বিশ্বকাপ ফুটবল দেখি আর ভাবি, খেলাটি মানুষের সৃষ্টি হলেও পুরোপুরি নিয়তির খেলা। মাঠে এত কৌশলের বাস্তবায়ন, এত দক্ষতার প্রদর্শনী, খেলোয়াড়রা শতভাগ উজাড় করে দেওয়া সত্ত্বেও সবাই এক জায়গায় ধরা। সৃষ্টিকর্তার ‘ব্লেসিং’ ছাড়া উপায় নেই। সৃষ্টিকর্তা কাউকে তৃপ্তির হাসিতে হাসাচ্ছেন, আবার কাউকে কাঁদাচ্ছেন। সব তাঁর ফয়সালা। ফুটবল নিয়ে আমার-আপনার কত রকম চিন্তা-ভাবনা, হিসাব-নিকাশ, কিন্তু কেউ বলতে পারছে না শেষ পর্যন্ত কী অপেক্ষা করছে। বলা হয়, এটিই ফুটবলের সৌন্দর্য। সব হিসাব মিলে গেলে তো এটি বিশ্বকাপ থাকবে না।
ফুটবল নিয়ে অগণিত মানুষ মেতে আছে, অথচ এই ফুটবলের সঙ্গে আমাদের আত্মিক সম্পর্ক নেই। তা সত্ত্বেও অন্যদের ফুটবল নিয়ে রীতিমতো উন্মাদনা। আবেগ আর উচ্ছ্বাসে ভেসে বেড়ানো। এখানেই ফুটবল নামের খেলাটির কল্যাণময়ী আকর্ষণের জয়। একবার ভাবুন তো, যখন আমাদের দেশ খেলার যোগ্যতা অর্জন করবে, তখন অবস্থাটা কেমন হতে পারে?
ফুটবল গড়াচ্ছে তার ইচ্ছা-মর্জি মাফিক। খেলা দেখতে বসে কখনো কখনো এই ফুটবলকে অপরিচিত মনে হয়। এতে বাড়ে অস্থিরতা আর উৎকণ্ঠা। সমর্থিত দল লড়াই থেকে বিদায় নেওয়ায় কেউ কেউ দল বদল করেছে। না, এই দলবদলের সঙ্গে রাজনীতির নেতা ও কর্মীদের দলবদলের কোনো সম্পর্ক নেই। এটি নেহাত ফুটবল বিনোদনের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার জন্য। ফুটবলের আনন্দ সবাই মিলে ভাগাভাগি করে নেওয়ার জন্য। পরিচিত মহলে আমার বন্ধু জার্মানির বিদায়ের সঙ্গে সঙ্গে খেলা আর দেখছেন না। এটি তাঁর আবেগ।
ফুটবলের সঙ্গে আছে জীবনের ভীষণ মিল। খেলাটি জীবনের ক্রীড়া সংস্করণ। জীবন কিভাবে পরিচালিত হবে, এটি তো আগাম বলা যাবে না—ফুটবলেও ঠিক একই অবস্থা। আর তাই জীবনের নিয়মে ফুটবলকে মেনে নেওয়া ছাড়া উপায় নেই। জীবনে যেমন ভালো খেলোয়াড় জিতবেন—এর কোনো নিশ্চয়তা নেই। ফুটবলেও একই অবস্থা। ভালো খেলেও শেষ পর্যন্ত অশ্রুঝরা চোখ নিয়ে দেশে ফিরে যেতে হয়েছে। ফুটবলের নিষ্ঠুরতা বড় কঠিন।
ফিফার সাবেক প্রেসিডেন্ট সেপ ব্লাটার বলেছেন, ‘জীবনের জন্য ফুটবল, জীবন উপভোগ করুন, সেই সঙ্গে ফুটবল। যদি ভেবে থাকেন, ফুটবলকে আপনার নিজের মতো করে দেখতে পারবেন, তাহলে ভুল হবে। ফুটবল চলে তার নিজস্বতা নিয়ে। এ ক্ষেত্রে কখনো প্রাপ্তি, আবার কখনো অপ্রাপ্তির স্বাদ মিলবে। দিনশেষে কিন্তু সবচেয়ে সুন্দর খেলা ফুটবল। খেলাটি মানুষকে একত্র করে একের সঙ্গে অপরকে মেলায়। ফুটবলকে ভালোবাসাটাই আসল বিষয়।’
