• ই-পেপার

ট্রেজারি বন্ডে ব্যাংকের অতিবিনিয়োগ ভালো লক্ষণ নয়

  • নিরঞ্জন রায়

সমাজকাঠামোর ভঙ্গুরতা যখন অনেক সমস্যার কারণ

ড. নিয়াজ আহম্মেদ

সমাজকাঠামোর ভঙ্গুরতা যখন অনেক সমস্যার কারণ

সমাজ যে সম্পর্কের ওপর দাঁড়িয়ে থাকে, তাকে আমরা সহজভাবে সমাজকাঠামো বলি। একটি অবকাঠামো যেমন ইট, বালু, সিমেন্ট, কাঠ কিংবা অন্য কিছুর ওপর ভর করে থাকে, তেমনি সমাজ টিকে থাকে তার সামাজিক সম্পর্কের মধ্য দিয়ে। ধরুন, আপনি অপরিমিত উপাদান দিয়ে একটি ভবন তৈরি করলেন। কিন্তু ভবনটি বেশিদিন টিকে থাকবে না। আপনি অস্বস্তি অনুভব করবেন এবং প্রতিনিয়ত ঝুঁকির মধ্যে বসবাস করবেন। সমাজের অবস্থাও তাই। সমাজের কাঠামো যদি ঠিক না থাকে, তাহলে সমাজ ভেঙে পড়ে, সমাজে অস্থিরতা তৈরি হয়, যা সমাজে অনেক সমস্যার জন্ম দেয়। আমরা ইচ্ছা করলেও সমস্যা থেকে নিজেকে দূরে রাখতে পারি না।

আমাদের সমাজকাঠামো ঠিক রাখাই এখানে বড় কাজ। সমাজকাঠামো অনেকগুলো উপাদানের সমষ্টি। সামাজিক মূল্যবোধ, সামাজিক রীতিনীতি, আদর্শ, আইন, ধর্ম, নৈতিক মানদণ্ড ইত্যাদি উপাদান দিয়ে গঠিত। এগুলোর ভিত্তিতেই একটি সমাজে ব্যক্তির সঙ্গে ব্যক্তির, দলের সঙ্গে দলের, সমষ্টির সঙ্গে সমষ্টির এবং পরিবারের সদস্যদের মধ্যকার সম্পর্ক তৈরি হয়। সম্পর্ক যদি শুধু সাময়িক স্বার্থ কিংবা প্রয়োজনের ভিত্তিতে তৈরি হতো, তাহলে সমাজ পুরোটাই ভেঙে পড়ত। কিন্তু আমরা লক্ষ করি যে আমাদের সামাজিক সম্পর্কের মধ্যে যথেষ্ট গলদ তৈরি হচ্ছে। আমরা কেন যেন অতি মাত্রায় ব্যক্তিকেন্দ্রিক হয়ে যাচ্ছি। আমরা শুধু ছুটছি আর ছুটছি, কিন্তু কোথায় থামতে হবে, তা জানি না। আমাদের যোগাযোগ মাধ্যম এতটা ভালো হওয়া সত্ত্বেও আমরা একে অপরের খোঁজখবর পর্যন্ত রাখছি না। আবার এই আমি ঘণ্টার পর ঘণ্টা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সময় কাটাচ্ছি। যেখানে এক মিনিটে কারো অবস্থান এবং অবস্থা জানা সম্ভব, সেখানে আমরা কেউ মরে পচে গন্ধ বের হওয়ার পরও আমাদের নজরে আসছে না। আমাদের একজন সম্ভাবনাময় মেধাবী চিকিৎসক মারা যাওয়ার তিন দিন পর তাঁর গন্ধময় লাশ আমরা উদ্ধার করি। এই তিন দিন কি তাঁর পরিবারের কোনো সদস্য, আত্মীয়-স্বজন, সহকর্মী, বন্ধুবান্ধব ছিল না, যারা তাঁর বাসায় গিয়ে একটু খোঁজখবর নিতে পারত। তাঁর কর্মস্থল এবং বাসা একদম কাছাকাছি ছিল। ধরে নিলাম পরিবারের সদস্যরা দূরে থাকে, কিন্তু তাঁর সহকর্মী, কর্মস্থলের অভিভাবক কিংবা অন্য কেউ কি পারত না তাঁর বাসায় গিয়ে তাঁর অবস্থা জানতে। কী কারণে মারা গেছেন সেটি অন্য বিষয়, কিন্তু আমাদের ভাবার বিষয় অন্য জায়গা, যেখানে প্রতি মুহূর্তে একজনের খবরাখবর রাখা যায়, অথচ তিন দিন হয়ে গেলেও রাখছি না। ঠিক একইভাবে কয়েক মাস আগে একজন বয়স্ক মহিলার লাশ উদ্ধার করা হয়, যাঁর ছেলেমেয়েরা উচ্চশিক্ষিত। ঘটনাটি আমাদের অনেককে নাড়া দিয়েছিল। সবকিছুই সামাজিক সম্পর্কের অবনতি এবং সমাজকাঠামোর ভঙ্গুরতা। আমাদের সনাতন যোগাযোগ মাধ্যমের তুলনায় আধুনিক এবং সহজ যোগাযোগ মাধ্যম হওয়া সত্ত্বেও আমরা সামাজিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে অনেক পিছিয়ে।

