প্রযুক্তি সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের রিপোর্ট অনুযায়ী, কোপাইলট এআই অ্যাসিস্ট্যান্টের ব্যাক-এন্ডে চীনা এআই মডেল ব্যবহারের কথা ভাবছে মাইক্রোসফট। এত দিন কোপাইলট সেবার জন্য ব্যবহৃত হচ্ছিল ওপেনএআইয়ের জিপিটি মডেল। খরচ কমাতে চীনা মডেল ডিপসিক ব্যবহারের বিষয় আলোচনা করছে এ প্রতিষ্ঠান। তবে ডিপসিকের পাশাপাশি অ্যানথ্রোপিকের কিছু মডেলও ব্যবহারের সম্ভাবনা রয়েছে। এআই মডেলের মূল্য টোকেন অনুসারে নির্ধারণ করা হয়। ওপেনএআইয়ের বর্তমান মডেলগুলো অত্যন্ত জটিল ও পরিব্যপ্ত, তাই টোকেনের দামও এখন অনেক বাড়ানো হয়েছে। অ্যানথ্রোপিকের টোকেন মূল্যও নেহাত কম নয়। এখন বরং চীনা এআই মডেলগুলোর দাম তূলনামূলক কম। বিশেষ করে ডিপসিক ভার্সন৪ যদি নিজস্ব হার্ডওয়্যারে হোস্ট করা যায়, সে ক্ষেত্রে টোকেনের জন্য ব্যয় হবে শুধু হার্ডওয়্যারের মূল্য এবং সার্ভার চালনার খরচ। এ লক্ষ্যেই কাজ করছে মাইক্রোসফট। তবে ডিপসিকের কিছু সীমাবদ্ধতাও আছে। এটির ডাটাসেট কিছুটা পুরোনো। যুক্তরাষ্ট্রে ডিপসিক ব্যবহার নিয়ে সরকারি নিষেধাজ্ঞার সম্ভাবনাও প্রবল।
একনজরে
৭০০ মেগাহার্জ স্পেকট্রাম চালু করল গ্রামীণফোন
ডিপসিকে চলবে কোপাইলট

ফেবল ৫-এর সেই ৭২ ঘণ্টা
অ্যানথ্রোপিক উন্মুক্ত করেছে নতুন এআই মডেল ফেবল ৫। প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, শক্তিশালী মডেলটি একাধিক কর্মক্ষেত্র বদলে দেবে। তবে ৯ জুন এটি প্রকাশিত হওয়ার মাত্র ৭২ ঘণ্টার মধ্যেই জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে সেটি প্রত্যাহারে বাধ্য করে যুক্তরাষ্ট্র সরকার। ফেবল ৫-এর ৭২ ঘণ্টা নিয়ে লিখেছেন সাদিয়া আফরিন হীরা

সফটওয়্যার তৈরি, সাইবার নিরাপত্তা পরীক্ষা-নিরীক্ষার মতো জটিল কাজে এটি অসাধারণ দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে ফেবল ৫। ৯ জুন এটি সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য উন্মোচন করা হয়। সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য প্রকাশিত হওয়ার মাত্র তিন দিনের মধ্যে (১২ জুন) মার্কিন বাণিজ্য বিভাগের আদেশে ফেবল ৫ এবং মিথোস ৫ মডেল প্রত্যাহারে বাধ্য হয় অ্যানথ্রোপিক। এআই প্রযুক্তিতে এরূপ সরকারি হস্তক্ষেপের ঘটনা এটাই প্রথম।
মিথোস থেকে শুরু
ফেবল ৫ মডেলটি আসলে মিথোস ৫ মডেলের একটি সংস্করণ। ৭ এপ্রিল অল্প কিছু ব্যবহারকারীর জন্য ক্লড মিথোস এআই প্রথম উন্মোচিত হয়। অ্যানথ্রোপিক-এর ভাষ্য অনুযায়ী, এটি শুধু উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ গবেষণার কাজে ব্যবহারের জন্য বিশেষায়িত মডেল। সফটওয়্যারের নিরাপত্তা ত্রুটি বিশ্লেষণ, নিরাপত্তাজনিত দুর্বলতা শনাক্তকরণ এবং সাইবার প্রতিরক্ষা