বিশ্বকাপ শুরুর আগে ফেভারিট নিয়ে সরাসরি ফুটবল পণ্ডিতরা কথা বলেননি। বিশ্বকাপে বিগত বছরগুলোতে যে আটটি দল শিরোপা জিতেছে, এই দলগুলোর বাইরে শিরোপা এবার যাবে না বলেছেন। বলছেন, নতুন কোনো দেশকে ফিফা ট্রফি উঁচিয়ে তুলে ধরার মতো অবস্থা তাঁরা দেখছেন না। ইউরোপ শিরোপা জয়ের লড়াইয়ে লাতিন আমেরিকান দেশগুলোর থেকে এগিয়ে আছে। ২০২২ সালে কাতারে শিরোপা জিতেছে লাতিন আমেরিকার আর্জেন্টিনা। আর রানার্স আপ ইউরোপের ফ্রান্স। পণ্ডিতরা এবার প্রথম থেকেই তাঁদের দুর্বলতার পাল্লাটি ঝুঁকে রেখেছেন ফ্রান্স ও স্পেনের দিকে। তাঁরা লাতিন দেশের মধ্যে গতবার চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে ব্রাজিলের চেয়ে একটু বেশি এগিয়ে রেখেছেন। এই সবকিছুই তথ্য এবং বিভিন্ন ধরনের গবেষণার ওপর ভিত্তি করে বলা। মাঠে তো খেলেন খেলোয়াড়রা। তাঁদের খেলান কোচরা। আর খেলার রং তো তাঁরাই পাল্টান। চলমান বিশ্বকাপ ধীরে ধীরে ছোট হয়ে যাচ্ছে। অতীতে শিরোপা বিজয়ী আট দলের মধ্যে তো ইউরোপ অঞ্চল থেকে কোয়ালিফাই করতে পারেনি ইতালি। সাত দল নিয়ে বিশ্বকাপ শুরু হয়েছিল। উরুগুয়ে আর জার্মানি এরই মধ্যে বিশ্বকাপের রোমাঞ্চ এবং গল্পের বাইরে চলে গেছে। এখনো লড়াইয়ে আছে ইউরোপের তিন দেশ ইংল্যান্ড, ফ্রান্স ও স্পেন আর লাতিন আমেরিকার ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা। ফুটবল যেভাবে গড়াচ্ছে, তাতে গতবারের মতো এবারও যদি ইউরোপ ও লাতিন আমেরিকার মধ্যে ফাইনাল ম্যাচ হয়, তাহলে অবাক হব না।
বাংলাদেশে বিশ্বকাপ ফুটবল মানেই আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল নিয়ে মাতামাতি, উচ্ছ্বাস আর আবেগ প্রদর্শন। যেহেতু এই দুটি দল এখনো টিকে আছে—অতএব বাংলাদেশের বিশ্বকাপ উপভোগের বিষয়টি এখনো সজীব এবং প্রাণবন্ত আছে। এই দুই দলের মধ্যে যখনই খেলার নিয়মে কেউ বিদায় নেবে, তখনই বাংলাদেশে ফুটবল উপভোগের জমকালো বিষয়গুলো অনেকাংশে ম্রিয়মাণ হয়ে পড়বে। এরই মধ্যে শুরু হয়ে গেছে ১৬ দলের খেলা। ব্রাজিল খেলবে নরওয়ের সঙ্গে, আর আর্জেন্টিনা মিসরের বিপক্ষে। লাতিন আমেরিকার এই দুই প্রতিপক্ষ শক্তিশালী। তা ছাড়া বিশ্বকাপে তো