সামাজিক মূল্যবোধ, রীতিনীতি সমাজের এক প্রজন্ম থেকে অন্য প্রজন্মে বর্তায় ও রূপান্তরিত হয়ে সমাজ টিকে থাকে এবং সমাজের মধ্যে সামাজিক সম্পর্কের ভিত্তি মজবুত হয়। কিন্তু আমাদের সমাজে আজ সেটি কমে যাচ্ছে কিংবা আমরা তা দিতে ব্যর্থ হচ্ছি। এ ছাড়া আমাদের সামাজিক প্রতিষ্ঠানগুলো যথাযথভাবে তাদের ভূমিকা পালন করতে পারছে না। আইনের যথাযথ প্রয়োগের অভাবও অন্যতম কারণ। একসময়ে আমাদের পাশের বাসা, পাড়া-প্রতিবেশীদের সঙ্গে অনেক সুন্দর সম্পর্ক ছিল। আমরা প্রয়োজনে ছোট বাচ্চাদের প্রতিবেশী কারো বাসায় রেখে নিজের কাজে যেতাম। কিন্তু আজ আমরা তা পারছি না। বিশেষ করে কন্যাশিশুদের ক্ষেত্রে এটি একদম সম্ভব নয়। এমনকি আজ নিজেদের আত্মীয়-স্বজনের কাছেও কন্যাশিশু নিরাপদ নয়। আমরা এমন এক সমাজে বসবাস করছি, যেখানে পারস্পরিক আলাপ-আলোচনা, মতবিনিময়, ভাবের আদান-প্রদান, মুখোমুখি আলাপ-আলোচনা অনেক কমে যাচ্ছে; যার পরিণতি আজকে মরে গেলেও কেউ খোঁজখবর না রাখার সমাজ। সবার কাছে আজ বড় প্রশ্ন, আমরা তো আগে এমন ছিলাম না। প্রযুক্তিজ্ঞানে আমরা দক্ষ ছিলাম না সত্য, কিন্তু সামাজিক সম্পর্কে আমরা ছিলাম অনেক ভালো। তবে কি প্রযুক্তি আমাদের দূরে সরিয়ে রেখেছে? একদম না। কেননা প্রযুক্তি আমাদের জীবনকে অনেক সহজ করেছে, কিন্তু প্রযুক্তির ডামাডোলে আমরা নিজেকে হারিয়ে ফেলেছি। আমরা ব্যর্থ হচ্ছি আমাদের সনাতন মূল্যবোধ এবং ধ্যান-ধারণাকে বর্তমান প্রজন্মের কাছে সঠিকভাবে পৌঁছে দিতে। এবং আমরা নিজেরাও তা ধারণ করতে ব্যর্থ হচ্ছি; যার চরম পরিণতি সামাজিক সম্পর্কের দারুণ অবক্ষয়, যা প্রকান্তরে সমাজকাঠামোর ভঙ্গুরতাকে ইঙ্গিত করে। আমরা একটি টেকসই সমাজকাঠামোর প্রত্যাশা করি, যেখানে প্রত্যেকে সঠিক মূল্যবোধ ধারণ ও লালন করবে। আমরা এমন এক সামাজিক সম্পর্কের আশা করি, যেখানে প্রত্যেকে প্রত্যেকের সঙ্গে একটি সুন্দর সম্পর্ক বজায় রাখবে। সেই সম্পর্ক শুধু কথা দিয়ে নয়, শুধু ছবি শেয়ার করে নয়, কারো ভালো মুহূর্তগুলো শুধু প্রদর্শন এবং স্মরণ করে নয়, বরং কারো বিপদে সত্যিকারভাবে পাশে থাকা, প্রয়োজনে কারো খোঁজখবর নেওয়া এবং একটি স্বার্থহীন সম্পর্ক বজায় রাখা। সামাজিক সম্পর্কের ভিত্তি হবে এমন, যেখানে মূল্যবোধের লালন হবে, লালন হবে সামাজিক রীতিনীতির, সামাজিক প্রতিষ্ঠানের কার্যকর নিয়ন্ত্রণ এবং আইনের সঠিক প্রয়োগ। সমাজের মানুষের মধ্যে প্রাত্যহিক সম্পর্ক বজায় রাখার সামর্থ্য থেকে কোনোভাবেই যেন আমরা বিচ্যুত না হই। আমাদের বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে যদি আমরা আমাদের মূল্যবোধগুলো পৌঁছে দিতে পারি, তাহলে আমরা অনেকটা সফল হব বলে বিশ্বাস।                

