• ই-পেপার

সাবেক আইজিপি বেনজীরের ক্যাশিয়ার জসিমের জামিন মেলেনি

মোহাম্মদপুরে মানবতাবিরোধী অপরাধ

নানক-তাপসসহ ২৮ আসামির বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু আজ

অনলাইন ডেস্ক
নানক-তাপসসহ ২৮ আসামির বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু আজ

মানবতাবিরোধী অপরাধের এক মামলায় সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপসসহ ২৮ আসামির বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হচ্ছে আজ। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর মোহাম্মদপুরে ৯ জনকে হত্যার ঘটনায় এ মামলা করা হয়েছে।

সোমবার (১৫ জুন) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেলে এ কার্যক্রম শুরু হওয়ার দিন ধার্য রয়েছে।

প্রসিকিউশন জানায়, মোহাম্মদপুরে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের এ মামলায় আজ প্রথমে সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন করবে প্রসিকিউশন। এরপর শুরু হবে সাক্ষ্যগ্রহণের ধাপ। যদিও গত ৮ জুন এ কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা ছিল। তবে ডিফেন্স আইনজীবী আমিনুল গণি টিটোর মৃত্যুর কারণে একদিনের জন্য কার্যক্রম স্থগিত রাখেন ট্রাইব্যুনাল।

এ মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন চার আসামি। তারা হলেন- নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মোহাম্মদপুর থানা শাখা সভাপতি নাঈমুল হাসান রাসেল, সহসভাপতি সাজ্জাদ হোসেন, ওমর ফারুক ও ফজলে রাব্বি।

পলাতক আসামিদের মধ্যে রয়েছেন– তৎকালীন ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান, সাবেক অ্যাডিশনাল ডিআইজি প্রলয় কুমার জোয়ারদার, ডিএমপির সাবেক যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার, এডিসি রওশুনুল হক, এমএ সাত্তার, তোফায়েল, তারেকুজ্জামান, আরিফুর রহমান তুহিন, আহাদ হোসাইন, মো. ইউনূস, মোল্লা রুবেল, আজিজুল হক, রিয়াজ মাহমুদ, হৃদয়, মাইনুল ইসলাম, শেখ বজলুর রহমান, জহির উদ্দিন, আয়মান, সেন্টু মিয়া ও ডিএনসিসির ৩২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর সৈয়দ হাসান নূর ইসলাম রাষ্ট্রন।

এর আগে, ১০ মে প্রসিকিউশনের আনা তিনটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) গঠনের মাধ্যমে ২৮ জনের বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। অভিযোগ গঠনের সময় নিজেদের নির্দোষ দাবি করে ন্যায়বিচার প্রার্থনা করেন গ্রেপ্তার চার আসামি।

প্রসিকিউশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৮ ও ১৯ জুলাই ছাত্র-জনতার আন্দোলনে নৃশংসতা চালায় আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। আসামিদের উসকানি-প্ররোচনা ও প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ উপস্থিতিতে জুলাই আন্দোলনে নিরীহ ছাত্র-জনতার ওপর গুলি চালানো হয়। এতে মাহমুদুর রহমান সৈকত, ফারহান ফাইয়াজসহ ৯ জন নিহত হন। আহত হন আরো অনেকে।

মানবতাবিরোধী অপরাধ

আবু সাঈদ হত্যা মামলার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
আবু সাঈদ হত্যা মামলার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ। ছবি : সংগৃহীত।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শিক্ষার্থী আবু সাঈদকে হত্যায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হয়েছে।

আজ রবিবার চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয় পূর্ণাঙ্গ রায়ে অনুলিপি পেয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ। তিনি কালের বণ্ঠকে বলেন, ‘চিফ প্রসিকিউটরকে ৮০৯ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায়ের অনুলিপি দেওয়া হয়েছে। রায় পর্যালোচনা করে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’ রায়টি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের ওয়েবসাইটে এখনো প্রকাশ করা হয়নি বলে জানান এই প্রসিকিউটর।   

