এবারও হাসি ফোটাবে আর্জেন্টিনা
খায়রুল বাসার অভিনয়শিল্পী
আমি আর্জেন্টিনার গুণমুগ্ধ ভক্ত। আমাদের বেড়ে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে ফুটবলার মেসিরও বেড়ে ওঠা। মেসি যত জনপ্রিয় হয়েছে, আমরা তত খেলা দেখার ভক্ত হয়েছি। মেসিকে জানতে গিয়েই আর্জেন্টিনার ভক্ত হয়েছি, আরো জেনেছি ম্যারাডোনাকেও৷ তাতে আরো ভক্ত হয়ে উঠি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে এসে আমি বিশ্বকাপ উন্মাদনা দেখেছি। বিশ্বকাপ এলেই মুহসীন হলের মাঠে বিশাল পর্দায় দেখানো হতো খেলা। খেলার মাঝখানে সমর্থকদের উল্লাস, হৈ-হুল্লোড় এমনকি মারামারির ঘটনাও ঘটেছে। টিএসসিতে গিয়েও খেলা দেখেছি। আর্জেন্টিনা নিয়ে সব সময়ই প্রত্যাশা থাকে, তবে অতীতে আমাদের শুধু মন খারাপ করে কাঁদিয়ে ছাড়ত। ২০১৪ সালে ফাইনালের পরাজয় এখনো চোখে ভাসে৷ তবে গত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হয়ে আমাদের মনোবল আরো দৃঢ় হয়েছে। মেসির সঙ্গে নবীনরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে এবার লড়ে যাবে। আশা রাখি, এবারও সমর্থকদের মুখে হাসি ফোটাবে। এবারের খেলাগুলো বন্ধুদের সঙ্গে দেখার জন্য দাওয়াত পেয়েছি।
ব্রাজিল সমর্থক হলেও মেসি আমার প্রিয়
আইশা খান অভিনয়শিল্পী
আমার পছন্দের দল ব্রাজিল। সবাই যেমন বলে মিশন হেক্সা এবার সফল হবে, সবার মতো আমার চাওয়া—ব্রাজিলের ঘরে আরেকবার কাপ উঠুক। কাকার খেলা দেখে আমি ব্রাজিলের ভক্ত হই। যদিও নিয়মিত খেলা দেখা হয় না আমার, বিশ্বকাপে চেষ্টা করব ম্যাচ দেখার। ব্রাজিল পছন্দের হলেও আমার প্রিয় খেলোয়াড় মেসি। এটা শুনে অনেকেই অবাক হয়। তাই মেসির প্রতিও শুভ কামনা থাকবে। ২০১০ বিশ্বকাপের সময় আমি স্কুলে পড়ি, এখনো মনে আছে, বন্ধুদের মধ্যে যারা ব্রাজিল সাপোর্টার ছিল সবাই মিলে বিশাল বড় একটা পতাকা বানিয়েছিলাম, সেই নিয়ে আমাদের মধ্যে অনেক উচ্ছ্বাস ছিল।
মনে হচ্ছিল নিজেই বিশ্বকাপ পেয়েছি
সুমাইয়া শিমু অভিনয়শিল্পী
আমার পছন্দের দল আর্জেন্টিনা। ছোটবেলায় দেখতাম পরিবারের সবাই আর্জেন্টিনা সাপোর্ট করছে, তখন থেকেই এই দল মনে গেঁথে আছে। তারপর যত বড় হয়েছি, আর্জেন্টিনার প্রতি ভালোবাসা আরো বেড়েছে। গতবারের বিশ্বকাপে যখন আর্জেন্টিনা কাপ জিতল, মনে হচ্ছিল যেন নিজেই বিশ্বকাপ পেয়েছি। এবারেও প্রত্যাশা থাকবে।