সব দলই লড়াইয়ে সমানে সমান। জাপানকে হারাতে ব্রাজিলের অনেক ঘাম ঝরাতে হয়েছে। ট্যাকটিশিয়ানের কৌশলের কাছে জাপান হেরেছে। এদিকে আর্জেন্টিনা জিতেছে কেপ ভার্দের বিপক্ষে ৩-২ গোলে। তবে কেপ ভার্দের প্রতিরোধ, দৃঢ়তা এবং আত্মবিশ্বাস কোটি কোটি আর্জেন্টাইন সমর্থকের বুকে কাঁপন ধরিয়ে দিয়েছিল। শেষ পর্যন্ত রক্ষা হয়েছে মেসির আর্জেন্টিনার। এবারের বিশ্বকাপে রিয়াল হিরো হলো কেপ ভার্দে। তারা বিগত দিনের দুটি বিশ্বকাপের বিজয়ী দলের সঙ্গে (উরুগুয়ে ও স্পেন) ড্র করেছে। ড্র করেছে সৌদি আরবের সঙ্গে প্রথম রাউন্ডে। এরপর রাউন্ড অব ৩২-এ এসে আর্জেন্টিনাকে প্রায় ধরেই ফেলেছিল। বিশ্বকাপে তাদের প্রথম অভিযান সব সময় স্মরণীয় হয়ে থাকবে। ইতালিয়ান কোচ কি ষষ্ঠবারের মতো ব্রাজিলকে শিরোপা উপহার দিতে সক্ষম হবেন? যদি এটি হয়, তবে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের ইতিহাসে একজন বিদেশি কোচ দলের জয়ে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখবেন।
এবার একটি নতুন অভিজ্ঞতা আমার হয়েছে। একটি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় এবং একটি নামকরা স্কুলে আয়োজিত ফুটবল উৎসবে যোগ দিয়ে লক্ষ করেছি, স্কুলের ছোট ছোট ছেলেমেয়ের অনেকেই পর্তুগালের সমর্থক। তারা ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোকে ভালোবাসে বলেই পর্তুগালের সমর্থক। সবাই জার্সি কিনেছে। বাড়িতে পতাকা ঝুলিয়েছে। রোনালদোর পর্তুগাল ষোলোতে খেলবে স্পেনের বিপক্ষে। পর্তুগাল ক্রোয়েশিয়াকে পরাজিত করে ষোলোতে এসেছে। এদিকে ফ্রান্সকে নিয়ে পণ্ডিতরা সবচেয়ে বেশি কথা বলেছেন প্রথম থেকেই। তাঁদের চিন্তায় ফ্রান্স সবচেয়ে ভারসাম্যপূর্ণ দল। দলে প্রতিভার ছড়াছড়ি। ফিফা র্যাংকিংয়ে এক নম্বর। এমবাপ্পে নামটি দুনিয়াজুড়ে ফুটবল অনুরাগীদের মুখে মুখে। ১৯৯৮ ও ২০১৮ সালে শিরোপা জিতেছে ফ্রান্স। ২০২২ রানার্স আপ। ফ্রান্স চাইছে ২০২৬ ট্রফি জিততে। কোচ দিদিয়ের দেশম দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে ফ্রান্সকে নিয়ে কাজ করছেন। এবারের বিশ্বকাপ শেষে বিদায় নেবেন। দেশম খেলোয়াড় হিসেবে, আবার কোচ হিসেবে বিশ্বকাপ জিতেছেন। ব্রাজিলের মারিও জাগালো ১৯৫৮ ও ১৯৬২ বিশ্বকাপের খেলোয়াড় এবং ১৯৭০ সালে কোচ হিসেবে ট্রফি জিতেছেন। জার্মানির