• ই-পেপার

রমজানে মুসলিম শাসকদের মেহমানদারির ঐতিহ্য

চারটি মহাবিপদ থেকে বাঁচার নববী দোয়া

ইসলামী জীবন ডেস্ক
চারটি মহাবিপদ থেকে বাঁচার নববী দোয়া
সংগৃহীত ছবি

জীবন চলার পথে মানুষ নানা ধরনের বিপদ, দুঃখ-কষ্ট ও অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়। একজন মুমিন জানে, এসব থেকে প্রকৃত নিরাপত্তা একমাত্র আল্লাহর কাছেই রয়েছে। তাই রাসুলুল্লাহ (সা.) আমাদের এমন একটি পূর্ণাঙ্গ দোয়া শিখেয়েছেন, যাতে জীবনের কঠিন পরীক্ষা, দুর্ভাগ্য, অশুভ পরিণতি এবং শত্রুর আনন্দের কারণ হওয়া থেকে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করা হয়েছে। দোয়াটি হলো-


اللهمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ جَهْدِ الْبَلَاءِ، وَدَرَكِ الشَّقَاءِ، وَسُوءِ الْقَضَاءِ، وَشَمَائَةِ الْأَعْدَاءِ

উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিন জাহদিল বালা-ই ওয়া দারাকিশ শাকা-ই ওয়া সুইল ক্বদা-ই ওয়া শামাতাতিল আদা-ই।

অর্থ : হে আল্লাহ, আমি আপনার কাছে ভয়াবহ বিপদ (বিপদের তীব্রতা), দুর্ভাগ্যে পতিত হওয়া, ভাগ্যের অশুভ পরিণতি এবং দুশমনের খুশি হওয়া থেকে আশ্রয় চাই।

সূত্র : রাসুলুল্লাহ (সা.) ইহকাল ও পরকালের যাবতীয় অনিষ্ট থেকে বাঁচতে সর্বাধিক পরিমাণ এ দোয়া পাঠ করতেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৬৩৪৭; সহিহ মুসলিম, হাদিস : ২৭০৭)
 

হাদিসের বাণী

যখন বান্দার জন্য আল্লাহর ভালোবাসা অবধারিত হয়ে যায়

ইসলামী জীবন ডেস্ক
যখন বান্দার জন্য আল্লাহর ভালোবাসা অবধারিত হয়ে যায়
সংগৃহীত ছবি

আবু ইদরিস খাওলানি (রহ.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি একবার দামেস্কের একটি মসজিদে প্রবেশ করে একজন যুবককে দেখতে পেলাম, যাঁর দাঁত খুবই সুন্দর। তাঁর সঙ্গে অনেক মানুষও বসে আছেন। যখন তারা কোনো বিষয়ে ইখতিলাফ করছে, তার সমাধানের জন্য তাঁর দিকে ফিরছে এবং তাঁর কথাকে গ্রহণ করছে। তখন আমি তার ব্যাপারে জানতে চাইলাম। আমাকে বলা হলো, তিনি হলেন মুআজ ইবনে জাবাল (রা.)।

তারপর আগামীকাল হলে আমি আগে আগে মসজিদে এসে দেখি, তিনি আমার আগেই চলে এসেছেন। সালাত আদায় করছেন। আমি তাঁর সালাত শেষ হওয়ার অপেক্ষায় থাকলাম। সালাত পড়ে আমি তাঁর সামনে এসে সালাম দিয়ে বললাম, ওয়াল্লাহি! আমি আপনাকে আল্লাহর জন্য ভালোবাসি। তিনি বললেন, সত্যি, ওয়াল্লাহি? আমি বললাম, আল্লাহর কসম। পুনরায় তিনি বললেন, আল্লাহর কসম? আমি বললাম, আল্লাহর কসম। তখন তিনি আমার চাদরের কোনা ধরে আমাকে তাঁর দিকে টান দিয়ে বললেন, সুসংবাদ গ্রহণ করো। কেননা আমি মহানবী (সা.)-কে বলতে শুনেছি, আল্লাহ তাআলা বলেছেন, যারা আমার খুশির জন্য পরস্পরকে ভালোবাসে, পরস্পর উঠা-বসা করে এবং আমার সন্তুষ্টির জন্য পরস্পর দেখা-সাক্ষাৎ করে, তাদের জন্য আমার ভালোবাসা অবধারিত হয়ে যায়। (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস নম্বর : ২২০৩০, সহিহ ইবনে হিব্বান, হাদিস নম্বর : ২৫১০)