লেখক : সমাজকর্ম বিভাগ, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট

কর্ডোভা থেকে ইরান এবং বাংলাদেশের পাঠ

অজেয় রোহিতাশ্ব আল্-কাযী

কর্ডোভা থেকে ইরান এবং বাংলাদেশের পাঠ

আদতে মুসলিম সাম্রাজ্যের পতনের শুরু হয় ১২৩৬ সালে কর্ডোভার পতনের পর থেকেই! তৎকালীন পৃথিবীর জ্ঞানচর্চার কেন্দ্রবিন্দু ছিল কর্ডোভা, আর সেই মুসলিম শাসিত নগরীতেই ছিল চার লাখ বইসংবলিত গ্রন্থাগার। এই জ্ঞানচর্চার নেতৃত্বে ছিলেন খলিফার পৃষ্ঠপোষকতায় মূলত মুসলমানরাই। গ্রিক-লাতিন দর্শন থেকে শুরু করে চায়নিজ-ভারতীয় দর্শন নিয়েও নিয়মিত চর্চা হতো কর্ডোভায়। জ্ঞান সেখানে শুধু আলোচনার বিষয় ছিল না, বরং তার ব্যাবহারিক দিকও লেখা, শেখা এবং প্রয়োগ করা হতো।

১২৩৬ সালে কর্ডোভার পতনের পর তৃতীয় ফার্দিনান্দের প্রথম কাজ ছিল কর্ডোভার গ্রন্থাগার পুড়িয়ে দেওয়া, আর তারপর মুসলমান ও ইহুদিদের কর্ডোভা ত্যাগে বা ধর্ম ত্যাগে বাধ্য করা। ফলাফল শুধু ইউরোপে মুসলমানদের কর্তৃত্ব হারানো নয়, মুসলমানরা হারিয়ে ফেলল প্রায় ৪৫০ বছর ধরে তিল তিল করে গড়ে তোলা জ্ঞানের ভাণ্ডার। ১৪৯২ সালে গ্রানাডার পতন ছিল সেই পতনের আনুষ্ঠানিকতা মাত্র। কর্ডোভার পতনের পর থেকেই মুসলমানরা আত্মমুখী হয়ে পড়ে, আর ইসলামের প্রায়োগিক দিকের চেয়ে দার্শনিক দিকটাই ক্রমে অধিক গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। ইউরোপের রেনেসাঁ বা শিল্প বিপ্লবে মুসলমানদের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ ছিল না বললেই চলে; তারা ছিল ভোক্তা, অংশীদার নয়।

উল্টো রথে ইরান : ১৯৭৯-এর ইসলামী বিপ্লবের পর আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ মুসাভি খোমেনি বুঝে যানতেল থাকলেই নিরাপত্তা থাকে না, বিজ্ঞান-প্রযুক্তি জ্ঞান আর মানুষকে তৈরি করার একটি রাষ্ট্রীয় কাঙ্ক্ষাই নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করে। খোমেনির নেতৃত্বে বিপ্লবোত্তর রাষ্ট্রব্যবস্থার ভেতর শিক্ষাকে এমন জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে তা আর সামাজিক খাতে সীমাবদ্ধ থাকে না, তা হয়ে ওঠে রাষ্ট্রের সার্বভৌম কৌশল। ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময়ও তারা শিক্ষাকে বন্ধ করেনি। যুদ্ধ, ধ্বংস, অবরোধ আর অভাবের মাঝেও তারা ক্লাসরুম, গবেষণাগার এবং প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণের ধারাবাহিকতা ভাঙতে দেয়নি। এই সিদ্ধান্তটি আবেগের নয়, কৌশলের।

