• ই-পেপার

[ আবার পড়ো ]

ফুটবল

  • তারাপদ রায়

[ সেই কবিতা এই ছবি ]

ফুটবল খেলোয়াড়

জসীম উদ্‌দীন

ফুটবল খেলোয়াড়
অলংকরণ : মাসুম

আমাদের মেসে ইমদাদ হক ফুটবল খেলোয়াড়,

হাতে পায়ে মুখে শত আঘাতের ক্ষতে খ্যাতি লেখা তার।

সন্ধ্যাবেলায় দেখিবে তাহারে পটি বাঁধি পায়ে হাতে,

মালিশ মাখিছে প্রতি গিঁটে গিঁটে কাত হয়ে বিছানাতে।

 

মেসের চাকর হয় লবেজান ছেঁক দিতে ভাঙা হাড়ে,

সারা রাত শুধু ছটফট করে কেঁদে কেঁদে ডাক ছাড়ে।

আমরা তো ভাবি ছ’মাসের তরে পঙ্গু সে হলো হায়,

ফুটবল টিমে বল লয়ে কভু দেখিতে পাব না তায়।

 

প্রভাতবেলায় খবর লইতে ছুটে যাই তার ঘরে,

বিছানা তাহার শূন্য পড়িয়া ভাঙা খাটিয়ার পরে।

টেবিলের পরে ছোট-বড় যত মালিশের শিশিগুলি,

উপহাস যেন করিতেছে মোরে ছিপি পরা দাঁত তুলি।

 

সন্ধ্যাবেলায় খেলার মাঠেতে চেয়ে দেখি বিস্ময়ে,

মোদের মেসের ইমদাদ হক আগে ছোটে বল লয়ে!

বাম পায়ে বল ড্রিবলিং করে ডান পায়ে মারে ঠেলা,

ভাঙা কয়খানা হাতে-পায়ে তার বজ্র করিছে খেলা।

চালাও চালাও আরো আগে যাও বাতাসের মতো ধাও,

মারো জোরে মারো—গোলের ভেতরে বলেরে ছুড়িয়া দাও।

 

গোল-গোল-গোল, চারদিক হতে ওঠে কোলাহলকল,

জীবনের পণ, মরণের পণ, সব বাধা, পায়ে দল।

গোল-গোল-গোল মোদের মেসের ইমদাদ হক কাজি,

ভাঙা দুটি পায়ে জয়ের ভাগ্য লুটিয়া আনিল আজি।

দর্শকদল ফিরিয়া চলেছে মহা-কলবর করে,

ইমদাদ হক খোঁড়াতে খোঁড়াতে আসে যে মেসের ঘরে।

মেসের চাকর হয়রান হয় পায়েতে মালিশ মাখি,

বে-ঘুম রাত্র কেটে যায় তার চিৎকার করি ডাকি।

সকালে সকালে দৈনিক খুলি মহা-আনন্দে পড়ে,

ইমদাদ হক কাল যা খেলেছে কমই তা নজরে পড়ে।

রোনালদোর মতো উদযাপন করব

বর্ণমালা আজিজ, তৃতীয় শ্রেণি, যশোর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, যশোর

রোনালদোর মতো উদযাপন করব

আমার জন্মের পর এটি তৃতীয় ফুটবল বিশ্বকাপ। ২০১৮ সালের বিশ্বকাপের কথা তেমন মনে নেই, কারণ তখন আমি অনেক ছোট ছিলাম। তবে ২০২২ সালের বিশ্বকাপের কথা বেশ মনে আছে। সে বছর ফুটবলবিশ্বের মহানায়কের হাতে উঠেছিল বিশ্বকাপের শিরোপা। সেই আনন্দে পৃথিবীর কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমীর সঙ্গে আমিও নেচেছিলাম আনন্দে।

ছোটবেলা থেকে দেখেছি আমার মা-বাবা জার্মানির সমর্থক। তাই না বুঝেই আমিও জার্মানিকে সমর্থন করতাম। কিন্তু এবার আমি নিজের পছন্দের দল খুঁজে পেয়েছি। আমার প্রিয় দল পর্তুগাল। কারণ এই দলে খেলেন বিশ্বের সেরা কয়েকজন ফুটবলার। তাঁদের মধ্যে আমার সবচেয়ে প্রিয় খেলোয়াড় ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো। গোল করার পর তাঁর বিখ্যাত উদযাপন আমাকে ভীষণ আনন্দ দেয়। আমিও যখন কোনো কাজ করে সফল হই বা খুব খুশি হই, তখন তাঁর মতো করেই উদযাপন করার চেষ্টা করি।

এবার আমি খুব করে চাইছি বিশ্বকাপের শিরোপা পর্তুগালের হাতেই উঠুক। এমনকি আমি স্বপ্নেও দেখেছি যে আমার প্রিয় খেলোয়াড় ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড় হয়েছেন। সেই স্বপ্ন সত্যি হলে আমার আনন্দের সীমা থাকবে না। পর্তুগাল চ্যাম্পিয়ন হলে রোনালদোর মতো উদযাপন করব।

তবে একটি সমস্যা আছে। এখন আমার পরীক্ষা চলছে, আর বিশ্বকাপের অনেক খেলা হয় গভীর রাতে। মা-বাবা সাধারণত শুধু তাঁদের পছন্দের দলের খেলা দেখতে ভালোবাসেন। কিন্তু আমার সব দলের খেলাই দেখতে ভালো লাগে। আমি মনে করি, প্রতিটি দলের খেলা থেকে নতুন কিছু শেখার আছে। যেমন—গতকালও যুক্তরাষ্ট্র-প্যারাগুয়ের মধ্যকার দারুণ ম্যাচ উপভোগ করেছি। খেলার উত্তেজনা, খেলোয়াড়দের দক্ষতা এবং দর্শকদের উচ্ছ্বাস আমাকে খুব আনন্দ দেয়।