শিক্ষা ও বিধান 
১. আল্লাহর জন্য কাউকে ভালোবাসা ইবাদত। তাই কোনো ব্যক্তিকে তার ঈমান, তাকওয়া ও নেক আমলের কারণে ভালোবাসা অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ আমল।

২. কাউকে ভালোবাসলে তা প্রকাশ করা সুন্নত। আবু ইদরিস (রহ.) সরাসরি মুআজ (রা.)-কে বলেছিলেন, ‘আমি আপনাকে আল্লাহর জন্য ভালোবাসি।’ এতে বোঝা যায়, কাউকে আল্লাহর জন্য ভালোবাসলে তাকে তা জানিয়ে দেওয়া উত্তম।

৩. নেককার ব্যক্তিদের সান্নিধ্য কাম্য। মানুষ মুআজ ইবনে জাবাল (রা.)-এর কাছে জটিল বিষয়ে সমাধান নিতে আসত। এটি প্রমাণ করে যে জ্ঞানী ও নেককারদের কাছে গিয়ে উপকৃত হওয়া এবং তাদের থেকে শিক্ষা গ্রহণ করা উচিত।

৪. ইলম ও প্রজ্ঞার মর্যাদা অনেক। মুআজ (রা.)-এর মতামত মানুষ গ্রহণ করত। এর মাধ্যমে বোঝা যায় যে ইসলামে জ্ঞান ও প্রজ্ঞার অধিকারীদের বিশেষ সম্মান দেওয়া হয়েছে।

৫. মুমিনের ভ্রাতৃত্বের ভিত্তি হলো আল্লাহর সন্তুষ্টি। তাই আমাদের পারস্পরিক সম্পর্কের মূল ভিত্তি হওয়া উচিত আল্লাহর সন্তুষ্টি; ব্যক্তিগত স্বার্থ বা পার্থিব লাভ নয়।

৬. আল্লাহর জন্য সাক্ষাৎ করা মহৎ আমল। আর যারা আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে একে অপরের সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ করে, তাদের প্রতি আল্লাহর বিশেষ ভালোবাসা অবধারিত হয়ে যায়।

৭. মানুষের ভালোবাসা লাভের চেয়ে অনেক বড় বিষয় হলো আল্লাহর ভালোবাসা অর্জন করা। এই হাদিসে এমন কিছু আমলের কথা বলা হয়েছে, যা আল্লাহর ভালোবাসা নিশ্চিত করে।

এই হাদিস আমাদের শেখায় যে, প্রকৃত ঈমানি সম্পর্ক আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য গড়ে ওঠে। যে ব্যক্তি আল্লাহর জন্য মানুষকে ভালোবাসে, তাদের সঙ্গে ওঠা-বসা করে এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য তাদের সাক্ষাৎ করে, সে আল্লাহর বিশেষ ভালোবাসার অধিকারী হয়ে যায়। একজন মুমিনের জন্য এর চেয়ে বড় সৌভাগ্য আর কী হতে পারে!

জুমার দিন যেসব কাজ পরিহার করা উচিত

ইসলামী জীবন ডেস্ক
জুমার দিন যেসব কাজ পরিহার করা উচিত
সংগৃহীত ছবি

মহান আল্লাহ দিন ও রাত সৃষ্টি করেছেন। সব দিনের মধ্যে জুমার দিন বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ। কোরআন ও হাদিসে এই দিনের বিশেষ সম্মান ও মর্যাদা বর্ণিত হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) জুমার দিনের পাঁচটি বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করেছেন। তা হলো—এক. আল্লাহ তাআলা এই দিন আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করেছেন, দুই. আল্লাহ তাআলা এই দিনে আদম (আ.)-কে জমিনে অবতরণ করিয়েছেন, তিন. এই দিনে আদম (আ.)-কে মৃত্যু দিয়েছেন, চার. এই দিনে এমন সময় আছে যখন বান্দা আল্লাহর কাছে যা কিছুই প্রার্থনা করবে তিনি তা দেবেন। যতক্ষণ না সে হারাম কিছু প্রার্থনা করবে না, পাঁচ. এই দিনে কিয়ামত সংঘটিত হবে।’ (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ৮৯৫)

