বিশ্বকাপের চলতি আসরে ভিএআর বিশ্লেষণ নিয়েও বিতর্ক হয়েছে। তবে সেই বিতর্ক এবার তুঙ্গ ছুঁয়েছে আর্জেন্টিনা-মিসর ম্যাচে। বিশ্বজুড়ে ভক্তরাও বিভক্ত হয়ে গেছে দল দুটির পক্ষে এবং বিপক্ষে। মিসরের অভিযোগ চরম পক্ষপাতিত্ব এবং রেফারির দ্বিমুখী নীতির। মূল অভিযোগ দুটি। আর্জেন্টিনা ম্যাচে ফাউলের কারণে তাদের একটি গোল বাতিল হয়েছে, আবার তাদের খেলোয়াড় ফাউলের শিকার হলেও আর্জেন্টিনার গোল বাতিল হয়নি।
দ্বিতীয়ার্ধে বাতিল হয় মিসরের মোস্তফা জিকোর গোল। ভিএআর বিশ্লেষণে দেখা যায়, বল নিয়ে এগোনোর সময় লিসান্দ্রো মার্তিনেসের পায়ে পা তুলে দিয়েছিলেন গোলের জোগানদাতা মারওয়ান আতিয়া। সেটিকে ফাউল ধরেই গোল বাতিল হয়। এর বিপক্ষে অবস্থান নেয় মিসর। পরে আর্জেন্টিনার ডি-বক্সে মোহামেদ সালাহকে ফাউল করে সেখান থেকে বাড়ানো বলেই জয়সূচক গোল করেছেন এনসো ফের্নান্দেস। কিন্তু এটি রেফারি ফাউল ধরেননি—এই অভিযোগই করা হয়েছে মিসরের পক্ষ থেকে।
ম্যাচের ধারাভাষ্যকাররা এ দুটি ফাউলের ব্যাখ্যায় তুলে এনেছেন আন্তর্জাতিক ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বোর্ডের (আইএফএবি) নিয়মসংক্রান্ত বইয়ে লেখা আইনগুলো। সেখানে বলা আছে—গোল হওয়ার আগ মুহূর্তে আক্রমণে থাকা দলের কোনো খেলোয়াড়ের যদি হ্যান্ডবল হয় কিংবা ফাউল করেন অথবা অফসাইডে পড়েন বলে সন্দেহ হয়, তখন ভিএআর ব্যবহার করা হয়। জিকোর গোল বাতিলের ক্ষেত্রে আতিয়া ফাউল করেছেন বলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসে। কারণ তিনি লিসান্দ্রো মার্তিনেসের জার্সি ধরে টানেন এবং তাঁর পায়ের ওপর পা রাখেন। এই দুটি ঘটনাই ফাউল হিসেবে বিবেচিত হয়।
আর সালাহর ফাউলের শিকার হওয়ার ঘটনায় বিবেচ্য ছিল দুটি বিষয়। একটি আর্জেন্টিনার গোল বাতিল হওয়া এবং আরেকটি ফাউল ধরা হলে প্রতিপক্ষকে (মিসরকে) পেনাল্টি দেওয়া। এমন পরিস্থিতিতে মাঠের রেফারির সঙ্গে ভিএআর পরিচালনায় থাকা রেফারিরা একমত ছিলেন। তাই আর মাঠের রেফারিকে টাচলাইনের বাইরে গিয়ে স্ক্রিনে নতুন করে ঘটনাটি দেখতে হয়নি। মিসরের গোল বাতিল হওয়ার সময় যা দেখতে হয়েছিল, কারণ রেফারি আর ভিএআর বিশ্লেষকরা তখন একমত ছিলেন না।




