• ই-পেপার

ভুল স্বীকার করা ব্যক্তিত্বের পরিপন্থী নয়

  • জাওয়াদ তাহের

মক্কার পবিত্র হাতিমে কাবায় প্রবেশের নতুন সময়সূচি

ইসলামী জীবন ডেস্ক
মক্কার পবিত্র হাতিমে কাবায় প্রবেশের নতুন সময়সূচি
সংগৃহীত ছবি

পবিত্র কাবা শরিফসংলগ্ন ঐতিহাসিক ও মর্যাদাপূর্ণ স্থান হাতিমে কাবায় প্রবেশের জন্য পুরুষ ও নারীদের পৃথক সময়সূচি ঘোষণা করেছে দুই পবিত্র মসজিদবিষয়ক সাধারণ প্রেসিডেন্সি। গ্র্যান্ড মসজিদের অভ্যন্তরে চলাচল আরো সুশৃঙ্খল করা এবং মুসল্লিদের জন্য ইবাদতের অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ঘোষণা অনুযায়ী, নারীরা প্রতিদিন সকাল ৬টা থেকে ৯টা পর্যন্ত হাতিমে কাবায় প্রবেশ করতে পারবেন। অন্যদিকে পুরুষদের জন্য সময় নির্ধারণ করা হয়েছে রাত ১০টা থেকে ১টা পর্যন্ত।
প্রেসিডেন্সি জানিয়েছে, হাতিমে কাবায় প্রবেশের সময় নির্ধারণের মূল লক্ষ্য হলো মুসল্লি ও ওমরাহ হজ পালনকারীদের স্বাচ্ছন্দ্যের সঙ্গে ইবাদত করার সুযোগ করে দেওয়া। একই সঙ্গে মসজিদুল হারামের তাওয়াফ এলাকা ও আশপাশের অংশে মানুষের চলাচল নির্বিঘ্ন রাখা এবং অতিরিক্ত ভিড় নিয়ন্ত্রণ করাও এ ব্যবস্থার অন্যতম উদ্দেশ্য।

কর্তৃপক্ষ আরো জানায়, দুই পবিত্র মসজিদে আসা মুসল্লিদের জন্য সর্বোচ্চ মানের সেবা নিশ্চিত করতে তারা ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন পরিকল্পনা ও উন্নয়নমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করে যাচ্ছে। হাতিমে কাবায় প্রবেশের এই নতুন সময়সূচিও সেই বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ।

উল্লেখ্য, ‘হাতিমে কাবা’ কাবা শরিফের উত্তর পাশে অবস্থিত অর্ধবৃত্তাকার প্রাচীরবেষ্টিত একটি পবিত্র স্থান। ইসলামী ঐতিহ্য অনুযায়ী এটি কাবা শরিফের অংশ হিসেবে গণ্য করা হয়। ফলে এখানে নামাজ আদায় ও ইবাদত করার জন্য মুসল্লিদের বিশেষ আগ্রহ লক্ষ করা যায়। নতুন এ সময়সূচির মাধ্যমে মুসল্লিদের ইবাদতের পরিবেশ আরো সুন্দর, শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল হবে বলে আশা প্রকাশ করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

জ্বর উঠলে যে দোয়া পড়বেন

ইসলামী জীবন ডেস্ক
জ্বর উঠলে যে দোয়া পড়বেন
সংগৃহীত ছবি

জ্বর হলে রাসুলুল্লাহ (সা.) সাহাবিদের শরীরে ফুঁ দিয়ে কিছু দোয়া ও আয়াত পড়ার শিক্ষা দিয়েছেন। হাদিস অনুযায়ী সবচেয়ে উত্তম ও কার্যকরী দোয়াটি হলো—

بِسمِ اللهِ الكبيرِ، نعوذُ باللهِ العظيمِ مِن شرِّ عِرْقٍ نعَّارٍ ، ومِن شرِّ حرِّ النَّارِ.