গবেষণায় উল্লেখযোগ্য দক্ষতা দেখিয়েছে এটি। তাই শুরু থেকেই প্রতিষ্ঠানটি সিদ্ধান্ত নেয় এই মডেল নির্বাচিত সাইবার নিরাপত্তা গবেষক ও প্রতিষ্ঠানের কাছে এটি সরবরাহ করা হবে। সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য উন্মুক্ত করার কোনো পরিকল্পনা ছিল না। অ্যানথ্রোপিক জানিয়েছে, মিথোস যদি ভুল ব্যক্তির হাতে পড়ে, তাহলে এটি ব্যবহার করে শক্তিশালী সাইবার হামলা হতে পারে। এ ঝুঁকি এড়াতে তারা সিদ্ধান্ত নেয় মিথোসের বেশ কিছু ফিচার সরিয়ে তবেই সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য প্রকাশ করা হবে।
যথেষ্ট নিরাপদ নয় ফেবল
সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য মিথোস মডেলে বেশ কিছু নিরাপত্তা বেষ্টনী স্থাপন করে তৈরি করা হয় ফেবল ৫। ব্যবহারকারীদের যেসব অনুরোধ সাইবার নিরাপত্তা, জীববিজ্ঞান বা রসায়নের মতো উচ্চ ঝুঁকির বিষয়বস্তুর সঙ্গে সম্পর্কিত, সেসব ক্ষেত্রে ফেবল ৫ বাড়তি নিরাপত্তা ফিল্টার ব্যবহার করে তবেই উত্তর দেয়। অনেক সময় নিজে উত্তর দেওয়ার পরিবর্তে ব্যবহারকারীকে অন্য মডেলের কাছে পাঠিয়ে দেয় ফেবল ৫, অথবা সরাসরি অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করে। অ্যানথ্রোপিকের দাবি, এই নিরাপত্তা ব্যবস্থা অত্যন্ত শক্তিশালী। প্রতিটি উত্তর জেনারেট করার সময় নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিয়ে কনফিগার করা হয়েছে। উন্মোচনের পর দ্রুতই সফটওয়্যার নির্মাতা ও গবেষকদের মধ্যে মডেলটি জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। বিশেষ করে কোড বিশ্লেষণ, বাগ শনাক্তকরণ এবং সমস্যা সমাধানে এর পারফরম্যান্স প্রশংসা কুড়ায়।
৭২ ঘণ্টার মধ্যে কী ঘটেছিল?
কয়েকটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, বিশেষ ধরনের প্রম্পট কৌশল ব্যবহার করে মডেলটিকে নিরাপত্তা সীমার বাইরের ‘অবৈধ’ কাজও করানো সম্ভব হয়েছে (জেইলব্রেক)। মার্কিন প্রশাসনের উদ্বেগের এটাই কারণ। যদি গবেষকরাই মডেলের সুরক্ষাব্যবস্থা পাশ কাটিয়ে সাইবার হামলায় ফেবল ৫-কে প্ররোচিত করতে পারেন, তাহলে একই কাজ শত্রু রাষ্ট্র বা সাইবার সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোও করতে পারবে। ফলাফল, ১২ জুন মার্কিন বাণিজ্য বিভাগ অ্যানথ্রোপিককে নির্দেশ দেয় ফেবল ৫ এবং মিথোস ৫ মডেল যাতে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক ছাড়া কেউ ব্যবহার করতে না পারে। তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিটি ব্যবহারকারীর নাগরিকত্ব যাচাই করা একপ্রকার অসম্ভব, তাই সাময়িকভাবে মডেলগুলো প্রত্যাহার করা হয়।
এআই নিয়ন্ত্রণে নতুন অধ্যায়