কারণ যুদ্ধ জয় আর যুদ্ধের পর টিকে থাকা এক জিনিস নয়। আধুনিক রাষ্ট্র টিকে থাকে তখনই, যখন সে শুধু স্লোগান নয়, সক্ষমতা উৎপাদন করে। সে কারণেই ইরান বিশেষভাবে গুরুত্ব দেয় এসটিইএম তথা বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশলী ও গণিতে। কেননা আধুনিক বিশ্বে শুধু আদর্শবাদ দিয়ে টিকে থাকা যায় না; দরকার প্রকৌশল, গণনা, তথ্য, গবেষণা এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতা।

অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার মধ্যে থেকেও ইরান তার সামরিক, প্রযুক্তিগত, চিকিৎসা এবং শিল্প-ভিত্তি গড়ে তুলেছে। ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র, সাইবার সক্ষমতা, ক্ষুদ্র কিন্তু কার্যকর প্রযুক্তি উৎপাদন এবং গবেষণাভিত্তিক বহু অর্জন ইরানকে এমন এক শক্তিতে পরিণত করেছে, যাকে শুধু অর্থনৈতিক চাপ দিয়ে দুর্বল করা যায় না। এখানেই যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের একচেটিয়া সামরিক দম্ভ প্রশ্নের মুখে পড়ে। ইরান আজ এমন এক প্রতিপক্ষ, যে শুধু বন্দুক দিয়ে নয়, জ্ঞান দিয়ে প্রতিরোধ করে। ইরানের শক্তি আর বাংলাদেশের শিক্ষা ঠিক এখানেই।

বাংলাদেশের জন্য কৌশল : বাংলাদেশের জন্য বাস্তব কৌশল হওয়া উচিত পাঁচ স্তরের। এক. প্রাথমিক ও মাধ্যমিকে শেখার মান বাড়ানো। শিশু যেন গণিত ভয় না পায়, বিজ্ঞান এড়িয়ে না চলে এবং বাংলা-ইংরেজি দুটিতেই চিন্তা সাবলীলভাবে করতে শেখে। দুই. শিক্ষকদের মানোন্নয়ন। যোগ্য শিক্ষক ছাড়া ভালো শিক্ষাব্যবস্থা আসলে হয় না। তিন. কারিগরি শিক্ষা ও শিল্প সংযোগ বাড়ানো। শিক্ষা যেন কারখানা, কৃষি, স্বাস্থ্য, সফটওয়্যার এবং লজিস্টিকসের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত থাকে। চার. গবেষণায় স্থায়ী বাজেট এবং জবাবদিহি। পাঁচ. উচ্চশিক্ষায় আন্তর্জাতিক মানের প্রতিযোগিতা সৃষ্টি এবং বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যৌথ গবেষণা চালু করা।

বাংলাদেশের জনসংখ্যাকে মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে গেলে দক্ষতা, শৃঙ্খলাবদ্ধতা এবং প্রযুক্তিনির্ভরতার বিকল্প নেই। ভবিষ্যতের বাংলাদেশকে সার্বভৌম ও সক্ষম হিসেবে গড়তে চাইলে আবেগী উন্নয়ন-নাটক নয়, নীরব জবাবদিহিমূলক কঠোর জ্ঞাননীতিতে যেতে হবে।

বাংলাদেশ কি মুসাভি খোমেনির মতো শিক্ষাকে রাষ্ট্র গঠনের ইঞ্জিন বানাবে, নাকি সার্টিফিকেটধারী বেকারভূমিতে পরিণত হবেএই সিদ্ধান্ত একান্তই রাজনৈতিক, কিন্তু নিতে হবে বর্তমান সরকারকেই।

