• ই-পেপার

দোষ প্রমাণ হলে নাসির-তামিমার হতে পারে ৭ বছরের কারাদণ্ড

ক্রিকেটার নাসির-তামিমা দম্পতির মামলার রায় দুপুর ১২টায়

অনলাইন ডেস্ক
ক্রিকেটার নাসির-তামিমা দম্পতির মামলার রায় দুপুর ১২টায়
ক্রিকেটার নাসির হোসাইন ও তার স্ত্রী তামিমা সুলতানা তাম্মি। ছবি : সংগৃহীত

জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাসির হোসাইন ও তার স্ত্রী তামিমা সুলতানা তাম্মির বিরুদ্ধে দায়ের করা আলোচিত মামলার রায় আজ বুধবার দুপুর ১২টায় ঘোষণা করা হবে।

ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালত এ রায় ঘোষণা করবেন। অন্যের স্ত্রীকে প্রলুব্ধ করে নিয়ে যাওয়া, ব্যভিচার ও মানহানির অভিযোগে দায়ের করা এ মামলায় গত ৬ মে উভয়পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে রায়ের জন্য দিন ধার্য করা হয়।

ওইদিন শুনানিতে তাদের (নাসির-তামিমা) সর্বোচ্চ সাজার আবেদন করেন বাদীপক্ষের আইনজীবী ইশরাত হাসান। তবে তাদের নির্দোষ দাবি করে খালাসের আবেদন জানান আসামিপক্ষের আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু।

২০২১ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি উত্তরার একটি রেস্তোরাঁয় জাতীয় দলের এক সময়ের ক্রিকেটার নাসির ও তামিমার বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। কিন্তু তামিমা তার আগের স্বামীকে তালাক না দিয়েই এই বিয়ে করেন বলে অভিযোগ ওঠে। এই ঘটনায় তামিমার আগের স্বামী রাকিব একই বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি তার ও নাসিরের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।

একই বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর নাসির ও তামিমার বিরুদ্ধে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এরপর ২০২২ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি অভিযোগ গঠন করে আদালত।

এই মামলায় দোষ প্রমাণিত হলে ৫ থেকে ৭ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবেন ক্রিকেটার নাসির ও তার স্ত্রী তামিমা। 

মানবতাবিরোধী অপরাধ

শামীম ওসমানসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু আজ

অনলাইন ডেস্ক
শামীম ওসমানসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু আজ
সংগৃহীত ছবি

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নারায়ণগঞ্জে ১০ জনকে হত্যার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক এমপি শামীম ওসমানসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ আজ বুধবার (১০ জুন) থেকে শুরু হবে।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন করবে প্রসিকিউশন। এরপর সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হবে।

এ মামলায় আসামিদের সবাই পলাতক রয়েছেন। তাদের মধ্যে শামীম ওসমান ছাড়া অন্যরা হলেন—শামীম ওসমানের ছেলে ইমতিনান ওসমান অয়ন, ভাতিজা আজমেরী ওসমান, অয়নের শ্যালক মিনহাজ উদ্দিন আহমেদ ভিকি, নারায়ণগঞ্জ রাইফেলস ক্লাবের সাবেক সভাপতি তানভীর আহমেদ টিটু, বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ডিবিসির নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি রাজু আহমেদ, ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর আব্দুল করিম বাবু, ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর কামরুল হাসান মুন্না, নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক শাহ নিজাম উদ্দিন আহমেদ, যুবলীগ নেতা শাহাদাত হোসেন সাজনু, ছাত্রলীগ নেতা হাবিবুর রহমান রিয়াদ ও সোহানুর রহমান শুভ্র।

এর আগে, ১৩ মে প্রসিকিউশনের আনা তিনটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে ১২ জনের বিরুদ্ধে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-১। একই সঙ্গে সূচনা বক্তব্যসহ সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আজকের দিন ধার্য করা হয়।