উচ্চারণ : বিসমিল্লাহিল কাবির, আউজুবিল্লাহিল আজিম, মিন শাররি কুল্লি ইরকিন নায়্যার, ওয়া মিন শাররি হাররিন নার। 

অর্থ : ‘মহান আল্লাহর নামে, আমি মহান আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই—প্রবল প্রবাহমান রক্তচাপের আক্রমণ থেকে এবং জাহান্নামের উত্তপ্ত আগুনের অনিষ্ট থেকে।’ (তিরমিজি, হাদিস নং : ২০৭৫) 

পড়ার নিয়ম : রোগী নিজে অথবা অন্য কেউ এই দোয়া পড়ে ৭ বার ফুঁ দিতে পারেন। এ ছাড়া, পবিত্র কোরআনের সুরা ফাতিহা, সুরা ইখলাস, সুর ফালাক ও সুরা নাস পড়ে ফুঁ দেওয়াও অত্যন্ত বরকতময় ও রোগমুক্তির উপায়।
 

গৃহকর্মীদের সঙ্গে আচরণের ক্ষেত্রে যেসব বিষয় লক্ষণীয়

মুফতি ওমর বিন নাছির
গৃহকর্মীদের সঙ্গে আচরণের ক্ষেত্রে যেসব বিষয় লক্ষণীয়
সংগৃহীত ছবি

একটি পরিবারকে সুশৃঙ্খল ও স্বাচ্ছন্দ্যময় রাখতে গৃহকর্মীদের অবদান অনেক সময় নীরব হলেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তারা ঘরের নানা কাজে সহযোগিতা করে পরিবারের সদস্যদের জীবনকে সহজ করে তোলে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে সমাজে অনেক সময় গৃহকর্মীদের অবহেলা, অপমান, শোষণ কিংবা নির্যাতনের শিকার হতে দেখা যায়। ইসলাম এ ধরনের আচরণকে কঠোরভাবে নিরুৎসাহিত করেছে এবং গৃহকর্মী, শ্রমিক ও অধীনস্থদের প্রতি দয়া, সম্মান ও ন্যায়বিচারের নির্দেশ দিয়েছে।

ইসলাম মানুষের মর্যাদাকে বংশ, জাতি, সম্পদ বা পেশার ভিত্তিতে নয়; বরং তাকওয়া ও মানবিকতার ভিত্তিতে মূল্যায়ন করে। তাই একজন গৃহকর্মীও একজন পূর্ণাঙ্গ মানুষ, যার সম্মান, অধিকার ও অনুভূতি রয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁর জীবন ও শিক্ষার মাধ্যমে গৃহকর্মীদের সঙ্গে সদাচরণের সর্বোত্তম দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

১. গৃহকর্মীদের ভাই-বোনের মতো মনে করা
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের অধীনস্থরা তোমাদের ভাই। আল্লাহ তাদেরকে তোমাদের অধীনে রেখেছেন।’ তিনি আরো বলেন, ‘তোমরা যা খাও তাদেরকেও তা খেতে দাও এবং তোমরা যা পরিধান কর তাদেরকেও তা পরতে দাও।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৩০)
এই হাদিসে রাসুল (সা.) গৃহকর্মীদের দাস বা চাকর হিসেবে নয়; বরং ভাই হিসেবে বিবেচনা করার শিক্ষা দিয়েছেন। তাই তাদের সঙ্গে অহংকারপূর্ণ নয়, বরং মানবিক আচরণ করা উচিত।

২. সম্মান ও মর্যাদার সঙ্গে কথা বলা
আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘মানুষের সঙ্গে উত্তম কথা বল।’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ৮৩)
গৃহকর্মীদের সঙ্গে রূঢ়, অপমানজনক বা তুচ্ছতাচ্ছিল্যপূর্ণ ভাষায় কথা বলা ইসলামের আদর্শ নয়। তাদের ভুল হলে সুন্দরভাবে বুঝিয়ে বলা উচিত। কারণ কোমল ভাষা মানুষের হৃদয় জয় করে, আর কঠোর ভাষা বিদ্বেষ সৃষ্টি করে।

