প্রযুক্তি সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের রিপোর্ট অনুযায়ী, কোপাইলট এআই অ্যাসিস্ট্যান্টের ব্যাক-এন্ডে চীনা এআই মডেল ব্যবহারের কথা ভাবছে মাইক্রোসফট। এত দিন কোপাইলট সেবার জন্য ব্যবহৃত হচ্ছিল ওপেনএআইয়ের জিপিটি মডেল। খরচ কমাতে চীনা মডেল ডিপসিক ব্যবহারের বিষয় আলোচনা করছে এ প্রতিষ্ঠান। তবে ডিপসিকের পাশাপাশি অ্যানথ্রোপিকের কিছু মডেলও ব্যবহারের সম্ভাবনা রয়েছে। এআই মডেলের মূল্য টোকেন অনুসারে নির্ধারণ করা হয়। ওপেনএআইয়ের বর্তমান মডেলগুলো অত্যন্ত জটিল ও পরিব্যপ্ত, তাই টোকেনের দামও এখন অনেক বাড়ানো হয়েছে। অ্যানথ্রোপিকের টোকেন মূল্যও নেহাত কম নয়। এখন বরং চীনা এআই মডেলগুলোর দাম তূলনামূলক কম। বিশেষ করে ডিপসিক ভার্সন৪ যদি নিজস্ব হার্ডওয়্যারে হোস্ট করা যায়, সে ক্ষেত্রে টোকেনের জন্য ব্যয় হবে শুধু হার্ডওয়্যারের মূল্য এবং সার্ভার চালনার খরচ। এ লক্ষ্যেই কাজ করছে মাইক্রোসফট। তবে ডিপসিকের কিছু সীমাবদ্ধতাও আছে। এটির ডাটাসেট কিছুটা পুরোনো। যুক্তরাষ্ট্রে ডিপসিক ব্যবহার নিয়ে সরকারি নিষেধাজ্ঞার সম্ভাবনাও প্রবল।
পুরনো ফোন দিয়ে তৈরি হচ্ছে বট ফার্ম
- সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও ভিডিও শেয়ারিং প্ল্যাটফরমগুলোতে প্রায়ই দেখা যায়, ভাইরাল ভিডিও বা পোস্টের নিচে একই ধরনের কমেন্ট করে যাচ্ছে বেশ কয়েকটি আইডি। এ কাজে ব্যবহৃত হয় বট আইডি, যা পরিচালনায় ব্যবহৃত হয় ফোন ফার্মিং মেশিন। ফোন ফার্মিং ও বট নেটওয়ার্ক নিয়ে লিখেছেন এস এম তাহমিদ
ডিপসিকে চলবে কোপাইলট

একনজরে
৭০০ মেগাহার্জ স্পেকট্রাম চালু করল গ্রামীণফোন

দেশে প্রথমবারের মতো ৭০০ মেগাহার্টজ স্পেকট্রাম ব্যান্ড চালু করেছে গ্রামীণফোন। ১৪ জুন এক অনুষ্ঠানে গ্রামীণফোনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইয়াসির আজমান এর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য-প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) মো. এমদাদ উল বারী। বছরের শুরুতে গ্রামীণফোনকে ৭০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডে ১০ মেগাহার্টজ স্পেকট্রাম বরাদ্দ দেয় বিটিআরসি। এই স্পেকট্রাম ১৩ বছরের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ৭০০ মেগাহার্টজ স্পেকট্রামের ‘লো-ব্যান্ড’ বৈশিষ্ট্যের কারণে প্রতিটি বেস স্টেশন সাইট থেকে আরো বিস্তৃত এলাকায় কাভারেজ দেওয়া সম্ভব হবে। এতে ভবনের ভেতরে নেটওয়ার্কের মান বাড়বে এবং দেশব্যাপী নেটওয়ার্ক কাভারেজ বৃদ্ধি পাবে। বিশেষ করে গ্রামীণ অঞ্চলগুলোতে আরো শক্তিশালী হবে। এতে প্রান্তিক ব্যবহারকারীরাও মানসম্পন্ন নেটওয়ার্ক পাবেন।
ফেবল ৫-এর সেই ৭২ ঘণ্টা
অ্যানথ্রোপিক উন্মুক্ত করেছে নতুন এআই মডেল ফেবল ৫। প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, শক্তিশালী মডেলটি একাধিক কর্মক্ষেত্র বদলে দেবে। তবে ৯ জুন এটি প্রকাশিত হওয়ার মাত্র ৭২ ঘণ্টার মধ্যেই জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে সেটি প্রত্যাহারে বাধ্য করে যুক্তরাষ্ট্র সরকার। ফেবল ৫-এর ৭২ ঘণ্টা নিয়ে লিখেছেন সাদিয়া আফরিন হীরা

