• ই-পেপার

প্রিয় প্রতিচ্ছবি

মা একদমই ছবি তুলতে চাইতেন না

  • ডিজিটাল এই সময়ে কারণে-অকারণে ছবি তুলি আমরা। সেগুলো জমা হয় ফোনের গ্যালারিতে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের পাতায় পাতায়। কিছু ছবি আমাদের ভীষণ প্রিয়। সংগীতশিল্পী অবন্তী সাহা সিঁথি জানিয়েছেন নিজের সবচেয়ে ‘প্রিয় প্রতিচ্ছবি’র গল্প

তাঁরা যখন ফুটবলার

বিশ্বজুড়ে চলছে ফুটবল উন্মাদনা। বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া ৪৮টি দলের মধ্যে নেই আমাদের দেশ, এমনকি নেই প্রতিবেশী কোনো দেশও। তবু পেলে-ম্যারাডোনার দেশের চেয়ে বিশ্বকাপ উন্মাদনা কিছু কম নয় এখানে। ফুটবলের প্রতি বাঙালির আবেগ, ভালোবাসা চিরন্তন। শোবিজের অনেকেই একসময় ফুটবল খেলতেন। ফুটবলকেন্দ্রিক তাঁদের সেসব গল্প শুনেছেন হৃদয় সাহা

তাঁরা যখন ফুটবলার
[বাঁ থেকে] অভিনেতা ইন্তেখাব দিনার, আরশ খান, জোনায়েদ বোগদাদি ও রওনক হাসান

জীবনে প্রথম আয় করেছি ফুটবল খেলেই

রওনক হাসান অভিনয়শিল্পী

স্কুলজীবনে প্রচুর ফুটবল খেলেছি, বলতে গেলে ফুটবলে মেতে থাকতাম। এই নিয়ে বেশ খ্যাতিও ছিল আমার, স্কুল ও পাড়ায়। বেশির ভাগ সময় গোলকিপার হয়েই খেলেছি, পরে স্ট্রাইকার হয়ে উঠি। একবার খেপেও খেলতে গিয়েছিলাম, ১৯৯১ সালের ঘটনা। ওই ম্যাচের জন্য কুড়ি টাকা পেয়েছিলাম, এটাই ছিল আমার জীবনের প্রথম আয়। পাশাপাশি এটাও বলে রাখছি, ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপ ফুটবলের সময় ফুটবল নিয়ে আমি প্রথম ছড়াগান লিখি। তাই আমার প্রথম লেখাও ফুটবল নিয়েই। কলেজজীবনে সাভার যাওয়ার পরেও ফুটবল খেলা থেমে থাকেনি। এখানেও ফুটবলার হিসেবে পরিচিতি হলো, একবার এক ক্লাবের হয়ে সেমিফাইনাল খেলেছিলাম। আমাকে যখন নামানো হয়েছিল, তখন খেলার মাত্র ১০ মিনিট বাকি। প্রয়োজন ছিল একটি গোলের, তবেই ড্র হবে। সেই কাঙ্ক্ষিত গোলটা করলাম আমিই। খেলা শেষে ট্রাইব্রেকারে গড়াল, সেখানেও দুটি গোল আমি দিই৷ আমাদের দল ফাইনালে ওঠে। সেই থেকে সাভার এলাকায় আমার খুব নামডাক হয়। দেখা গেল, বাসে উঠলেই আমার হয়ে আরেকজন ভাড়া দিয়ে দিচ্ছে, ব্যাপারটা খুব উপভোগ করতাম।

 

তাঁরা যখন ফুটবলার

গিয়াস উদ্দিন সেলিম

ফুটবল খেলা আমি এখনো ছাড়িনি

গিয়াস উদ্দিন সেলিম নির্মাতা

ফেনীতে ফুটবল নিয়ে আলাদা একটা আবেগ আছে। আমাদের সময় যেন আরেকটু বেশিই ছিল। স্কুলে বিরতির সময় ফুটবল খেলা ছিল বাধ্যতামূলক, তারপর বিকেলে কিংবা ছুটির দিনে পাড়ার মাঠে খেলতে যাওয়া। আশির দশকের ঘটনা, তখন ৪ ফুট ৯ ইঞ্চি উচ্চতার ছেলেদের নিয়ে একটা আন্ত ফুটবল টুর্নামেন্ট চালু করেছিল সরকার। ওখানে আমি খেলি। ফেনীরই একটা ক্লাব ‘অগ্রদূত সংসদ’-এর হয়ে বেশ কয়েকটি ম্যাচ খেলেছিলাম। তখন ‘ফেনী সকার ক্লাব’-এর সুবর্ণ সময়, তবে ওখানে কখনো যাওয়া হয়নি। একবার পুলিশ লাইনস স্কুল মাঠে খেলতে গিয়ে পা কেটে গিয়েছিল, স্কুলের অন্য প্রান্তেই হাসপাতাল। আমি খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে সেখানে যাই, নার্স আমার পা সেলাই করতে চেয়েছিল, আমি তখন কোনোভাবেই রাজি হচ্ছিলাম না। পরে ড্রেসিং করিয়ে চলে আসি। তবে ফুটবল খেলা এখনো ছাড়িনি। এখনো নিয়মিতভাবে প্রতিদিন সকালে ধানমণ্ডির আবাহনী মাঠে খেলতে যাই।

