যুক্তরাষ্ট্র গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে সর্বাত্মক হামলা চালানো শুরু করে। যুদ্ধ বন্ধের জন্য গত সপ্তাহে সুইজারল্যান্ডে একটি সমঝোতা স্মারকে সই করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। ৬০ দিনের মধ্যে স্থায়ী শান্তিচুক্তিতে পৌঁছতে না পারলে আবারও ইরানে হামলা চালানো হবে বলে সতর্ক করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই যুদ্ধে ইসরায়েলও জড়িত। কোনোভাবেই তারা লেবাননে হামলা বন্ধ করছে না। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, লেবাননে হামলা বন্ধ না করলে আবার ভেস্তে যেতে পারে স্থায়ী শান্তিচুক্তির সম্ভাবনা। তবে এসব আশঙ্কাকে পাশ কাটিয়ে দীর্ঘ চার মাস পর সুসময়ের দেখা মিলেছে। হরমুজ প্রণালির মূল নৌপথ খোলার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে তেলের দামও ৮০ ডলারে নেমে এসেছে।
হরমুজে পাতা ৮০ মাইন : আপাতত অন্তর্বর্তীকালীন এই চুক্তির ফলে হরমুজ প্রণালি সচল হতে শুরু করেছে বলে জানিয়েছে লয়েডস লিস্ট ইন্টেলিজেন্স। কম্পানিটি জাহাজ চলাচলের গতিবিধি সম্পর্কে রিয়ালটাইমে ডেটা প্রদান করে। মাইন পেতে রাখার কারণে হরমুজ প্রণালির মূল নৌপথটি এখনো বন্ধ রয়েছে। বন্ধ থাকলেও ইরান ও ওমানের জলসীমা দিয়ে বিকল্প রুট ব্যবহার করে জাহাজ চলাচল অব্যাহত রয়েছে। ট্যাংকার মালিকদের বৈশ্বিক বাণিজ্য সংগঠন ইন্টারট্যাংকোয়ের পরিচালক ফিলিপ বেলচার জানান, মূল নৌপথটিতে ৮০টি মাইন পাতা রয়েছে। এগুলো না সরানো পর্যন্ত জাহাজগুলোকে বিকল্প পথে চলতে হবে। কিছু জাহাজ ইরানের জলসীমার উত্তর দিক দিয়ে চলাচল করছে। অন্য জাহাজগুলো যাচ্ছে ওমানের জলসীমার দক্ষিণ পাশ দিয়ে। জাহাজের যে জট তৈরি হয়েছে, তা স্বাভাবিক হতেও দুই সপ্তাহ লেগে যাবে। চুক্তি অনুযায়ী, ইরান অন্তত ৬০ দিনের জন্য নৌযান বা জাহাজ থেকে কোনো টোল নেবে না। জাহাজ চলাচলের জন্য হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে দেবে। এতে তেল, এলএনজি, সার ও অন্যান্য পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তেলের দাম ৮০ ডলার : গতকাল শনিবার ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ৮০.৫৮ ডলারে নামে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ৭৭.৩৩ ডলারে দাঁড়িয়েছে। তবে কোনো কারণে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের অন্তর্বর্তী চুক্তি ভেস্তে গেলে হঠাৎ করে আবার ১০০ ডলারে পৌঁছতে পারে অপরিশোধিত তেলের দাম। ওপেক প্লাস তেল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করলে সেটাও চাহিদা ও জোগানের ওপর প্রভাব ফেলবে। ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে মোট চার মাস যুদ্ধ চলে। এ সময় হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে পড়ে। বৈশ্বিক তেল সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ এবং বিপুল পরিমাণ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এই সমুদ্রপথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। যুদ্ধ শুরুর পর এই জলপথ ঘিরে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম দ্রুত বাড়তে থাকে। বিশ্লেষকদের মতে, সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কাই বাজারে সবচেয়ে বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এক পর্যায়ে এপ্রিলের শেষে ব্যারেলপ্রতি তেলের দাম ১২০ ডলারে উঠে যায়। চুক্তি হতে পারে—এই আলোচনা ঘিরে গত এক সপ্তাহে তেলের দাম ৮ শতাংশ কমেছে। বৈশ্বিক শেয়ারবাজারেও অন্তর্বর্তী চুক্তির ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ ও এশিয়ার প্রধান শেয়ারবাজারগুলোতে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে।
ইরানের তেলের বাজার : ২০১৮ সাল থেকেই ইরানের তেল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে যুক্তরাষ্ট্র। যুদ্ধের সময় ইরানের তেল পরিশোধনাগারগুলোতে ব্যাপক হামলা চালানো হয়। চুক্তি হওয়ার পর পুনরায় রপ্তানির বাজারে প্রবেশের সুযোগ পেতে পারে ইরান। তেল বিক্রি থেকে ইরান বছরে ৬০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি আয় করতে পারে। এতে দেশটির অর্থনীতি পুনরায় ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ পেতে পারে। সূত্র : সিএনবিসি



বিটিএমএর সভাপতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে ব্যাংক গ্যারান্টির বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির ক্ষেত্রে বিদ্যমান ৩০ শতাংশ মূল্য সংযোজনের শর্ত বাতিলের প্রস্তাব পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি সংগঠনটি পলিয়েস্টার স্ট্যাপল ফাইবারের ওপর আরোপিত ৫ শতাংশ আমদানি শুল্ক প্রত্যাহার, প্রাইমারি টেক্সটাইল খাতের করপোরেট করহার ১২ শতাংশ নির্ধারণ এবং নগদ সহায়তার বিপরীতে উৎস কর সম্কূর্ণ প্রত্যাহারের আহবান জানিয়েছেন।