৩. কাজের ক্ষেত্রে সামর্থ্যের প্রতি খেয়াল রাখা
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তাদের ওপর এমন কাজ চাপিয়ে দিও না যা তাদের সাধ্যের বাইরে। যদি চাপিয়েই দাও, তবে তাদেরকে সাহায্য কর।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৩০)
অনেক সময় গৃহকর্মীদের ওপর অতিরিক্ত কাজের বোঝা চাপিয়ে দেওয়া হয়। ইসলাম এ ধরনের জুলুমকে সমর্থন করে না। কাজের সময়, বিশ্রাম ও শারীরিক সক্ষমতার প্রতি লক্ষ্য রাখা কর্তব্য।

৪. খাদ্য, পোশাক ও মৌলিক চাহিদার প্রতি যত্নবান হওয়া
ইসলাম শুধু কাজ নেওয়ার কথা বলেনি; বরং তাদের মৌলিক প্রয়োজন পূরণের প্রতিও গুরুত্ব দিয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘তোমরা যা খাও তাদেরও তা খেতে দাও এবং তোমরা যা পরিধান কর তাদেরও তা পরতে দাও।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ১৬৬১)
এ হাদিসের অর্থ হলো, গৃহকর্মীদের মানুষ হিসেবে মর্যাদা দিতে হবে এবং তাদের জীবনযাপনের ন্যূনতম প্রয়োজনগুলোর প্রতি উদাসীন হওয়া যাবে না।

৫. নির্যাতন ও অবিচার থেকে বিরত থাকা
আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ জালিমদের ভালোবাসেন না।’ (সুরা : আলে ইমরান, আয়াত : ৫৭)
গৃহকর্মীদের শারীরিক, মানসিক বা আর্থিক নির্যাতন করা গুরুতর গুনাহ। তাদের বেতন আটকে রাখা, অন্যায়ভাবে গালমন্দ করা বা মারধর করা ইসলামে নিষিদ্ধ। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাদের বিরুদ্ধে স্বয়ং বাদী হবেন, যারা শ্রমিককে কাজ করিয়ে তার প্রাপ্য মজুরি দেয় না।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ২২২৭)

৬. ভুলত্রুটি হলে ক্ষমাশীল হওয়া
মানুষ মাত্রই ভুল করে। গৃহকর্মীরাও এর ব্যতিক্রম নয়। এক ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞেস করলেন, ‘আমি আমার খাদেমকে দিনে কতবার ক্ষমা করব?’ তিনি বললেন, ‘প্রতিদিন সত্তর বার।’ (সুনান আবু দাউদ, হাদিস : ৫১৬৪) এর অর্থ হলো, গৃহকর্মীদের ছোটখাটো ভুলত্রুটির ক্ষেত্রে ক্ষমাশীল ও সহনশীল হওয়া একজন মুমিনের গুণ।

৭. তাদের হক ও পারিশ্রমিক যথাসময়ে প্রদান করা
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘শ্রমিকের ঘাম শুকানোর আগেই তার মজুরি দিয়ে দাও।’ (সুনান ইবন মাজাহ, হাদিস : ২৪৪৩)
গৃহকর্মীদের বেতন বিলম্বিত করা বা অযথা কাটছাঁট করা ইসলামের দৃষ্টিতে অন্যায়।

৮. তাদের জন্য দোয়া করা ও কল্যাণ কামনা করা
একজন মুমিন শুধু নিজের জন্য নয়; বরং তার অধীনস্থদের জন্যও কল্যাণ কামনা করে। গৃহকর্মীদের সুখ-দুঃখের খোঁজ নেওয়া, অসুস্থ হলে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা এবং তাদের পরিবারের জন্য সহানুভূতি প্রদর্শন করা ইসলামী চরিত্রের অংশ।

