• ই-পেপার

এরশাদের আমলে শেখ হাসিনা আমার অধীনে বন্দি ছিলেন : ব্রিগেডিয়ার আযমী

স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক নেতার খুনের মামলায় ৩ আসামি রিমান্ডে

নিজস্ব প্রতিবেদক
স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক নেতার খুনের মামলায় ৩ আসামি রিমান্ডে

রাজধানীর মৌচাক এলাকায় ছুরিকাঘাতে স্বেচ্ছাসেবক দলের রমনা থানার সাবেক আহ্বায়ক বিল্লাল হোসেন তালুকদারকে (৫৭) খুনের মামলায় দ্বিতীয় দফায় গ্রেপ্তার তিন আসামিকে এক দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। 

আজ বৃহস্পতিবার ১১ জুন ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আওলাদ হোসাইন মুহাম্মদ জুনাইদ তদন্ত কর্মকর্তার সাত দিনের রিমান্ড আবেদনের প্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন। তদন্ত কর্মকর্তা রমনা মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক আতিকুল আলম খন্দকার আসামিদের আদালতে হাজির করে এ আবেদন করেন। প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই শাহ আলম রিমান্ডের তথ্য নিশ্চিত করেন।

রিমান্ডে যাওয়া আসামিরা হলেন রমনা মডেল থানার যুবদলের সদ্য বহিষ্কৃত সাধারণ সম্পাদক লুৎফর রহমান ওরফে লুৎফর রহমান পাটোয়ারী, যুগ্ম আহ্বায়ক রেজাউল করিম এবং ১৯ নং ওয়ার্ড (রমনা) ছাত্রদলের টিম প্রধান ইসতিয়াক আলী রাকিব ওরফে গোল্ডেল রাকিব। 

গতকাল বুধবার রাতে ঢাকা ও লক্ষ্মীপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে র‌্যাব।

আসামিদের পক্ষে তাদের আইনজীবী মনির হোসাইন সুমন রিমান্ড বাতিল করে জামিন প্রার্থনা করেন। শুনানি নিয়ে আদালত প্রত্যেকের এক দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন।

এর আগে এই মামলায় গতকাল আল আমিন মাহিন ও রিয়াজুল হাসান নামে দুই আসামিকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে পাঠানো হয়েছে। 

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, সালিশের কথা বলে ডেকে এনে গত সোমবার রাত ৮টার দিকে মৌচাকের আনারকলি মার্কেটের লিফট ও সিঁড়ি সংলগ্ন এলাকায় ছুরিকারাঘাতে বিল্লালকে খুন করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী আম্বিয়া খাতুন গত মঙ্গলবার রমনা মডেল থানায় ২১ জনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাতপরিচয় ৭-৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

রামিসা ধর্ষণ-হত্যা

ডেথ রেফারেন্সের শুনানি রবিবার, বিশেষ আইনজীবী প্যানেল গঠন

অনলাইন ডেস্ক
ডেথ রেফারেন্সের শুনানি রবিবার, বিশেষ আইনজীবী প্যানেল গঠন

রামিসা হত্যা মামলায় হাইকোর্টে আসামিদের ডেথ রেফারেন্সের শুনানি আগামী রবিবার শুরু হচ্ছে। মামলা পরিচালনায় রাষ্ট্রপক্ষের বিশেষ আইনজীবী প্যানেল গঠন করা হয়েছে। এ ধরনের ধর্ষণ ও হত্যা মামলাগুলোর বিচার মূলতবি ছাড়া বিরতিহীনভাবে চলবে বলে জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে অ্যাটর্নি জেনারেল এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, রামিসা হত্যা মামলার ডেথ রেফারেন্স শুনানি তিনি নিজেই করবেন।

এর আগে বুধবার নারী ও শিশু নির্যাতন মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানির জন্য হাইকোর্টে বিশেষ বেঞ্চ গঠন করেন প্রধান বিচারপতি। রবিবার থেকে বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত এ হাইকোর্ট বেঞ্চ বিচার কাজ পরিচালনা করবেন।

সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শুধু নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন সংক্রান্ত মৃত্যুদণ্ডাদেশ কনফারমেশনের রেফারেন্স এবং একই রায় হতে উদ্ভূত সব ফৌজদারি আপিল ও জেল আপিল অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুনানি করবে এই বেঞ্চ।

এর আগে গত ৯ জুন রাজধানীর পল্লবীতে ৮ বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যার দায়ে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তারের মৃত্যুদণ্ড (ডেথ রেফারেন্স) অনুমোদনের নথি হাইকোর্টে আসে।

দুই আসামির ফাঁসির রায়ে ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন স্বাক্ষরের পর ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে পাঠানো হয়।

ফৌজদারি কোনো মামলায় আসামির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরে হাইকোর্টের অনুমোদন লাগে, যা ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন) মামলা হিসেবে পরিচিত।