জুমার দিনটি যেমন মর্যাদা ও ফজিলতে পরিপূর্ণ, তেমনি এই দিনে কিছু নিষিদ্ধ কাজও রয়েছে। এর মধ্যে বেশ কিছু কাজ আমাদের সমাজে প্রচলিত আছে, যেগুলো ইসলামে স্পষ্টভাবে নিষিদ্ধ। জুমার দিনের নিষিদ্ধ কাজ হলো—

আজান হওয়ার পর ব্যবসা-বাণিজ্যে লিপ্ত থাকা : জুমার আজান হওয়ার পর কেনাবেচা করা এবং দুনিয়াবি সব কাজ নিষিদ্ধ। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘হে মুমিনরা! যখন জুমার দিনে সালাতের জন্য আজান দেওয়া হয়, তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণের দিকে ধাবিত হও এবং ব্যবসা ছেড়ে দাও। এটাই তোমাদের জন্য উত্তম যদি তোমরা বুঝ।’ (সুরা : জুমুআ, আয়াত : ৯)

এখানে বেচাকেনা ও ব্যবসা বলতে বোঝানো হয়েছে যাবতীয় ব্যস্ততাকে, তা যেকোনো প্রকারেরই হোক না কেন। জুমার আজানের পর তা ত্যাগ করতে হবে। খুতবা চলাকালীন ঘাড় মাড়িয়ে যাওয়া : খুতবা চলা অবস্থায় মানুষের ঘাড় ডিঙিয়ে সামনের কাতারে যাওয়া নিষেধ। রাসুলুল্লাহ (সা.) খুতবা দিচ্ছিলেন এমন সময় দেখলেন জনৈক ব্যক্তি মানুষের ঘাড় ডিঙিয়ে সামনের দিকে যাচ্ছে। তিনি তাকে বললেন, ‘তুমি বসো, তুমি লোকদের কষ্ট দিচ্ছ।’ (আবু দাউদ, হাদিস : ১১১৮)

খুতবার সময় দুই হাঁটু উঁচু করে বসা : অনেকে দুই হাঁটু খাড়া করে দুই হাত দিয়ে জড়িয়ে বা কাপড় পেঁচিয়ে বসেন। একে আরবিতে ইহতেবা বলা হয়। খুতবা চলাকালীন এভাবে বসা নিষিদ্ধ। রাসুলুল্লাহ (সা.) জুমার দিন ইমামের খুতবা চলাকালে কাউকে হাঁটু খাড়া করে কাপড় জড়িয়ে বসতে নিষেধ করেছেন।’(আবু দাউদ, হাদিস : ১১১০)

খুতবার সময় অনর্থক কথা বলা ও কাজ করা : খুতবার সময় সম্পূর্ণ মনোযোগ দিয়ে খুতবা শোনা জরুরি। খুতবার সময় অনর্থক কথা ও কাজ থেকে বিরত থাকতে হবে। অনেকেই খুতবার সময় মোবাইল টেপা, মেসেজ চেক করা বা সোশ্যাল মিডিয়া স্ক্রল করা ইত্যাদি অনর্থক কাজ করেন। এ কাজগুলো জুমার সওয়াব বাতিল করে দিতে পারে। যেমনটি রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘জুমার দিন যখন তোমার সাথিকে চুপ থাক বলবে, অথচ ইমাম খুতবা দিচ্ছেন, তাহলে তুমি অনর্থক কাজ করলে।’ (বুখারি, হাদিস : ৯৩৪)

খুতবা চলাকালীন ঘুমানো : খুতবার সময় ঘুম চলে এলে অজু ভঙ্গের আশঙ্কা থাকে এবং খুতবার মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হয়। এ বিষয়ে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন,  ‘যদি মসজিদে কোনো ব্যক্তি তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়, তবে সে যেন স্বীয় স্থান ত্যাগ করে অন্যত্র সরে বসে। (আবু দাউদ, হাদিস : ১১১৯)

