প্রয়াত রাজনীতিবিদ ও জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারকে নিয়ে স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী বলেছেন, তিনি ছিলেন বহুমুখী গুণের অধিকারী। জেন্টলম্যান ফর এক্সিলেন্স (শ্রেষ্ঠত্বের প্রতীক)।
আজ সোমবার সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির শহীদ শফিউর রহমান মিলনায়তনে এক স্মরণ অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন বিচার বিভাগের প্রধান। সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি এই স্মরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
আইন পেশায় ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের অবদান তুলে ধরে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘তার দুটি অসাধারণ বৈশিষ্ট্য ছিল। একটি হলো আইন পেশার প্রতি তাঁর ছিল অসীম ডেডিকেশন (নিবেদন)। অন্যটি হলো কমিটমেন্ট টু দ্য কেস (মামলার প্রতি দায়বদ্ধতা), যা বর্তমানে অধিকাংশ আইনজীবীর মধ্যেই দুটি বৈশিষ্ট্যেরই অভাব রয়েছে।
আইনজীবীদের উদ্দেশে জুবায়ের রহমান চৌধুরী বলেন, ‘বিচারপ্রার্থীরা আল্লাহর পর আইনজীবীদের ওপরই ভরসা করেন। তাই মামলার ফল যাই হোক না কেন, মামলাটি সঠিকভাবে আদালতে উপস্থাপন করা আইনজীবীদের নৈতিক ও আইনি দায়িত্ব।’
জমির উদ্দিন সরকারের রাজনৈতিক অবদান তুলে ধরে অনুষ্ঠানে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল বলেন, ‘তিনি ছিলেন রাজনৈতিক অঙ্গনের একজন প্রজ্ঞাবান ব্যক্তিত্ব। এক-এগারো সরকারের সময়ে তিনি তার সাহসিকতা দেখিয়েছেন। তার আচরণ অন্য ৮-১০ জন রাজনীতিকের মতো ছিল না। রাজনীতির প্রতিটা ধাপে তিনি পেশাদারি বজায় রেখেছেন।
আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান বলেন, ‘আইন অঙ্গনের সবার একজন ছিলেন জমির উদ্দিন সরকার। তিনি অত্যন্ত সচেতনভাবে আইনজীবী সমিতি বা বার কাউন্সিলের নির্বাচন থেকে নিজেকে বিরত রেখেছিলেন।’
তিনি বলেন, ‘ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার কোর্টে যে আর্গুমেন্ট করতেন, তা এখন আইনের রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহৃত হয়। তার পেশাগত নৈতিকতা সব আইনজীবীদের জন্য অনুকরণীয় হতে পারে।’
বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জয়নুল আবেদীন স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে বলেন, ‘তিনি আইনজীবীদের জন্য অনুকরণীয়। কখনো কোনো এজলাসে উত্তেজিত হতেন না। কোর্ট কোনো আদেশ দিলে মাথা পেতে নিতেন। বর্তমানে অনেক আইনজীবীদের মধ্যে এসব বিষয়ে শূন্যতা রয়েছে।’
স্মরণ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন। অনুষ্ঠানটির সঞ্চালনা করেন আইনজীবী সমিতির সম্পাদক ও সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ আলী। অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন বিএনপির আইনবিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার বদরুদ্দোজা বাদল, জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সুব্রত চৌধুরী ও জমির উদ্দিন সরকারের মেয়ে নিলুফার আখতার জমিরসহ আরো অনেকেই।