এত দিন এআই প্রযুক্তি নিয়ন্ত্রণে এআই চিপ, কম্পিউটিং অবকাঠামো এবং উন্নত হার্ডওয়্যার কেনাবেচা নিয়ে নীতিমালা তৈরি হয়েছে। এখন থেকে হয়তো এআই সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে নতুন মডেল প্রকাশিত হওয়ার আগে সরকারি ছাড়পত্র নিতে হবে। সব মডেল হয়তো সব দেশের নাগরিক ব্যবহারের অনুমতি পাবে না। প্রযুক্তি এত দিন ছিল সর্বজনীন। সামনে হয়তো টেকবিশ্বেও শুরু হবে বিভাজন।
লাল ফিতার গ্যাঁড়াকল
ফেবল ৫-মিথোস ৫ বিতর্ক এখনো শেষ হয়নি। তবে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে, ফ্রন্টিয়ার (সর্বাধুনিক) এআই প্রযুক্তি এখন জাতীয় নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতা, গবেষণা প্রবেশাধিকার এবং বৈশ্বিক ক্ষমতার ভারসাম্যের সঙ্গে সরাসরি জড়িত। এই ঘটনাপ্রবাহ দেখিয়ে দিয়েছে এআই প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে ব্যাবহারিক নীতিমালা। তাই এআই ব্যবহারের অধিকার নির্ধারণের ক্ষমতা কার হাতে থাকবে, সেটি নিয়ে আলোচনার এখনই সময়। নইলে লাল ফিতার গ্যাঁড়াকলে আটকে যাবে আরো একটি প্রযুক্তিক্ষেত্র।
গৌরব ফেরানোর মিশনে এক্সবক্স

গেমিং ফোরামগুলোতে একসময় অহরহ দেখা যেত একটি প্রশ্ন—প্লে স্টেশন ভালো নাকি এক্সবক্স?’। সন্তোষজনক উত্তর পাওয়া না গেলেও পোস্টের নিচে চলত দুই কনসোলের ফ্যানদের বিতর্ক। অবশ্য প্লে স্টেশন বনাম এক্সবক্স বিতর্ক এখন আর তেমন দেখা যায় না। কনসোল ওয়ার একপ্রকার জিতে নিয়েছে সনি, বাজারে চলছে প্লে স্টেশনের দাপট। এক্সবক্স বিক্রি এখন তলানিতে।
কেন এই দৈন্যদশা
এক্সবক্সের বাজার হারানোর জন্য সাবেক প্রধান নির্বাহী ফিল শিলারকে দায়ী করে এক্সবক্স ভক্তরা। তাঁর সিদ্ধান্তেই এক্সবক্স এক্সক্লুসিভ গেমগুলো একে একে পিসি ও প্লে স্টেশনে মুক্তি দেওয়া হয়। অথচ সনি কখনোই প্লে স্টেশন এক্সক্লুসিভ গেম এক্সবক্সে মুক্তি দেয়নি। ফলাফল, কনসোল বাজারে প্লে স্টেশন হয়ে ওঠে অপ্রতিরোধ্য। পাশাপাশি নতুন গেমগুলো গেম পাস সেবায় মুক্তি দেওয়া, নিজস্ব হার্ডওয়্যারে জোর দেওয়ার বদলে এক্সবক্সকে ‘সফটওয়্যার এক্সপেরিয়েন্স’ হিসেবে প্রতিষ্ঠার চেষ্টাকেও এক্সবক্সের দুর্দিনের জন্য দায়ী করা হয়। চড়া মূল্যে অ্যাক্টিভিশন-ব্লিজার্ডকে কেনা, একের পর এক গেম স্টুডিও বন্ধ করা এবং গেমের মধ্যে মাত্রাতিরিক্ত বামপন্থী রাজনৈতিক আদর্শ ঢুকানোকেও দায়ী করে গেমাররা।
আশার আলো
এ অবস্থা অচিরেই বদলাতে যাচ্ছে। এক্সবক্সের বর্তমান প্রধান নির্বাহী আশা শর্মা বলেছেন, ভবিষ্যতে এক্সবক্সের কোনো এক্সক্লুসিভ গেম পিসি বা প্লে স্টেশনে মুক্তি দেওয়া হবে না। নিজস্ব হার্ডওয়্যারের বাইরে অন্য কোনো ডিভাইসে এক্সবক্স সফটওয়্যার চালানোর ব্যবস্থা থাকবে না। কনসোল তৈরিতে আরো জোর দেওয়া হবে। গেম তৈরিতে কোনো রাজনৈতিক মতাদর্শ প্রভাব খাটাতে পারবে না। নতুন গেম প্রকাশিত হওয়ার পরপরই গেম পাস সেবার অন্তর্গত করা হবে না আর। গেম পাসের খরচও কমানো হয়েছে।