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ১২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন শহীদ আবু সাঈদ। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাকে কোটা সংস্কার আন্দোলন চলার মধ্যে ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে পার্ক মোড়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। আবু সাঈদের গুলিবিদ্ধ হওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে কোটা সংস্কার আন্দোলন আরো তীব্র হয়। এক পর্যায়ে তা সরকার পতনের আন্দোলনে রূপ নেয়। রক্তক্ষয়ী সেই আন্দোলনে ওই বছর ৫ আগস্ট পতন ঘটে আওয়ামী লীগ সরকারের।

গত বছর ১৩ জানুয়ারি ২৫ জনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এসে অভিযোগ দেন শহীদ আবু সাঈদের পরিবারের সদস্যরা। এই অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়। গত বছর ২৪ জুন চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয় ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। প্রতিবেদন দাখিলের পর তা ৩০ জুন আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল। পলাতক আসামিদের পক্ষে গত বছর ২২ জুলাই রাষ্ট্রীয় খরচে আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া হয়। এরপর প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষের শুনানি নিয়ে গত বছর ৬ আগস্ট ৩০ আসামির বিরুদ্ধে এ মামলার ‘আনুষ্ঠানিক অভিযোগ’ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। পরে ২৭ আগস্ট প্রসিকিউশনের সূচনা বক্তব্যের মধ্যদিয়ে শুরু হয় মামলার বিচারকাজ। আবু সাঈদের বাবা মকবুল হোসেনসহ ২৫ জন সাক্ষী এ মামলায় সাক্ষ্য দেন।

গত ২১ জানুয়ারি প্রসিকিউশনের যুক্তিতর্ক শুরু হয়; শেষ হয় ২৫ জানুয়ারি। এরপর গত ৯ এপ্রিল এ মামলার রায় ঘোষণা করেন বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। ট্রাইব্যুনালের দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।  দুই আসামিকে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড এবং তিন আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। বাকি ২৫ আসামিকে দেওয়া হয় বিভিন্ন মেয়াদের কারাদণ্ড।

এই মামলায় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য মো. হাসিবুর রশীদসহ মোট আসামি ৩০ জন। রায় ঘোষণার সময় আসামিদের মধ্যে ২৪ জনই পলাতক ছিলেন। গত ১৬ মে রাত ৮টার দিকে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের সলিমুল্লাহ রোডের একটি বাসা থেকে হাসিবুর রশীদকে গ্রেপ্তার করা হয়। ট্রাইব্যুনাল তাঁকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেন। এ মামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামি হলেন- পুলিশের সাবেক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আমির হোসেন ও সাবেক কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়। তাঁরা দুজনেই গ্রেপ্তার আছেন। যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত তিন আসামি হলেন- রংপুর মহানগর পুলিশের সাবেক সহকারী কমিশনার মো. আরিফুজ্জামান জীবন, তাজহাট থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল ইসলাম নয়ন ও আরএমপির সাবেক উপপরিদর্শক (এসআই) (নিরস্ত্র) বিভূতি ভূষণ রায় মাধব। যাবজ্জীবনপ্রাপ্ত তিনজনই পলাতক।

হাসিবুর রশীদসহ ৫ আসামিকে দেওয়া হয় ১০ বছর কারাদণ্ড। এই ৫ আসামির মধ্যে এখন ৪ জন পলাতক। অন্য আসামিদের মধ্যে ৯ আসামিকে পাঁচ বছর এবং ১০ আসামিকে তিন বছর করে কারাদণ্ড দেন ট্রাইব্যুনাল। এছাড়া বেরোবির প্রক্টর অফিসের চুক্তিভিত্তিক কর্মচারি অসামি আনোয়ার পারভেজ আপেলকে কয়েকটি ধারায় দোষী সাব্যস্ত করেন ট্রাইব্যুনাল। এই আসামির সাজা নিয়ে ট্রাইব্যুনাল রায়ে বলে দেন, তার হাজতবাসকালীন সময় কারাদণ্ড হিসেবে গণ্য হবে। অন্য কোনো মামলা না থাকলে সাজার মেয়াদ শেষ হয়েছে বিবেচনায় তাকে অবিলম্বে মুক্তি দিতে নির্দেশ দেওয়া হয় রায়ে। 

হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার আবুল বারকাত, এখনই মিলছে না মুক্তি

নিজস্ব প্রতিবেদক
হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার আবুল বারকাত, এখনই মিলছে না মুক্তি

জুলাই আন্দোলনের সময় ঢাকার নীলক্ষেত এলাকায় ব্যবসায়ী আব্দুল ওয়াদুদ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আবুল বারকাতকে। এর ফলে কারামুক্তি আটকে যাওয়ায় এখনই মুক্তি মিলছে না তার।

রবিবার (১৪ জুন) ডিবি পুলিশের আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মনিরুল ইসলাম তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দিয়ে কারাগারে পাঠান। 

আবুল বারকাতকে কী অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তার বিস্তারিত আবেদনে তুলে ধরেছেন তদন্ত কর্তা। প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই মাজহারুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

গত বছরের ১০ জুলাই রাতে ধানমণ্ডির ৩ নম্বর সড়কের বাসা থেকে অধ্যাপক আবুল বারকাতকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। জালিয়াতির মাধ্যমে জনতা ব্যাংক থেকে অ্যাননটেক্স গ্রুপের নামে ২৯৭ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে আত্মসাতের মামলায় পরদিন তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

গত ৭ জুন দুদকের মামলায় আপিল বিভাগ থেকে জামিন পান আবুল বারকাত। নিজের পাসপোর্ট আদালতে জমা দেওয়ার শর্তে তার জামিন আবেদন মঞ্জুর করে আপিল বিভাগ। জামিন পেলেও কারাগার থেকে মুক্তি পাননি তিনি। ওই দিন আব্দুল ওয়াদুদ হত্যা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন ডিবি পুলিশের রমনা জোনাল টিমের ইন্সপেক্টর আমজাদ হোসেন তালুকদার। আদালত আসামির উপস্থিতিতে শুনানির দিন রাখে রবিবার।

এদিন শুনানিকালে তাকে আদালতে হাজির করা হয়। আবুল বারকাতের পক্ষে তার আইনজীবী শাহীনুর ইসলাম তাকে গ্রেপ্তার না দেখাতে আবেদন করেন। শুনানি নিয়ে আদালত তাকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেয়।

আবুল বারকাতের আরেক আইনজীবী বাবুল মিয়া বলেন, ‌‘কারামুক্ত হতে আবুল বারকাতকে এ মামলায় জামিন পেতে হবে। আমরা তার জামিন আবেদন করেছি। আগামীকাল সোমবার জামিন শুনানি হবে।’

গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদনে বলা হয়, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন প্রতিহত করতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, আলহাজ আব্দুর রউফ, ড. আবুল বারকাতসহ অন্য আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে উসকানিমূলক বক্তব্য ও নির্দেশনা, অর্থ, অস্ত্র ও বিস্ফোরক উপাদানাবলি দিয়ে শিক্ষার্থী ও ছাত্র-জনতার আন্দোলন প্রতিহত করতে আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ স্বেচ্ছাসেবক লীগ, আওয়ামী লীগ সমর্থকসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ প্রদান করেন। 