 লেখক : প্রাবন্ধিক, রাষ্ট্রচিন্তক

অপরাধের পরিসংখ্যানগত প্রতিবেদন ও বাস্তবতা

মো. সাখাওয়াত হোসেন

অপরাধের পরিসংখ্যানগত প্রতিবেদন ও বাস্তবতা

অপরাধের অফিশিয়াল পরিসংখ্যান বের করা হয় রিপোর্টেড ক্রাইমের ওপর ভিত্তি করে। সরকারি নথিতে লিপিবদ্ধ অপরাধের সংখ্যার সঙ্গে মোট জনসংখ্যার আনুপাতিক হারে অপরাধের হার নির্ণয় করা হয়। সরকারের কাছে সাধারণত অফিশিয়াল তথা লিপিবদ্ধকৃত তথ্য-উপাত্ত থাকে এবং সরকারি ওয়েবসাইটে এসব রিপোর্ট পাওয়া যায়। সরকার রিপোর্টেড ক্রাইমের ওপর ভিত্তি করেই অপরাধ নিয়ন্ত্রণে ব্যবস্থা করে থাকে। পৃথিবীর প্রায় সব দেশেই এ ব্যবস্থা চলমান। তবে এ কথাও স্বীকার করতে হবে, অপরাধ নিয়ন্ত্রণে সরকারের গৃহীত ব্যবস্থা পুরোপুরি অপরাধকে মোকাবেলা করতে পারছে না। এর  পেছনে অন্যতম মৌলিক কারণ হচ্ছে অপরাধের সঠিক তথ্য সরকারের কাছে নেই। এ কথা মনে রাখতে হবে, নথিভুক্ত অপরাধের বাইরেও অসংখ্য অপরাধের ঘটনা ঘটছে, যেগুলোর যথাযথ হিসাব সরকারের কাছে থাকছে না। ফলে সরকারের অপরাধের বিপরীতে গৃহীত ব্যবস্থা জনমনে সন্তুষ্টি নিয়ে আসতে পারছে না। কাজেই অপরাধকে কঠোর হস্তে দমন করতে চাইলে নন-রিপোর্টেড ক্রাইমকে রিপোর্টেড ক্রাইমের সঙ্গে সংযুক্ত করেই ব্যবস্থা নিতে হবে।

অপরাধের সঠিক পরিসংখ্যান, তথ্য-উপাত্তের প্রয়োজনীয় বিশ্লেষণের মাধ্যমে অপরাধের ভিন্নতা, অপরাধের ভয়াবহতা, অঞ্চলভিত্তিক অপরাধ, ঋতুভিত্তিক অপরাধ, অপরাধের সময়, অপরাধীর ব্যবহৃত কৌশল, ব্যবহৃত অস্ত্র, মনস্তাত্ত্বিক চরিত্র সম্পর্কে সহজে জানা সম্ভব হয়। সামগ্রিক বিষয় যথাযথভাবে জেনে অপরাধ প্রতিকারে ও প্রতিরোধে ব্যবস্থা গ্রহণের ভিত্তিতে সমাজ থেকে অপরাধ নির্মূল করা সম্ভব। কিন্তু তথ্যের ঘাটতি থাকলে গৃহীত ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রকৃত উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয় না। সে কারণেই অপরাধবিদরা অপরাধ প্রতিরোধে কার্যকর কৌশল নির্ধারণের পূর্বে অপরাধের পরিসংখ্যানের ওপর গুরুত্ব প্রদান করে থাকেন। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে অপরাধে ক্ষতিগ্রস্তদের তথ্য জরিপের মাধ্যমে বেসরকারি সংস্থাগুলো বের করে থাকে। সরকার জরিপের বিষয়গুলো গুরুত্ব সহকারে বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে থাকে।

বাংলাদেশে সাধারণত বিভিন্ন কারণে থানায় মামলা নথিভুক্ত হয় না। প্রথমত, পুলিশের সঙ্গে পাবলিকের দূরত্ব, অর্থাৎ জনগণ পুলিশকে আস্থা ও বিশ্বাসের জায়গায় নিতে পারেনি। সংগত কারণেই জনগণ পুলিশকে ভরসায় নিতে পারছে না। দ্বিতীয়ত, রাজনৈতিক কারণে পুলিশ মামলা গ্রহণ করতে অপারগতা প্রকাশ করে। সরকারের নেতৃত্বে রাজনৈতিক দলের পরিবর্তন হয়েছে, কিন্তু পুলিশের ওপর রাজনৈতিক প্রভাব বন্ধ হয়নি। আবার রাজনৈতিক মতাদর্শের ভিন্নতার কারণে অনেকেই পুলিশের কাছে মামলা প্রদানে অস্বীকৃতি প্রদান করে। তৃতীয়ত, স্থানীয় দালালদের মাধ্যমে বাদী-বিবাদীর মধ্যে এক ধরনের সমঝোতার ব্যবস্থা করা হয়। এ প্রক্রিয়ায় এক পক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তথাপি দালালদের দৌরাত্ম্য এখনো বিদ্যমান। চতুর্থত, স্থানীয়ভাবে কোথাও কোথাও কমিউনিটি বিচারব্যবস্থার মাধ্যমে উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবেলা করার চেষ্টা করা হয়। এ ছাড়া অসংখ্য কারণে পুলিশের কাছে মামলা নথিভুক্ত হয় না। বিশেষ করে সাম্প্রতিক কালে মবের ভয়াবহ পরিস্থিতির কারণে অনেকেই ভয়ে মামলা করছে না আবার থানাও মামলা গ্রহণ করছে না। আবার এমনও ঘটনা দেখা যায়, পারিবারিক সম্মান ও লোকচক্ষুর ভয়ে অনেকেই নিজের ওপর অত্যাচারের বিষয়টি গোপন রাখছেন।