৯. রাসুলুল্লাহ (সা.) এর অনুপম আদর্শ
আনাস ইবন মালিক (রা.) বলেন, ‘আমি দশ বছর রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর খেদমত করেছি। তিনি কখনো আমাকে ‘উফ’ পর্যন্ত বলেননি এবং কোনো কাজের জন্য বলেননি, ‘এটা কেন করলে?’ বা ‘এটা কেন করলে না?’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ২৩০৯)
এটি মানব ইতিহাসে একজন নিয়োগকর্তার পক্ষ থেকে কর্মচারীর প্রতি সর্বোচ্চ সৌজন্য ও দয়ার দৃষ্টান্ত।

১০. তাদের সঙ্গে সদাচারকে ইবাদত মনে করা
ইসলাম এমন একটি জীবনব্যবস্থা, যা সমাজের দুর্বল ও অধীনস্থ মানুষের অধিকার রক্ষায় সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়েছে। গৃহকর্মীরা আমাদের সেবক নয়; বরং আল্লাহর সৃষ্টি হিসেবে সম্মান ও মর্যাদার অধিকারী মানুষ। তাদের সঙ্গে সদাচরণ করা শুধু সামাজিক দায়িত্ব নয়, বরং এটি একটি মহান ইবাদতও বটে। যে ব্যক্তি তার গৃহকর্মীর প্রতি দয়া, ন্যায় ও মানবিকতা প্রদর্শন করে, সে প্রকৃতপক্ষে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহ অনুসরণ করে।

আসুন, আমরা আমাদের ঘরে কর্মরত প্রত্যেক মানুষের সঙ্গে এমন আচরণ করি, যাতে তারা আমাদের কাছ থেকে সম্মান, নিরাপত্তা ও ভালোবাসা অনুভব করতে পারে। কেননা মানুষের প্রতি দয়া প্রদর্শনই আল্লাহর দয়া লাভের অন্যতম মাধ্যম। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে গৃহকর্মীসহ সকল মানুষের হক যথাযথভাবে আদায় করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

আমরা কেন ঈমান আনি

মাওলানা সাখাওয়াত উল্লাহ
আমরা কেন ঈমান আনি
সংগৃহীত ছবি

ঈমান শুধু কোনো সামাজিক উত্তরাধিকার নয়, কোনো পরিবেশের অন্ধ অনুসরণ নয়, কোনো বংশপরম্পরায় চলে আসা অভ্যাসও নয়; বরং ঈমান হলো এক মহান সত্য, যার ওপর আসমান ও জমিন প্রতিষ্ঠিত এবং যার ওপর নির্ভর করে দুনিয়া ও আখিরাতের সফলতা।

মহান আল্লাহ আমাদের কাছে অন্ধ ঈমান চাননি কিংবা প্রমাণহীন কোনো বিশ্বাসও চাননি; বরং তিনি ঈমানকে দুটি মহান বিষয়ের ওপর প্রতিষ্ঠিত করেছেন—

প্রথমত, সত্যকে চেনার জন্য বিবেক ও বুদ্ধির আলো।
দ্বিতীয়ত, অন্তরকে সঠিক পথ দেখানোর জন্য ওহির আলো। এ কারণেই আজকের আলোচনার বিষয়—‘আমরা কেন ঈমান আনি।’ গোটা বিশ্ব আল্লাহর অস্তিত্বের সাক্ষ্য দেয়।

প্রথমত, একটু চিন্তা করুন এই মহাবিশ্ব নিয়ে, যেখানে আমরা বসবাস করছি। একটি উঁচু আকাশ, বিস্তৃত পৃথিবী, সূর্য ও চন্দ্র, আর দিগন্তজুড়ে অসংখ্য নিদর্শন। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘নিশ্চয়ই আসমান ও জমিনের সৃষ্টিতে এবং রাত ও দিনের পরিবর্তনে জ্ঞানীদের জন্য নিদর্শন রয়েছে।’ (সুরা : আলে ইমরান, আয়াত : ১৯০)

এসব শুধু সৌন্দর্যের দৃশ্য নয়; বরং এগুলো হলো নিদর্শন, প্রমাণ ও ইঙ্গিত, যা আমাদের সেই স্রষ্টার দিকে নিয়ে যায়, যিনি সৃষ্টি করেছেন এবং নিখুঁত করেছেন।