গত ৭ জুন রাজধানীর পল্লবীতে ৮ বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যার দায়ে আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তারের ফাঁসির রায় ঘোষণা করেন আদালত। আসামিদের উপস্থিতিতে ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন মৃত্যুদণ্ডের এ রায় ঘোষণা করেন।  

পাশাপাশি আসামি সোহেলকে ৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। অপরদিকে আসামি স্বপ্নাকে দণ্ডের পাশাপাশি দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।

নারী-শিশু নির্যাতনের মামলা : হাইকোর্টে বেঞ্চ গঠন করে দিলেন প্রধান বিচারপতি

নিজস্ব প্রতিবেদক
নারী-শিশু নির্যাতনের মামলা : হাইকোর্টে বেঞ্চ গঠন করে দিলেন প্রধান বিচারপতি

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলা (আপিল ও ডেথ রেফারেন্স) নিষ্পত্তির জন্য হাইকোর্টে আলাদা বেঞ্চ গঠন করে দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী। বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে এই বেঞ্চ গঠন করা হয়েছে।

বুধবার (১০ জুন) বেঞ্চ গঠনের বিজ্ঞপ্তিটি সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। আগামী রবিবার থেকে এই বেঞ্চের কার্যক্রম শুরু হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে।

গত ১৯ মে রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে একটি ভবনের ফ্ল্যাটে আট বছরের শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনা ঘটে। ওই দিনই ফ্ল্যাট থেকে শিশুটির খণ্ডিত লাশ উদ্ধার করা হয়। গত ২০ মে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার। ১ জুন তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। গত ৭ জুন মামলার রায় দেন বিচারিক আদালত। রায়ে আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।

চাঞ্চল্যকর এই মামলার রায়ের পর ওই দিনই অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল সাংবাদিকদের জানান, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলার ‘ডেথ রেফারেন্স ও আপিল’ নিষ্পত্তির জন্য প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী হাইকোর্টে একটি বিশেষ বেঞ্চ গঠন করে দিবেন। আগামী রবিবার থেকে এই বেঞ্চে বিচারকাজ শুরু হবে।

বিশেষ অভিযানে দেশজুড়ে ১৮ হাজারের বেশি গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক
বিশেষ অভিযানে দেশজুড়ে ১৮ হাজারের বেশি গ্রেপ্তার
প্রতীকী ছবি

দেশব্যাপী আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশের চলমান বিশেষ অভিযানে ব্যাপক সফলতা মিলেছে। গত ১ মে থেকে শুরু হওয়া এই অভিযানে এ পর্যন্ত মোট ১৮ হাজার ৩২৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযানে সবচেয়ে বেশি গ্রেপ্তার করা হয়েছে মাদক ব্যবসায়ী ও চোরাকারবারিদের। বুধবার (১০ জুন) পুলিশ সদর দপ্তর থেকে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তির তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে অপরাধের ধরনভিত্তিক পরিসংখ্যান দেওয়া হলো—

মাদক ও চোরাচালান : অভিযানে সবচেয়ে বড় আঘাত হানা হয়েছে মাদক নেটওয়ার্কে। এ পর্যন্ত ১৩ হাজার ২০ জন চোরাকারবারি ও মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

ছিনতাই ও ডাকাতি : সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা বিঘ্নিতকারী ২ হাজার ২১১ জন ছিনতাইকারী, দস্যু ও ডাকাতকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে।

অস্থিতিশীলতা তৈরি : দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টিকারী, পরিকল্পনাকারী এবং তাদের সহযোগী হিসেবে গ্রেপ্তার হয়েছেন ১ হাজার ৯৫৮ জন।

সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি : বিভিন্ন এলাকায় সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের অতিষ্ঠ করে তোলা ৮০৮ জন চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

অবৈধ অস্ত্র : এছাড়া অবৈধ অস্ত্র বহনের দায়ে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৩৩১ জনকে।

পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, চলমান এই বিশেষ অভিযানে সবচেয়ে বেশি গ্রেপ্তার করা হয়েছে চোরাকারবারি এবং মাদক ব্যবসায়ীদের। এই খাতে গ্রেপ্তারের সংখ্যা ১৩ হাজার ছাড়িয়েছে, যা মোট গ্রেপ্তারের একটি বড় অংশ। এছাড়া দেশের বিভিন্ন স্থানে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির চেষ্টাকারী এবং তাদের সহযোগীদের বিরুদ্ধেও কঠোর অবস্থানে রয়েছে প্রশাসন।

পুলিশ জানিয়েছে, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এই বিশেষ অভিযান আরও জোরদার করা হবে। অপরাধীদের বিরুদ্ধে পুলিশের এই জিরো টলারেন্স নীতি অব্যাহত থাকবে।

এরশাদের আমলে শেখ হাসিনা আমার অধীনে বন্দি ছিলেন : ব্রিগেডিয়ার আযমী | কালের কণ্ঠ