তারা বলে, ‘আন্দোলনকারীদের দেখামাত্র সরাসরি গুলি করাসহ মারধর করে হত্যা করার মাধ্যমে আন্দোলন দমন করতে হবে।’ এ নিদের্শনার প্রেক্ষিতে আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ স্বেচ্ছাসেবক লীগ আওয়ামী সমর্থকরাসহ আব্দুর রউফ, আবুল বারকাত ও অন্য আসামিরা যেকোনো উপায় অবলম্বন করে আন্দোলন দমনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। যার ফলশ্রুতিতে আব্দুর রউফ ও আবুল বারকাত কর্তৃক নির্দেশিত ও সার্বিক সহায়তাপ্রাপ্ত মামলার ঘটনার এজাহারনামীয় ও অজ্ঞাতনামা আসামিরা ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বিকেল ৫টার দিকে নিউ মার্কেট থানাধীন নীলক্ষেত মোড়ের পশ্চিম পাশে নিউ মার্কেট ১ নং গেটের সামনে পাকা রাস্তার ওপরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার মিছিলে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ অংশগ্রহণে হত্যার উদ্দেশ্যে আন্দোলনকারীদের ওপর দেশি ও বিদেশি অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে গুলিবর্ষণ করে ত্রাস সৃৃষ্টি করে। এর ফলশ্রুতিতে অনেক ছাত্র-জনতা নিহত হয়। আব্দুর রউফ ও আবুল বারকাতের সহায়তা ও নির্দেশনায় অন্যরা আন্দোলন দমনের লক্ষ্যে গৃহীত কার্যক্রমের ফলে কয়েকজন আহত ও চিরতরে পঙ্গু হন। আব্দুল ওয়াদুদ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে বাসায় ফেরার পথে গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলে মারা যান।

ড. আবুল বারকাত ঘটনার দিন সময় অনুমান সকাল ১১ থেকে দুপুর ১২টার দিকে ঢাকা ইউনিভার্সিটি এলাকায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও আওয়ামী লীগ সমর্থক নেতৃবৃন্দকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জন্য আর্থিক সহায়তা ও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেন বলে তদন্তকালে জানা যায়।

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, জুলাই আন্দোলনের সময় ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বিকেলে নিউ মার্কেটের নীলক্ষেত এলাকায় আন্দোলন চলাকালে গুলিতে ব্যবসায়ী আব্দুল ওয়াদুদ নিহত হন। এ ঘটনায় আব্দুল ওয়াদুদের শ্যালক আব্দুর রব নিউ মার্কেট থানায় হত্যা মামলা করেন।

অপতথ্য ছড়ানোর অভিযোগে অ্যাটর্নি জেনারেলের জিডি

নিজস্ব প্রতিবেদক
অপতথ্য ছড়ানোর অভিযোগে অ্যাটর্নি জেনারেলের জিডি
সংগৃহীত ছবি

অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজলের মানহানি করার জন্য মিথ্যা, ভিত্তিহীন অপতথ্য ছড়ানোর অভিযোগে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। গতকাল শনিবার (১৩ জুন) অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. নাসির উদ্দিন শাহবাগ থানায় এ জিডি করেন। মিথ্যা, ভিত্তিহীন অপতথ্য ছড়ানোর পেছনে অ্যাটর্নি জেনারেল কার‌্যালয় থেকে চাকরিচ্যুত ও অভিযুক্ত কর্মচারীদের ইন্ধন থাকতে পারে বলে জিডিতে সন্দেহ প্রকাশ করা হয়েছে।

একটি রিভিউ মামলা থেকে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজলের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে আইনমন্ত্রী বরাবর দেওয়া এক ব্যক্তির দুই পৃষ্ঠার অভিযোগ গত ১০ জুন রাত ৯টা ৪৪ মিনিটে নিজের ফেসবুক আইডিতে পোস্ট দেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এ বি এম ইব্রাহীম খলিল, যিনি অন্তর্বর্তী সরকারের সময় সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন। পরবর্তীতে তাঁর নিয়োগ বাতিল করা হয়।