বেসরকারি গবেষণাপ্রতিষ্ঠানগুলো সাধারণত দেশে প্রকাশিত জাতীয় দৈনিকগুলোর প্রতিবেদন থেকে প্রাপ্ত সংবাদের ভিত্তিতে রিপোর্ট তৈরি করে থাকে। সেই সঙ্গে একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি যাতে না হয় সে বিষয়েও তারা সজাগ ও সচেতন থাকে। এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানগুলো বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাদের নিজস্ব কর্মীর মাধ্যমে জরিপ পরিচালনা করে থাকে। যেহেতু জাতীয় দৈনিকগুলো গুরুত্ব দিয়ে সংবাদ পরিবেশন করে থাকে সেহেতু সংবাদগুলোর গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। কেননা উপযুক্ত উৎস ও তথ্যের নিরপেক্ষ বিশ্লেষণ ছাড়া অপরাধের সংবাদ পত্রিকা কর্তৃপক্ষ প্রকাশ করে না। কাজেই বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর জরিপগুলোকে গুরুত্ব প্রদান করতে হবে। প্রকৃত অর্থে অপরাধের সঠিক পরিসংখ্যান জানার জন্য বেসরকারি সংস্থা থেকে প্রাপ্ত তথ্যের মূল্যায়ন অত্যন্ত জরুরি। 

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের প্রকাশিত প্রতিবদনে জানানো হয়, সরকারের প্রথম ১০০ দিনে মোট ১৩০টি ঘটনায় ১৮৮ জন সাংবাদিক হয়রানি বা নির্যাতনের শিকার, ১২ জনের বিরুদ্ধে মামলা এবং সাতজন গ্রেপ্তার হয়েছেন। পর্যবেক্ষণে সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির ক্ষেত্রে উঠে আসে, মার্চ ও এপ্রিল ২০২৬-এর মধ্যে দেশে ২৯৪টি ছিনতাই, ৬০৫টি খুন, ১৯৬টি অপহরণ এবং ৩,৪৯৬টি নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। মব সহিংসতার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা বলা হলেও ঢাকা, কুষ্টিয়া ও সিলেটে ঐতিহ্যবাহী মাজার ও বাউল সম্প্রদায়ের ওপর হামলা, অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনাসহ দেশজুড়ে ৬৯ থেকে ৮০টি মব সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে, যাতে ৩১ থেকে ৪২ জন নিহত হয়েছেন। রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতায় বিভিন্ন হাট-বাজার ও পরিবহন খাতে চাঁদাবাজি ও নিয়ন্ত্রণ বদল অব্যাহত রয়েছে।

টিআইবি প্রণিত রিপোর্টকে যাচাই-বাছাইয়ের প্রয়োজন রয়েছে। বিশ্লেষণ ও মূল্যায়নের মাধ্যমে রিপোর্টের সত্যতা নিশ্চিত করা যায়। পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে মূল্যায়ন করে রিপোর্টের সত্যতাকে চ্যালেঞ্জ করা যেতে পারে। কোনো রকম যাচাই-বাছাই ছাড়া একটি প্রতিষ্ঠানের প্রকাশিত রিপোর্ট নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ নেই। তা ছাড়া বিগত তিন মাসে প্রকাশিত পত্রিকার কপি থেকে সহজেই রিপোর্টের সত্যতা নিশ্চিত করা সম্ভব। যদি টিআইবি প্রণিত রিপোর্ট সত্য হয়, তাহলে সরকারের কোনো কিছুই লুকানো উচিত হবে না। তা ছাড়া সাধারণ মানুষ পূর্বের যেকোনো সময়ের তুলনায় সচেতন ও সমসাময়িক বিষয় সম্পর্কে অবগত। আমরা সবাই জানি রিপোর্টেড ক্রাইমের সংখ্যা কখনোই প্রকৃত অপরাধের সংখ্যাকে তুলে নিয়ে আসতে পারে না। নথির বাইরে থাকা অপরাধের সংখ্যাকে বিবেচনায় নিলেই সরকার অপরাধ প্রতিকার ও প্রতিরোধে যথার্থ ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করার উদ্যোগ নিতে পারবে। অন্যথায় গৃহীত সব ব্যবস্থাই মুখ থুবড়ে পড়বে।