প্রতিযোগিতা জরুরি
উদ্ভাবন বাড়াতে প্রতিযোগিতা সব সময়ই গুরুত্বপূর্ণ। কনসোল ওয়ারের প্রভাবে প্লে স্টেশন, এক্সবক্স ও নিন্টেন্ডোর কনসোলগুলোতে যোগ হয়েছে নিত্যনতুন সব প্রযুক্তি। এখন মাল্টিপ্লেয়ার সাপোর্ট ছাড়া গেমিং সিস্টেম কল্পনাও করা যায় না। অথচ এক্সবক্স লাইভ সেবার আগে বন্ধুদের সঙ্গে গেম খেলা ছিল একপ্রকার যুদ্ধের শামিল। এক্সবক্স লাইভ সেবার জনপ্রিয়তার চাপে সনি চালু করে প্লে স্টেশন প্লাস, নিন্টেন্ডো এনেছে সুইচ অনলাইন সেবা। প্লে স্টেশন ৩-এর মোশন কনট্রোলের জনপ্রিয়তার নেপথ্যে রয়েছে নিন্টেন্ডো উই, বহনযোগ্য গেমিং কনসোলের প্রচলনও করেছে নিন্টেন্ডো। যদি ভবিষ্যতে ব্যাক-টু-ব্যাক কয়েকটি জনপ্রিয় গেম প্রকাশ করতে পারে এক্সবক্স, তবেই সেটি সম্ভব। তবে এক্সবক্সের সামনে প্লে স্টেশনের পাশাপাশি আরেকটি প্রতিদ্বন্দ্বী হাজির হতে যাচ্ছে—স্টিম কনসোল। পিসি গেমের পাশাপাশি ইমুলেটেরের মাধ্যমে অন্যান্য কনসোলের গেমও এতে খেলা যাবে, তাই যারা প্লে স্টেশন কিনতে আগ্রহী নয় তারা হয়তো এক্সবক্সের বদলে স্টিম কনসোল কেনায় উৎসাহী হতে পারে। চলমান র্যাম ও স্টোরেজ সংকটও এক্সবক্সের জন্য কঠিন এক চ্যালেঞ্জ।
পুরনো ফোন দিয়ে তৈরি হচ্ছে বট ফার্ম
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও ভিডিও শেয়ারিং প্ল্যাটফরমগুলোতে প্রায়ই দেখা যায়, ভাইরাল ভিডিও বা পোস্টের নিচে একই ধরনের কমেন্ট করে যাচ্ছে বেশ কয়েকটি আইডি। এ কাজে ব্যবহৃত হয় বট আইডি, যা পরিচালনায় ব্যবহৃত হয় ফোন ফার্মিং মেশিন। ফোন ফার্মিং ও বট নেটওয়ার্ক নিয়ে লিখেছেন এস এম তাহমিদ

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কিছু পেজ, গ্রুপ বা প্রোফাইলে দেখা যায় অস্বাভাবিক সংখ্যক ফলোয়ার। পোস্টপ্রতি মাত্রাতিরিক্ত রি-অ্যাকশনও দেখা যায়। আবার জনপ্রিয় পেজগুলোর পোস্টে দেখা যায়, একই কমেন্ট ভিন্ন ভিন্ন আইডি থেকে বারবার করা হয়েছে। এ ধরনের কাজে ব্যবহৃত অ্যাকাউন্টকে বলা হয় ‘বট’ অ্যাকাউন্ট। এসব অ্যাকাউন্ট পরিচালনায় ব্যবহৃত হয় ফোন ফার্ম বক্স নামের ডিভাইস। এরমাধ্যমে একাই ২০ থেকে ১০০টি ডিভাইস নিয়ন্ত্রণ করে থাকেন একজন ব্যবহারকারী। পোস্টের ধরন অনুযায়ী কী রি-অ্যাক্ট ও কমেন্ট করা হবে বা কোন ভিডিও বারবার দেখে ভিউ বাড়াতে হবে—সেসব প্রোগ্রাম করে দিলে স্বয়ংক্রিয়ভাবেই বট আইডিগুলো কাজ চালিয়ে যেতে থাকে।
অপরাধমূলক কাজে ব্যবহার