মামলার এজাহারে তিনটি অভিযোগ করা হয়েছে। প্রথম অভিযোগে ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার চাষাঢ়া, ফতুল্লা থানাধীন সাইনবোর্ডসহ আশপাশের এলাকায় কিশোর আদিল, ইয়াছিন, শিক্ষার্থী পারভেজ, পোশাককর্মী রাসেল, ছয় বছরের শিশু রিয়াসহ ছয়জনকে হত্যা করা হয়। দ্বিতীয় অভিযোগ অনুযায়ী ২১ জুলাই ফতুল্লা থানাধীন ভূইগড় বাসস্ট্যান্ডের সামনে আবদুর রহমান ও মোহাম্মদ রাকিবকে হত্যা করা হয়। এ ছাড়া তৃতীয় অভিযোগে ৫ আগস্ট বদিউজ্জামান ও আবুল হাসানকে হত্যার কথা উল্লেখ করে প্রসিকিউশন।

চলতি বছরের ১৯ জানুয়ারি প্রসিকিউশনের দাখিলকৃত ফরমাল চার্জ বা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল। তবে আসামিরা পলাতক থাকায় তাদের অনুপস্থিতিতেই সরকারি খরচে আইনজীবী নিয়োগ দিয়ে চলছে বিচারকাজ।

ধর্ষণ ও হত্যা মামলা

সাড়ে ৪ বছরেও বিচার শেষ না হওয়ায় হবিগঞ্জের বিচারককে তলব

নিজস্ব প্রতিবেদক
সাড়ে ৪ বছরেও বিচার শেষ না হওয়ায় হবিগঞ্জের বিচারককে তলব
সংগৃহীত ছবি

আইন অনুযায়ী ৬ মাসের বিচার শেষ করার কথা থাকলেও সাড়ে ৪ বছরেও একটি ধর্ষণ ও হত্যা মামলার বিচার শেষ না হওয়ায় হবিগঞ্জের তৃতীয় নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ ট্রাইব্যুনালের বিচারক সৈয়দা মিনহাজ উম মুনিরাকে তলব করেছেন হাইকোর্ট। আগামী ২৩ জুন সশরীরে হাজির হয়ে তাঁকে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার বিচারপতি কে এম ইমরুল কায়েশ ও বিচারপতি মো. সাগরির হোসেনের হাইকোর্ট বেঞ্চে স্বপ্রণোদিত হয়ে এই আদেশ দেন। আসামি গোলাম হোসেনের জামিন আবেদনে শুনানিতে পাঁচ বছরেও মামলার বিচার শেষ না হওয়ার বিষয়টি উঠে আসে। এরপর হাইকোর্ট স্বপ্রণোদিত হয়ে সংশ্লিষ্ট বিচারককে তলবের আদেশ দেন বলে জানান ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ মহসিন কবির। জামিন আবেদনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী মো. আব্দুর রাজ্জাক।

পাঁচ বছরেও বিচার শেষ না হওয়ায় হাইকোর্ট উষ্মা প্রকাশ করেছেন জানিয়ে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ মহসিন কবির কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ এর ২০(৩) ধারার বিধান অনুযায়ী অভিযোগ গঠনের ১৮০ দিনের মামলার বিচারকাজ শেষ করার বাধ্যবাধকতা থাকলেও এখন পর্যন্ত মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণই শুরু হয়নি। দুই আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি থাকার পরও গত পাঁচ বছরে মামলার ট্রায়াল (বিচার) শুরু না হওয়ার বিষয়টি আদালতের নজরে আসে। তখন আদালত বিচারক সৈয়দা মিনহাজ উম মুনিরাকে তলব করেন। আগামী ২৩ জুন তাঁকে সশরীরের আদালতে হাজির হতে বলা হয়েছে।’

বিচার শেষ না হওয়া নিয়ে হাইকোর্ট কী বলেছেন, জানতে চাইলে এই আইন কর্মকর্তা বলেন, ‘পাঁচ বছরেও একটি ধর্ষণ ও হত্যা মামলার বিচার শেষ হওয়ায় সমাজে খারাপ বার্তা যাচ্ছে। সঠিক সময়ে বিচার হচ্ছে না দেখেই সমাজে এ ধরনের অপরাধ বাড়ছে।’