শুধু জুমার দিন রোজা রাখা : শুধু জুমার দিন নির্দিষ্ট করে সিয়াম পালন করা জায়েজ নয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের কেউ যেন শুধু জুমার দিন সিয়াম পালন না করে। তবে তার আগে এক দিন অথবা পরের দিন (মিলিয়ে রাখবে)।’ (বুখারি, হাদিস : ১৯৮৫)
 

জুমার দিন করণীয় ১৫ আমল

ইসলামী জীবন ডেস্ক
জুমার দিন করণীয় ১৫ আমল
সংগৃহীত ছবি

সপ্তাহের শ্রেষ্ঠ দিন জুমার দিন। আল্লাহ তাআলা এই দিনকে অন্য দিনের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন। তাই জুমার দিনে মুমিনের হৃদয়ে মমতা ও হৃদ্যতার অপার্থিব এক সুখ ফুটে ওঠে। পারস্পরিক সৌহার্দ-সম্প্রীতি ও ভালোবাসার দীপ্তি ছড়িয়ে পড়ে। এ দিনের বিশেষ কিছু ইবাদত ও আমল আছে, যা মহানবী (সা.)-এর জীবনে পাওয়া যায়। নিম্নে সেগুলো সম্পর্কে আলোচনা করা হলো—

১. জুমাবারের ফজরের তিলাওয়াত করা : আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (সা.) শুক্রবার ফজরের নামাজে সুরা আস-সিজদা এবং সুরা আল-ইনসান তিলাওয়াত করতেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ১০৬৮)

জুমার দিন এই সুরা তিলাওয়াত করতেন : কারণ এই সুরাতে আদম (আ.)-এর সৃষ্টির কথা, পুনরুত্থানের কথা, কিয়ামতের দিন সবাইকে সমবেত হওয়া ইত্যাদি বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। আর এসব হবে জুমার দিন। সে জন্য এই সুরা পাঠ করে উম্মতকে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়।

২. বেশি পরিমাণে দরুদ শরিফ পড়া : রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, তোমরা জুমার দিন আমার ওপর বেশি বেশি দরুদ পাঠ কর। কেননা তোমাদের পাঠকৃত দরুদ আমার সামনে পেশ করা হয়। (আবু দাউদ, হাদিস : ১০৪৭)

৩. জুমার নামাজ আদায় করা : ইসলামের যেসব ফরজ বিধান আছে, এর মধ্যে বেশি গুরুত্বপূর্ণ জুমার নামাজ। আরাফার দিবসের পর এদিনই সবচেয়ে বেশি মানুষ একসঙ্গে সমবেত হয়। যারা জুমার নামাজকে অলসতা কিংবা তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে ছেড়ে দেয়, তাদের হৃদয়ে আল্লাহ তাআলা মোহর মেরে দেন।

৪. গোসল করা : এই দিনে বিশেষভাবে গোসল করার তাগিদ এসেছে, সালিম (রহ.) থেকে তাঁর পিতার সূত্র থেকে বর্ণিত, তিনি নবী (সা.)-কে বলতে শুনেছেন, যে ব্যক্তি জুমার নামাজে আসে সে যেন গোসল করে আসে। (তিরমিজি, হাদিস : ৪৯২)

৫. সুগন্ধি ব্যবহার করা : অন্য দিনের চেয়ে এদিন বেশি সুগন্ধি ব্যবহার করা উত্তম। আবু সাইদ খুদরি (রা.) বলেন, আমি এ মর্মে সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেছেন, জুমার দিন সুগন্ধি পাওয়া গেলে তা ব্যবহার করবে। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৮৮০)

৬. দ্রুত মসজিদে যাওয়া : জুমার দিনের ফজিলত লাভে  এই আমল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই এদিকে বিশেষভাবে মনোযোগী হওয়া উচিত। 

৭. ইবাদতে মশগুল থাকা : ইমাম জুমার নামাজে আসার পূর্ব পর্যন্ত নামাজ, জিকির ও তিলাওয়াতে রত থাকা।

৮. খুতবার সময় সম্পূর্ণ নিশ্চুপ থাকা : আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি জুমার দিন ইমামের খুতবা দেওয়ার সময় তার সঙ্গীকে বলল, ‘চুপ থাকো’ সে একটি অনর্থক কাজ করল। (সুনানে নাসায়ি, হাদিস : ১৪০১)