সফটওয়্যার তৈরি, সাইবার নিরাপত্তা পরীক্ষা-নিরীক্ষার মতো জটিল কাজে এটি অসাধারণ দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে ফেবল ৫। ৯ জুন এটি সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য উন্মোচন করা হয়। সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য প্রকাশিত হওয়ার মাত্র তিন দিনের মধ্যে (১২ জুন) মার্কিন বাণিজ্য বিভাগের আদেশে ফেবল ৫ এবং মিথোস ৫ মডেল প্রত্যাহারে বাধ্য হয় অ্যানথ্রোপিক। এআই প্রযুক্তিতে এরূপ সরকারি হস্তক্ষেপের ঘটনা এটাই প্রথম।
মিথোস থেকে শুরু
ফেবল ৫ মডেলটি আসলে মিথোস ৫ মডেলের একটি সংস্করণ। ৭ এপ্রিল অল্প কিছু ব্যবহারকারীর জন্য ক্লড মিথোস এআই প্রথম উন্মোচিত হয়। অ্যানথ্রোপিক-এর ভাষ্য অনুযায়ী, এটি শুধু উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ গবেষণার কাজে ব্যবহারের জন্য বিশেষায়িত মডেল। সফটওয়্যারের নিরাপত্তা ত্রুটি বিশ্লেষণ, নিরাপত্তাজনিত দুর্বলতা শনাক্তকরণ এবং সাইবার প্রতিরক্ষা গবেষণায় উল্লেখযোগ্য দক্ষতা দেখিয়েছে এটি। তাই শুরু থেকেই প্রতিষ্ঠানটি সিদ্ধান্ত নেয় এই মডেল নির্বাচিত সাইবার নিরাপত্তা গবেষক ও প্রতিষ্ঠানের কাছে এটি সরবরাহ করা হবে। সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য উন্মুক্ত করার কোনো পরিকল্পনা ছিল না। অ্যানথ্রোপিক জানিয়েছে, মিথোস যদি ভুল ব্যক্তির হাতে পড়ে, তাহলে এটি ব্যবহার করে শক্তিশালী সাইবার হামলা হতে পারে। এ ঝুঁকি এড়াতে তারা সিদ্ধান্ত নেয় মিথোসের বেশ কিছু ফিচার সরিয়ে তবেই সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য প্রকাশ করা হবে।
যথেষ্ট নিরাপদ নয় ফেবল
সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য মিথোস মডেলে বেশ কিছু নিরাপত্তা বেষ্টনী স্থাপন করে তৈরি করা হয় ফেবল ৫। ব্যবহারকারীদের যেসব অনুরোধ সাইবার নিরাপত্তা, জীববিজ্ঞান বা রসায়নের মতো উচ্চ ঝুঁকির বিষয়বস্তুর সঙ্গে সম্পর্কিত, সেসব ক্ষেত্রে ফেবল ৫ বাড়তি নিরাপত্তা ফিল্টার ব্যবহার করে তবেই উত্তর দেয়। অনেক সময় নিজে উত্তর দেওয়ার পরিবর্তে ব্যবহারকারীকে অন্য মডেলের কাছে পাঠিয়ে দেয় ফেবল ৫, অথবা সরাসরি অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করে। অ্যানথ্রোপিকের দাবি, এই নিরাপত্তা ব্যবস্থা অত্যন্ত শক্তিশালী। প্রতিটি উত্তর জেনারেট করার সময় নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিয়ে কনফিগার করা হয়েছে। উন্মোচনের পর দ্রুতই সফটওয়্যার নির্মাতা ও গবেষকদের মধ্যে মডেলটি জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। বিশেষ করে কোড বিশ্লেষণ, বাগ শনাক্তকরণ এবং সমস্যা সমাধানে এর পারফরম্যান্স প্রশংসা কুড়ায়।
৭২ ঘণ্টার মধ্যে কী ঘটেছিল?