আমি আর্জেন্টিনার কট্টর ভক্ত
তানজিকা আমিন অভিনয়শিল্পী
ছোটবেলা থেকেই আর্জেন্টিনা ফুটবল দলের ভক্ত। শুধু ভক্ত নই, বলতে পারেন কট্টর ভক্ত। তাদের খেলা আমার সব সময়ই ভালো লাগে। প্রিয় দলের জন্য সব সময়ই ভালো কিছু প্রত্যাশা করি। এবারেও চাইব প্রিয় দলের ঘরে কাপ উঠুক। মেসি আরেকবার বিশ্বকাপ স্পর্শ করুক, আরেকবার আবেগাক্রান্ত হই আমরা।
আমি স্পেনের সমর্থক
সিয়াম আহমেদ অভিনয়শিল্পী
বন্ধুমহলে ব্রাজিল, আর্জেন্টিনার সমর্থক বেশি হলেও স্পেনের নান্দনিক খেলা আমাকে সব সময়ই টেনেছে। আমি এই দুই দলের দ্বন্দ্বের মধ্যে নেই। বিশেষ করে আমার কলেজ লাইফে ২০০৮-১২ সালের মধ্যে দুইবার ইউরো কাপ এবং একবার বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল স্পেন, তাদের তখনকার দুর্দান্ত পারফরম্যান্স আমাকে তাদের ভক্ত হতে বাধ্য করেছিল। আমার পছন্দের খেলোয়াড় ডেভিড ভিয়া, তার খেলা আমাকে আকর্ষণ করত। এ কথা সত্য, গত বিশ্বকাপগুলোতে তারা নিজেদের পারফরম দিয়ে প্রথম রাউন্ড পার হতে পারেনি, তবে তাদের খেলার প্রশংসা সবাই করেছে। এবারের বিশ্বকাপেও স্পেনের জন্য শুভ কামনা থাকবে। কারণ নান্দনিক খেলায় যেকোনো সময় তারা জ্বলে উঠতে পারে।
আর্জেন্টিনা আমাদের ইমোশন
ইরফান সাজ্জাদ অভিনয়শিল্পী
একদম ছোটবেলা থেকেই আমি আর্জেন্টিনার হাই হার্ড ফ্যান। ১৯৯৬ সালের বিশ্বকাপের কথা মনে আছে, তখনো আর্জেন্টিনার সমর্থক ছিলাম। আর্জেন্টিনার যে দিকটা সবচেয়ে ভালো লাগে তা হলো তারা দলগতভাবে খেলে। ভক্তদের মতো তারাও খুব ইমোশনাল। আমরা যারা আর্জেন্টিনার ভক্ত, তারা একটি বিশ্বকাপ অর্জনের জন্য তীর্থের কাকের মতো অপেক্ষা করেছি। ২০১৪ সালে ফাইনালে দুঃখজনক পরাজয়ের পর ২০২২ সালে যখন শিরোপা জিতে নেয়, তখন অন্যদের মতো আমিও আবেগাক্রান্ত হয়েছিলাম। কারণ আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ জয় ছিল আমাদের কাছে একটা ইমোশনাল জার্নি। শিরোপা জয়ের পর এবার খুব বেশি প্রত্যাশা নেই, তবে আশা রাখি অন্তত সেমিফাইনাল পর্যন্ত যাবেই।
এবার ভালো কিছু করবে জার্মানি
তৌসিফ মাহবুব অভিনয়শিল্পী
ফুটবল আমাকে বরাবরই খুব টানে। সুযোগ পেলেই খেলার চেষ্টা করি। ছোটবেলায় নির্দিষ্ট কোনো দল প্রিয় ছিল না আমার। ২০১৪ সালে জার্মানির খেলা দেখে সিদ্ধান্ত নিই এখন থেকে আমি এই দলকেই সমর্থন করব। সেই বছর ফাইনালে আর্জেন্টিনার পরাজয় একটা ট্র্যাজেডি হলেও জার্মানির জয়ে আমি খুশি হয়েছিলাম। জার্মানি গত বিশ্বকাপে ভালো পারফরম করতে পারেনি। এইবার ভালো কিছু করবে, আমার প্রত্যাশা। জার্মানির জন্য রইল শুভ কামনা।
