• ই-পেপার

সেই যুগ্ম সচিবের মায়ের মৃত্যুর কারণ নির্ণয়ে তদন্ত কমিটি গঠনে রুল জারি হাইকোর্টের

ধর্ষণ ও হত্যা মামলা

সাড়ে ৪ বছরেও বিচার শেষ না হওয়ায় হবিগঞ্জের বিচারককে তলব

নিজস্ব প্রতিবেদক
সাড়ে ৪ বছরেও বিচার শেষ না হওয়ায় হবিগঞ্জের বিচারককে তলব
সংগৃহীত ছবি

আইন অনুযায়ী ৬ মাসের বিচার শেষ করার কথা থাকলেও সাড়ে ৪ বছরেও একটি ধর্ষণ ও হত্যা মামলার বিচার শেষ না হওয়ায় হবিগঞ্জের তৃতীয় নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ ট্রাইব্যুনালের বিচারক সৈয়দা মিনহাজ উম মুনিরাকে তলব করেছেন হাইকোর্ট। আগামী ২৩ জুন সশরীরে হাজির হয়ে তাঁকে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার বিচারপতি কে এম ইমরুল কায়েশ ও বিচারপতি মো. সাগরির হোসেনের হাইকোর্ট বেঞ্চে স্বপ্রণোদিত হয়ে এই আদেশ দেন। আসামি গোলাম হোসেনের জামিন আবেদনে শুনানিতে পাঁচ বছরেও মামলার বিচার শেষ না হওয়ার বিষয়টি উঠে আসে। এরপর হাইকোর্ট স্বপ্রণোদিত হয়ে সংশ্লিষ্ট বিচারককে তলবের আদেশ দেন বলে জানান ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ মহসিন কবির। জামিন আবেদনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী মো. আব্দুর রাজ্জাক।

পাঁচ বছরেও বিচার শেষ না হওয়ায় হাইকোর্ট উষ্মা প্রকাশ করেছেন জানিয়ে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ মহসিন কবির কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ এর ২০(৩) ধারার বিধান অনুযায়ী অভিযোগ গঠনের ১৮০ দিনের মামলার বিচারকাজ শেষ করার বাধ্যবাধকতা থাকলেও এখন পর্যন্ত মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণই শুরু হয়নি। দুই আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি থাকার পরও গত পাঁচ বছরে মামলার ট্রায়াল (বিচার) শুরু না হওয়ার বিষয়টি আদালতের নজরে আসে। তখন আদালত বিচারক সৈয়দা মিনহাজ উম মুনিরাকে তলব করেন। আগামী ২৩ জুন তাঁকে সশরীরের আদালতে হাজির হতে বলা হয়েছে।’

বিচার শেষ না হওয়া নিয়ে হাইকোর্ট কী বলেছেন, জানতে চাইলে এই আইন কর্মকর্তা বলেন, ‘পাঁচ বছরেও একটি ধর্ষণ ও হত্যা মামলার বিচার শেষ হওয়ায় সমাজে খারাপ বার্তা যাচ্ছে। সঠিক সময়ে বিচার হচ্ছে না দেখেই সমাজে এ ধরনের অপরাধ বাড়ছে।’

জামিন আবেদনের নথি থেকে জানা যায়, ২০২১ সালের ২৭ ডিসেম্বর সকালে হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার বাগাউড়া এলাকায় ধানক্ষেত থেকে গলা কাটা ও হাত-পা বাঁধা এক কিশোরীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরদিন কিশোরীর বাবা নবীগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটি তদন্তের পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) দায়িত্ব দেওয়া হয়। তদন্তের দায়িত্ব পাওয়ার দুইদিনের মাথায় আসামি খলিল উদ্দিন ও তার সহযোগী গোলাম হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে দুই আসামিই স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। পরে দ্রুত সময়ের মধ্যে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন পিবিআই। ওই বছরই দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। কিন্তু এখন পর্যন্ত সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু না হওয়ায় চলতি বছর জামিন চেয়ে আবেদন করেন আসামি গোলাম হোসেন। গত ২০ জানুয়ারি আবেদনটি নাকচ করলে হাইকোর্টে জামিন চেয়ে আবেদন করেন আসামি।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) আইন, ২০২৬ এর মাধ্যমে বড় পরিবর্তন আনা হয়। যা কার্যকর হয়েছে গত বছর ২৫ মার্চ থেকে। এই সংশোধন অনুযায়ী ধর্ষণের মামলার বিচার কাজ শেষ করার সময়সীমা ১৮০ দিন থেকে কমিয়ে ৯০ দিন আর ধর্ষণের মামলার তদন্তের সময়সীমা ৩০ দিন থেকে কমিয়ে ১৫ দিন করা হয়েছে।