সুস্থ বিবেক যখন এই মহাবিশ্বের শৃঙ্খলা ও নিখুঁত ব্যবস্থাপনা দেখে, তখন সে বুঝতে পারে—এর পেছনে অবশ্যই একজন প্রজ্ঞাময় স্রষ্টা রয়েছেন।
কোরআন এমন এক স্পষ্ট প্রশ্ন করেছে, যার পর অস্বীকারের কোনো সুযোগ থাকে না—‘তারা কি কোনো কিছু ছাড়াই সৃষ্টি হয়েছে, নাকি তারা নিজেরাই নিজেদের স্রষ্টা?’ (সুরা : আত-তুর, আয়াত : ৩৫)

মানুষ নিজেই আল্লাহর নিদর্শন 
মহান আল্লাহ বলেন, ‘এবং তোমাদের নিজেদের মধ্যেও (নিদর্শন আছে), তবে কি তোমরা দেখতে পাও না?’ (সুরা : আজ-জারিয়াত, আয়াত : ২১)

নিজের দিকে তাকাও—একটি হৃদয়, যা তোমার অনুমতি ছাড়াই অবিরাম স্পন্দিত হচ্ছে। একটি শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যবস্থা, যা নিজে থেকেই চলছে। চোখ, যা দেখে। কান, যা শোনে। বুদ্ধি, যা চিন্তা করে, বিশ্লেষণ করে, তুলনা করে এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।

তুমি দীর্ঘ সময় ঘুমিয়ে থাকলেও তোমার ভেতরে একটি ব্যবস্থা অবিরাম কাজ করে যাচ্ছে—হৃৎস্পন্দনের নিয়মিততা, কোষের পুনর্গঠন, শরীরের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।

এসব কে তোমার মধ্যে স্থাপন করেছেন? আল্লাহ বলেন, ‘যিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর তোমাকে সুবিন্যস্ত করেছেন এবং সুষম করেছেন। তিনি যেভাবে চেয়েছেন, সেভাবেই তোমাকে গঠন করেছেন।’ (সুরা : আল-ইনফিতার. আয়াত : ৭-৮)

মানুষের স্বভাব আল্লাহকে চিনতে প্রস্তুত
ঈমান কোনো আকস্মিক ধারণা নয়; বরং এটি অন্তরের একটি মূল স্বভাব। মানুষ আল্লাহকে চেনার স্বাভাবিক প্রবণতা নিয়ে জন্মগ্রহণ করে। আল্লাহ বলেন, ‘এটাই আল্লাহর সেই স্বভাব, যার ওপর তিনি মানুষকে সৃষ্টি করেছেন।’ (সুরা : আর-রুম, আয়াত : ৩০)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘প্রত্যেক শিশু ফিতরাতের ওপর জন্মগ্রহণ করে। অতঃপর তার পিতা-মাতা তাকে ইহুদি, খ্রিস্টান অথবা অগ্নিপূজক বানায়।’ (সহিহ বুখারি ও মুসলিম)

তাই যখন ভয় তীব্র হয়, যখন বিপদ-সংকট নেমে আসে, যখন কঠিন পরীক্ষা আসে—তখন মানুষের অন্তরের পর্দাগুলো সরে যায় এবং তার প্রকৃত স্বভাব প্রকাশ পায়। তখন সে কী বলে? সে বলে—‘হে আমার রব! হে আল্লাহ!’ এ বিষয়ে মহান আল্লাহ বলেন, ‘যখন তারা নৌযানে আরোহণ করে, তখন তারা একনিষ্ঠভাবে আল্লাহকে ডাকে। অতঃপর তিনি যখন তাদের স্থলে পৌঁছে দেন, তখন তারা আবার শিরক করে।’ (সুরা : আল-আনকাবুত, আয়াত : ৬৫)

