইসলামী পর্যালোচনা
সংগৃহীত ছবি

মৃত্যু মানুষের জীবনের অবধারিত পরিণতি। পৃথিবীর সব পরিচয়, ক্ষমতা, সম্পদ ও প্রভাব একদিন মৃত্যুর কাছে থেমে যায়। কিন্তু একজন মানুষের জীবনের কর্ম, চরিত্র, ঈমান, ইলম ও মানুষের কল্যাণে তাঁর অবদান মৃত্যুর পরও মানুষের হৃদয়ে বেঁচে থাকতে পারে। তাই ইতিহাসে আমরা দেখি, কোনো কোনো নেককার আলেম, দাঈ, মুজাহিদ বা সমাজসেবকের ইন্তেকালে লাখো মানুষের ঢল নেমেছে, আবার অনেক খ্যাতিমান ব্যক্তি নীরব পরিবেশে দাফন হয়েছেন। প্রশ্ন হলো—জানাজায় মানুষের সংখ্যা কি ইসলামে বিশেষ কোনো মর্যাদার প্রমাণ? অধিক লোকের উপস্থিতি কি মৃত ব্যক্তির কল্যাণের নিশ্চয়তা বহন করে? 

ইসলাম বাহ্যিক সংখ্যা বা লোকদেখানো সম্মানের চেয়ে আল্লাহর সন্তুষ্টিকে অধিক গুরুত্ব দেয়। তবে একই সঙ্গে রাসুলুল্লাহ (সা.) জানিয়েছেন, নেককার ব্যক্তির জন্য মুমিনদের আন্তরিক দোয়া, সৎ সাক্ষ্য এবং জানাজার সালাতে অধিকসংখ্যক মানুষের অংশগ্রহণ কল্যাণের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হতে পারে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছে তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তিই সর্বাধিক সম্মানিত, যে সর্বাধিক তাকওয়াবান।’ (সুরা : হুজুরাত, আয়াত : ১৩)
এই আয়াত স্পষ্ট করে যে, ইসলামে মানুষের মর্যাদার মূল ভিত্তি হলো তাকওয়া। জানাজায় মানুষের সংখ্যা, সামাজিক অবস্থান বা বাহ্যিক জনপ্রিয়তা নয়; বরং আল্লাহভীতি ও নেক আমলই প্রকৃত মর্যাদার মানদণ্ড।

জানাজায় বহু মানুষের সমাগম মৃত ব্যক্তির জন্য কল্যাণের একটি কারণ
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে মুসলিম ব্যক্তির জানাজায় এমন চল্লিশজন মুসলিম অংশগ্রহণ করবে, যারা আল্লাহর সঙ্গে কাউকে শরিক করে না, এবং তারা তার জন্য সুপারিশ (দোয়া) করবে, আল্লাহ তাদের সুপারিশ কবুল করবেন।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস নং : ৯৪৮)

এই হাদিস থেকে বোঝা যায়, জানাজায় অধিকসংখ্যক ঈমানদার মানুষের উপস্থিতি মৃত ব্যক্তির জন্য রহমত ও মাগফিরাতের একটি কারণ হতে পারে। তবে এর মূল বিষয় হলো—তাঁদের আন্তরিক দোয়া ও ঈমান, শুধু সংখ্যা নয়।

রাসুলুল্লাহ (সা.) অন্য হাদিসে আরো বলেন, ‘যে মুসলিমের জানাজায় এক শত মুসলিম অংশগ্রহণ করে এবং সবাই তার জন্য দোয়া করে, তাদের দোয়া কবুল করা হয়।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস নম্বর : ৯৪৭)
এখানে সংখ্যার উদ্দেশ্য গৌরব প্রদর্শন নয়; বরং বেশি সংখ্যক মুমিনের আন্তরিক দোয়ার গুরুত্ব তুলে ধরা।

মুমিনদের সাক্ষ্য একটি সুসংবাদ
একবার একটি জানাজা অতিক্রম করলে সাহাবিগণ মৃত ব্যক্তির প্রশংসা করেন। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, ‘তার জন্য জান্নাত অবধারিত হয়েছে।’ পরে আরেক ব্যক্তির জানাজা গেলে সাহাবিরা তার নিন্দা করেন। তখন তিনি বলেন, ‘তার জন্য জাহান্নাম অবধারিত হয়েছে।’ এরপর তিনি ব্যাখ্যা করেন, ‘তোমরা পৃথিবীতে আল্লাহর সাক্ষী।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস নং : ১৩৬৭)
এই হাদিসের অর্থ এই নয় যে, মানুষের মতামতই চূড়ান্ত ফয়সালা। বরং নেককার ব্যক্তির ব্যাপারে সৎ মুমিনদের স্বতঃস্ফূর্ত উত্তম সাক্ষ্য আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি শুভ লক্ষণ হতে পারে।

আল্লাহ যাঁকে ভালোবাসেন, মানুষও তাঁকে ভালোবাসে
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আল্লাহ যখন কোনো বান্দাকে ভালোবাসেন, তখন জিবরাইল (আ.)-কে বলেন, 'আমি অমুককে ভালোবাসি, তুমিও তাকে ভালোবাস।' এরপর আকাশবাসীদের মধ্যে তাঁর ভালোবাসার ঘোষণা দেওয়া হয়। অতঃপর পৃথিবীতেও তার জন্য গ্রহণযোগ্যতা প্রতিষ্ঠা করে দেওয়া হয়।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস নং : ৩২০৯)

এ কারণেই অনেক নেককার আলেম ও বুযুর্গের মৃত্যুতে অসংখ্য মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে জানাজায় অংশগ্রহণ করেছেন। ইতিহাসে বহু মনীষীর জানাজায় অভূতপূর্ব মানুষের সমাগম ঘটেছে। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল এবং ইবনে তাইমিয়া (রহ.)। 

জানাজায় বহু মানুষের উপস্থিতি কামনা করার চেয়ে এমন জীবন গড়া অধিক গুরুত্বপূর্ণ, যাতে মানুষ মৃত্যুর পর আন্তরিকভাবে আমাদের জন্য দোয়া করে। একজন মুসলমানের লক্ষ্য হওয়া উচিত—
১. আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ইখলাসের সঙ্গে আমল করা।
২. কোরআন ও সুন্নাহর অনুসরণ করে জীবন-যাপন করা।
৩. মানুষের উপকার করা এবং উত্তম চরিত্র গঠন করা।
৪. জীবদ্দশায় এমন আচরণ করা, যাতে মৃত্যুর পর মানুষ কল্যাণের সাক্ষ্য দেয় ও দোয়া করে।
৫. অন্যের জানাজায় অংশগ্রহণ করে তার জন্য আন্তরিকভাবে মাগফিরাতের দোয়া করা।

আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে এমন জীবন দান করুন, যা মাধ্যমে মৃত্যুর পরও মুমিনদের আন্তরিক দোয়ার সৌভাগ্য অর্জন করা। আমিন।
 

বায়তুল মোকাররমের নতুন খতিব কে এই আব্দুল মালেক | কালের কণ্ঠ