 

খেলতে গিয়ে একবার হাত ভেঙে গিয়েছিল

ইন্তেখাব দিনার অভিনয়শিল্পী

আমি পড়তাম ঢাকার গভর্নমেন্ট ল্যাবরেটরি হাই স্কুলে। কখনো সহপাঠীদের সঙ্গে আবার কখনো সিনিয়র-জুনিয়রদের সঙ্গে খেলতাম। স্কুল মাঠে জায়গা না পেলে ঢাকা কলেজের মাঠে যেতাম। বিশেষভাবে বলব আজিমপুর কলোনির মাঠের কথা। তখন তো মোবাইল ফোন ছিল না, বিকেলে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সবাই খেলার জন্য চলে আসত। বৃষ্টির মধ্যে খেলা আরো জমে উঠত, আমার পজিশন ছিল মিডফিল্ডার। আমার খেলার খ্যাতি আমার বন্ধুদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। একবার খেলতে গিয়ে হাত ভেঙে গিয়েছিল, সেটা বেশ ভুগিয়েছিল। অনেক দিন খেলা থেকে দূরে থাকতে হয়েছিল।

 

তাঁরা যখন ফুটবলার

তানিম নূর

আমার বড় ভাই খেপে খেলতে যেত

তানিম নূর নির্মাতা

রেসিডেনসিয়াল স্কুলের ছাত্র আমি। ওখানকার সবাই ফুটবলে আগ্রহী ছিল। ফুটবলে আমার আগ্রহ বাড়ে সেখানে ভর্তি হওয়ার পর। আমাদের নির্দিষ্ট কোনো পজিশন ছিল না, পরিস্থিতি বুঝে সবাই সুযোগ নিয়ে খেলত। তবে আমার পছন্দের পজিশন স্ট্রাইকার। একসময় ফুটবল খেলাটা নেশার পর্যায়ে চলে যায়। স্কুলের বাইরেও নানা জায়গায় খেলতে গিয়েছি। খেলতে গিয়ে কয়েকবার আহতও হয়েছি, তবু দম কমেনি। আমার কখনোই খেপে গিয়ে খেলা হয়নি, তবে এই ক্ষেত্রে আমার বড় ভাইয়ের বেশ খ্যাতি ছিল। সে নানা জায়গায় খেলতে যেত, ওর জনপ্রিয়তা উপভোগ করতাম।

 

আমার দেহে যত আঘাতের চিহ্ন, ওটা ফুটবলেরই দান

আরশ খান অভিনয়শিল্পী

আমি ফুটবলের ডাই-হার্ড ফ্যান। এমনও দিন গেছে, সারা দিন ফুটবলই খেলেছি। খেলতে খেলতে অনেক ইনজুরিতে পড়েছি। আমার দেহে যত আঘাতের চিহ্ন, ওটা ফুটবলেরই দান। তখন এই ইনজুরিগুলোকে পাত্তা দিতাম না, আবার খেলতে নেমে যেতাম। স্ট্রাইকার হিসেবে আমার খ্যাতি ছিল। সবাই জানত, কেউ আসুক না আসুক খেলার জন্য আরশ আসবেই। সেই ইনজুরিগুলো এখনো আমাকে ভোগায়৷ এখনো যখন মাঠের পাশ দিয়ে যাই, ইচ্ছা করে যে নেমে পড়ি ফুটবল খেলতে। ইচ্ছাটাকে দমন করি। কারণ দেহে আর কোনো ইনজুরি হোক, সেটা চাই না।

 

খুব বাজেভাবে হেরে গিয়েছিলাম

জুনায়েদ বোগদাদি অভিনয়শিল্পী

স্কুলজীবনে খেলাটাই ছিল সবচেয়ে আনন্দের। সারা বছর ফুটবল আর ক্রিকেট নিয়েই মেতে থাকতাম। পড়াশোনার চেয়ে খেলাটাই বেশি উপভোগ করতাম। আর যখন বিশ্বকাপ ফুটবল আসত, আমাদের প্রধান ফটকে বিশাল পতাকা লাগিয়ে দিতাম। পরিবারের সবাই আর্জেন্টিনার সমর্থক। বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় ফুটবল খেলায় অংশ নিতাম। একবার আন্ত স্কুল টুর্নামেন্টে জেলা স্কুলের সঙ্গে আমাদের খেলা পড়েছিল। বিরতির আগ পর্যন্ত আমরা সমানে সমান ছিলাম। বিরতির সময় বৃষ্টি হওয়ায় মাঠ গেল পিছলে, তার ওপর আমরা ছিলাম নিচে, ওরা ওপরে খেলছিল। আমরা আর পেরে উঠিনি। খুব বাজেভাবে হেরেছিলাম। মনে পড়লে এখনো খুব খারাপ লাগে।