ফ্রাংক বেকেনবাওয়ার বিশ্বকাপ জিতেছেন খেলোয়াড় হিসেবে ১৯৭৪ সালে, আর কোচ হিসেবে ১৯৯০ সালে। দিদিয়ের দেশম খেলোয়াড় হিসেবে ১৯৯৮ সালে, আর কোচ হিসেবে ২০১৮ সালে। এবার যদি ফ্রান্স বিশ্বকাপে জয়ী হয়, তাহলে দেশম একটি রেকর্ডের জন্ম দেবেন। সেটি হলো কোচ হিসেবে দুইবার (২০১৮ ও ২০২৬) শিরোপা জয়।
৪৮ দল নিয়ে শুরু। প্রথমে বিদায় নিয়েছে ১৬ দল। এরপর ৩২ দলের নিষ্ঠুর লড়াইও শেষ হয়ে গেছে। এখন চলছে রাউন্ড অব ১৬। বিশ্বকাপ যত এগোবে, লড়াইয়ের মাঠে টান টান উত্তেজনা ততই বাড়বে। কোনো রকম ভুল করা যাবে না। কেননা ভুল করলে সংশোধনের সুযোগ নেই। চলমান বিশ্বকাপ নিয়ে এর আগেই আমার কলামে বলেছি, মাঠের লড়াইয়ে ছোট-বড় দলের মধ্যে পার্থক্য ক্রমেই কমে আসছে। ট্যাকটিশিয়ানরা তাঁদের প্রজ্ঞা, অভিজ্ঞতার মাধ্যমে খেলার রং পাল্টে দিতে সক্ষম হয়েছেন। সঠিক সময় সঠিক খেলোয়াড়কে ব্যবহার করে তাঁর কাছ থেকে প্রত্যাশিত কাজটি আদায় করে নিয়েছেন—বিষয়গুলো সত্যি অসাধারণ। শুধু ভালো খেললেই জয়ের দেখা মিলবে না, এর কোনো গ্যারান্টি নেই। বেলজিয়াম ও সেনেগালের ম্যাচে সেনেগাল দারুণ খেলেও লক্ষ্যে পৌঁছতে পারল না। খেলতে হবে, কিন্তু ভাগ্যের সাহায্যের দরকার আছে। ইংল্যান্ড ডিআর কঙ্গোকে হারাতে অনেক বেশি বেগ পেয়েছে।
ফুটবলের বড় মঞ্চে প্রতিদ্বন্দ্বিতা আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। যাঁরা বলেছেন ৪৮ দল হয়ে গেছে, অতএব বিশ্বকাপ ঝুলে পড়বে। তাঁদের ধারণা সঠিক হয়নি। গোল হয়েছে প্রচুর, যেটি বিশ্বকাপকে আরো আকর্ষণীয় করেছে। গোলকিপাররা এবার প্রথম থেকেই আলোচিত হয়েছেন প্রতিদিন, যেটি বিগত বিশ্বকাপগুলোতে এভাবে চোখে পড়েনি। গোলকিপারের একার নৈপুণ্যে দল ড্র করেছে। দল জিতেছে। দল পরবর্তী রাউন্ডে পৌঁছে গেছে। এবার আরেকটি বিষয় উল্লেখ করতেই হবে, সেটি হলো তিন স্বাগতিক দেশই রাউন্ড অব ষোলোতে স্থান করে নিয়েছে। বিশ্বকাপে নেদারল্যান্ডসের বিদায় সবাইকে অবাক করেছে। এই দলটি অতীতে তিনবার রানার্স আপ হয়েছে। ভারসাম্যপূর্ণ দল নিয়েও তারা বিদায় নিয়েছে।