৯. সুরা কাহফ পড়া : আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি জুমার দিন সুরা কাহফ পাঠ করবে তার জন্য দুই জুমার মধ্যবর্তীকাল জ্যোতির্ময় হবে।’ (আত-তারগিব, হাদিস : ৭৩৫)

১০. জুমার নামাজের নির্ধারিত সুরা পাঠ করা : নুমান ইবনে বশির (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) দুই ঈদের নামাজে ও জুমার নামাজে ‘সাব্বিহিসমা রব্বিকাল আলা’ ও ‘হাল আতা-কা হাদিসুল গা-শিয়াহ’ সুরা দুটি পাঠ করতেন। (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ১৯১৩)

কোনো কোনো বর্ণনায় এসেছে, রাসুল (সা.) সুরা জুমুআ ও সুরা আলা তিলাওয়াত করতেন।

১১. পরিচ্ছন্ন ও সুন্দর কাপড় পরিধান করা : আবু জার (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি জুমার দিন উত্তমরূপে গোসল করে, উত্তমরূপে পবিত্রতা অর্জন করে, তার উৎকৃষ্ট পোশাক পরিধান করে এবং আল্লাহ তার পরিবারের জন্য যে সুগন্ধির ব্যবস্থা করেছেন, তা শরীরে লাগায়, এরপর জুমার সালাতে এসে অনর্থক আচরণ না করে এবং দুজনের মাঝে ফাঁক করে অগ্রসর না হয়, তার এক জুমা থেকে পরবর্তী জুমার মধ্যবর্তী সময়ের গুনাহ ক্ষমা করা হয়। (সুনানে ইবনে মাজা, হাদিস : ১০৯৭)

১২. মসজিদে সুগন্ধি লাগানো : ওমর (রা.) জুমার দিন দ্বিপ্রহরে মসজিদে সুগন্ধি লাগানোর জন্য আদেশ করেছেন।

১৩. ক্ষমা প্রার্থনা করা : এদিন মহান রবের পক্ষে গুনাহ মাফের বারি বর্ষিত হয়। মহানবী (সা.) বলেছেন, কোনো মুসলিম যদি পবিত্র হয়ে জামে মসজিদের দিকে হাঁটতে থাকে, এরপর ইমাম নামাজ শেষ করা পর্যন্ত নীরব থাকে, তাহলে এ নামাজ এই জুমা থেকে পরবর্তী জুমা পর্যন্ত তার গুনাহের কাফফারা (মোচনকারী) হয়ে যাবে, যদি ধ্বংসকারী তথা কবীরা গুনাহ থেকে বেঁচে থাকে। (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস ২৩৭২৯)

১৪. মৃতদের জন্য দোয়া করা : জুমার দিন কবরের আজাব মাফ হয়ে যায়। আবু কাতাদাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, মহানবী (সা.) জুমার দিন ছাড়া (অন্য দিন) ঠিক দুপুরে নামাজ আদায় করা অপছন্দ করতেন। তিনি বলেছেন, জুমার দিন ছাড়া (অন্যান্য দিনে) জাহান্নামের আগুনকে উত্তপ্ত করা হয়। (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস : ১০৮৩)

জুমার দিনে বা রাতে যে মারা যাবে, তার থেকে কবরের আজাব উঠিয়ে নেওয়া হবে এটা এই হাদিস থেকে প্রমাণিত। তবে কিয়ামত পর্যন্ত আজাব দেওয়া হবে না এটা নিশ্চিত নয়।

১৫. বেশি বেশি দোয়া করা : বিশেষ সময়ে দোয়া কবুল হয়। আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) বলেন, জুমার দিনের মধ্যে অবশ্যই এমন একটি মুহূর্ত আছে, যখন কোনো মুসলিম আল্লাহর কাছে কল্যাণ প্রার্থনা করে নিশ্চয়ই তিনি তাকে তা দান করেন। তিনি বলেন, সে মুহূর্তটি অতি স্বল্প। (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ১৮৫৮)

বেশির ভাগের মতে, সে সময়টি আসরের পর থেকে নিয়ে মাগরিবের আগ মুহূর্ত। (জাদুল মাআদ থেকে সংক্ষেপিত)
 

রমজানে মুসলিম শাসকদের মেহমানদারির ঐতিহ্য | কালের কণ্ঠ