আমেরিকায় ন্যাশনাল ক্রাইম ভিক্টিমাইজেশন সার্ভে নামে একটি জরিপ দেশব্যাপী পরিচালনা করা হয়, যেখানে সব রকমের অপরাধে আক্রান্তদের তথ্য-উপাত্ত উল্লেখ করা থাকে, যার ভিত্তিতে আমেরিকার সরকার তাদের নীতিনির্ধারণ পর্যায়ে অপরাধকে নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য সহজেই কৌশল নির্ধারণ করতে পারে। বাংলাদেশে যেহেতু এ ধরনের কোনো জরিপ পরিচালনা করা হয় না সেহেতু বিশ্বাসযোগ্য এবং দীর্ঘদিন ধরে সুনির্দিষ্ট সেক্টরে কাজ করছে এমন প্রতিষ্ঠানের দালিলিক পরিসংখ্যানকে বিবেচনায় নিয়ে সরকারের নীতি প্রণয়ন করা উচিত। 

কাজেই সরকারের মৌলিক কাজ হবে অপরাধের সঠিক তথ্য-উপাত্ত বিচার-বিশ্লেষণে একটি কার্যকর ইউনিট প্রতিষ্ঠা করা। এ ইউনিটের কাজ হবে বাংলাদেশের সর্বত্র ঘটে যাওয়া সব অপরাধের খবরাখবর সংগ্রহ করা। বিশেষ করে জাতীয় দৈনিক ও ইলেকট্রনিক মিডিয়াতে থানায় রুজু হওয়া অপরাধের বাইরে ঘটে যাওয়া অপরাধের তথ্য হালনাগাদ করা। এ ছাড়া গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় সোর্স নিয়োগের মাধ্যমে অপরাধের তথ্য সংগ্রহ করা। আমরা সবাই জানি তথ্যই শক্তি, তথ্যই নির্দেশনা প্রদান করে থাকে। অপরাধসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্যের অভাব থাকায় সরকারের গ্রহণ করা পদক্ষেপ তেমন কাজে আসে না। সে কারণেই রিপোর্টেড ও নন-রিপোর্টেড ক্রাইমের সঠিক উপাত্তই সরকারকে অপরাধের বিপরীতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাবক হিসেবে কাজ করবে।

লেখক : সহকারী অধ্যাপক, ক্রিমিনোলজি অ্যান্ড পুলিশ সায়েন্স বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

দেশেই চালু হলো ‘স্কিন ব্যাংক’

ডা. ইকবাল আহমেদ

দেশেই চালু হলো ‘স্কিন ব্যাংক’

মানুষের শরীরের সবচেয়ে বড় অঙ্গ কোনটি? অনেকেই হূিপণ্ড, মস্তিষ্ক বা ফুসফুসের কথা বলবেন। অথচ সঠিক উত্তরত্বক। এই ত্বক আমাদের শরীরের প্রথম প্রতিরক্ষাব্যবস্থা। এটি শুধু বাইরের আঘাত থেকে রক্ষা করে না, জীবাণু, তাপ, পানি ও নানা ক্ষতিকর উপাদানের বিরুদ্ধেও শরীরকে সুরক্ষা দেয়। তাই আগুনে পুড়ে গেলে শুধু ত্বক নষ্ট হয় না, ভেঙে পড়ে শরীরের সবচেয়ে বড় ঢালও। তখন সংক্রমণ, অতিরিক্ত তরল ও প্রোটিন ক্ষয়, ব্যথা, প্রদাহ এবং সেপসিস রোগীর জীবনের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়ায়। এ কারণেই গুরুতর দগ্ধ রোগীর চিকিৎসায় স্কিন ব্যাংক একটি যুগান্তকারী সংযোজন।

