৭ বছর আগে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানের কামারকান্দা এলাকায় পুলিশের গুলিতে গুরুতর আহত সাহাদত হোসেন শ্যামলকে চিকিৎসার জন্য এক মাসের মধ্যে ২ লাখ টাকা দিতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।
বুধবার এক রিট আবেদনে প্রাথমিক শুনানির পর বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী ও বিচারপতি মো. জিয়াউল হকের বেঞ্চ রুলসহ এই আদেশ দেন। গুলির ঘটনায় সাহাদত হোসেনকে ৫ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে রুলে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দুই সচিব, আইনসচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি), সিরাজদিখান থানার তৎকালীন সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) শহিদুল ইসলাম, কনস্টেবল সাইফুলসহ বিবাদীদের রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী সৈয়দা নাসরিন ও মো. শাহীনুজ্জামান। রাষ্ট্রপক্ষের শুনানিতে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. ফারুক হোসেন ও সাইফুজ্জামান তুহিন।
আইনজীবী মো. শাহীনুজ্জামান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সাহাদত হোসেনের চিকিৎসার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের সচিব ও আইজিপিকে দুই লাখ টাকা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’
২০১৯ সালের ১৪ মার্চ মুন্সীগঞ্জ জেলার সিরাজদিখান থানার কামারকান্দা পুলিশ বক্সের সামনে পুলিশের গুলিতে গুরুতর আহত হন সাহাদত হোসেন শ্যামল। তখন তাঁর বয়স ছিল ২০ বছর। কেরানীগঞ্জে তার ভাইয়ের ফ্রিজ মেরামতের দোকানে কাজ করতেন তিনি। ঘটনার দিন কেরানীগঞ্জের ঘাটারচর থেকে ৫ বন্ধু তিনটি মোটরসাইকেলে মুন্সীগঞ্জের দিকে যাচ্ছিলেন। পুলিশের সংকেত পেয়ে তিনি ও তার বন্ধুরা মোটরসাইকেল থামান। তারপরও পুলিশ পায়ে পিস্তল ঠেকিয়ে গুলি করে। গুলি করার পরদিন সাহাদত ও তার পাঁচ বন্ধুর নামে পুলিশ মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান থানায় মামলা করে।
এ ঘটনার পরপরই এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক। এসব প্রতিবেদনের পর আইন ও সালিশ কেন্দ্র বিষয়টি জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের নজরে আনলে মানবাধিকার কমিশন ঘটনাটির তদন্ত করে। কমিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়, পুলিশের অসতর্কতায় গুলি খেয়ে একজন মানুষের চিরতরে পঙ্গুত্ব বরণ করার বিষয়টি অত্যন্ত মর্মান্তিক। এর দায়ভার কোনোক্রমেই রাষ্ট্র এড়াতে পারে না। কমিশন সাময়িক ক্ষতিপূরণ হিসেবে সাহাদত হোসেনকে দুই লাখ টাকা দিতে বলেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগকে। কিন্তু সরকার সাহাদত হোসেনকে ক্ষতিপূরণ না দেওয়ায় ২০২৩ সালের ২১ জুন একটি জাতীয় দৈনিক ‘রাষ্ট্র পেল গুলির দাম, কিছুই পেল না গুলিবিদ্ধ তরুণ’ শিরোনামে প্রতিবেদন করে।
পরে কমিশনের তদন্ত প্রতিবেদন ও এ ঘটনায় দৈনিকে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদন যুক্ত করে আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) পক্ষে সংগঠনটির নির্বাহী পরিচালক গত বছর রিট করেন। এই রিটেই শুনানির পর রুলসহ আদেশ দেন উচ্চ আদালত।