তবে আমি জানি, পড়াশোনাও খুব গুরুত্বপূর্ণ। তাই চেষ্টা করছি পরীক্ষার প্রস্তুতি ঠিক রেখে যতটুকু সম্ভব বিশ্বকাপের আনন্দ উপভোগ করতে। আমি বিশ্বাস করি, ভালো ফলাফল করার পাশাপাশি প্রিয় খেলা উপভোগ করাও সম্ভব, যদি সময়কে সুন্দরভাবে ভাগ করে নেওয়া যায়।

ফুটবল আমাকে আনন্দ দেয়, স্বপ্ন দেখায় এবং একসঙ্গে পৃথিবীর নানা দেশের মানুষকে ভালোবাসতে শেখায়। তাই বিশ্বকাপ এলেই আমার মন আনন্দে ভরে ওঠে।

 

 

 

 

 

[ কত অজানারে ]

সময় যখন গোলকধাঁধা

আল সানি

সময় যখন গোলকধাঁধা

ভাবো তো, একবার মেক্সিকো সিটির এক স্টেডিয়ামে তুমি দুপুরের একটা ম্যাচ উপভোগ করলে। খেলা শেষ হতেই দ্রুত ছুটলে বিমানবন্দরের দিকে। কারণ রাতে কানাডার ভ্যাংকুভারে আরেকটি ম্যাচ দেখতে হবে। দুই শহরের মধ্যে প্লেনে যেতে সময় লাগে চার ঘণ্টা। সাধারণ হিসাবে মেক্সিকোতে দুপুর ২টায় প্লেনে উঠলে কানাডায় যখন নামবে তখন সন্ধ্যা ৬টা বাজার কথা। কিন্তু ভ্যাংকুভার বিমানবন্দরে নেমে ঘড়ির দিকে তাকিয়ে চমকে উঠবে, ওমা সেখানে তখন মাত্র বিকেল ৪টা! চার ঘণ্টা প্লেনে ওড়ার পরও ঘড়ির কাঁটা উল্টো দুই ঘণ্টা পিছিয়ে গেছে!

রূপকথার মতো শোনালেও চলতি ফুটবল বিশ্বকাপে খেলোয়াড় এবং দর্শকদের ঠিক এই বাস্তব অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়েই যেতে হচ্ছে। এবারের বিশ্বকাপ শুধু দল বা স্টেডিয়ামের দিক থেকেই বড় নয়, মাঠগুলোর দূরত্বের দিক থেকেও এটি যেন এক বিশাল গোলকধাঁধা। আমেরিকা, কানাডা ও মেক্সিকোর তিনটি দেশজুড়ে ছড়ানো এই ফুটবল উৎসবের অদৃশ্য প্রতিপক্ষের নাম ‘টাইম জোন’ বা সময়ের ব্যবধান। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এই প্রথম দলগুলো এবং কোটি কোটি সমর্থককে একই টুর্নামেন্টে চারটি ভিন্ন সময়ের অঞ্চলের মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে। এক মাঠ থেকে অন্য মাঠে যাওয়ার এই যাত্রায় ঘড়ির কাঁটা কখনো এগিয়ে যাবে, কখনো পিছিয়ে যাবে। ফুটবলারদের শরীর আর তোমার মতো দর্শকদের চোখের ঘুম নিয়ে সময়ের এই কানামাছি খেলা এবার বিশ্বকাপের অন্যতম বড় রোমাঞ্চ ও চ্যালেঞ্জ।

ফুটবলারদের জন্য সময়ের এই ব্যবধান শুধু একটা সংখ্যার খেলা নয়, এটি সরাসরি তাদের খেলার ওপর প্রভাব ফেলে। আমাদের সবার শরীরের ভেতরই ঘুমানো আর জেগে থাকার একটা চেনা নিয়ম থাকে। যখন কোনো দল লস অ্যাঞ্জেলেস থেকে নিউইয়র্কে ম্যাচ খেলতে যাবে, তখন তাদের শরীর তিন ঘণ্টার একটি বড় ধাক্কা খাবে।

এই তিন ঘণ্টার ব্যবধান ফুটবলারদের ঘুমানোর সময়, খাওয়াদাওয়া এবং শরীরের শক্তির ওপর ওলটপালট করে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। দেখা যাবে মাঠে যখন ম্যাচ শুরু হবে ফুটবলারদের শরীর তখন হয়তো বলছে, এটা তাদের ঘুমানোর সময়! এ কারণেই এবার দলগুলোর তাঁবুতে কোচের চেয়েও বেশি গুরুত্ব পাচ্ছেন ঘুম বিশেষজ্ঞ ও বিজ্ঞানীরা। কোন দেশ কোন মাঠে কয় দিন আগে গিয়ে পৌঁছবে, তা নিয়ে চলছে সূক্ষ্ম হিসাব-নিকাশ।

সময়ের এই গোলকধাঁধার সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী কিন্তু আমাদের দেশের মতো এশিয়ার কোটি কোটি দর্শক। আমেরিকায় যখন স্থানীয় সময় বিকেল ৫টায় হাই ভোল্টেজ ম্যাচ শুরু হবে তোমার-আমার ঘড়িতে তখন থাকবে ভোর ৪টা কিংবা ৫টা। আবার ওখানকার দুপুরের ম্যাচ আমাদের দেখতে হবে মাঝরাতে। ফলে পছন্দের দলের খেলা দেখতে হলে তোমাকে নিজের হোম ওয়ার্কের সূচি কিংবা ঘুমের সময়কে ছাড় দিতেই হবে। 

 

 

 

ফেউ

ফেউ