খেলা নিয়ে মারামারি পছন্দ করি না
জান্নাতুল সুমাইয়া হিমি অভিনয়শিল্পী
বিশ্বকাপ এলেই খেলা নিয়ে আমরা মেতে উঠি। সব খেলা দেখতে না পারলেও গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলো দেখার চেষ্টা করি। আমি যেহেতু ব্রাজিল টিমকে পছন্দ করি, তাই চাইব এই দল চ্যাম্পিয়ন হোক। গতবার শুটিং স্পটে বিশ্বকাপ ফাইনাল দেখেছিলাম। সেখানে আমি ছাড়া সবাই আর্জেন্টিনা সাপোর্টার ছিল, সেদিন আমি ছিলাম ফ্রান্স। এমবাপ্পে যখন গোল দিল, আমি চিৎকার দিয়েছিলাম, আবার যখন শেষে আর্জেন্টিনাই জিতে শিরোপা নিয়ে নিল তখন সবাই আমাকে খেপিয়েছে বেশ। খেলা নিয়ে এই মজা আমি পছন্দ করি, কিন্তু দেখা যায়, এই তর্কাতর্কিতে মারামারি পর্যন্ত লেগে যায়, এটা আমি পছন্দ করি না। ব্রাজিল টিমের পাশাপাশি আমার প্রিয় খেলোয়াড় মেসির প্রতিও শুভ কামনা থাকবে।
রোনালদোর হাতে বিশ্বকাপ দেখতে চাই
আরশ খান অভিনয়শিল্পী
আমার পছন্দের দল পর্তুগাল। আমি ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর পাগল ভক্ত। জীবনে আমরা যারা ভয়ানক পরিশ্রম করে পথ চলছি, রোনালদোর জীবনের সঙ্গে সেটা অনেকটা মিলে যায়। তিনি গড গিফটেড খেলোয়াড় নন, বা ম্যাজিক্যাল কিছু নন—দিনের পর দিন বহু পরিশ্রম করে তিনি এই জায়গায় এসেছেন। রোনালদোর এটা শেষ বিশ্বকাপ। তাঁর মতো ফুটবলারের হাতে বিশ্বকাপ নেই, এটা ভাবতেই খারাপ লাগে, তাঁর হাতে বিশ্বকাপ দেখতে পেলে আমার চেয়ে খুশি কেউ হবে বলে মনে করি না।
পরিবারের সবাই ব্রাজিল ভক্ত
অবন্তী সিঁথি কণ্ঠশিল্পী
পারিবারিকভাবেই ব্রাজিলের ভক্ত আমরা। ছোটবেলায় বড়দের মুখে ব্রাজিলের প্রশংসা শুনে শুনে ব্রাজিল দলকে পছন্দ করা শুরু করি। ব্রাজিল ভালোও খেলত তখন, তাদের প্রতি এই যে ভক্তদের এত প্রত্যাশা, এটা দেখেই অবাক হতাম। বড় হয়েও ব্রাজিলের প্রতি মুগ্ধতা কাটেনি। প্রতিবারই খেলা দেখার চেষ্টা করি, তবে এবার আমার ছোট সন্তান আছে, খেলা দেখতে পারব কি না জানি না।
রোনালদিনহোর খেলা দেখে ব্রাজিল সমর্থক
পার্থ শেখ অভিনয়শিল্পী