এ বি এম ইব্রাহিম খলিলের ফেসবুক আইডির কথা উল্লেখ করে জিডিতে বলা হয়েছে, এই ফেসবুক আইডি দিয়ে তার (অ্যাটর্নি জেনারেল) নামে ভিত্তিহীন অভিযোগ সংক্রান্ত একটি চিঠি আপলোড করে প্রকাশ করেছে। যে চিঠির বিষয়বস্তু সম্পূর্ণ বানোয়াট, ভিত্তিহীন, মিথ্যা, কল্পনাপ্রসূত, পরস্পরবিরোধী ও অসংগতিপূর্ণ। পরবর্তীতে ‘সৈনিক প্রথম সংবাদ’ এবং ‘জুরোকন’ নামের বেশ কিছু ফেসবুক পেজ ও অনলাইন পোর্টালে সেটি ছড়িয়ে দেওয়া হয়।’

জিডিতে আরো বলা হয়েছে, ‘চিঠিতে (আইনমন্ত্রী বরাবর দেওয়া অভিযোগে) অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে জানুয়ারি মাসে একটি মামলায় চুক্তিবদ্ধ হয়ে অর্থ গ্রহণের অভিযোগ করা হয়েছে। অথচ ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন চলতি বছরের ২৫ মে।’

উক্ত চিঠিতে (আইনমন্ত্রী বরাবর দেওয়া অভিযোগে) প্রধান বিচারপতি, চেম্বার-জজ এবং সুপ্রিম কোর্টের কার্যধারা ও কজলিস্ট বিষয়ে মিথ্যা তথ্য উপস্থাপন করে বিচার বিভাগের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করা হয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে জিডিতে।

জানতে চাইলে অ্যাডভোকেট ইব্রাহিম খলিল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমাদের বর্তমান অ্যাটর্নি জেনারেলের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ ফেসবুকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ভাইরাল হয়। আমি তার শুভাকাঙ্ক্ষী হিসেবে ফেসবুকের মাধ্যমে উনার কাছে অভিযোগের সত্যতার বিষয়ে জানতে চেয়েছিলাম। যেহেতু আমি আমার আইডিতে পোস্ট করেছি, এটা উনি (অ্যাটর্নি জেনারেল) দলীয় গ্রুপিংয়ে নিয়ে গেছেন। এরপর আমার নাম উল্লেখ করে শাহবাগ থানায় জিডি করিয়েছেন। এটা তার একটি ছেলে মানসিকতা।’

বর্তমান অ্যাটর্নি জেনারেলের মিডিয়া ফোবিয়া আছে মন্তব্য করে ইব্রাহীম খলিল বলেন, ‘ফলে কোনো কিছু হলেই তিনি নিউজ করান। আলোচনায় থাকতে চান। এই আলোচনায় থাকতে চাওয়া থেকেই এই জিডি করা হয়ে থাকতে পারেন।’

ফেসবুকে অ্যাটর্নি জেনারেলের বিরুদ্ধে ছড়িয়ে পড়া লিখিত অভিযোগে অভিযোগকারী হিসেবে মো. ফিরোজপুর রহমানের নাম উল্লেখ আছে। ঢাকার ফুলবাড়িয়ার জাকের সুপার মার্কেটের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হিসেবে পদও উল্লেখ করা হয়েছে সেখানে। আর লিখিত অভিযোগে মো. ফিরোজপুর রহমানের যে মোবাইল নাম্বার উল্লেখ করা হয়েছে, সেটি ফুলবাড়িয়া জাকের সুপার মার্কেটের ফিরোজ আহম্মেদের। এই ফিরোজ আহম্মেদ নিজের নম্বর জালিয়াতির অভিযোগ এনে গত ১০ জুন বংশাল থানায় একটি জিডি করেন। সিই জিডিতে তিনি বলেছেন, তিনি অ্যাটর্নি জেনারেলের বিরুদ্ধে আইনমন্ত্রী বরাবর কোনো অভিযোগ দেননি। এ সম্পর্কে তিনি কিছুই জানেন না।

সাবেক আইজিপি বেনজীরের ক্যাশিয়ার জসিমের জামিন মেলেনি | কালের কণ্ঠ