কয়েকটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, বিশেষ ধরনের প্রম্পট কৌশল ব্যবহার করে মডেলটিকে নিরাপত্তা সীমার বাইরের ‘অবৈধ’ কাজও করানো সম্ভব হয়েছে (জেইলব্রেক)। মার্কিন প্রশাসনের উদ্বেগের এটাই কারণ। যদি গবেষকরাই মডেলের সুরক্ষাব্যবস্থা পাশ কাটিয়ে সাইবার হামলায় ফেবল ৫-কে প্ররোচিত করতে পারেন, তাহলে একই কাজ শত্রু রাষ্ট্র বা সাইবার সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোও করতে পারবে। ফলাফল, ১২ জুন মার্কিন বাণিজ্য বিভাগ অ্যানথ্রোপিককে নির্দেশ দেয় ফেবল ৫ এবং মিথোস ৫ মডেল যাতে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক ছাড়া কেউ ব্যবহার করতে না পারে। তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিটি ব্যবহারকারীর নাগরিকত্ব যাচাই করা একপ্রকার অসম্ভব, তাই সাময়িকভাবে মডেলগুলো প্রত্যাহার করা হয়।
এআই নিয়ন্ত্রণে নতুন অধ্যায়
এত দিন এআই প্রযুক্তি নিয়ন্ত্রণে এআই চিপ, কম্পিউটিং অবকাঠামো এবং উন্নত হার্ডওয়্যার কেনাবেচা নিয়ে নীতিমালা তৈরি হয়েছে। এখন থেকে হয়তো এআই সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে নতুন মডেল প্রকাশিত হওয়ার আগে সরকারি ছাড়পত্র নিতে হবে। সব মডেল হয়তো সব দেশের নাগরিক ব্যবহারের অনুমতি পাবে না। প্রযুক্তি এত দিন ছিল সর্বজনীন। সামনে হয়তো টেকবিশ্বেও শুরু হবে বিভাজন।
লাল ফিতার গ্যাঁড়াকল
ফেবল ৫-মিথোস ৫ বিতর্ক এখনো শেষ হয়নি। তবে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে, ফ্রন্টিয়ার (সর্বাধুনিক) এআই প্রযুক্তি এখন জাতীয় নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতা, গবেষণা প্রবেশাধিকার এবং বৈশ্বিক ক্ষমতার ভারসাম্যের সঙ্গে সরাসরি জড়িত। এই ঘটনাপ্রবাহ দেখিয়ে দিয়েছে এআই প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে ব্যাবহারিক নীতিমালা। তাই এআই ব্যবহারের অধিকার নির্ধারণের ক্ষমতা কার হাতে থাকবে, সেটি নিয়ে আলোচনার এখনই সময়। নইলে লাল ফিতার গ্যাঁড়াকলে আটকে যাবে আরো একটি প্রযুক্তিক্ষেত্র।
গৌরব ফেরানোর মিশনে এক্সবক্স

গেমিং ফোরামগুলোতে একসময় অহরহ দেখা যেত একটি প্রশ্ন—প্লে স্টেশন ভালো নাকি এক্সবক্স?’। সন্তোষজনক উত্তর পাওয়া না গেলেও পোস্টের নিচে চলত দুই কনসোলের ফ্যানদের বিতর্ক। অবশ্য প্লে স্টেশন বনাম এক্সবক্স বিতর্ক এখন আর তেমন দেখা যায় না। কনসোল ওয়ার একপ্রকার জিতে নিয়েছে সনি, বাজারে চলছে প্লে স্টেশনের দাপট। এক্সবক্স বিক্রি এখন তলানিতে।
কেন এই দৈন্যদশা