লাইক কমেন্টের পাশপাশি এখন অপরাধমূলক কাজেও এ ধরনের ডিভাইস ব্যবহৃত হয়। ফিশিং লিংক ইনবক্স করা, নানাবিধ প্রতারণার ফাঁদ পাতার মতো কাজে বট আইডি ব্যবহৃত হয়ে থাকে। ডিপফেকের যুগে এখন ভুয়া ভিডিও দিয়ে লাইভ স্ট্রিম করে প্রতারণার উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হচ্ছে ফোন বক্স। বাল্ক এসএমএস ও রোবোকলের জন্যও ফোন ফার্ম ব্যবহৃত হয়। মাদারবোর্ডগুলোর মধ্যে সিম লাগিয়ে ইচ্ছামতো এসএমএস এবং ফোন কল স্প্যামিং করা যায়।
যেভাবে শনাক্ত হয় বট আইডি
মেটা বা গুগলের কোনো প্ল্যাটফরমে নতুন অ্যাকাউন্ট খুললে সেটি ফোন নম্বর দিয়ে যাচাই করা হয়। অ্যাকাউন্টটি যে ডিভাইস থেকে ব্যবহৃত হচ্ছে, সেটির ডিভাইস আইডি, আইপি অ্যাড্রেস ও অন্যান্য তথ্য সংগ্রহ করে এসব প্রতিষ্ঠান। প্ল্যাটফরমে প্রবেশের পর ব্যবহারকারীর কার্যকলাপ নজরে রাখা হয়। একই ধরনের কাজ বারবার করলে বা অস্বাভাবিক দ্রুত লাইক-কমেন্ট করলে ‘বট’ বা ‘স্প্যাম’ হিসেবে ফ্ল্যাগ করে সিস্টেম। এরূপ নজরদারি চলে সাত থেকে ১০ দিন। একই ডিভাইস থেকে কয়েকটি অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করলে, এক আইডি একসঙ্গে অনেকগুলো ডিভাইস থেকে ব্যবহৃত হলেও সন্দেহজনক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। আবার এক আইপি অ্যাড্রেস থেকে অনেকগুলো আইডি লগইন করলেও বট হিসেবে ধরে নেওয়া হয়। তাই এক ডিভাইস ও এক আইপি ব্যবহার করে অনেক বট আইডি ব্যবহার করা যায় না। ইচ্ছামতো ই-মেইল ব্যবহার করে শত শত বট আইডিও এখন আর তৈরি করা যায় না।
যেভাবে কাজ করে ফোন ফার্ম
স্মার্টফোনের মূল হার্ডওয়্যার-এর মাদারবোর্ড। প্রসেসর, র্যাম, মেমরি, নেটওয়ার্ক মডেম ও অন্যান্য জরুরি উপকরণ এতে সংযুক্ত। ডিসপ্লে, বাটন, স্পিকার ও ব্যাটারি ছাড়াও মাদারবোর্ড চালু করা যায়, সে ক্ষেত্রে ইউএসবি পোর্টের মাধ্যমে ডিভাইসটি নিয়ন্ত্রণ করতে হয়। ফোন ফার্মিং বক্সের মধ্যে ৮ থেকে ২০টি পর্যন্ত স্মার্টফোনের মাদারবোর্ড যুক্ত করা যায়, প্রতিটি মাদারবোর্ডই আলাদা আলাদা ডিভাইস হিসেবে কাজ করে। মাদারবোর্ডগুলোতে ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, ইউটিউব ও অন্যান্য অ্যাপ ইনস্টল করে বট আইডি লগইন করা হয়। সব কটি মাদাবোর্ডের আউটপুট একত্রিত করে মনিটরে দেখায় ফোন ফার্মিং বক্স। ব্যবহারকারীর কি-বোর্ড ও মাউসের ইনপুটও মাদারবোর্ডগুলোতে পৌঁছে দেয়। এভাবেই ২০টি পর্যন্ত ডিভাইস একজন ব্যবহারকারী নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। ডিভাইসগুলো বট আইডি থেকে কী কাজ করবে, সেটি প্রোগ্রাম করে দেওয়া যায়। ভিডিও দেখা বা রি-অ্যাক্ট কমেন্ট করার স্ক্রিপ্ট প্রোগ্রাম করা যায়, সে অনুযায়ী আইডিগুলো কাজ চালিয়ে যেতে থাকে। অ্যানড্রয়েড ও আইফোন—দুই ধরনের ডিভাইসের জন্যই আছে ফোন ফার্মিং বক্স। পুরনো ও নষ্ট স্মার্টফোন থেকে এসব মাদারবোর্ড সংগ্রহ করা হয়। এক আইপি থেকে অনেক আইডি চালনা করা হলেও স্প্যাম হিসেবে ধরা পড়ার সম্ভাবনা আছে, তাই আইপি র্যান্ডোমাইজ করার জন্য বিশেষায়িত ‘সফট রাউটার’ ও অন্যান্য নেটওয়ার্ক কারসাজি ব্যবহৃত হয়।