কিছুদিন আগে ভারতের একসময়ের কৃতী ফুটবলার সুরঞ্জিৎ সেনগুপ্তের অনেক বছর আগের একটি লেখা পড়েছি। সুরঞ্জিৎ লিখেছেন, ‘ফুটবল একমাত্র খেলা, যেখানে বলটিকে খেলতে হচ্ছে মূলত পা দিয়ে। যেকোনো কাজ যেহেতু আমরা হাত দিয়ে করি, তাই আমাদের নিয়ন্ত্রণ হাতেই বেশি। এক পা দিয়ে বলকে নিয়ন্ত্রণ করতে দেখে আমরা খুব অবাক হই। সে কারণেই এই খেলা আমাদের আরো বেশি মুগ্ধ করে। শুধু তা-ই নয়, ফুটবল মাঠকে আমরা যদি একটি বড় ক্যানভাস ভাবি, তাহলে খেলা চলাকালীন সেখানে ৯০ মিনিট ধরে যে ছবি আঁকা হতে থাকে, তাতে সরলরেখা, আবার কার্ভসও আছে। ৯০ মিনিট ধরে চলতে থাকা ছবিগুলোকে যদি আমরা প্রতি সেকেন্ডে স্থির করে ছবি তুলে রাখি, তাহলে একাধিক মাস্টারপিসও বেরিয়ে আসতে পারে। অর্থাৎ বোঝা যাচ্ছে যে ফুটবল খেলাটিই ছবির মতো সুন্দর। সেটিকে আরো সুন্দর করে তোলেন ফুটবলশিল্পীরা, অর্থাৎ প্রতিভাবান ফুটবলাররা।’
ফুটবলকে জনপ্রিয় করার পেছনে সবচেয়ে বেশি অবদান হলো ফুটবলের জাত শিল্পীদের। চলমান বিশ্বকাপের ৩২-এর খেলা শেষ হয়েছে। শুরু হয়ে গেছে ষোলোর লড়াই। লক্ষ করছি, কিছু ফুটবলশিল্পীকে নিয়ে মানুষের কী উচ্ছ্বাস। মানুষ তাঁদের নিয়ে কথা বলতে আনন্দ পাচ্ছে। তাঁরা পেরেছেন দল সমর্থনের ঊর্ধ্বে উঠতে। তাঁরা হলেন লিওনেল মেসি (আর্জেন্টিনা), কিলিয়ান এমবাপ্পে (ফ্রান্স), আর্লিং হালান্ড (নরওয়ে), হ্যারি কেইন (ইংল্যান্ড), উসমান দেম্বেলে (ফ্রান্স) ও ভিনিসিয়ুস জুনিয়র (ব্রাজিল)। কী মনে হয়, শেষ পর্যন্ত গোল্ডেন বল কে পেতে যাচ্ছেন?
লেখক : কলামিস্ট ও বিশ্লেষক। সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি, এআইপিএস এশিয়া। আজীবন সদস্য, বাংলাদেশ স্পোর্টস প্রেস অ্যাসোসিয়েশন প্যানেল রাইটার, ফুটবল এশিয়া





অনেক কিছুই বদলেছে, আরো বদলাবে বলে মনে হচ্ছে, কিন্তু ভেতরের যে সমাজকাঠামো, সেটা তো বদলাচ্ছে না। সেখানে ভিক্ষাদাতার সংখ্যা যতই হোক, ভিক্ষুকের সংখ্যা অনেক। আর এই মানুষজনের কেউই ইচ্ছা করে ভিক্ষুক হয়নি। বাধ্য হয়েই ভিক্ষুক হয়েছে। আর সাধারণ মানুষের কথাই বা আলাদা করে বলি কেন, আমাদের ধনীরাও ভিক্ষুকই, তদবির করে, তোষামোদে ক্লান্ত হয় না; আমাদের সরকারও তো ভিক্ষার হস্ত প্রসারিত করেই রেখেছে দাতা, সাহায্য সংস্থা, বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ ইত্যাদির কাছে। বৈষম্যমূলক সমাজব্যবস্থাই হচ্ছে নদী, তার স্রোতই নানা খাল, বিল, জলাশয় ও পুকুরে গিয়ে পড়েছে। প্রাকৃতিক নদী শুকিয়ে যাচ্ছে, কিন্তু সামাজিক বৈষম্যের নদী শুকাবে কী, দিন দিন ফুলেফেঁপে উঠেছে।