এক্সবক্সের বাজার হারানোর জন্য সাবেক প্রধান নির্বাহী ফিল শিলারকে দায়ী করে এক্সবক্স ভক্তরা। তাঁর সিদ্ধান্তেই এক্সবক্স এক্সক্লুসিভ গেমগুলো একে একে পিসি ও প্লে স্টেশনে মুক্তি দেওয়া হয়। অথচ সনি কখনোই প্লে স্টেশন এক্সক্লুসিভ গেম এক্সবক্সে মুক্তি দেয়নি। ফলাফল, কনসোল বাজারে প্লে স্টেশন হয়ে ওঠে অপ্রতিরোধ্য। পাশাপাশি নতুন গেমগুলো গেম পাস সেবায় মুক্তি দেওয়া, নিজস্ব হার্ডওয়্যারে জোর দেওয়ার বদলে এক্সবক্সকে ‘সফটওয়্যার এক্সপেরিয়েন্স’ হিসেবে প্রতিষ্ঠার চেষ্টাকেও এক্সবক্সের দুর্দিনের জন্য দায়ী করা হয়। চড়া মূল্যে অ্যাক্টিভিশন-ব্লিজার্ডকে কেনা, একের পর এক গেম স্টুডিও বন্ধ করা এবং গেমের মধ্যে মাত্রাতিরিক্ত বামপন্থী রাজনৈতিক আদর্শ ঢুকানোকেও দায়ী করে গেমাররা।
আশার আলো
এ অবস্থা অচিরেই বদলাতে যাচ্ছে। এক্সবক্সের বর্তমান প্রধান নির্বাহী আশা শর্মা বলেছেন, ভবিষ্যতে এক্সবক্সের কোনো এক্সক্লুসিভ গেম পিসি বা প্লে স্টেশনে মুক্তি দেওয়া হবে না। নিজস্ব হার্ডওয়্যারের বাইরে অন্য কোনো ডিভাইসে এক্সবক্স সফটওয়্যার চালানোর ব্যবস্থা থাকবে না। কনসোল তৈরিতে আরো জোর দেওয়া হবে। গেম তৈরিতে কোনো রাজনৈতিক মতাদর্শ প্রভাব খাটাতে পারবে না। নতুন গেম প্রকাশিত হওয়ার পরপরই গেম পাস সেবার অন্তর্গত করা হবে না আর। গেম পাসের খরচও কমানো হয়েছে।
প্রতিযোগিতা জরুরি
উদ্ভাবন বাড়াতে প্রতিযোগিতা সব সময়ই গুরুত্বপূর্ণ। কনসোল ওয়ারের প্রভাবে প্লে স্টেশন, এক্সবক্স ও নিন্টেন্ডোর কনসোলগুলোতে যোগ হয়েছে নিত্যনতুন সব প্রযুক্তি। এখন মাল্টিপ্লেয়ার সাপোর্ট ছাড়া গেমিং সিস্টেম কল্পনাও করা যায় না। অথচ এক্সবক্স লাইভ সেবার আগে বন্ধুদের সঙ্গে গেম খেলা ছিল একপ্রকার যুদ্ধের শামিল। এক্সবক্স লাইভ সেবার জনপ্রিয়তার চাপে সনি চালু করে প্লে স্টেশন প্লাস, নিন্টেন্ডো এনেছে সুইচ অনলাইন সেবা। প্লে স্টেশন ৩-এর মোশন কনট্রোলের জনপ্রিয়তার নেপথ্যে রয়েছে নিন্টেন্ডো উই, বহনযোগ্য গেমিং কনসোলের প্রচলনও করেছে নিন্টেন্ডো। যদি ভবিষ্যতে ব্যাক-টু-ব্যাক কয়েকটি জনপ্রিয় গেম প্রকাশ করতে পারে এক্সবক্স, তবেই সেটি সম্ভব। তবে এক্সবক্সের সামনে প্লে স্টেশনের পাশাপাশি আরেকটি প্রতিদ্বন্দ্বী হাজির হতে যাচ্ছে—স্টিম কনসোল। পিসি গেমের পাশাপাশি ইমুলেটেরের মাধ্যমে অন্যান্য কনসোলের গেমও এতে খেলা যাবে, তাই যারা প্লে স্টেশন কিনতে আগ্রহী নয় তারা হয়তো এক্সবক্সের বদলে স্টিম কনসোল কেনায় উৎসাহী হতে পারে। চলমান র্যাম ও স্টোরেজ সংকটও এক্সবক্সের জন্য কঠিন এক চ্যালেঞ্জ।