 

 

 

 

 

 

 

 

পাঠক

পাঠক

আপনার লেখা এমনকি ছবিও ছাপা হতে পারে রঙের মেলায়। বিনোদনজগতের সাম্প্রতিক যে ঘটনাটি আপনার মনে দাগ কেটেছে, সে বিষয়ে মূল্যবান মতামত দিন। লিখতে পারেন প্রিয় তারকাকে নিয়েও। কোনো চলচ্চিত্র, সংগীত, টিভিনাটক বা মঞ্চনাটকের গঠনমূলক সমালোচনা করতে পারেন। সুলিখিত হলে অবশ্যই তা ছাপা হবে।

প্রিয় তারকার সঙ্গে ছবি তোলা বা তাঁর অটোগ্রাফ নেওয়া অনেকের শখ। আপনার সংগ্রহে যদি সে রকম কোনো ছবি বা অটোগ্রাফ থাকে সেই ছবি ও অটোগ্রাফের সঙ্গে নেপথ্যের গল্প লিখে পাঠাতে পারেন আমাদের কাছে।

 

লেখা ও ছবি পাঠানোর নিয়ম

 

 

      পৃষ্ঠার এক পাশে লিখুন  

      লিখতে হবে ৩০০ শব্দের মধ্যে

      অটোগ্রাফ বা ছবির অনুলিপি পাঠাতে হবে।

      ছবি ও অটোগ্রাফ সংগ্রহের স্থান, সময় উল্লেখ করতে ভুলবেন না

      লেখার নিচে লেখকের ই-মেইলসহ [থাকলে] পূর্ণাঙ্গ ঠিকানা লিখুন

      ই-মেইলে লেখা পাঠানোর ঠিকানা : [email protected]

      ডাকে পাঠানোর ঠিকানা :

          রঙের মেলা, কালের কণ্ঠ
বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, ঢাকা-১২২৯

 

শুভ জন্মদিন

শুভ জন্মদিন
সাদিয়া ইসলাম মৌ ছবি : সংগৃহীত

সপ্তাহে যাঁদের জন্মদিন

[১৮—২৪ জুন]

 

ফেরদৌসী মজুমদার, ত্রপা মজুমদার [১৮ জুন]

দিলারা জামান, সাহারা [১৯ জুন]

জাহারা মিতু, রিমু খন্দকার

[২০ জুন]

সাদিয়া ইসলাম মৌ [২১ জুন]

সালমা রাজী, নেহাল কুরাইশী

[২৪ জুন]

আলাদিনের চেরাগ

১০ বছর পেছনে চলে যেতে চাই

১০ বছর পেছনে চলে যেতে চাই

ধরুন, রূপকথার সেই আলাদিনের চেরাগ পেলেন আপনি! তাতে ঘষাও দিলেন। ‘জো হুকুম’ বলে বেরিয়ে এলো বিশাল আকৃতির সেই দৈত্য। আপনার তিনটি চাওয়া পূর্ণ করবে সে। কী চাইবেন দৈত্যের কাছে? অভিনয়শিল্পী শবনম ফারিয়া জানিয়েছেন আলাদিনের চেরাগ পেলে তিনি কী চাইবেন

 

প্রথম চাওয়া

প্রথমেই চাইব, ১০ বছর পেছনে চলে যেতে। এখন ২০২৬ সাল, ২০১৬ সালে ফেরত যেতে চাই। তখন আমার বাবা বেঁচে ছিল, আমার একটি সুন্দর ক্যারিয়ার ছিল। ব্যক্তিগত জীবনেও সুখী ছিলাম। পরবর্তী সময়ে ব্যক্তিগত জীবন ও ক্যারিয়ারে যে ভুলগুলো করেছিলাম, সেগুলো শুধরে নেওয়ার সুযোগটা পেতাম।

 

 

দ্বিতীয় চাওয়া

প্রত্যেক অভিনয়শিল্পীরই চাওয়া থাকে তার কিছু কর্ম অমর হোক। তেমনই আমি অন্তত ১০ থেকে ১৫টি সিনেমা বা নাটকে অভিনয় করতে চাই—মৃত্যুর পরেও যেগুলো আমাকে স্মরণীয় করে রাখবে।

 

তৃতীয় চাওয়া

আমার বর একসময় আমার প্রতিবেশী ছিল—২০০৯ থেকে ২০১৫ সাল; কিন্তু আমাদের পরিচয় ছিল না, দেখাও হয়নি। যদি তখনই তার সঙ্গে আমার পরিচয় হতো, খুব ভালো হতো। জীবনটাকে আরো আগেই সুন্দরভাবে গুছিয়ে নিতে পারতাম।

মা একদমই ছবি তুলতে চাইতেন না | কালের কণ্ঠ