আল্লাহ আমাদের উদ্দেশ্যহীনভাবে ছেড়ে দেননি
যদি মানুষ কোনো উদ্দেশ্য ছাড়া সৃষ্টি হতো, তাহলে তার জীবন হতো এক বিভ্রান্তি। তখন সত্য ও মিথ্যার মধ্যে কোনো পার্থক্য থাকত না। কিন্তু আল্লাহর রহমত ও প্রজ্ঞা এ কথা অনুমোদন করে না যে তিনি আমাদের সৃষ্টি করবেন এবং কোনো পথনির্দেশ ছাড়াই ছেড়ে দেবেন। আল্লাহ বলেন, ‘আমি রাসুলদের সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবে পাঠিয়েছি, যাতে রাসুলদের পরে মানুষের জন্য আল্লাহর বিরুদ্ধে কোনো অজুহাত না থাকে।’ (সুরা : আন-নিসা, আয়াত : ১৬৫)

তিনি রাসুল পাঠিয়েছেন, কিতাব নাজিল করেছেন এবং সর্বশেষে মুহাম্মদ (সা.)-কে পাঠিয়েছেন। তাঁর                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                      মাধ্যমে দিয়েছেন মহান কোরআন—যা হলো আলো, হেদায়েত ও শেফা। আল্লাহ বলেন, ‘হে মানুষ! তোমাদের রবের পক্ষ থেকে তোমাদের কাছে প্রমাণ এসেছে এবং আমি তোমাদের প্রতি সুস্পষ্ট আলো নাজিল করেছি।’ (সুরা : আন-নিসা, আয়াত : ১৭৪)

কোরআন হলো আল্লাহকে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার গ্রন্থ। জীবনের উদ্দেশ্য বুঝিয়ে দেওয়ার গ্রন্থ। ভুল ধারণা সংশোধনের গ্রন্থ; ন্যায় প্রতিষ্ঠার গ্রন্থ এবং আত্মাকে পবিত্র করার গ্রন্থ। এটিই মানুষকে ঈমানের পথে নিয়ে যায়।

ইবাদত মানুষকে তার প্রকৃত অবস্থানে ফিরিয়ে দেয়
আল্লাহ বলেন, ‘হে মানুষ! তোমরা তোমাদের সেই রবের ইবাদত কর, যিনি তোমাদের সৃষ্টি করেছেন।’ (সুরা : আল-বাকারাহ, আয়াত : ২১)

আল্লাহ ইবাদতের সঙ্গে সৃষ্টির সম্পর্ক স্থাপন করেছেন। যিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন, তিনিই তোমার আনুগত্যের সর্বাধিক অধিকারী। যিনি তোমাকে রিজিক দিয়েছেন, তিনিই তোমার আশা করার সর্বাধিক যোগ্য। যিনি তোমার সব বিষয় পরিচালনা করেন, তাঁর ওপরই তোমার ভরসা করা উচিত।

ইবাদত মানে হলো অন্তরকে তার সঠিক স্থানে ফিরিয়ে আনা। তোমার হৃদয় আল্লাহর সঙ্গে থাকবে, প্রবৃত্তির সঙ্গে নয়। তোমার আশা আল্লাহর কাছে থাকবে; মানুষের কাছে নয়। তোমার নির্ভরতা আল্লাহর ওপর থাকবে; শুধু উপকরণের ওপর নয়। তাই আল্লাহ বলেন, ‘জেনে রাখ, আল্লাহর স্মরণেই অন্তরসমূহ প্রশান্তি লাভ করে।’ (সুরা : আর-রাদ, আয়াত : ২৮)

ঈমান অন্তরকে সংশোধন করে, ফলে বাহ্যিক আচরণ সুন্দর হয়। ঈমান বিবেককে পবিত্র করে, ফলে চরিত্র সঠিক হয়। ঈমান মানুষকে মানুষের দাসত্ব থেকে মুক্ত করে মানুষের রবের দাসত্বে নিয়ে যায়।

হে আল্লাহ! দুনিয়া ও তার সবকিছুর চেয়ে ঈমানকে আমাদের কাছে বেশি প্রিয় করে দিন।

ভুল স্বীকার করা ব্যক্তিত্বের পরিপন্থী নয় | কালের কণ্ঠ