জামিন আবেদনের নথি থেকে জানা যায়, ২০২১ সালের ২৭ ডিসেম্বর সকালে হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার বাগাউড়া এলাকায় ধানক্ষেত থেকে গলা কাটা ও হাত-পা বাঁধা এক কিশোরীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরদিন কিশোরীর বাবা নবীগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটি তদন্তের পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) দায়িত্ব দেওয়া হয়। তদন্তের দায়িত্ব পাওয়ার দুইদিনের মাথায় আসামি খলিল উদ্দিন ও তার সহযোগী গোলাম হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে দুই আসামিই স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। পরে দ্রুত সময়ের মধ্যে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন পিবিআই। ওই বছরই দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। কিন্তু এখন পর্যন্ত সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু না হওয়ায় চলতি বছর জামিন চেয়ে আবেদন করেন আসামি গোলাম হোসেন। গত ২০ জানুয়ারি আবেদনটি নাকচ করলে হাইকোর্টে জামিন চেয়ে আবেদন করেন আসামি।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) আইন, ২০২৬ এর মাধ্যমে বড় পরিবর্তন আনা হয়। যা কার্যকর হয়েছে গত বছর ২৫ মার্চ থেকে। এই সংশোধন অনুযায়ী ধর্ষণের মামলার বিচার কাজ শেষ করার সময়সীমা ১৮০ দিন থেকে কমিয়ে ৯০ দিন আর ধর্ষণের মামলার তদন্তের সময়সীমা ৩০ দিন থেকে কমিয়ে ১৫ দিন করা হয়েছে।

সেই যুগ্ম সচিবের মায়ের মৃত্যুর কারণ নির্ণয়ে তদন্ত কমিটি গঠনে রুল জারি হাইকোর্টের

নিজস্ব প্রতিবেদক
সেই যুগ্ম সচিবের মায়ের মৃত্যুর কারণ নির্ণয়ে তদন্ত কমিটি গঠনে রুল জারি হাইকোর্টের
সংগৃহীত ছবি

মৃত্যুর কয়েকদিন পর রাজধানীর মিরপুরের একটি বাসা থেকে লাশ উদ্ধার করা ৭৫ বছর বয়সী নূর জাহান বেগমের মৃত্যুর কারণ নির্ণয়ে তদন্ত কমিটি গঠন নিয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেটের নিচে নন, এমন একজন বিচারিক কর্মকর্তার নেতৃত্বে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে রুলে।

আজ মঙ্গলবার এক রিটে প্রাথমিক শুনানির পর বিচারপতি ফাতেমা নজীব ও বিচারপতি এ এফ এম সাইফুল করিমের হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রুল দেন। স্বরাষ্ট্র সচিব, আইন সচিব, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব, সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, পুলিশের মহাপরিদর্শক, ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনার ও মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

গত ৩১ মে মিরপুরের একটি বাসা থেকে নূর জাহান বেগমের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তাঁর এক ছেলে যুগ্ম সচিব, এক ছেলে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষক এবং এক মেয়ে স্থানীয় একটি স্কুলে শিক্ষকতা করেন বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবরে উঠে এসেছে। 

পুলিশ জানিয়েছে, নূর জাহান বেগমের লাশ উদ্ধারের সময় তাতে পোকার অস্তিত্ব দেখা গেছে। আর যে কক্ষ থেকে নূর জাহান বেগমের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে, সেটি ছিল অত্যন্ত নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর। লাশ উদ্ধারের সময় বা আগে-পরে ধারণ করা ওই কক্ষের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সমালোচনার ঝড় ওঠে। এ ঘটনায় বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর-প্রতিবেদন যুক্ত করে হাইকোর্টে রিট করেন ঢাকা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের আইনজীবী মোহাম্মদ শরীফ সরকার। রিটে নূর জাহান বেগমের মৃত্যুর কারণ নির্ণয়ে তদন্ত কমিটি গঠণের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছিল।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী এইচ এম সানজীদ সিদ্দিকী। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মির্জা আল মাহমুদ ও আখতার হোসেন মো. আবদুল ওয়াহাব।