আমরা পারিবারিকভাবেই ব্রাজিল সাপোর্টার। আমার বাবা করতেন, আমার বড় আপুসহ কাজিন যারা ছিল সবাই ব্রাজিল টিমকে পছন্দ করত। সেই সূত্রেই ব্রাজিলের প্রতি ভালোবাসা শুরু। তবে একদম ভক্ত হই যেটা দেখে সেটা হচ্ছে রোনালদিনহোর খেলা দেখে। আমাদের তখন কিশোর বয়স, তখন উনার যে জনপ্রিয়তা, খেলার ধরন তাতে যে কারোরই পছন্দ হওয়ার কথা। এরপর আরো বহু ফুটবলার এসেছে ব্রাজিলে। ব্রাজিল কখনো ছন্দে থাকে, কখনো পিছিয়ে পড়ে৷ বিশ্বকাপেও সেটার রেশ থাকে। পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন এই দলের কাছে আমাদেরও প্রত্যাশা থাকে৷ একজন ভক্ত হিসেবে আশা রাখতেই পারি, এবার শেষ হাসিটা যেন আমরাই হাসতে পারি।

শোবিজে আরো আর্জেন্টিনা সমর্থক
অভিনয়শিল্পী : মামুনুর রশীদ, ইলিয়াস কাঞ্চন, জাহিদ হাসান, চঞ্চল চৌধুরী, ফেরদৌস, নিপুণ, দীপা খন্দকার, সুমাইয়া শিমু, তানভিন সুইটি, নাদিয়া আহমেদ, নুসরাত ইমরোজ তিশা, আদনান ফারুক হিল্লোল, আব্দুন নূর সজল, জাকিয়া বারী মম, নিরব হোসেন, মামনুন ইমন, জায়েদ খান, পপি, পরীমনি, মাহিয়া মাহি, পূজা চেরী, রাফিয়াত রশিদ মিথিলা, কল্যাণ কোরাইয়া, মিম মানতাশা, ইরফান সাজ্জাদ, সালহা খানম নাদিয়া, জান্নাতুল ফেরদৌস ঐশী।
কণ্ঠশিল্পী : সামিনা চৌধুরী, হাবিব ওয়াহিদ, শারমিন সুলতানা সুমী, দিলশাদ নাহার কণা, আরফিন রুমি, ইমরান মাহমুদুল, জাকিয়া সুলতানা কর্ণিয়া, ঝিলিক।
শোবিজে আরো ব্রাজিল সমর্থক
অভিনয়শিল্পী : ওমর সানী, মৌসুমী, মিশা সওদাগর, মাহফুজ আহমেদ, জয়া আহসান, মোশাররফ করিম, রিয়াজ, আফসানা মিমি, আদিল হোসেন নোবেল, তারিন জাহান, বিজরী বরকতউল্লাহ, অপু বিশ্বাস, আনিসুর রহমান মিলন, জিয়াউল ফারুক অপূর্ব, আফরান নিশো, বিদ্যা সিনহা মিম, শতাব্দী ওয়াদুদ, মোনালিসা, রওনক হাসান, সাইমন সাদিক, বাপ্পী চৌধুরী, মিশু সাব্বির, বিপাশা কবির।
নির্মাতা : মোস্তফা সরয়ার ফারুকী, অমিতাভ রেজা, দেবাশীষ বিশ্বাস,
কণ্ঠশিল্পী : কুমার বিশ্বজিৎ, আসিফ আকবর, বাপ্পা মজুমদার, আঁখি আলমগীর, রাশেদউদ্দিন আহমেদ তপু, সোমনুর মনির কোনাল, লুৎফর হাসান, সাবরিনা পড়শী।
ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার বাইরে যাঁরা
জার্মানি সমর্থক : অভিনেতা আজিজুল হাকিম, এফ এস নাঈম, সাবিলা নূর, সাফা কবির, অর্চিতা স্পর্শিয়া ও তৌসিফ মাহবুব।
পর্তুগাল সমর্থক : অভিনেতা আরশ খান।
স্পেন সমর্থক : সিয়াম আহমেদ ও অমৃতা খান।
ইতালি সমর্থক : শবনম ফারিয়া ও জাহারা মিতু [যদিও ইতালি এবার বিশ্বকাপে নেই]।