পুরোদমে চলছে ব্যবসা
বট আইডির মাধ্যমে ফলোয়ার, লাইক, কমেন্ট ও ভিউ বিক্রি ঘিরে তৈরি হয়েছে অবৈধ ব্যবসা। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও পশ্চিম আফ্রিকার দেশগুলোর পথ ধরে এখন বাংলাদেশেও এ ধরনের ব্যবসার প্রসার ঘটেছে। ফেসবুক, টেলিগ্রাম, টিকটক ও অন্যান্য অনলাইন প্ল্যাটফরমে বট ফলোয়ার ও আইডি বিক্রি চলছে দেদার। এ কাজে ব্যবহৃত ফোন ফার্মিং বক্সের মূল্য এক লাখ টাকা থেকে শুরু। সঙ্গে বিশেষায়িত রাউটার, সফটওয়্যার ও অন্যান্য সরঞ্জাম ব্যবহৃত হয়। পুরো সেটআপের জন্য কয়েক লাখ টাকা প্রয়োজন, সঙ্গে দুই থেকে ১০ জন কর্মী হলেই হাজার হাজার লাইক-কমেন্ট, ফলোয়ার ও ভিউ বিক্রি করা যায়। ফার্মিং বক্সে ব্যবহারের জন্য আইডি কেনাবেচারও বাজার গড়ে উঠেছে। অনেকেই পরিচিতজনদের মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে ই-মেইল ও অন্যান্য প্ল্যাটফরমে অ্যাকাউন্ট তৈরি করে ফোন ফার্মিং ব্যবসায়ীদের কাছে সেসব আইডি বিক্রি করছে। আইডির বয়স অনুযায়ী নির্ধারিত হয় এর দাম।
নীতিমালা কী বলছে
মেটা, এক্স, ইউটিউব ও টিকটকের মতো জনপ্রিয় সব সোশ্যাল মিডিয়া বা ভিডিও প্ল্যাটফরমের নীতিমালা অনুযায়ী এ ধরনের বট আইডি ফার্মিং একেবারেই নিষিদ্ধ। তবে বিশ্বের বেশির ভাগ দেশে সাইবার বুলিং বা নিরাপত্তাবিরোধী কাজে ব্যবহৃত না হলে বট ফার্মিং আইনত অবৈধ নয়। আইনের এই ফাঁকফোকর কাজে লাগিয়েই গড়ে উঠেছে আন্তর্জাতিক এসব চক্র। যুক্তরাজ্য ও ইউক্রেনে সরকারি ছাড়পত্র ছাড়া এরূপ ফোন বক্স ব্যবহার নিষিদ্ধ; চীনে বট ফার্মিং করে ভিউ বা ফলোয়ার বাড়ানো আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। থাইল্যান্ড এবং ভিয়েতনামেও এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে অবৈধ ঘোষণা করে আইন প্রনয়ণের কাজ চলছে। বাংলাদেশে এ বিষয়ে এখনো সুস্পষ্ট আইনের অভাব রয়েছে।
সুদূরপ্রসারী প্রভাব
বট নেটওয়ার্কের জোরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অ্যালগরিদম বদলে দেওয়া সম্ভব। ফেসবুকে পেজ খুলে অর্গানিক রিচ বাড়ানোর জন্য অনেকেই এখন ফোন ফার্মিং সেবা নেয়। কয়েক শ আইডি যখন সারা দিন ফেসবুকে পেজটি সার্চ করে, পোস্টে রি-অ্যাক্ট করে, কমেন্ট করে; তখন ফেসবুকের অ্যালগরিদম ধরে নেয় পেজটি ট্রেন্ডিং। এভাবে চাইলেই কোনো পোস্ট, ভিডিও বা টপিক ভাইরাল করা যায়। বুস্ট করার চেয়ে এটি অধিক কার্যকর। এমনকি জনমত তৈরিতেও এ ধরনের ডিভাইস ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে, যদিও শক্ত প্রমাণ তেমন নেই।
