• ই-পেপার

ভূত গাছ

  • রবিউল কমল

ফেউ

ফেউ

তোমাদের আঁকা

তোমাদের আঁকা
নাজিয়া মেহজাবীন, সপ্তম শ্রেণি, বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ পাবলিক কলেজ, ঢাকা

তোমাদের আঁকা

সিদরাতুল মুনতাহা, প্রাক-প্রাথমিক, রিয়াজ পাবলিক স্কুল, নারায়ণগঞ্জ

 

 

মানহা

আহমেদ সাব্বির

মানহা
অলংকরণ : তানভীর

মানহাকে জোর করে যায় না তো খাওয়ানো

দুধভাত মেখে দিলে বলে, ‘ধ্যাৎ জাউ আনো।’

 

ডিম দিলে সুজি চায়, নান দিলে পরাটা

দুই কান চেপে ধরে, শুনবে না ছড়াটা।

 

সন্দেশ মুখে দিলে বলে, ‘থুক! মজা না’

মানহার চিৎকার নয় কারো অজানা।

 

খাওয়ানোর চেষ্টায় আম্মুটা ঘেমে যায়

এক গাল মুখে নিয়ে কোল থেকে নেমে যায়।

 

মানহার হাতে এলে আব্বুর ফোনটা

হেসে বলে, ‘মাম্মাম, খাব বলো কোনটা?’

 

 

 

[ জানতে নাকি ]

খেলোয়াড়দের সঙ্গে মাঠে শিশুরা আসে কেন

আল সানি

খেলোয়াড়দের সঙ্গে মাঠে শিশুরা আসে কেন
শৈশবে ডেভিড বেকহামের সঙ্গে হ্যারি কেইন (ডানে)

২০০১ সালের কোনো এক বিকেল। চেলসির অধিনায়ক জন টেরির হাত ধরে মাঠে ঢুকছে ছয় বছরের এক ছেলে। গ্যালারি ভর্তি হাজারো দর্শকের তুমুল গর্জন। চারদিকে ক্যামেরার ঝলকানি। ছোট্ট সেই শিশুর চোখে-মুখে তখন উজ্জ্বল স্বপ্ন। ১৫ বছর পরের কথা। সেদিনের সেই ছেলেটি একদিন চেলসির মূল দলে খেলার সুযোগ পেল। নাম তাঁর ম্যাসন মাউন্ট। অভিষেকের দিন গ্যালারি থেকে হাততালিতে স্বাগত জানালেন স্বয়ং জন টেরি! বিশ্বকাপ ফুটবলে ম্যাচ শুরুর আগে খেলোয়াড়দের হাত ধরে শিশুদের মাঠে ঢোকার এমন দৃশ্য তুমিও নিশ্চয়ই টেলিভিশনে দেখেছ। ফুটবলাররা এদের বলেন ‘প্লেয়ার এসকট’ বা ‘ম্যাচ মাসকট’। আপাতদৃষ্টিতে এটিকে শুধুই সুন্দর এক নিয়ম মনে হয়। কিন্তু তুমি কি জানো, এর পেছনে রয়েছে স্বপ্নপূরণের অদ্ভুত এক গল্প।

খেলোয়াড়দের সঙ্গে মাঠে শিশুরা আসে কেন

বিশ্বকাপ ফুটবল ম্যাচে নেইমার ও মেসির সঙ্গে প্লেয়ার মাসকট

বিশ্বকাপের মতো বড় টুর্নামেন্টে ম্যাচ শুরুর ঠিক আগের মুহূর্তটি খেলোয়াড়দের জন্য আসলে ভীষণ উত্তেজনার। কোটি কোটি দর্শকের চোখ থাকে তাদের ওপর। জেতার জন্য মরিয়া ফুটবলাররা তখন সাধারণত তীব্র মানসিক চাপে থাকেন। মনস্তত্ত্ববিদদের মতে, ঠিক এই সময়ে শিশুদের নিষ্পাপ উপস্থিতি খেলোয়াড়দের মন চাঙ্গা করে। মাঠে নামার আগে একটি শিশুর হাতের স্পর্শে ফুটবলারদের ভেতরের ভয় ও নার্ভাসনেস অনেকটাই কমে যায়। এটি তাঁদের মনে করিয়ে দেয়, ফুটবল শেষ পর্যন্ত একটি সুন্দর খেলা। মাঠে সবার সঙ্গে ভালো আচরণ করতে এই শিশুরা অদৃশ্য একটা ভূমিকা পালন করে।

খেলোয়াড়দের সঙ্গে মাঠে শিশুরা আসে কেন

জন টেরির সঙ্গে ছোট্ট ম্যাসন মাউন্ট

মাঠে তারকা ফুটবলারদের সঙ্গের সেই ছোট্ট মুহূর্তটি শিশুদেরও জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। ফুটবল ইতিহাসে এমন অনেক তারকা আছেন, যাঁরা ছোটবেলায় মাসকট হিসেবে মাঠে ঢুকেছিলেন। ইংল্যান্ড দলের বর্তমান অধিনায়ক হ্যারি কেইনের কথাই ধরা যাক। ২০০৫ সালে বিখ্যাত ফুটবলার ডেভিড বেকহামের হাত ধরে মাঠে নামার সুযোগ পেয়েছিলেন ১১ বছরের কেইন। সেদিনের রোমাঞ্চ কেইনের মনে বড় ফুটবলার হওয়ার স্বপ্ন বুনে দিয়েছিল। বড় হয়ে তিনি শুধু ইংল্যান্ড দলের প্রধান স্ট্রাইকারই হননি, বেকহামের মতো নিজের দেশের অধিনায়কও হয়েছেন। একই রকম ঘটনা ঘটেছিল ম্যানচেস্টার সিটির তারকা ফিল ফোডেনের ক্ষেত্রেও। ২০০৭ সালে মাত্র সাত বছর বয়সে সিটির এক খেলোয়াড়ের হাত ধরে মাঠে ঢুকেছিলেন ফোডেন। বড় হয়ে ফোডেন যখন সিটির হয়ে মাঠ কাঁপাচ্ছেন তখন তাঁকে ছোটবেলার সেই ভিডিওটি দেখানো হয়। দেখে ফোডেন বলেছিলেন, ‘মাঠের ভেতর দর্শকের গর্জন আর খেলোয়াড়দের হাত ধরে হাঁটার ওই ৯০ সেকেন্ডই আমাকে ফুটবলার হওয়ার চূড়ান্ত জেদ এনে দিয়েছিল।’ স্পেনের তারকা ড্যানি ওলমো ছোটবেলায় জেরার্ড পিকের হাত ধরে বার্সেলোনার মাঠে ঢুকেছিলেন। বড়বেলায় স্পেনের হয়ে ইউরো কাপ জিতেছেন তিনি।

১৯৩০-এর দশকে প্রথমবার শিশুদের মাঠে আনার প্রথা চালু হয়। ২০০২ বিশ্বকাপে ফিফা ও ইউনিসেফ যৌথভাবে এটিকে একটি অফিশিয়াল রূপ দেয়। উদ্দেশ্য ছিল, বিশ্বজুড়ে শিশুদের অধিকার রক্ষা এবং শান্তির বার্তা ছড়ানো। এখন স্পনসররা বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন প্রতিযোগিতার মাধ্যমে বাছাইকৃত সুবিধাবঞ্চিত বা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদেরএই সুযোগ করে দেয়।