দুই মামলায় দীপু মনির জামিন

১৩ মামলায় জামিনের প্রশ্নে হাইকোর্টের রুল জারি

নিজস্ব প্রতিবেদক
দুই মামলায় দীপু মনির জামিন
সংগৃহীত ছবি

রাজধানীর পল্টন থানার এক মামলায় অন্তর্বর্তী জামিন পেয়েছেন সাবেক মন্ত্রী ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দীপু মনি।

মঙ্গলবার বিচারপতি মো. খায়রুল আলম ও বিচারপতি এ কে এম রবিউল হাসানের হাইকোর্ট বেঞ্চ তাকে এ জামিন দেন। হত্যাচেষ্টার এক মামলায় কেন তাকে নিয়মিত জামিন দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয় রুলও জারি করেছেন আদালত।

দীপু মনির আইনজীবী মো. রমজান আলী শিকদার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ, হত্যা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে জুলাই অভ্যুত্থানের আগে-পরের মোট ৩৮টি মামলা রয়েছে ডা. দীপু মনির বিরুদ্ধে। এর মধ্যে দুটি মামলা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন। বাকি মামলাগুলোর মধ্যে দুইটিতে হাইকোর্ট রুলসহ জামিন দিয়েছেন। এ ছাড়া ১৩টি মামলায় তাঁর জামিনের প্রশ্নে রুল জারি করা হয়েছে।’

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের ১৫ বছরে তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন দীপু মনি। ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ওই বছর ১৯ আগস্ট রাতে রাজধানীর বারিধারা এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরপর থেকে তিনি কারাগারে আছেন।

ক্রিকেটার নাসির ও তামিমার বিরুদ্ধে ব্যভিচার মামলার রায় বুধবার

নিজস্ব প্রতিবেদক
ক্রিকেটার নাসির ও তামিমার বিরুদ্ধে ব্যভিচার মামলার রায় বুধবার
ফাইল ছবি

ডিভোর্স (বিবাহবিচ্ছেদ) না দিয়ে অন্যের স্ত্রীকে বিয়ে করার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় ক্রিকেটার নাসির হোসেন ও তার স্ত্রী তামিমা সুলতানা তাম্মির বিরুদ্ধে রায় ঘোষণার জন্য বুধবার (১০ জুন) দিন ধার্য রয়েছে।

ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম এই রায় ঘোষণা করবেন। সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী আশুতোষ ভৌমিক বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, বুধবার সকাল ১১টার দিকে এই রায় ঘোষণা করার কথা রয়েছে।

এর আগে গত ৬ মে বাদী ও আসামি পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুনানি শেষে আদালত রায় ঘোষণার জন্য এই তারিখ নির্ধারণ করেন।

ওই দিন আদালতে বাদী রাকিব হাসানের পক্ষে আইনজীবী ইসরাত হাসান এবং ক্রিকেটার নাসিরের পক্ষে আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু ও তামিমার পক্ষে আইনজীবী মোসলেহ উদ্দিন জসীম যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন। শুনানিতে বাদীপক্ষ আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করে। অন্যদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবীরা তাদের নির্দোষ দাবি করে খালাসের প্রার্থনা করেন।

মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, ২০১১ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি তামিমা সুলতানা ও রাকিব হাসানের বিয়ে হয়। তাদের একটি আট বছর বয়সী কন্যাসন্তানও রয়েছে। তামিমা পেশায় একজন কেবিন ক্রু। ২০২১ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি তামিমা ও ক্রিকেটার নাসির হোসেনের বিয়ের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা রাকিবের নজরে আসে। পরে পত্রপত্রিকার মাধ্যমে তিনি বিষয়টি নিশ্চিত হন।

মামলায় অভিযোগ করা হয়, রাকিবের সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্ক চলমান থাকা অবস্থাতেই তামিমা নাসিরকে বিয়ে করেছেন, যা ধর্মীয় ও রাষ্ট্রীয় আইন অনুযায়ী সম্পূর্ণ অবৈধ। নাসির তামিমাকে প্রলুব্ধ করে নিজের কাছে নিয়ে গেছেন। তামিমা ও নাসিরের এমন অনৈতিক সম্পর্কের কারণে রাকিব ও তার আট বছরের মেয়ে মারাত্মকভাবে মানসিক বিপর্যস্ত হয়েছেন এবং রাকিবের চরম মানহানি হয়েছে।