দেশে স্কিন ব্যাংক চালু হওয়ার অর্থ হলো বার্ন চিকিৎসায় নতুন আশার সঞ্চার হওয়া। কারণ অনেক সময় রোগীর নিজের চামড়া দিয়ে ক্ষত ঢেকে রাখা সম্ভব হয় না। তখন দান করা চামড়া সাময়িকভাবে ক্ষতস্থানে ব্যবহার করা হয়। এটি ক্ষত ঢেকে রাখে, সংক্রমণের ঝুঁকি কমায়, ব্যথা ও প্রদাহ হ্রাস করে, তরল ক্ষয় রোধ করে এবং রোগীকে স্থিতিশীল হতে সাহায্য করে। এই সময়ের মধ্যেই রোগীকে পরবর্তী স্থায়ী চিকিৎসার জন্য প্রস্তুত করা যায়। অনেক ক্ষেত্রে এই কয়েকটি দিনই জীবন বাঁচিয়ে দেয়।

আমরা যেমন ব্লাড ব্যাংকের কথা জানি, স্কিন ব্যাংকও অনেকটা তেমন একটি ব্যবস্থা। একজন মানুষের দান করা চামড়া সংগ্রহ করে বিশেষ প্রক্রিয়ায় সংরক্ষণ করা হয় এবং প্রয়োজনে অন্য একজন রোগীর ক্ষতস্থানে ব্যবহার করা যায়। রক্তের মতো এখানে গ্রুপ মেলানোর প্রয়োজন হয় না। তবে অন্যের চামড়া স্থায়ীভাবে শরীরে থাকে না; কয়েক সপ্তাহ পর শরীর সেটিকে প্রত্যাখ্যান করে। তবু এই অল্প সময়ই রোগীর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

চামড়া শুধু জীবিত অবস্থায় অপসারিত টিস্যু থেকে নয়, মৃত্যুর পরও দান করা যায়। যেমন আমরা চক্ষুদানের কথা জানি, তেমনি মৃত্যুর পর একজন মানুষের শরীরের চামড়াও দান করা সম্ভব। সাধারণত মৃত্যুর ৬ থেকে ১২ ঘণ্টার মধ্যে উপযুক্তভাবে চামড়া সংগ্রহ করতে হয়। এরপর প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা, জীবাণুমুক্তকরণ এবং সংরক্ষণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তা স্কিন ব্যাংকে রাখা হয়। বিশেষ তাপমাত্রা ও মান নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে এই চামড়া ব্যবহার উপযোগী রাখা হয়। চামড়া দান শুধু চিকিৎসাবিজ্ঞানের বিষয় নয়; এটি মানবতার বিষয়। আশার সেতুবন্ধ।

বাংলাদেশে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে স্কিন ব্যাংকের কার্যক্রম শুরু হওয়া তাই শুধু একটি প্রযুক্তিগত অগ্রগতি নয়; এটি অসংখ্য দগ্ধ মানুষের জন্য নতুন আশার দরজা। কিন্তু স্কিন ব্যাংকে চামড়া আসবে কোথা থেকে? এখানেই আসে সমাজের অংশগ্রহণ।

বর্তমানে অনেক প্লাস্টিক সার্জারিসহ বিভিন্ন সার্জারিতে শরীরের কিছু অংশ কেটে ফেলে দিতে হয়। যেমন টামি টাক সার্জারিতে ঝুলে যাওয়া পেটের অতিরিক্ত চামড়া, ব্রেস্ট রিডাকশন সার্জারিতে অপসারিত চামড়া ও টিস্যুর একটি অংশ। এসব চামড়া যথাযথ স্ক্রিনিং ও প্রক্রিয়াজাতের মাধ্যমে স্কিন ব্যাংকে সংরক্ষণ করা সম্ভব। একই সঙ্গে সচেতন ব্যক্তি বা পরিবারের সদস্যরাও চামড়া দানের সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। সে ক্ষেত্রে চামড়াদাতার ক্ষতস্থান একটি নির্দিষ্ট সময় পরে চামড়া গজিয়ে সুস্থ হয়ে ওঠে।

আজ আমরা রক্তদানকে স্বাভাবিক হিসেবে গ্রহণ করেছি। একসময় কর্নিয়া দানও মানুষের কাছে অচেনা ছিল। হয়তো খুব দূরের ভবিষ্যৎ নয়, যখন চামড়া দানও হবে সামাজিক দায়বদ্ধতার স্বাভাবিক অংশ।

লেখক : যুগ্ম পরিচালক ও সহযোগী অধ্যাপক, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি, ঢাকা