দণ্ডবিধির ৪৯৭ (ব্যভিচার), ৫০০ (মানহানি) এবং ৩৪ ধারায় মামলাটি দায়ের করা হয়েছিল। মামলায় আগের বিয়ে গোপন রেখে অন্যত্র বিয়ে করা, অন্যের স্ত্রীকে প্রলুব্ধ করে নিয়ে যাওয়া, ব্যভিচার ও মানহানির অভিযোগ আনা হয়।

২০২১ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর আদালতে পিবিআইয়ের (পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন) পরিদর্শক শেখ মো. মিজানুর রহমান নাসির, তামিমাসহ তিনজনকে দোষী সাব্যস্ত করে প্রতিবেদন জমা দেন। ২০২২ সালের ২৪ জানুয়ারি আদালত নাসির ও তামিমার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক বিচার শুরুর আদেশ দেন। তবে মামলার অপর আসামি তামিমার মা সুমি আক্তারকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এই মামলায় আদালত মোট ১০ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেছেন।

প্রতারণা মামলায় নায়িকা রুবিনা নিঝুমের স্বামীর বিরুদ্ধে সমন জারি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রতারণা মামলায় নায়িকা রুবিনা নিঝুমের স্বামীর বিরুদ্ধে সমন জারি

সাড়ে চার লাখ টাকা চেক ডিজঅনারের অভিযোগে চিত্রনায়িকা রুবিনা আক্তার নিঝুমের স্বামী মামূনুর রশীদ রাহুলের বিরুদ্ধে ঢাকার আদালতে সমন জারি করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৯ জুন) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হাসান শাহাদাতের আদালতে মোছা. সুরভী বেগম নামের একজন মামলা করেন।

বাদীপক্ষের আইনজীবী এ কে ফয়সাল বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে আসামিকে আদালতে হাজির হতে সমন জারি করেছেন।

তিনি বলেন, এর আগে রুবিনা নিঝুম, তার স্বামী রাহুল, শাশুড়ি মহিমা বিবি ও দেবর নান্নু মিঞার বিরুদ্ধে প্রতারণা করে অর্থ আত্মসাতের মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি রয়েছে। এ ছাড়া চেক ডিজঅনারের আরেক মামলায় চার আসামিকে আদালতে হতে সমন জারি রয়েছে। আজকে তৃতীয় মামলায় রাহুলকে একমাত্র আসামি করা হয়।

বাদীপক্ষের আইনজীবী আরো বলেন, রুবিনা নিঝুম ও তার স্বামী টাকা আত্মসাৎ করে কাতার পালিয়ে গেছেন বলে জেনেছি। তারা কাতার থেকে লাইভে এসে এ কথা জানিয়েছেন।

মামলায় অভিযোগ অনুযায়ী, রাহুল ব্যবসা সম্প্রসারণের কথা বলে সুরভীর কাছে সাড়ে চার লাখ টাকা ধার চান। পূর্বপরিচিত হওয়ায় বাদী তাকে টাকা ধার দেন। গেল ১০ মার্চ টাকার বিপরীতে রাহুল তার বোনের মাধ্যমে সুরভীকে সাড়ে ৪ লাখ টাকার একটি চেক দেন। সুরভী চেকটি নগদায়নের জন্য জমা দিলে পর্যাপ্ত টাকা না থাকায় তা ডিজঅনার হয়। গত ২০ মার্চ সুরভী রাহুলকে লিগ্যাল নোটিশ পাঠালে তিনি টাকা পরিশোধে কোনো উদ্যোগ নেননি। চেক ডিজঅনারের বিষয়ে তাকে অবগত করলে টাকা ফেরত দেবে বলে জানায়। তবে টাকা ফেরত দেয়নি।

এর আগেও প্রতারণা করে সাড়ে ১২ লাখ টাকা অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে গত ২৯ জানুয়ারি নায়িকা রুবিনা নিঝুম, তার স্বামী, শাশুড়ি ও দেবরের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন সুরভী বেগম। আদালত আসামিদের ১৯ ফেব্রুয়ারি হাজির হতে সমন জারি করেন। তবে ওই দিন তারা হাজির না হওয়ায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত। এরপর এই চার আসামির বিরুদ্ধে চেক ডিজঅনারের একটি মামলা করা হয়। আজ রাহুলের বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা করা হলো।